Sittong যাওয়ার পথে এমন সমস্যায় পড়বো ভাবিনি
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আজকে আবারও চলে এসেছি আপনাদের সাথে আমার গতদিনের পোস্টের বাকি পর্ব শেয়ার করার জন্য। আশা করছি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে।
গত দিনের পোস্টে আমি আপনাদের জানিয়েছিলাম যে বিয়ের চার মাস পর আমরা যাচ্ছিলাম ঘুরতে। সেই অনুযায়ী আমরা সমস্ত জিনিসপত্র গুছিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম গন্তব্যস্থলের উদ্দেশ্যে। রাত ৯.৩০ কার দিকে আমাদের বাস ছেড়েছিল, যেটা ছাড়ার কথা ছিল ৮ টা থেকে ৮.৩০ কার মধ্যে। প্রথমেই এতটা লেট করে বাস ছাড়াতে মনটা একটু অস্থির হচ্ছিল যে আমরা সময়ের মধ্যে শিলিগুড়ি পৌঁছাতে পারবো তো! যাইহোক, আমরা যাওয়ার সময় নন্ এসি স্লিপার বুক করেছিলাম। আসলে বাসের সিটে অনেক পরে বুক করা হয়েছিল তাই এ সি বাসের স্লিপারের সিট available ছিল না। অগত্যা নন এসি তেই বুক করতে হয়েছিল। আমরা যেদিন যাই সেদিন প্রচন্ড গরম পড়েছিল। যার ফলে আমাদের বাসে অনেক কষ্টও হয়েছিল। সারা বছর যেভাবে চলুক না কেন আমার মনে হয় ঘুরতে যাওয়ার দিনগুলো অন্তত আরাম করেই কাটানো উচিত। তাই প্রচন্ড গরমে আমাদের দুজনেরই শরীর খুব আনচান করছিল।
আমাদের ট্যুর এজেন্সির তরফ থেকে স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছিল যে আমাদেরকে সকাল সাড়ে আটটার মধ্যে নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছতে হবে। আমরা শেয়ার ট্রিপে গিয়েছিলাম, অর্থাৎ অচেনা মানুষদের সাথে আমাদেরকে গ্রুপ করে দেওয়া হয়েছিল। আমাদের টিমে আমরা সহ মোট চারটে couple ছিল। তারা যেহেতু বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসছিল তাই ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছিল যে তারা সকাল 10 টা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। তারপরে আর কোনোভাবেই অপেক্ষা করা সম্ভব হবে না। তাই প্রত্যেককে চেষ্টা করতে হবে দশটার আগেই যেখানে চলে যাওয়ার। তবে আমাদের বাস অনেক জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিল। সেই সাথে রাস্তায় বিভিন্ন জায়গায় জ্যামের জন্য অনেকটা সময় ধীরে ধীরে যাচ্ছিল। যার ফলে প্রথম থেকেই মনে হচ্ছিল যে আমাদের বাস অনেক লেট করবে আমাদেরকে শিলিগুড়ি পৌঁছাতে।
যেখানে সকাল আটটা নটার মধ্যে আমাদের শিলিগুড়ি পৌঁছে যাবার কথা সেখানে ন'টার পরেও আমরা বাসের মধ্যেই ছিলাম মানে বাস তখনও আমাদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। অন্যদিকে ট্রাভেল এজেন্সির ম্যাডাম এবং আমাদের সিটং নিয়ে যাবে যে ড্রাইভার তিনিও ক্রমাগত কল করছিলেন আমরা কতদূর পৌঁছেছি সেটা জানার জন্য। আমরা প্রতিবার কল রিসিভ করে জানিয়েছি আমরা কত দূরে আছি। সেই অনুযায়ী তারা সাড়ে দশটা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে বলেছিল। তবে দশটা পনেরো-কুড়ির সময়ও আমাদের বাস শিলিগুড়ি পৌঁছাতে পারেনি। ওনারা ক্রমাগত কল করছিলেন। শেষে যখন বাস বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালো তখন আমরা জিনিসপত্র নামাচ্ছিলাম। তখন ওনারা দু-তিনবার ফোন করেছিলেন। তবে সেই মুহূর্তে আমরা ফোন রিসিভ করতে পারিনি যেহেতু জিনিসপত্র নামানোর তাড়া ছিল।
*এরপর বাস থেকে নেমে 10 মিনিট পরে আমরা যখন ড্রাইভারকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করি যে আমরা কোথায় ওয়েট করবো তখন ড্রাইভার আমাদের হিন্দিতে বলে, "আপনারা সিটং হোম স্টে তে চলে যান। আমাদের গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে।" এই কথা শুনে আমাদের তো মাথায় হাত দেওয়ার মত অবস্থা। আমরা সঙ্গে সঙ্গে ট্রাভেল এজেন্সির ম্যাডামকে ফোন করি। উনি বলেন যে, "আমরা আপনাদের ৩-৪ বার কল করেছি, আপনারা কল রিসিভ করেননি। সকলে অনেক সময় ধরে অপেক্ষা করছিল। তাই আর অপেক্ষা করা সম্ভব হয়নি। আপনারা গাড়ি বুক করে সিটং চলে আসুন।" এই কথা শুনে তো প্রথমে ট্রাভেল এজেন্সির ওপরে ভীষণ রাগ হচ্ছিল। তবে পরে যখন রাগটা একটু কমলো তখন ভেবে দেখলাম আমাদেরই দোষ ছিল। কারণ নির্ধারিত সময়ে আমরা পৌঁছাতে পারিনি সেই সাথে আমরা কল রিসিভও করতে পারিনি।"
যাইহোক, এরপর আমরা গাড়ি খুঁজছিলাম। তবে সিটং যাওয়ার জন্য কোন গাড়ি আমরা পাচ্ছিলাম না। আমরা ভাবলাম ভুল যখন হয়েই গেছে, একটু টাকা খরচ হলেও একটা গাড়ি বুক করে সিটং এর স্পট গুলো ঘুরতে ঘুরতে যাব। তবে তাতে অনেক টাকা খরচ হত। দুজনের গাড়ি ভাড়া ৩০০০ টাকা পড়ে যেত। তবে দুর্ভাগ্যবশত সেটাও আমরা পাইনি। বেশিরভাগ গাড়িই ছিল দার্জিলিং যাওয়ার। তাই অবশেষে আবার ট্রাভেল এজেন্সির ম্যাডামকে ফোন করি। উনি একটা শেয়ার গাড়ির ড্রাইভার এর ফোন নাম্বার দেন।sharecar মানে, সেখানে যে অন্য ট্যুরিস্টরা যাই তা নয়, লোকাল মানুষরা যে গাড়ি করে যাতায়াত করে সেরকম গাড়ি। সেই ড্রাইভারকে ফোন করলে সে আমাদের একটা address দেয় সেখানে যেতে বলে। সেইমতো আমরা একটা টোটো ভাড়া করে ২০০ টাকা ভাড়া দিয়ে সেখানে পৌঁছাই।
এরপর জানতে পারি সেই গাড়ি ছাড়বে দুপুর দুটোর সময়। মানে আমাদের প্রায়ই তিন ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে। আর ওটা যেহেতু লোকাল মানুষদের যাতায়াতের মাধ্যম তাই কোন টুরিস্ট স্পটে দাঁড়াবে না। আমরা ড্রাইভারকে অনেক রিকুয়েস্ট করেছিলাম যাতে অন্য কোন গাড়ি ঠিক করে দেয় যাতে আমরা স্পটগুলো ঘুরতে ঘুরতে যেতে পারি। তবে উনি জানিয়েছিলেন যে এই মুহূর্তে এইরকম গাড়ি পাওয়া যাবে না। অগত্যা আমাদের সেখানে তিন ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল। আমার বরের উপরে আমার এত রাগ হচ্ছিল কি বলবো। রাগ হওয়াটা কি স্বাভাবিক নয়! সে যখন একটা বাসের টিকিট কাটছে তখন তো জেনে নেওয়া উচিত ছিল যে কটার দিকে শিলিগুড়ি পৌঁছাবে। কিন্তু আমার বর সেসব কিছুই জিজ্ঞাসা করেনি। আসলে ওরও ঘুরতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা একেবারেই নেই। তাই হয়তো প্রথমবার বুঝতে পারিনি। তবে এই বুঝতে না পারার জন্য আমাদের যা সমস্যায় পড়তে হয়েছিল তা ভাষায় বর্ণনা করা খুবই কঠিন। আশা করি এর থেকে অবশ্যই ওর একটা শিক্ষা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে অবশ্যই সমস্ত ডিটেলস জেনে তারপর টিকিট বুক করবে।
এরপর আমরা কিভাবে সিটং পৌঁছালাম আর সিটং যাবার পথে কী কী দেখার সুযোগ পেলাম সেই গল্প আমি আপনাদের সাথে আমার পরবর্তী পোস্টে শেয়ার করব। আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।




আমি লক্ষ্য করেছি যে আপনাদের ভ্রমণে উত্তেজনা এবং হতাশার এক মিশ্রণ ছিল। আমি নিশ্চিত যে বাসের বিলম্বের কারণে দলটিকে ধরতে না পারায় আপনাদের মন-মেজাজ খুব একটা ভালো ছিল না, এটা নিশ্চয়ই খুব চাপের ছিল, বিশেষ করে যেহেতু এটা আপনাদের মধুচন্দ্রিমার ভ্রমণ ছিল। আমি অবশ্যই লক্ষ্য করেছি যে আপনারা কতটা বুঝতে পারছিলেন যে পরিস্থিতিটা এমন ছিল যা কারোরই নিয়ন্ত্রণের বাইরে। প্রচণ্ড গরম, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং যানজটের ব্যাপারটা আমি সত্যিই বুঝতে পারছি, গত বছর সেপ্টেম্বরে আমার মায়ের সাথে ভ্রমণের সময় আমার সাথেও এমনটা হয়েছিল, যেখানে আমরা গন্তব্যে যাওয়ার পথে এবং বাড়ি ফেরার পথে উভয় সময়েই ঘুমিয়েছিলাম। তবে, আপনারা যেভাবে শান্ত ছিলেন এবং অবশেষে যাত্রা চালিয়ে গেছেন, তা আমার খুব ভালো লেগেছে। আমি আপনাদের দুজনের জন্য সামনে আরও অনেক চমৎকার এবং আশীর্বাদপূর্ণ ভ্রমণের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
সাবাস বন্ধু 👏🏿
এবং স্টিম অন!!!
0.00 SBD,
4.12 STEEM,
4.12 SP
Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟