"বৃষ্টির কারণে সময়টা আরও উপভোগ্য হয়ে উঠেছিলো - ওয়াটার পার্কে ঘোরার অভিজ্ঞতা অন্তিম পর্ব
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি অনেক ভালো কেটেছে।
গতকাল ওয়াটার পার্কে ঘোরার প্রথম পর্বের গল্প আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম। আজ শেয়ার করতে চলেছি পরবর্তী পর্ব। গতকাল যেমন জানিয়েছিলাম যে, কোনো রাইডে যেহেতু এর আগে কখনো উঠিনি, তাই এক অজানা ভয় ছিলঝ মনের মধ্যে।
বিশেষ করে জলের কারণে এই ভয়টা আরও বেশি ছিলো, যেহেতু আমি সাঁতার কাটতে পারিনা। কিন্তু পিয়ালীর কারণে সবকটা আই রাইডে উঠতে বাধ্য হয়েছিলাম। প্রথমবার যদিও ভয়ের কারণে কোনো রাইডে উপভোগ করতে পারিনি। তবে দ্বিতীয়বার চড়ার সময় বেশ আনন্দ পেয়েছিলাম।
গতকালকের পোস্টে আমি আপনাদেরকে জানিয়েছিলাম, অনলাইনে টিকিট কাটার কারণে প্রতিটি টিকিটে আমরা ৫০ টাকা ছাড় পেয়েছিলাম। তবে টিকিটের দাম আপনাদের জানানো হয়নি। মাথাপিছু টিকিটের দাম ছিলো ৫০০ টাকা। আর অনলাইনে টিকিট কাটলে সেই টিকিটের মূল্য ছিলো ৪৫০ টাকা।
![]()
|
|---|
উপরের ছবিতে আপনার যে রাইডটা দেখতে পারছেন, এই রাইডটাতে আমি প্রথমে একেবারেই চড়তে চাইনি। তাই প্রথমবার রাখি আর পিয়ালী চড়েছিলো। আর পরে পিয়ালী আমাকে নিয়ে চড়েছিলো। শুরুতে একটু ভয় লেগেছিলো ঠিকই, কিন্তু রাইডটা সত্যিই অনেক বেশি মজার ছিলো।
![]()
|
|---|
তবে যাই বলুন না কেন, সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠার বিষয়টাই সব থেকে কষ্টকর ছিলো সবকটা রাইডের ক্ষেত্রে। কারণ আপনাকে টিউব বা রাফট গুলো প্রথমে লাইন ধরে নিতে হবে। কারন সেখানে অনেকেই সেগুলো নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করে। তারপর সেগুলো নিয়ে নিজেদেরকে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে হবে। তবেই আপনারা যে কোনো রাইডে চড়তে পারবেন।
টিউব বা রাফাট গুলো নেওয়ার জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা নেই। নিজেদের টিউব নিজেদেরকে বহন করে উপরে নিয়ে যেতে হবে। আমাদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা খুব একটা অসুবিধা মনে হয়নি, যেহেতু আমরা তিনজন একসাথেই ছিলাম।
|
|---|
এই রাইডটাতে বেশ কিছুক্ষণ মজা নেওয়ার পর আমরা এই রাইডের ঠিক উল্টোদিকে একটা কৃত্রিম ওয়াটারফল করা আছে, যেখানে গিয়ে অনেকটা সময় কাটিয়েছিলাম। তবে সব থেকে আনন্দের বিষয় হলো, যে মুহূর্তে আমরা এই ওয়াটার ফলের কাছাকাছি গিয়েছিলাম, তখনই বৃষ্টি শুরু হয়েছিলো।
আপনারা যারা আগের পোস্ট পড়ছেন তারা নিশ্চয়ই দেখেছেন, যখন সকালের দিকে আমরা পার্কৈ উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলাম, তখন কতটা রোদ্দুর উঠেছিলো। তবে পার্কে ঢোকার কিছুক্ষণের মধ্যেই আকাশের আবহাওয়া পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিলো। তবে এই রকম ভাবে যে বৃষ্টি নামবে এটা সত্যিই আশা করিনি।
|
|---|
তবে বৃষ্টি নামার জন্য আনন্দ আরও দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিলো। এক তো আমরা জলের মধ্যেই সারাদিন ছিলাম, তার উপরে আবার আকাশ থেকেও বৃষ্টির মাধ্যমে জল পড়ছিলো। তাই সেই অনুভূতিটা একেবারেই অন্যরকম ছিলো।
যাইহোক এই কৃত্রিম ওয়াটারফল এ আমরা অনেকটা সময় কাটিয়েছিলাম, সেগুলো আশা করছি উপরের ছবিগুলো দেখে আপনারা বুঝতে পারছেন। সম্পূর্ণ বৃষ্টির সময়টা বলতে গেলে আমরা সেখানেই উপভোগ করেছি।
সেখানে অনেকটা সময় কাটানোর পর আমরা আরেকটা সুইমিং কাছে চলে এসেছিলাম। এটা মূলত বাচ্চাদের জন্য তৈরি, কারণ এখানে খুব বেশি জল ছিলো না। যেহেতু বাচ্চাদের জন্য তৈরি তাই জলের পরিমাণ কম এবং এখানকার রাইডগুলোও খুবই ছোটৈ ছোটো ছিল। এখানে বড়দের ওঠার অনুমতি নেই, কিন্তু চাইলে এই সুইমিং পুলে বসতে পারেন।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
যেহেতু বাচ্চাদেরকে নিয়ে অনেক বাবা-মায়েরাই আসেন, তাই বাচ্চাদেরকে রাইডে তুলে দিলেও বাবা মায়েরা কিন্তু এই সুইমিং পুলেই অপেক্ষা করে। অনেকক্ষণ রাইডিং করার পর আমার একটু কষ্টই হয়ে গিয়েছিলো, তাই আমি কিন্তু বসে একটু রেস্ট নিয়েছিলাম।
![]()
|
|---|
এরপর আমরা বড়দের সুইমিং পুলের দিকে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলাম। তবে তার আগে একটা সেকশন চোখে পড়লো, যেখানে সুন্দর মিউজিক চলছিলো এবং কৃত্রিমভাবে পাইপের মাধ্যমে সেখানেও সুন্দর ভাবে উপর থেকে জলও পরছিলো। এই বিষয়টা আমার বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছে। যদিও জানিনা এমন ভাবে সমস্ত ওয়াটার পার্কেই একটা আলাদা সেকশন থাকে কিনা।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
এই সেকশনের একেবারেই সামনে খুব সুন্দর রেস্টুরেন্ট ছিলো, যার দু একটা ছবি আমি তুলেছি। তবে হ্যাঁ এই রেস্টুরেন্টে গিয়ে কোনো খাবার আমরা ট্রাই করিনি। তবে রেস্টুরেন্টে ভিড় নেহাৎ কম ছিলো না। প্রচুর মানুষের ভিড় ছিলো সেখানে এবং প্রত্যেকেই নিজেদের মতো করে মজা করছিলো।
যাইহোক পিয়ালী আর রাখি, মিউজিকের তালে তালে একটু নাচ করেছিলো, যার ভিডিও আমি তুলেছিলাম। কিন্তু তা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পারলাম না। যেহেতু আমার ইউটিউবে আলাদা কোনো চ্যানেল নেই।
|
|---|
যাইহোক এরপর আমরা বড়দের সুইমিং পুলে এসে বসলাম। যেহেতু এটা কৃত্রিম সুইমিং পুল তাই এখানে সমুদ্রের মতন ঢেউ হওয়া সম্ভব ছিল না, কিন্তু জানিনা অদ্ভুতভাবে হয়তো কোনো যন্ত্রের সাহায্যে, এখানেও জলের মধ্যে হালকা ঢেউ মাঝেমধ্যেই হচ্ছিলো যেটা সবথেকে বেশি উপভোগ্য ছিলো। আমরাও সব থেকে বেশি সময় কাটিয়েছে এই সুইমিং পুলেই।
|
|---|
তখন বৃষ্টির মাত্রা অনেকটা কমে গেলেও টুপটাপ বৃষ্টি তখনও পড়ছিলো। আর তিনজনে মিলে একসাথে এই সুইমিংপুলের মধ্যে বসে, শুয়ে, দৌড়ে, অসম্ভব সুন্দর কিছু মুহূর্ত কাটিয়েছিলাম। ওখানে বসে বসে পিয়ালী আমাকে রাজি করিয়েছিলো, ওয়াটার পার্কের সব থেকে বড় রাইডে চড়ার জন্য। কারণ আমি প্রথমে ঢুকেই যখন রাইড গুলো দেখেছিলাম, তখন বলেছিলাম সব রাইডে আমি চড়বো না। আর সবথেকে বড়ো রাইডে তো একবারের জন্যও উঠবো না।
কিন্তু শেষ রক্ষা আর হয়নি। তাই ওর সাথে আমাকেও সেই পাগলামিতে শামিল হতে হলো। আমরা সেই সময় সবথেকে বড় টিউব নিয়েছিলাম, যার মধ্যে একসাথে তিনজন ওঠা যায়। কারণ আমার শর্ত ছিলো যে, আমি মাঝখানে থাকবো এবং আমার সামনে পিয়ালী ও পিছনে রাখি থাকবে। কারণ আমার এতোটাই ভয় লাগছিলো যে, আমি পিয়ালির পিছনে একা বসে এই রাইডটা কিছুতেই কমপ্লিট করতে পারতাম না।
![]()
|
|---|
শেষ পর্যন্ত ওরাও আমার শর্তে রাজি হলো, আর আমরা তিনজন একসাথে সবথেকে বড় রাইডে যাওয়ার জন্য টিউভ নিয়ে উপরে উঠলাম। সত্যি কথা বলতে অন্যান্য রাইডে চড়ার জন্য তাও আপনাকে লাইনে দাঁড়াতে হবে, কিন্তু এই বড় রাইডটাতে খুব কম সংখ্যক মানুষ চড়ছিলো। শুরুর দিকে আমি চোখ বন্ধ করেই বসেছিলাম, তবে শেষ পর্যন্ত যখন রাইডটা শেষ হলো, আপনারা হয়তো শুনলে একটু অবাক হবেন, তবে সবথেকে বেশি এনজয় করেছি এই রাইডটাতেই।
পরে অবশ্য পিয়ালী আর রাখি আরও একবার এই রাইডে চড়েছিলো। কিন্তু আমি আর চড়িনি। ওই একবারই আমার জন্য যথেষ্ট ছিলো। সবকিছু মিলিয়ে ভীষণ আনন্দময় একটা সময় কাটিয়েছিলাম।
![]()
|
|---|
তারপর যেটা সবথেকে ধৈর্য্যের কাজ ছিলো সেটা হচ্ছে চেঞ্জিং রুমে গিয়ে ড্রেস চেঞ্জ করা। কারণ আমরা যখন পার্কে প্রবেশ করেছি তখন খুব বেশি ভিড় না হলেও, যখন আমরা পার্ক থেকে বাইরে বেরবো বলে ঠিক করলাম, তখন কিন্তু সকলেরই বাড়ি ফেরার টাইম। প্রত্যেকেই সারাদিন জলের মধ্যে থাকার পর চেঞ্জিং রুমে গিয়ে স্নান করে তবেই পোশাক বদলে বেরোচ্ছিলো, তাই সেখানে গিয়ে সব থেকে বেশি সময় ব্যয় হয়েছে আমাদের।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
যাইহোক শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা হওয়ার কিছুক্ষণ আগে আমরা বিড়া স্টেশনে এসে পৌঁছালাম। ততক্ষণে আমাদের তিনজনের প্রচন্ড খিদে পেয়ে গিয়েছিলো। বিড়াতে তেমন ভালো কোনো রেস্টুরেন্ট নেই। তবে স্টেশনের একেবারে পাশেই ছোট্ট একটা রেস্টুরেন্ট চোখে পড়লো যার নাম ছিলো "সমৃদ্ধি"। তাই ভাবলাম একসাথে তিনজন কিছু একটু খেয়ে নিই।
সেখানে গিয়ে আমরা তিনজনের জন্য এক প্লেট করে চাওমিন অর্ডার করলাম। আর তার সাথে তিনজনের জন্য এক প্লেট চিলি চিকেন নিয়ে নিয়েছিলাম। খাবারটা খুব একটা খারাপ ছিলো না, বা বলতে পারেন খিদের মুহূর্তে ঔ খাবারটা একটু বেশিই সুস্বাদু ছিলো। খাওয়া-দাওয়া সম্পন্ন করেই প্ল্যাটফর্মে এলাম।
রিটার্ন টিকিট আমাদের কাটাই ছিলো। এরপর ওদেরকে বিদায় জানালাম, কারণ ওরা এক প্লাটফর্ম থেকে ট্রেন ধরবে এবং আমি উল্টো দিকের প্লাটফর্ম থেকে ট্রেন ধরবো। কিছুক্ষণের মধ্যে রাখিদের ট্রেন চলে এলেও, আমাকে মিনিট দশ অপেক্ষা করতে হয়েছিলো আমার ট্রেন পাওয়ার জন্য। তারপর অবশ্য আমিও ট্রেন পেয়ে গিয়েছিলাম এবং বাড়িতে চলে এসেছিলাম।
সারাটা দিন জলের মধ্যে এতো সুন্দর ভাবে কাটিয়েছিলাম যে, আপনাদের সাথে সেই মুহূর্তগুলো শেয়ার করতে গিয়ে সেই দিনের আনন্দ যেন আরও একবার উপভোগ করলাম। আমার বিশ্বাস আপনারাও কখনো না কখনো ওয়াটার পার্কে গিয়ে এইরকমই আনন্দঘন মুহূর্ত কাটিয়েছেন। আমাদের মুহূর্ত গুলো আপনাদের সেইসব দিনের স্মৃতি মনে করালো কিনা মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন।
ভালো থাকবেন সকলে। শুভরাত্রি



























Thank you for your support 🙏.