"সকলে মিলে ভোর রাতে পৌঁছালাম নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
ট্রেন চলতে শুরু করেছো অনেকক্ষণ আগেই। লাগেজপত্র ঠিকঠাকভাবে ঢুকিয়ে নিজেদের সিটে বসে পড়েছি আমরা চারজন। আপনার অনেকে ভাবছেন নিশ্চয়ই যে চারজন কেন বলছি, আসলে এক জায়গায় আমাদের চারজনের সিট। বাকি দুজনের সিট আমাদের থেকে বেশ খানিকটা দূরে।
মনের ভিতরে এক আলাদা আনন্দ কাজ করছে, একথা অস্বীকার করবো না। তার পাশাপাশি অজানা এক ভয়ও রয়েছে। পরিবারের কেউ সাথে নেই, বন্ধুদের সাথে রওনা করেছি অজানা গন্তব্যে। যেখানে যাওয়ার ইচ্ছা বহু বছরের। নিজের চোখে সামনা সামনি এখনও বরফ দেখার সুযোগ হয়নি।
গতবার দার্জিলিং এ যাওয়ার সময় আলোচনা করছিলাম, যদি কখনো সম্ভব হয় একসাথে সকলে মিলে একবার বরফ দেখতে যাবো। তবে সেই আলোচনা যে বছর খানিক বাদেই বাস্তবতায় রূপ নেবে সত্যিই ভাবিনি।
![]()
|
|---|
যাইহোক আজ সকালে ঘুম ভেঙেছে অনেক তাড়াতাড়ি। আসলে সারারাত খুব ভালোভাবে ঘুম হয়েছে এমন নয়। এই প্রথমবার আমি একা আমাদের বাড়ি থেকে রওনা করলাম। আগেরবার শুভ আমাকে ট্রেনে তুলে দিয়ে গিয়েছিলো। তবে এইবার লাগেজ নিয়ে একা ঠিকভাবে ট্রেনে উঠতে পারবো কিনা, বা উঠলেও কোনো সমস্যা হবে কিনা, এই সমস্ত ভাবনা চলছিল মাথায়। এই কারণেই বোধহয় রাতেও ভালোভাবে ঘুম হয়নি।
বৃহস্পতিবার বাড়ি থেকে বেরোবো, তাই বাড়ির পূজো দেওয়াটা অবশ্যই ছিলো। বিশেষ করে লক্ষ্মীব্রত ছিলো আজ। তাই সকাল বেলায় আরো ঘুম থেকে উঠে শাশুড়িমাকে ডেকে দিয়েছিলাম রান্নার পর্ব শেষ করার জন্য। অবশ্য উনিই আমাকে গতকাল রাতে বলে রেখেছিলেন, যাতে আমি ওঠার পর ওনাকে ডেকে দিই। যাতে উনি রান্নার দিকটা সামলে নিতে পারেন, আর আমি পুজোর দিকটা।
![]()
|
|---|
মোটামুটি ১২:৩০ টার মধ্যে আমাকে বাড়ি থেকে বেরতে হবেই। সকাল থেকেই বেশ ব্যস্ততা ছিলো। গতকালের পোস্টেই জানিয়েছিলাম লাগেজ সম্পূর্ণ গোছানো ছিলো না, সকালবেলার সমস্তটা কমপ্লিট করার আগে আমি ঠাকুরের পূজোর ফুল তুলে, বাসন মেজে, ঠাকুর ঘর মুছে, সমস্ত কিছু জোগাড় করার পর, স্নান সেরে পুজো দিলাম।
আমি বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে লাঞ্চ করে বেরোবো। তবে আমার বান্ধবী, ওর দাদা এবং একটা বোন, আরও অনেক আগে বাড়ি থেকে বেরিয়েছে। যেহেতু ওরা আমাদের গ্রামের বাড়ি থেকে আসছে এবং অনেকটা আগেই ওরা ট্রেনে উঠেছে, তাই ওদের পক্ষে লাঞ্চ করা সম্ভব ছিলো না। তাই ওদের জন্য আমি লাঞ্চ নিয়ে যাবো এমনটাই আগের দিন রাতে ঠিক হয়েছিলো।
![]()
|
|---|
সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে শাশুড়ির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা করবো, ঠিক তখনই মনটা বেশ খারাপ লাগছিলো। আগেরবার দার্জিলিং যাওয়ার সময় শশুর মশাই আমাকে রাস্তা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়েছিলেন। তবে এবার সেই মানুষটি এই পৃথিবীতে নেই। শাশুড়ি মাকে একা রেখে যেতে মন চাইছিলো না, কিন্তু সব সময় মনের সব চাওয়াকে গুরুত্ব দিতে গেলে দিন শেষে কোথাও বোধহয় নিজের চাওয়া গুলো আর পূরণ হয় না। এইরকমই অজস্র প্রশ্ন আসছিলো মনে, পাশাপাশি তার উত্তরও যেন দিয়ে চলছিলাম সমানে।
![]()
|
|---|
এইভাবে পৌঁছে গেলাম স্টেশনে। শিয়ালদহ যাওয়ার একটা টিকিট কেটে নিয়ে এক প্লাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মের রওনা দিলাম। কারণ আমি যে ট্রেন ধরবো সেটা দুই নম্বর প্লাটফর্মে আসবে। তাই সেখানে গিয়ে একটু অপেক্ষা করার পরে আমার ট্রেন চলে এলো। ট্রেনে ওঠার আগে পর্যন্ত ভীষণ টেনশন হচ্ছিলো, যে আদেও ঠিকঠাকভাবে উঠতে পারবো কিনা। তবে খুব একটা সমস্যা হয়নি, বেশ ভালোভাবেই উঠে পড়েছিলাম ট্রেনে।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
যে ট্রেনে আমি দত্তপুকুর থেকে উঠেছি, সেই একই ট্রেনে ও মধ্যমগ্রাম থেকে উঠছে। ঘন্টাখানেকের মধ্যে শিয়ালদহ পৌঁছে সকলের সাথে দেখা করে একসাথে ট্রেনে উঠলাম। ট্রেন ছাড়লো ৩ টের সময়। আমারও পরিচিত স্টেশনগুলো ছেড়ে রওনা করলাম অজানার উদ্দেশ্যে। নতুন আরও কি কি অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করছে জানিনা। তবে এই যাত্রা খুব ভালো ভাবে উপভোগ করছি, একথা বলতেই হবে।
ভালো থাকবেন সকলে। এখন ঘড়িতে ভোর ৩.২২ মিনিট। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে নেমে লেখা শেষ করে পোস্ট করলাম। ট্রেনে একেবারেই নেটওয়ার্ক ছিলো না। সবাইকে জানাই অগ্ৰীম শুভসকাল।







Curated by : @lirvic
Thank you for your support 🙏.