দাদার বিয়ে
নমস্কার বন্ধুরা,
সকলে কেমন আছেন? আবারও চলে এসেছি আপনাদের সাথে নতুন আরও একটি দিনের গল্প শেয়ার করার জন্য। আশা করছি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে।
আমাদের বাঙালি বিয়ের বেশ কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। আশা করব অন্যান্য ধর্মের বিয়েতে ও নানা রকমের নিয়ম কানুন থাকে। আমাদের বিয়ের প্রথম নিয়মের মধ্যেই থাকে নির্দিষ্ট কিছু মাসেই বিয়ে করার নিয়ম। বাংলা ক্যালেন্ডারে বেশ কয়েকটি মাস কোনো শুভ কাজের জন্য প্রযোজ্য নয় বলে মনে করা হয়, যেমন- পৌষ মাস, ভাদ্র মাস, কার্তিক মাস ও চৈত্র মাস। তাই আমরা এই মাসগুলোকে বাদ দিয়েই কোন শুভ অনুষ্ঠানের কাজ করে থাকি। মাঘ, ফাল্গুন মাসে প্রচুর বিয়ের অনুষ্ঠান থাকে। এই বছর মাঘে মাসে আমার নিজের বিয়ে হয়েছে। তাছাড়াও মাঘ, ফাল্গুন মাসে আমরা অনেক বিয়ের নিমন্ত্রণ পেয়েছিলাম। তার মধ্যে আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব ৬ই মার্চ এর রিসেপশনের কিছু গল্প।

গত ৪ই মার্চ শিবান দাদা ও শ্রেয়ার বিয়ে হয়। দুজনের পুলিশের চাকরি করছে। দুজনের সাথেই আমার পরিচয় রয়েছে। শিবান দা কে বহু বছর ধরেই চিনি কারণ দাদার সাথে আমি একটা প্রাইভেট ব্যাচে পড়তাম। আর শ্রেয়ার সাথে পরিচয় হয়েছে অনেক পরে, ওদের বাড়িতেই। শিবান দাদা চাকরির জন্য কয়েকজনকে পড়াতো শ্রেয়াদের বাড়িতেই। শ্রেয়া কিন্তু দাদার কাছে পড়েই চাকরি পেয়েছে। ঐ দাদার কাছে আমিও বেশ কয়েকদিন পড়তে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারপর টিচিং এর এক্সাম দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য ওই ব্যাচে আমার আর যাওয়া হয়নি। তবে সেই থেকে ওদের সাথে আমার পরিচয় রয়েছে।

৪ই মার্চ আমাদের অন্য এক জায়গায় নিমন্ত্রণ ছিল তাই আমরা ৬ই মার্চ রিসেপশনে গিয়েছিলাম। আমার সাথে আমার বরেরও নিমন্ত্রণ ছিল। দুজনেই রেডি হয়ে পৌঁছে গিয়েছিলাম ওদের রিসেপশনের অনুষ্ঠান যেখানে হচ্ছিল সেখানে। এখানে পৌঁছেই প্রথমে চোখে পরলো সুন্দর করে সাজানো গেট টা। ভিতরটাও খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছিল এবং লোকজনে জমজমাট ছিল। লজটি তিনতলা ছিল। আমরা প্রথমেই চলে গিয়েছিলাম দোতলায়, যেখানে ওদের বসার জায়গা করা হয়েছিল। শ্রেয়ার জন্য একটা সুন্দর শাড়ি নিয়ে গিয়েছিলাম। সেটা ওকে দিয়েছিলাম। বিয়েতে বরদের তেমন কেউ গিফ্ট দেয় না। সব গিফ্ট বৌ রা পায়। এটা খুবই বাজে ব্যাপার।
যাই হোক, গিফ্ট দেওয়ার পর আমরা আবার নিচে চলে এসেছিলাম কারণ তখন সেখানে খুব ভিড় ছিল। নিচে এসে আমরা স্টল থেকে চিকেন পকোড়া আর তন্দুরি চিকেন খেয়েছিলাম। সেই সাথে সেখানে ফুচকারও স্টল ছিল। সেখান থেকে চার-পাঁচটা ফুচকাও খেয়েছিলাম। আমার বর ফুচকা খায়নি। ও কফি খেয়েছিল। এরপর আমরা নিজেরা কয়েকটা ফটো তুলেছিলাম।

তারপর আমরা আবার দোতলায় গিয়েছিলাম। তখন দোতলায় একটু ফাঁকা ছিল। সেই সুযোগে আমি বর ও বউ এর সাথে কয়েকটা ফটো তুলে নিয়েছিলাম। তারপর তিন তলায় চলে গিয়েছিলাম খাবার খেতে। সেখানে লম্বা লাইন ছিল। প্রায় ১ থেকে দেড় ঘন্টা অপেক্ষা করার পর আমরা সিট পেয়েছিলাম। খাবারের বিভিন্ন রকমের মেনু ছিল- কড়াইশুঁটির কচুরি, চানা মশলা, পানির পাসিন্দা, সাদাভাত, ভেজ ডাল, বেগুনি, চিপস, দুই রকমের মাছ, পোলাও, মটন, চাটনি, পাঁপড়, কেশরী ভোগ, মিষ্টি, দই, আইসক্রিম ইত্যাদি। সেই সবকিছু অল্প অল্প খেয়ে বর-বৌ কে টাটা জানিয়ে বাড়ি চলে এসেছিলাম।

আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোনো লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
Curated by: @josepha