Better Life With Steem || The Diary game || 22 March 2025 ||

in Incredible India11 months ago
Picsart_25-03-23_09-06-46-994.jpg

নিজের যতটুকু আছে আমার মনে হয় ততটুকু নিয়ে বড়াই করাটা ভালো। কিন্তু অন্যের আছে অর্থাৎ আমার বাবার আছে, আমার স্বামীরা আছে। আমার ছেলের আছে, এটা নিয়ে কখনোই বড়াই করবেন না। কারণ ওটা শুধুমাত্র নামের, আপনার কাজে কখনো আসবে বলে আমার মনে হয় না। সবাই সবার মত আপনার কাছে আসে আপনাকে ভালোবাসা দেখায় ,কিন্তু যখন নিজেদের স্বার্থ ফুরিয়ে যায়। তখন কিন্তু আপনাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতে দ্বিতীয়বার চিন্তা করবে না। সবার সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়ে আমরা চেষ্টা করি, নিজেদের কষ্ট হোক তারপরেও সবাই ভালো থাকুক। কিন্তু দিনশেষে একটা জিনিস বেশ ভালোভাবেই উপলব্ধি করলাম। স্বার্থ শেষ আপনার কাছে তাদের প্রয়োজন শেষ। আপনাকে ছুড়ে ফেলে দিবে। আপনি কেমন আছেন সেটা দ্বিতীয়বার দেখার চেষ্টা করবে না।

IMG_20250322_090548_701.jpg
IMG_20250322_090548_259.jpg

তাই আমার কাছে মনে হয় আমি কতটুকু করতে পেরেছি? আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রশ্নটা প্রতিটা ব্যক্তির করা উচিত! কেউ যদি আমাকে ছেড়ে চলে যায় বা আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়! আমি আবার উঠে দাঁড়াতে পারবো তো? আমার সেই দাঁড়ানোর শক্তিটা আছে তো? নিজেকে বেশ কিছু প্রশ্ন করার পরেও কোন উত্তর পেলাম না! কারণ আমার কোন অস্তিত্ব নেই! আমি নিজের পায়ে এখনো দাঁড়াতে পারিনি! এখনো নিজের পায়ের মাটি টা শক্ত করতে পারিনি। তাহলে আমি কিভাবে অন্যের উপর ভরসা করে, এই পৃথিবীতে টিকে আছি। যে কোন মুহূর্তে আমার সাথে যে কোন ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তখন আমি কি করবো। তাই আমার মনে হয় প্রতিটা মানুষের উচিত নিজের একটা আইডেন্টিটি তৈরি করা। একটা কথা কি জানেন তো? শশুর বাড়িতে না আসলে কখনো বুঝতাম না ভাতের এত মূল্য।

আপনি আপনার আইডেন্টিটি তৈরি করুন। আপনি নিজে কিছু করার চেষ্টা করুন। যখন দেখবেন আপনার কাছেও কিছু আছে, তখন সবাই আপনাকেও কিছুটা হলে ভালোবাসা দিবে, এটাই বাস্তব দুনিয়ার মানুষের স্বভাব। তবে আমরা মানুষেরা ডুবে থাকি, আমাদের বাবার আছে আমাদের স্বামীর আছে, ছেলের আছে, এই ভরসায় নিয়ে। এই ভরসা করা থেকে বিরত থাকুন। নিজে কিছু করে
দেখিয়ে দিন, আপনিও কিছু করতে পারেন। আলহামদুলিল্লাহ সেহরির সময় উঠে দুই রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে নিলাম। তারপর সবাই মিলে সেহরি খেয়ে নিলাম। আজকে সেহরিতে এত পরিমাণে তরকারি ছিল, কি আর বলবো তরকারির কারণে আমার ভাত দেখা যাচ্ছিল না।

IMG_20250322_090548_749.jpg

যাইহোক এরপর কিছুক্ষণ অনলাইনে ঘোরাঘুরি করলাম।আসলে কোন কিছুই ভালো লাগছে না, তারপর দুই তিনটা কমেন্ট করে নামাজ পড়ে নিয়েছিলাম। তারপর শুয়ে পড়েছিলাম। ঘুম ভাঙলো সাতটা বাজে উঠে দেখি আকাশে মেঘের ঘনঘটা। তবে বৃষ্টি হবে বলে আমার মনে হয় না। ছাদে গিয়ে প্রথম অবস্থায় কবুতর গুলোকে ছেড়ে দিয়ে পানি পরিবর্তন করে দিলাম। তারপর তাদেরকে খাবার দিয়ে ওখান থেকে দুইটা ফটোগ্রাফি করে বের হয়ে আসলাম। আসার সময় দেখলাম সূর্য মামা একটু একটু করে উঁকি দিচ্ছে। তার মানে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই নেই বললে চলে। তবে বাতাসের পরিমাণটা থাকার কারণে, পরিবেশটা কিছুটা শীতল ছিল। গরম তেমন একটা লাগছিল না সকালবেলা।

IMG_20250322_090548_721.jpg
IMG_20250322_090547_982.jpg

এরপর নিচে এসে নিজের কিছু কাজ ছিল সেগুলো সম্পন্ন করে, ঘরে আসলাম। তারপর নিজের পোস্ট লেখা শুরু করলাম। পোস্ট সাবমিট করতেই আমার অনেকটা সময় লেগে গেল। আরো দুই তিনটা পোস্টে কমেন্ট করে উঠে গিয়েছিলাম, আরো কিছু কাজ ছিল সেগুলো সম্পন্ন করার জন্য। সেগুলো সম্পন্ন করতেই যোহরের আযান দিয়ে দিল। দুই ননদের জামাই বিদেশ থেকে বাড়িতে এসেছে, তাদেরকে দাওয়াত করতে হবে। এটা নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে ব্যস্ততার মধ্যেই কেটে যাচ্ছে। প্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। কারণ হঠাৎ করে যদি কখন চলে আসে তাহলে কিছুই করার থাকবে না। তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করে রেখেছিলাম। আমি একা প্রস্তুতি নিয়েছি বললে ভুল হবে। আমার শাশুড়ি আমাকে সাহায্য করেছিল, কারণ উনার মেয়ে জামাই বলে কথা।

IMG_20250322_090548_599.jpg

যাইহোক জোহরের নামাজ পড়ে ছেলেদেরকে দুপুরের খাবার খাইয়ে দিলাম। তারপর আমি কিছুক্ষণ শুয়ে পড়েছিলাম কিন্তু ঘুম আসছে না। তারপর মোবাইলে এদিক ওদিক কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করে উঠে গিয়েছিলাম রান্না করার জন্য। রান্না শেষ করে আবার কবুতর গুলোকে তাদের ঘরে রেখে দিয়ে আসলাম। মুরগির বাচ্চা গুলো একটু বাজে হয়ে গেছে। সন্ধ্যার সময় ঘরে ঢুকতে চায় না। অনেকটা জোর করে তাদেরকে ঘরে ঢুকাতে হয় আর এ কারণেই তাদের পেছনেই অনেক সময় ব্যয় হয়ে গেল। তারপর দেখলাম তারা ঘরে ঢুকতেই চাইছে না কি করব বুঝতে পারছিলাম না। তারপর আমি এসে ইফতারের জন্য সবকিছু রেডি করে নিয়েছিলাম। তারপর সবাই মিলে ইফতার করে নিলাম।

IMG_20250322_090548_424.jpg
IMG_20250322_090547_885.jpg

ইফতার করা শেষ হলে দেখি তারা নিজে থেকেই ঘরে ঢুকে গেছে। তার মানে বুঝতে পারলাম তাদের ইচ্ছামত তারা চলাফেরা করছে, কিছুই করার নেই। তারপর ওদের ঘরের দরজায় তালা দিয়ে আমি অজু করে এসে নামাজ পড়ে নিয়েছিলাম। ছেলেদেরকে পড়তে বসতে বলেছিলাম, কিন্তু তাদের অজুহাতে শেষ নেই। তারপর আমি আর জোর করলাম না। কেননা ইফতার করার পর শরীরের অবস্থা তেমন আর ভালো থাকে না। একটু পরেই এশার আজান দিল এরপর তারাবির নামাজের জন্য দাঁড়িয়ে গেলাম। মোটামুটি প্রায় সাড়ে নয়টার দিকে আমার নামাজ শেষ হয়ে গেল। এরপর শুয়ে পড়েছিলাম আর এভাবেই আমার জীবন থেকে আমি আরো একটা দিন অতিবাহিত করলাম। ভালো থাকবেন, সবাই আল্লাহ হাফেজ।

Sort:  

1000005434.png
Your post from Team6 has been curated by @radjasalman.

Loading...
 10 months ago 

খুবই চমৎকার একটি কথা বলেছেন আমার যতটুকু আছে ততটুকু নিয়েই বড়াই করা উচিত অন্যের হাতে সেটা নিয়ে বড়াই করা বোকামি ছাড়া আর কিছু না।।

আপনার কবুতর গুলো দেখতে বেশ সুন্দর আশা করি আপনার মনের আশা পূরণ হবে।।

 10 months ago 

আমার কাছে যত থাক না কেন ৫ টাকা হোক কিংবা ১০ টাকা আমার কাছে মনে হয় নিজের যা আছে তা নিয়ে বড়াই করা উচিত অন্য মানুষের অনেক কিছু আছে এটা নিয়ে কখনোই বড়াই করা উচিত কারণ আপনি যখন বিপদে পড়বেন তখন আপনার পায়ের নিচে মাটি থাকবে না তখন দেখবেন প্রিয় মানুষগুলো অপরিচিত মানুষের মতো আচরণ করে অতএব নিজের পায়ে দাঁড়ানোটা খুব প্রয়োজন।