বিভিন্ন সময় তোলা গাঁদা ফুলের কিছু চিত্তাকর্ষক ছবি।

প্রিয় বন্ধুরা,
সকলকে মঙ্গলবারের মঙ্গলময় শুভেচ্ছাবার্তা জানিয়ে আজকের লেখা শুরু করছি।
বন্ধুরা শীতকাল বলতে যে বিষয়গুলো চোখের সামনে ভেসে ওঠে, তার মধ্যে যেমন রয়েছে কুয়াশা, লেপ-কাঁথা, শীতকালীন বস্ত্র, হরেক রকম সবজি;
তেমনি রয়েছে খেজুরের রস, খেজুরের গুড় এবং সেই গুড় দিয়ে তৈরি এই পৌষ মাসে প্রত্যেক বাঙালি হেশেলে তৈরি হরেক রকমের পিঠে।
আবার প্রকৃতির আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে বিভিন্ন ফুলের সমাহার, তারমধ্যে রয়েছে, ডালিয়া, গাঁদা, বিভিন্ন গোলাপ আরো কত কি।
সারা বছরের মধ্যে আমার এই সময়টা বেশ প্রিয়, গলদঘর্ম হয়ে কাজ করবার কষ্ট নেই, আর নেই খাবার আগে চিন্তার প্রয়োজন।
আগেও আমি বেশ কিছু গাঁদা ফুল চাষের ছবি আপনাদের সাথে ভাগ করে নিয়েছিলাম, এবং আজকেও আবার এসেছি কাজের সুবাদে গিয়ে তোলা বেশ কিছু গাঁদা ফুলের ছবি নিয়ে।


পূর্বেই উল্লেখিত যে গ্রাম এবং গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা আমাকে আকৃষ্ট করে নানান কারণে।
সহজ সরল জীবন যাপন, বিশুদ্ধ বাতাস, নির্মল পরিবেশ, হরেক রকমের খাঁটি খাবার, সর্বোপরি মানুষের সুবিশাল হৃদয়, সবটাই শহরের বিপরীত।
আজও কারোর বাড়িতে আত্নীয় আসলে প্রতিবেশী ছুটে আসে খোজ নিতে কারা এসেছে সেই বাড়িতে জানতে, আজও ভালো মন্দ বিনিময় হয় প্রতিবেশীর সাথে, খোলা মাঠে খেলার সুযোগ পায় শৈশব।
যখনই আমার এরকম পরিবেশ দেখার সুযোগ হয় কাজের সুবাদে, আমি একমুঠো গ্রাম কুড়িয়ে নিয়ে আসি নিজের জন্য, এবং বেশ কিছুদিন নিজের ছেলেবেলা খুঁজি তারমধ্যে।
যেমন আজকের ভাগ করে নেওয়া ছবিগুলো আমার কাছে কুড়িয়ে নিয়ে আসা সেই গ্রামের অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ।
হয়তো গ্রামের মানুষ শহরের মানুষের জীবনযাপনকে নিয়ে আক্ষেপ করেন, যেমন আমার আক্ষেপ গ্রাম্য পরিবেশের অভাব নিয়ে।
আসলে বোধহয় আমরা কোনো কিছুতেই সুখী নই, যা আছে তার থেকেও যেটা নেই তার জন্য আফসোস করি সর্বক্ষণ।
মানবজাতির বেশিরভাগটাই এইরকম, তাই আমিও হয়তো সেই দলেই সামিল। তবে সাবেকি মানুষ হিসেবে অনেক কিছুই দেখেছি, যেটা এই প্রজন্মের দেখার সৌভাগ্য হয়নি।
এক পয়সার প্রচলন থেকে শুরু করে এমন অনেক গাড়ি ঘোড়া যা আজ আর বাজারে দেখতে পাওয়া যায় না।


এছাড়া হ্যারিকেনের আলোয় পড়াশুনা, লম্ফর আলোয়, কয়লার উনুনে মায়ের রান্না। শীল পাটায় বাটা মশলা(এখন যার আধিক্য অনেক কমে গেছে), এছাড়া দাঁতের লড়াই, কালো নুন সেই সব এখন ইতিহাস।
ছিল না অত্যাধুনিক প্রযুক্তির রমরমা কিন্তু ছিল আত্নীয় স্বজনের বাড়িতে অগ্রিম বার্তা না দিয়ে অবাধ বিচরণ।
ছিল না এখনকার মত অনলাইন সার্ভিস কিন্তু ছিল চপ, সিঙ্গারা, মুড়ি, মিষ্টি দিয়ে অতিথিকে অভ্যর্থনার চল।
উন্নতির প্রয়োজন অবশ্যই আছে, তবে উন্নতির আড়ালে আন্তরিকতা হারিয়ে যাওয়া আজও মেনে নিতে পারি না।
যাইহোক হয়তো পরিবর্তন জগতের নিয়ম এবং সেই পরিবর্তনের সাথে নিজেদের মানিয়ে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের পরিচয় বহন করে।
তাই পছন্দ হোক বা অপছন্দ মানিয়ে নিয়ে খাপ খাওয়ানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি সর্বক্ষণ, এবং সেই মানিয়ে নেওয়ার রসদ যোগায় আমাকে আমার নিয়ে আসা একমুঠো গ্রাম।
আজ এখানেই ইতি টেনে বিদায় নিলাম, ছবিগুলো কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না, ভালো থাকুন এবং বাঁচুন সানন্দে।
সত্যি আগের দিনের সব আমরা আস্তে আস্তে হাড়িয়ে ফেলেছি।এখন এইগুলো আমাদের কাছে স্মৃতির খাতায়।আজ এই গুলো নেই বলেই পরিবেশ এতো দূষিত হচ্ছে।
খুবই সুন্দর ভাবে আপনি উপস্থাপন করেছেন শীতের মৌসুমে আকর্ষণীয় বিষয়বস্তু এবং শীতের কম্বল তো অন্যতম। শীতের পিঠা খুবই আকর্ষণীয় এবং খুবই মজাদার হয়ে থাকে। পূর্বেও আপনি এই গাঁদা ফুলের ছবিগুলো শেয়ার করেছিলেন আজকেও খুব কাছ থেকে শেয়ার করেছেন এটা খুবই ভালো লাগে এবং এর মনোমুগ্ধকর ঘ্রাণ সকলকেই আকর্ষণ করে।
যারা শহরের ভিতরে বসবাস করে তারা গ্রামের এই পরিবেশ গ্রামের এই মুক্ত বাতাস আন্তরিকতা তারা খুবই ভালোবাসে এবং তাদের মন কেড়ে নেয় এই গ্রামের সকল কিছুই তেমনিভাবে বিপরীত যারা গ্রামে থাকে তারা চায় আমরা যেন শহরে থাকতে পারি তারা চায় যারা শহরে কত গাড়ি চলাচল কত বিল্ডিং কত কিছু। সর্বোপরি মানুষ যা পায় তার দিকে আকর্ষণ করে না তার বিপরীত দিকে আকর্ষণ করে জানা পায় তার দিকে।
হ্যাঁ এই মার্ক করা কথাটি আসলেই বাস্তব। আজ উন্নতির অনেক দরকার এবং উন্নতিও হচ্ছে কিন্তু অবনতি হচ্ছে মানুষের মানবতা মানুষের আন্তরিকতা তাদের সম্পর্ক যেন ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে।
যাই হোক অনেক ভালো লাগলো আপনার এই পোষ্ট পড়ে। ভালো থাকবেন।
সঠিক কথা বলেছেন স্যার। আমরা সত্যিই কিছুতেই খুশি হত পারিনা। গাঁদা ফুলের ছবি গুলোর মতো আপনার লেখাও ভীষন সুন্দর।