"আজ সকালের গল্প"
![]() |
|---|
Hello,
Everyone,
সবেমাত্র স্নান সেরে উঠলাম। বাইরে রৌদ্রের কি ভীষণ তাপ এখন। আজকাল সকাল সকাল স্নান হয়ে যায় শশুর মশাইয়ের আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে প্রতিদিন কিছু রীতি পালনের জন্য। তবে মাত্র ১৩ দিনের জন্য পালিত হয় এই রীতি। তারপর আমরা আবার যার যার জীবনে ব্যস্ত হয়ে যাবো।
রুটিনমাফিক জীবন যাপন সামান্য পরিবর্তন হবে কিংবা বলা ভালো নতুন করে আবার একটা রুটিনমাফিক জীবন শুরু হবে। আমরা যখন একই জীবনধারায় অভ্যস্ত হয়ে যাই, তখনই যেন হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনায় জীবনের পথ পরিবর্তন হয়ে যায়। এটা সকলের জীবনেই সত্যি।
দেখতে দেখতে আজ ৬ দিন পার হয়ে গেলো। যে মানুষটিকে ছাড়া বেঁচে থাকার কথা ভাবা যেতো না, তাকে ছাড়াই দিব্যি বেঁচে আছে সকলে। প্রথমদিন যতটা কষ্ট হয়েছিলো তার ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। আর একটা সময় এমন আসবে যখন এই মানুষটিকে শুধুমাত্র বিশেষ দিন ছাড়া মনেও পরবে না।
![]() |
|---|
আমার মায়ের মৃত্যু আরও ভালো করে আমাকে এই বাস্তবতা বুঝতে শিখিয়েছে। আজকাল ভীষণ কষ্ট পেলে মাকে মিস করি। তবে প্রাত্যহিক জীবনের ব্যস্ততায় তো মা কে মনে পরে না আর। কারন মায়ের চলে যাওয়া প্রায় ১৩ বছর পার হয়ে গেছে। জীবনের পথ পরিবর্তন হয়েছে। নতুন রুটিনে অভ্যস্ত হয়েছি।
ঠিক এমন ভাবেই পরিবর্তন হয়ে যাবে আজকের দিনগুলোও। শুধু প্রথম কতগুলো দিন কঠিন মনে হয়। আমার মা মারা যাওয়ার পর যে রকম রীতি পালন করেছিলাম, শশুর বাড়ির রীতিতে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। তবে যতটুকু সম্ভব আমি তা নিষ্ঠাভাবে পালন করার চেষ্টা করছি।
ঘরোয়া সব রীতি পালনের পাশাপাশি আরও অনেক দায়িত্ব আছে। নিয়মভঙ্গের অনেক অনুষ্ঠান এখনও বাকি আছে। সেগুলোর আয়োজন করা, সকলকে নিমন্ত্রণ করা এইসব কাজ এখনও শুরু হয়নি। আজ বিকাল থেকে সেগুলো শুরু করার প্ল্যান রয়েছে।
সবকিছু কিভাবে করতে হয়, কেমনভাবে সবটা সামলে উঠতে হয় সেসব শেখা এখনও বাকি। তবে সময় বোধহয় সবটাই শিখিয়ে দেয়। তাই সময়ের হাত ধরে সবকিছু শিখিছি, আর আগামীতেও শিখবো।
গত কয়েকদিন ধরে খাওয়া দাওয়া বলতে শুধু ফল, আর সাবু। নিয়মানুসারে চতুর্থীর কাজ শেষ হলে হবিষ্য করা যায়। তবে গতকাল ছিলো একাদশী, আর আজ যেহেতু মঙ্গলবার তাই হবিষ্য করা যায়নি। তাই আগামীকাল হবিষ্য হবে। দেখতে দেখতে দিনগুলো পার হয়ে যাচ্ছে, আর মনের কোণে জমা হচ্ছে স্মৃতিরা।


