শহরের সবচেয়ে বিখ্যাত মেলায় প্রথম দিন ঘোরার অভিজ্ঞতা

in Incredible India5 days ago

নমস্কার বন্ধুরা,

সকলে কেমন আছেন? আজকে চলে এসেছি আপনাদের সাথে একটি নতুন দিনের গল্প শেয়ার করার জন্য। আশা করছি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে।

গতকাল ছিল রবিবার। রবিবার মানেই ছুটির দিন। তাই গতকাল আমার বরের অফিস ছুটি ছিল। তবে আমার ছুটি ছিল না। সকাল থেকে আমার দুটো পড়ানো ছিল। দুটো বাড়িতে পড়ানোর পর বাড়ি এসে জানতে পারলাম, বাড়িতে আত্মীয় এসেছে। ছোটো মামি শাশুড়ি ও তার মেয়ে এসেছে। পরে যদিও মামা শ্বশুরও এসেছিল। তাই বাবা মটন কিনে এনেছিল। আর তার সাথে আরও অনেক রকমের সবজি ও মাছ কিনে এনেছিল। আমি বাড়ি গিয়ে দেখলাম ইতিমধ্যে মা, মানে শাশুড়ি মা রান্না বসিয়ে দিয়েছে।আমি আগে থেকে জানতাম না যে ওরা আসবে।

যাইহোক, আমি তাড়াতাড়ি ফ্রেস হয়ে, জামা চেঞ্জ করে কাজে সাহায্য করতে চলে গেলাম। দুপুরের মেনুতে ছিল-- ভাত, মটন, মাছ, ডাল, একটা বিভিন্ন সবজির তরকারি, চাটনি, দই ও মিষ্টি। দুপুরে সকলকে খেতে দেওয়ার পর, আমিও খেয়ে নিয়েছিলাম। তারপর সমস্ত কাজ সেরে একটু ঘুমিয়ে নিয়েছিলাম। তারপর ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ করে মনে পড়ল যে গতকাল থেকেই আমাদের শহরের সবচেয়ে বড় মেলা শুরু হচ্ছে। তাই আমরা ঠিক করে নিলাম আমরা মেলায় ঘুরতে যাব। আজ আমি আপনাদের সাথে সেই অভিজ্ঞতাই শেয়ার করব।

1000411984.jpg
আমাদের শহরের এই মেলাটির নাম 'বারো দোলের' মেলা। এই মেলাটি এক মাস ধরে হয়। এই মেলার বিশেষ আকর্ষণ হল এই মেলাটি আমাদের শহরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রাঙ্গণে আয়োজিত হয়। রাজবাড়ী সারা বছর বন্ধ থাকলেও এই মেলার প্রথম তিনদিন রাজরাজেশ্বরী মায়ের মন্দির প্রাঙ্গণ সকল মানুষের জন্য খোলা থাকে। তাই মেলা শুরু হওয়ার প্রথম তিন দিন মেলায় সাংঘাতিক ভিড় হয়। ভিড় হয় মূলত মন্দিরের ঠাকুর পরিদর্শনের জন্য।

আমার কাছে সবচেয়ে পছন্দের মেলা হল এই মেলাটি। তাই প্রত্যেক বছর চেষ্টা করি প্রথম তিন দিনের মধ্যে একদিন যাওয়ার । তাই এই বছরও তার অন্যথা হয়নি। তবে এই বছর ৪ঠা মার্চ রাজা কৃষ্ণ চন্দ্রের বর্তমান উত্তরসূরী রাজা সৌমীশ চন্দ্র রায় মারা গেছেন। তাই মেলাটা হবে কিনা এই নিয়ে সকলের মনের যথেষ্ট সন্দেহ ছিল। তবে মেলা কমিটির মানুষেরা রাজবাড়ীর সদস্যদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন। যেহেতু এই মেলার সাথে পুরো শহরের মানুষদের একটা ইমোশন জড়িয়ে আছে তাই তারা মেলাটাকে বন্ধ রাখতে চাননি। তবে হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী যেহেতু কেউ মারা গেলে এক বছর আগে বাড়িতে কোনো পূজার্চনা বা শুভ কাজ হয় না তাই এই বছর রাজবাড়ীতে কোন পুজো হবে না। তাই প্রতি বছর যেমন প্রথম দিন রাজবাড়ির মন্দির খোলা হয় এই বছর তা হবে না। তবে প্রতি বছরের ন্যায় এই বছরও এক মাস ব্যাপী মেলা অনুষ্ঠিত হবে ।

1000411499.jpg
যেহেতু মন্দির খোলা ছিল না তাই প্রথম তিনদিন যে ভিড় হয় সেরকম কোন ভিড়ই ছিল না। তাছাড়া প্রথম দিন বলে সমস্ত দোকানগুলো সাজানো হয়নি।তবে অনেক দোকান বসে গিয়েছে। আর বাকি দোকানগুলো সাজানোর কাজ চলছিল। এই মেলাটি একটি বিরাট প্রাঙ্গণে আয়োজিত হয়, তাই প্রচুর খেলনার দোকান, আসবাবপত্রের দোকান, খাবারের দোকান, জুয়েলারির দোকান ইত্যাদি মেলায় রয়েছে।

আমরা সব ঘুরেফিরে দেখছিলাম। আমরা বেশ কয়েকটি প্রয়োজনীয় জিনিসও কিনেছিলাম। আমার ভাইপোর জন্য একটা গাড়ি কিনেছিলাম। তারপর মায়ের জন্য কিছু জিনিস কিনেছিলাম। মেলা থেকে আমরা একটা করে আইসক্রিম খেলাম। তারপর একটা পুরোনো বন্ধুর সাথেও দেখা হয়ে গেল।

1000411988.jpg
*এই মেলার আরো একটি বিশেষ আকর্ষণ হল সার্কাস। তবে এইবছর সার্কাস আসেনি। যদিও বড় হওয়ার পর সার্কাস দেখা হয় না।তবে ছোটো বেলায় বাবা মায়ের সাথে এসে সার্কাস দেখতাম। সেই জায়গায় এবার বসেছে হরেক রকমের নাগরদোলা। আমরা সেখানেও ঘুরে দেখলাম। *

1000411986.jpg
মেলা থেকে আমরা আর কিছু খাইনি। মেলা থেকে বেরিয়ে আমরা চলে গিয়েছিলাম আমাদের পছন্দের মোমোর দোকানে। তবে বেশি রাত হয়ে যাওয়ায় চিকেন মোমো শেষ হয়ে গিয়েছিল। শুধু পনির মোমো আর মাশরুম মোমো ছিল। আমরা এক প্লেট পনির মোমো খেয়েছিলাম। তারপর বাড়ি চলে গিয়েছিলাম।

1000411567.jpg
আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোনো লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

Sort:  
Loading...

Coin Marketplace

STEEM 0.06
TRX 0.32
JST 0.061
BTC 66821.91
ETH 2049.59
USDT 1.00
SBD 0.51