বাড়ির পুজো (শেষ পর্ব)

in Incredible India8 days ago

নমস্কার বন্ধুরা,

সকলে কেমন আছেন? আবারও চলে এসেছি আপনাদের সাথে আমার গত পোস্টের শেষ পর্ব আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। গত পোস্টে আপনাদের জানিয়েছিলাম যে আমাদের বাড়িতে নারায়ণ দেবের পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। সেই উপলক্ষ্যে আমরা সকাল থেকে কী কী আয়োজন করেছিলাম তা তো আমি আগেই আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি। তবে এখনও অনেক গল্পই আপনাদের সাথে করা বাকি থেকে গেছে, তাই ভাবলাম সেই পর্বটুকুও আপনাদের সাথে চটজলদি শেয়ার করে ফেলি।

1000426005.jpg

সমস্ত কিছু গোছানো হয়ে গেলে বাবাকে যখন পুজোর জন্য বসতে বলা হলো তখন বাবা বলল, "আজকে বাবুল পুজো করুক, আমি সব বলে দিচ্ছি।" বাবুল আমার বরের বাড়ির ডাক নাম। জানেন আমার খুব আফসোস যে আমার বর পুজো শেখেনি। ব্রাহ্মণ বাড়ির ছেলেরা পুজো না শিখলে আমার ভারী খারাপ লাগে। পুজো শিখলেই যে ওটাকে মুখ্য পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে এমনটা তো নয়। তবে এটা মুখ্য পেশার পাশাপাশি মাঝে মাঝে করাই যায়। যাইহোক, আমার শ্বশুর মশাই পুজো করলেও আমার বরকে ওরা পুজো শেখায়নি। ওরা চান না ছেলে পুরোহিত হোক। সেটা ওনাদের ব্যক্তিগত চিন্তা ভাবনা। তবে আমার যদি ভবিষ্যতে কোনোদিন পুত্র সন্তান হয় আমি অবশ্যই তাকে পৌরহিত্য শেখাবো।

কথা বলতে বলতে অন্য প্রসঙ্গে চলে গেলাম। আমার বর পুজো করতে বসেছিল। বাইরে থেকে বাবা বলে দিচ্ছিল কী কী করতে হবে আর আমার বর সেগুলো করছিল। নারায়ণ শিলা টা আমাদের বাড়িতে বহু বছর ধরে আছে। সেটাকে স্নান করিয়ে পুজো শুরু হলো। ঠাকুর ঘরে পাশাপাশি দুই জন বসার মতো জায়গা নেই তাই আমি পিছনে বসেছিলাম। শাশুড়ি মাও ছিলেন। উনিও আমাদের শেখাচ্ছিলেন। ধীরে ধীরে মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে আমাদের পুজো হচ্ছিল। শঙ্খ- উলুধ্বনি তে বাড়ি ভরে উঠেছিল। পুজো করলে আমি খুব পজিটিভ ফিল করি। তাই পুজো করতে আমার ও খুব ভালো লাগে। শেষে অঞ্জলী দিয়ে পুজো শেষ হলো।

1000426013.jpg

পুজো শেষ করে কিছুক্ষণ ঠাকুরঘর বন্ধ করে রেখেছিলাম। তারপর আমরা সকলে মিলে কিছু ফটো তুললাম। শাড়ি সচরাচর পরা হয় না। বিভিন্ন পুজো কিংবা অনুষ্ঠানেই পরা হয়। তাই শাড়ি পরলে আমি ফটো তুলতে খুব ভালোবাসি। তার ওপরে মাও এসেছিল। তাই সকলের সাথে মুহূর্ত গুলো বন্দি করে রাখতে আমি ফটো তুলতে পছন্দ করি। একে একে সকলের সাথে ফটো তুলছিলাম তখনই দেখি পাশের বাড়ির এক পিসি এসেছে। তাকেও ফটোতে নিয়ে নিয়েছিলাম।

1000426024.jpg

এরপর ঠাকুর ঘর খুলে প্রসাদ গুলো প্লেটে সাজিয়ে নিচ্ছিলাম। পাড়ার সব ঘরে এক প্লেট করে দিতে বলেছিল মা। তাই সাজাচ্ছিলাম। প্রসাদ সাজানো হয়ে গেলে মা এর সাথে মানে শাশুড়ি মায়ের সাথে সকলের বাড়ি গিয়ে গিয়ে প্রসাদ দিয়ে এসেছিলাম। সেই সাথে মা সকলের সাথে আমাকে আলাপ করিয়ে দিয়েছিল। এইভাবেই আমাদের দিনটা সুন্দর ভাবে কেটেছিল।

1000425498.jpg

আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোনো লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।