রং দোলের প্রথম পর্ব

in Incredible Indiayesterday

নমস্কার বন্ধুরা,

সকলে কেমন আছেন? আজকে আবারও চলে এসেছি আপনাদের সাথে একটি নতুন গল্প শেয়ার করে নেওয়ার জন্য। আশা করছি আপনাদের ভালো লাগবে।

গত ৩ রা মার্চ ছিল রং দোল/দোল যাত্রা। বিয়ের পরে এটা ছিল আমার প্রথম রং দোল উদযাপন। তাই সবকিছুই একটু অন্যরকম ছিল। ছোটবেলায় তো আমরা সব বন্ধু-বান্ধবরা মিলে সকাল সকাল হাতে-পায়ে-গায়ে- মুখে তেল মেখে রং খেলতে নেমে পড়তাম। রং খেলার মাত্রা যে কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছতো তা বলা মুশকিল। তবে রং খেলে যখন বাড়ি ফিরতাম তখন আমাদের দেখে চেনা মুশকিল হতো। ছোটবেলার দোলযাত্রা এই ভাবেই কাটতো।

1000401230.jpg

বড় হওয়ার সাথে সাথে সেই ছোটবেলার রং দোল উদযাপনের আনন্দ বা উন্মাদনা কোনটাই আর নেই। তবে বছরের এই একটি মাত্র দিনে সকলের সাথে যেতে উঠতে মন্দ লাগে না। এখনকার দিনে তো বেশিরভাগ মানুষই রং মাখতে পছন্দ করে না। নতুন জেনারেশনের বাচ্চারাও আমাদের সময়কার মতো রং খেলে না। বিয়ের আগে পাড়ার কয়েকঘর সদস্যরা মিলে আমরা রং খেলতাম। তারপর খাওয়া-দাওয়া, নাচ- গান চলত।

তবে এই বছর যেহেতু বিয়ে হয়েছে। তাই আমি শ্বশুর বাড়িতেই রয়েছি। এজন্যই ভাবছিলাম এই বছরের দোলযাত্রা বোধহয় খুবই বোরিং হবে। তবে মা আগের দিন ফোন করে বলেছিল আমরা যেন অবশ্যই রং খেলতে যাই। সেই সাথে আমাদের বাড়ির সামনের বাড়ির দাদা বৌদি আমাকে আর আমার বরকে সেই দিন ওদের বাড়ি দুপুরবেলায় খাওয়ার নিমন্ত্রণ করেছিল। আমি তো খুব খুশি হয়ে গিয়েছিলাম। নিজেদের পরিচিত মানুষদের সাথে রং খেলতে বেশ মজা লাগে।আগের দিন রাতেই আমি আর আমার বর কিছু রং, আবির আর পিচকারি কিনে আমার ভাইপো কে দিয়ে এসেছিলাম। তাতে ও খুব আনন্দ পেয়েছিল।

1000401207.jpg

তাই সকাল সকাল বাড়ির কাজকর্ম সেরে, রেডি হয়ে গিয়েছিলাম ওই বাড়ি যাওয়ার জন্য। রং দোলের দিন আমরা বড়দের পায়ে আবির দিয়ে প্রণাম করি ও মিষ্টিমুখ করায়। তাই সবার প্রথমে আমাদের বাড়ির সবার চেয়ে বড় যিনি আছেন, ঠাকুমা, তার পায়ে আবির দিয়ে আমরা সকলে প্রণাম করেছিলাম। তারপর মায়ের পায়ে আবির দিয়েছিলাম। তারপর আমি আর আমার বর পৌঁছে গিয়েছিলাম ঐ বাড়ি।

1000401205.jpg

বাড়ি গিয়ে দেখি ইতিমধ্যে সকলে রং খেলা শুরু করে দিয়েছে। আমাকে দেখা মাত্রই আমার ভাইপো ছুটে এসে আমাকে আদর করে বলল, " দাঁড়াও পিন, তোমাকে রং মাখায়।" তারপর আবির এনে আমার গালে, কপালে দিয়ে দিল। তারপর আমার পায়ে আবির দিয়ে প্রণাম করল। আমার বর মানে ওর পিসানকেও রং মাখালো। তারপর বাড়ির গুরুজনদের পায়ে আবির দিয়ে প্রণাম করলাম আমরা। যাওয়ার পথে প্রত্যেকের জন্য আমরা মিষ্টি নিয়ে গিয়েছিলাম। বিয়ের পর প্রথম রং দোল তাই খালি হাতে তো যাওয়া যায় না।

1000401267.jpg
এরপর আমরা রং খেলা শুরু করলাম। এই দিন রং মাখালে কেউ রাগ করে না। তাই মনের আনন্দে সকলকে রং মাখানো যায়। তারপর সকলে ফটো তুলেছিলাম ও রিলস্ বানিয়েছিলাম। আমাদের সেই দিন আবার একটা আইবুড়ো ভাতের নিমন্ত্রণ ছিল। তাই খুব বেশিক্ষণ থাকতে পারিনি। ওই বাড়ি থেকে আসার সময় আমার খুব মন খারাপ করে। কান্নাকাটিও করি। কিন্তু কিছু করার নেই, নিয়ম অনুযায়ী বিয়ের পর চেনা পরিচিত বাড়িটাকে ছেড়ে শ্বশুর বাড়িতে আসতেই হয়। যাই হোক সেই সব ভুলে সেদিন খুব মজা করেছিলাম।

1000401271.jpg

আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

Coin Marketplace

STEEM 0.06
TRX 0.29
JST 0.051
BTC 68407.38
ETH 2013.65
USDT 1.00
SBD 0.49