শাঁখা-পলা পরার মুহূর্ত

in Incredible India11 hours ago

নমস্কার বন্ধুরা,

সকলে কেমন আছেন? আজকে চলে এসেছি আপনাদের সাথে নতুন একটি গল্প শেয়ার করার জন্য। আশা করছি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে। আমি আমার বিয়ের আগে অনেক ব্লগে আপনাদের সাথে বিয়ের প্রাক্- প্রস্তুতির গল্প শেয়ার করেছি। তবে বিয়ের গল্পই আপনাদের সাথে এখনও শেয়ার করা হয়নি। তাই ভাবলাম, আজ আপনাদের সাথে আমার বিয়ের আগের দিনের একটা গুরুত্বপূর্ণ রিচুয়াল 'শাঁখা-পলা' পরার সুন্দর মুহূর্ত টাই আপনাদের সাথে শেয়ার করি।

1000467284.jpg

বিয়ের আগের দিন এমনিতেই বাড়িতে অনেক কাজ থাকে। সবাই নানা কাজে ব্যস্ত ছিল। আমি সকাল সকাল রেডি হয়ে গিয়েছিলাম। একজন Makeup artist দিদি এসেছিল আমাকে সাজাতে। সকাল সকাল সেজে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আমি চলে গিয়েছিলাম লজে, যেখানে সেইদিনের সমস্ত আচার অনুষ্ঠান পালন করা হবে। অন্যদিকে মা, বৌদি সকলে মিলে আমাকে দুপুরে খেতে দেওয়ার জন্য রান্নার আয়োজন করেছিল। দেখতে দেখতে বেলা গড়িয়ে এলো। এক এক করে নিয়ন্ত্রিত অনেকেই আসতে লাগলো। যদিও বেশির ভাগ আত্মীয় স্বজন বিয়ের দিনই এসেছিল।

1000467286.jpg

আইবুড়ো ভাতের অনুষ্ঠানের গল্প অন্য দিন শেয়ার করবো। এখন আপাতত, শাঁখা পলা পরার গল্প শেয়ার করি। আইবুড়ো ভাত খাওয়ার পর আমরা একটু ফটো শ্যুট করছিলাম। তারপর কিছুক্ষণ এর মধ্যেই একজন এসেছিলেন শাঁখা পলা পরানোর জন্য, যাকে আগের দিন বাড়িতে গিয়ে পান-সুপুরি ও টাকা দিয়ে নিমন্ত্রণ করে আসতে হয়েছিল। ওনাকে বসতে দেওয়া হয়। তারপর আমি ওনার সামনে গিয়ে বসি। আমার আশেপাশে আমার বান্ধবীরা বসে। ওদের কে বলা হয় আমার জন্য শাঁখা পছন্দ করতে। শাঁখা বিক্রেতা কাকু আমাদের বিভিন্ন দামের, বিভিন্ন ডিজাইনের শাঁখা দেখাতে থাকে।

1000467301.jpg

আমাদের বাঙালির বিয়ের অন্যতম রিচুয়াল হলো বিয়ের আগের দিন হাতে শাঁখা পলা পরা। অনেকে বিয়ের দিনেও এই নিয়ম পালন করে। তবে আমাদের মধ্যে নিয়ম হলো আগের দিন শাঁখা পলা পরতে হয়। হিন্দু বাঙালি সদবা মহিলারা হাতে শাঁখা পলা পরে থাকেন। তবে এখন মডার্ন যুগে অনেকেই সেটা সব সময় পরে না থাকতে চাইলেও বিয়ের দিন এই নিয়মটা সকলেই পালন করে। যাইহোক, আমরা শাঁখা পছন্দ করছিলাম। আমি একটা শাঁখার দাম জিজ্ঞাসা করতেই, পাশ থেকে একজন বলে উঠলেন,"পিংকি, বিয়ের শাঁখার দরদাম করতে নেই, উনি যা চাইবে তাই দিতে হয়।" ঐ কাকু আমাদের বিভিন্ন শাঁখার ব্যাপারে বলছিলেন।

1000467303.jpg

অবশেষে আমাদের সকলের একটা শাঁখা পছন্দ হয়। দাম নিয়েছিল ভারতীয় মূল্যে ১১০১ টাকা, মানে ২৯১ স্টিম মতো।তারপর উনি ধান-দূর্বা দিয়ে আশীর্বাদ করে আমাকে শাঁখা, পলা, লোহার চুড়ি পরিয়ে দিলেন। শাঁখা পলা আমাদের কাছে একটা ইমোশন। শাঁখা পলা পরা হয়ে গেল মানেই, মেয়ে থেকে বৌ হয়ে ওঠার দিকে কয়েক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। এই অনুভূতি গুলো ঠিক লিখে বা মুখে বলে প্রকাশ করা যায় না, এগুলো উপলব্ধি করতে হয়। আর যে মানুষটির সাথে সংসার বাঁধতে চলেছি, তার জন্য শাঁখা পলা পরা একটা অন্যরকমের অনুভূতি। সব মিলিয়ে একটা মিশ্র অনুভূতি কাজ করছিল। শাঁখা পলা পরার পর সকলকে প্রণাম করেছিলাম।

1000467302.jpg

এইভাবেই আমরা শাঁখা পলা পরার নিয়ম সম্পূর্ণ হয়েছিল। আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোনো লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

Sort:  
Loading...