সংস্কৃতি মেলায় ঘুরতে যাওয়া
নমস্কার বন্ধুরা,
সকলে কেমন আছেন? আবারও চলে এসেছি আপনাদের জন্য নতুন একটি দিনের গল্প নিয়ে। আশা করছি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে।
এই মাসে আমাদের এখানে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকমের মেলা অনুষ্ঠিত হয়। শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা পাবলিক লাইব্রেরির মাঠে প্রায়ই কোন না কোন মেলা আয়োজিত হয়। কয়েকদিন আগে আমি আর আমার বর বিকেলবেলা বেরিয়েছিলাম একটু ঘুরতে। পাবলিক লাইব্রেরির মাঠ আমাদের বাড়ি থেকে বেশি দূরে নয়। সেই দিন আমরা ওই মাঠের সামনে দিয়েই যাচ্ছিলাম। যাওয়ার পথে হঠাৎ চোখে পড়ল যে সেখানে একটা মেলা হচ্ছে। যদিও সেই মেলাটি ছিল সংস্কৃতি মেলা, মানে সেখানে নাচ, গান, আবৃত্তি ইত্যাদি বিভিন্ন প্রোগ্রাম হচ্ছিল।

রাস্তা থেকেই শুনতে পাচ্ছিলাম, একটি বাচ্চা মেয়ে খুব সুন্দর করে আবৃত্তি করছে। খুব ইচ্ছা হল তখনই গিয়ে সামনে থেকে শুনি। তবে আমরা একটা জায়গায় যাব বলে মনস্থির করে বেরিয়েছিলাম, তাই আমরা ঠিক করলাম আগে সেখান থেকে ঘুরে আসবো তারপর ফেরার পথে মেলায় ঢুকবো। তবে আমি যেহেতু এইসব নাচ, গান, আবৃত্তি ইত্যাদি খুব পছন্দ করি, তাই আমার মনটা কিন্তু মেলার দিকেই ছিল। ভাবছিলাম কখন কাজ সেরে আমরা আবার ফিরবো।
যাইহোক, কিছু সময়ের মধ্যে আমাদের প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সেরে, আমরা আবার সেখান থেকে ব্যাক করছিলাম। ফেরার পথে আমার বরের মোমো খাওয়ার ইচ্ছে হলো। তাই আমরা একজায়গায় মোমো খাওয়ার জন্য বসলাম। এই মোমোর স্টলটা নতুন খুলেছিল তাই কোয়ান্টিটি এবং কোয়ালিটি দুই দিক থেকেই স্বচ্ছতা বজায় রেখেছিল, নইলে শহরের বুকে নতুন একটা আউটলেট চালানো মোটেও সম্ভব নয়। যাইহোক, আমরা একটা চিকেন মোমো অর্ডার করেছিলাম। দামটাও অন্য জায়গা তুলনায় কম ছিল। এক প্লেট চিকেন মোমোতে পাঁচটা চিকেন মোমো ছিল। দাম ছিল ৩৫ টাকা, মানে ৭ স্টিম মতো। দাম অনুযায়ী মোমোর সাইজ গুলোও বেশ বড়ো ছিল আর খেতেও ছিল অসাধারণ।

মোমো খাওয়ার পর, এক বাটি চিকেন স্যুপও দিয়েছিল।স্যুপটাও খেতে খুব ভালো ছিল। মোমো খাওয়ার পর্ব শেষ করে, বিল মিটিয়ে আমরা আবার রওনা দিয়েছিলাম মেলার উদ্দেশ্যে। মেলায় পৌঁছে আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম যেখানে অনুষ্ঠানটা হচ্ছিল। আমরা যখন পৌঁছই তখন সেখানে একটি বাচ্চা মেয়ে গান গাইছিল। ভারী মিষ্টি গানের গলা। আর সেই সাথে কি কনফিডেন্স। এইটুকু বয়সেই সুন্দর করে দর্শকদের মাতিয়ে তুলেছিল। আমি দেখছিলাম আর ভাবছিলাম, এই কনফিডেন্সটা যদি আমার থাকতো তাহলে কি ভালোই না হতো। আমরা বেশ কিছুক্ষণ সেখানে ছিলাম। বাচ্চাটি আমরা যাওয়ার আগে কটি গান গিয়েছিল তা বলতে পারব না তবে আমরা ওর দুটি গান শুনেছিলাম।

এরপর আমরা মেলাটা ঘুরে দেখছিলাম। আগেই যেহেতু বললাম যে এই সময় আমাদের এখানে আরো অনেক মেলা হয় তাই স্বাভাবিকভাবেই লোক খুব বেশি ছিল না। আর তাছাড়া আমরা যেহেতু সন্ধ্যের দিকে গিয়েছিলাম তাই হয়তো লোক সংখ্যা আরো অনেক কম ছিল। মেলায় বেশ কিছু দোকান বসে ছিল। কিছু জামাকাপড়েরও দোকান ছিল। বেশ কিছুক্ষণ মেলাটা ঘুরে, দুটো আইসক্রিম খেয়ে আমরা বাড়ি ফিরে এসেছিলাম।

আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোনো লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
