"সম্পর্ক"
![]() |
|---|
সম্পর্ক আসলে কেমন হওয়া উচিত। একটা মানুষের সাথে আরেকটা মানুষের সম্পর্ক অনেক বেশি গভীর হওয়া উচিত। একজন আরেকজনকে বিশ্বাস করা উচিত। আমার কাছে মনে হয় মানুষ যতই আপন হোক না কেন? নিজের ব্যক্তিত্বের মধ্যে কিছু কথা গোপন রাখা উচিত। আপনি যদি আপনার প্রিয় মানুষের কাছে আপনার মনের অনুভূতি সবকিছু প্রকাশ করে দেন। একটা সময় এসে দেখা যায়, সেই মানুষটা আপনাকে অবহেলা করা শুরু করেছে। আপনার যে দুর্বল জায়গা আছে সেখানে সে আঘাত করা শুরু করেছে। যেটা আপনি কখনোই সহ্য করতে পারবেন না। আর বিভিন্ন ধরনের অজুহাত দিয়ে সম্পর্ক ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা করছেন।
তাইতো আমার মা একটা কথা বলে থাকে, যতই পিরিতির মানুষ হোক না কেন? সব কথা বলতে যেও না কারণ মানুষ বড়ই স্বার্থপর! সে তোমার যতই আপন হোক না কেন! একটা সময় তোমার কথা অন্যের কাছে প্রকাশ করতে দ্বিতীয়বার চিন্তা করবে না। আমাদের মেয়েদের ক্ষেত্রে আমার সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য অনেক ধরনের ত্যাগ স্বীকার করি, কিছু মেয়ে সবাই না! আবার কিছু মেয়ে আছে নিজের স্বার্থের জন্য অন্যকে আঘাত করতে দ্বিতীয়বার চিন্তা করে না। ভালোবাসা নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বর্তমান সময়ের একটা ট্রেন্ডিং টপিক হয়ে গেছে। যে কেউ কিন্তু এটা করতে পারে খুব সহজে। আমার কাছে মনে হয় যদি ভালবাসতে না পারো, তাহলে ওই মানুষটা থেকে দূরে থাকাটাই শ্রেয়।
দুই দিনের অভিনয় দিয়ে ওই মানুষের সারা জীবনটা নষ্ট করা মোটেও ঠিক না। এটা আমি উভয়ের ক্ষেত্রেই বলব ছেলে হোক কিংবা মেয়ে। সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত একটা মায়ের সাথে একটা সন্তানের সম্পর্ক খুবই গভীর একটা সম্পর্ক। যেখানে কোন স্বার্থ থাকে না, থাকে শুধু ভালোবাসা। ছোটবেলা থেকে একটা মা তার ছেলে হোক কিংবা মেয়ে খুব আদর যত্ন দিয়ে কিন্তু বড় করে। এটা কখনো ভুলে যাবেন না। যেখানে স্বার্থ ছাড়াই কিন্তু মা তার সন্তানদেরকে ভালবাসে, এটাই হচ্ছে মায়ের সাথে সন্তানের সম্পর্ক।
এবার ধরুন একজন বাবা তার সাথে তার সন্তানের সম্পর্ক কেমন থাকে। সারাদিন কাজ করে এসে শরীর ঘামে ভিজে যায়, তারপরেও যখন তার বাচ্চারা তাকে বাবা বলে ডাক দেয়। সে কিন্তু তার সব কষ্ট ভুলে যায়। নিজের শরীরের ঘাম ঝরিয়ে দশ মাইল পথ হেঁটে আসে, কিন্তু সন্তানের জন্য একটা চকলেট তার প্রিয় খাবার ঠিকই নিয়ে আসে। এটাও কিন্তু খুব মধুর একটা সম্পর্ক ।আমরা অনেকেই আছি আজ পর্যন্ত বাবাকে বলতে পারিনি। বাবা তোমাকে অনেক ভালোবাসি। অথচ দূর থেকে বাবা নামক বট গাছটাকে অনেক বেশি মিস করি।
এবার ধরুন স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক। ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী একজন স্বামী যখন তার স্ত্রীর সাথে ভালোবাসার সম্পর্কে আবদ্ধ হয়। এটাতে কিন্তু স্বয়ং আল্লাহ তাআলা নিজেও খুশি হয়ে যায়। তবে আমরা আমাদের সেই সম্পর্কটাকে নষ্ট করতে দ্বিতীয়বার চিন্তা করি না। বর্তমান যুগের মেয়েরা সম্পর্কটাকে শুধুমাত্র ছেলে খেলা ভেবে নিয়েছে। যখন ইচ্ছে বিয়ে করছে আবার যখন ইচ্ছে ডিভোর্স হয়ে যাচ্ছে। আর আজ থেকে যদি ৩০ বছর পেছনে তাকানো যায়। তাহলে আপনারা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা কতটা গভীর ছিল সেটা বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পারবেন। একটা মেয়ে শুধুমাত্র ভরণ পোষণের জন্য আপনার বাড়িতে আসেনি।
এটা কিন্তু তার বাবা-মা ও দিতে পারতো। কেন বিয়ে হয়েছে কেন আপনি বিয়ে করেছেন এটা একটু চিন্তা করে দেখবেন। তাকে আপনি ঘরের চাক রানী নয় বরঞ্চ রাজ রানী করে রাখার চেষ্টা করবেন। আপনি যদি আপনার বাবা মাকে ছেড়ে অন্য কোন পরিবারে গিয়ে থাকতেন। তাহলে হয়তো বা তার কষ্টটা সেটা হলেও বুঝতে পারতেন। সে কিন্তু তার বাবা-মা আত্মীয়-স্বজন সবাইকে ছেড়ে আপনার পরিবারে আসে। সবার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে, সবার সাথে ভালো থাকার চেষ্টা করে। সেই আপনি যদি তাকে কষ্ট দেন। তাহলে এটা খুব বাজে একটা সম্পর্ক আমি বলবো।
শশুর শাশুড়ির সাথে ঘরের বউয়ের সম্পর্ক হওয়া উচিত, নিশ্চয়ই বাবা মায়ের মত। তবে বর্তমান সময়ে খুব কম সংখ্যক মানুষ দেখা যায়। মানুষ বললে ভুল হবে মেয়ে দেখা যায়। যারা কিনা বাবা-মাকে সম্মান করলেও শ্বশুর-শাশুড়িকে নিজের বাবা-মায়ের স্থান দিতে চায় না। বাবা-মা আপনার কাছে হয়তো বা ২০ বছর অথবা কারো কাছে 25 বছর থাকে। কিন্তু এর পরের বাকি জীবনটা কিন্তু আপনি আপনার শ্বশুর শাশুড়ির সাথেই কাটাতে হয়। তাহলে তাদেরকে বাবা মায়ের স্থান দিতে সমস্যা কোথায়। প্রতিটা মেয়ে যদি তার বাবা-মায়ের স্থানে তার শশুর শাশুড়িকে বসা তো। তাহলে হয়তো বা এই পৃথিবীতে কোথাও বৃদ্ধাশ্রম থাকত না।
আর প্রতিটা শাশুড়ি বা শশুর যদি তার ছেলের বউকে নিজের মেয়ের মতো করে চিন্তা করত। তাহলে হয়তোবা সংসারের মধ্যে কখনোই সমস্যা হতো না। আমরা সম্পর্ক গুলোকে শুধু মাত্র মানুষ দেখানোর মধ্যেই প্রকাশ করতে আনন্দ উপভোগ করি। কিন্তু সেই সম্পর্ক কিভাবে টিকে থাকবে সেই সম্পর্ক টিকানোর জন্য কি কি করনীয়। সেই বিষয়গুলো আমরা অনেক আগেই ভুলে গেছি। সম্পর্ক গুলো কি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করুন। কারণ এই সম্পর্কের কারণেই মানুষ একে অপরের সাথে একসাথে মিলেমিশে বসবাস করার চেষ্টা করে। সম্পর্ক নিয়ে শুধুমাত্র নিজের মনের অনুভূতি শেয়ার করেছি আর কিছু না। যদি ভুল হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।




.jpeg)
আপনি আপনার এই পোস্টের মাধ্যমে 'সম্পর্ক' বিষয়টি খুব সুন্দরভাবে আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। আর আপনার লেখা প্রত্যেকটি শব্দই সত্যিই বাস্তবের কথায় বহন করে।
আপনার মায়ের মত আমার মা ও ঠিক একই কথা বলে। সকল কথা সবাইকে বলতে নেই, সে যতই আপন জন হোক না কেন। কারণ সুযোগ পেলে কেউই সেই বিষয় নিয়ে কথা শোনাতে ছাড়ে না।
আপনি আপনার পোস্টের মাধ্যমে পরিবারের সকল সদস্যদের একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কটা খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের সামনে উপস্থাপন করার জন্য। ভালো থাকবেন।
সম্পর্ক জিনিসের ব্যাপারে আমি শুধুমাত্র বিষয়বস্তু আমার মনের অনুভূতি শেয়ার করার চেষ্টা করেছে আসলে সবার সাথে সব কথা বলতে নেই এটা একেবারেই বাস্তব আপনি যদি সবকিছু সবাইকে বলে দেন দিনশেষে আপনার গোপন বা ব্যক্তিত্ব বলে কোন কিছুই থাকবে না যাই হোক আমার পোস্ট পরিদর্শন করে এত সুন্দর একটা মন্তব্য করেছেন যেটা দেখে ভালো লাগলো।
একটি সম্পর্কের মধ্যেও সম্মান বিশ্বাস থাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ যেখানে সম্মান ও বিশ্বাস থাকে না সেই সম্পর্কের কোন মর্যাদা থাকে না। তবে নিজের মধ্যে কিছু কথা লুকিয়ে রাখতে হয় যে কথাগুলো সবার সাথে প্রকাশ করতে নাই এটা আমি বিশ্বাস করি। কারণ যখনই একটি মানুষ আমাদের দুর্বল জায়গা খুঁজে পাই তখনই সে দুর্বল জায়গায় সেই মানুষটি আঘাত করার চেষ্টা করে সম্পর্ক রাখা ভালো তবে অন্ধের মতো বিশ্বাস করে সম্পর্ক রাখা ভালো না বলে আমার নিজের মনে হয়। অনেক সুন্দর একটি লেখা উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
আপনি একেবারেই ঠিক বলেছেন একটা সম্পর্কের মধ্যে সম্মান থাকা অনেক বেশি প্রয়োজন সেই সাথে বিশ্বাস আমরা যদি একে অপরকে বিশ্বাস করতে না পারি তাহলে সেখানে সম্পর্ক কিভাবে টিকিয়ে থাকবেন আর একটা জিনিস অবশ্যই আপনি মাথায় রাখবেন সমস্ত মনের কথা সবার কাছে প্রকাশ করবেন না কারণ কিছু কিছু মানুষ আছে আপনার দুর্বল জায়গায় আঘাত করতে অনেক বেশি পছন্দ করে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার পোস্ট পরিদর্শন করে এত সুন্দর একটা মন্তব্য করার জন্য ভালো থাকবেন।
বর্তমান সময়ে সম্পর্ক যেন একটি সহজ নাম কারণ সম্পর্ক তৈরি করতে সময় লাগলো সেটা ভাঙতে সময় লাগে না।। এছাড়াও সম্পর্কের মধ্যে বিশ্বাস সম্মান এগুলাও থাকে না।।
কিন্তু হ্যাঁ প্রতিটি সম্পর্কের মধ্যে বিশ্বাস সম্মান থাকা দরকার তাহলে একটি সম্পর্ক টিকে থাকবে।। এছাড় াও সব কথা সম্পর্কের মধ্যে শেয়ার করতে নেই কারণ সব কথা শেয়ার করলে সম্পর্কের ফাটল সৃষ্টি হয়।।
সম্পর্ক হচ্ছে বর্তমান সময়ে পুতুল খেলার মত যখন ইচ্ছা খেলতে শুরু করলাম যখন ইচ্ছা মাটিতে ফেলে দিলাম সম্পর্ক তৈরি হতে একটু সময় লাগলেও সম্পর্ক ভেঙে ফেলতে এখন আর সময় লাগে না এটা সম্পর্কের মধ্যে যদি বিশ্বাস ভালোবাসা না থাকে সম্মান না থাকে তাহলে সেই সম্পর্ক কখনোই টিকিয়ে রাখা সম্ভব না।