"দুটি অপ্রত্যাশিত ঘটনায় মনটা আজ ভীষন ভারাক্রান্ত"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আমাদের জীবনে সুখ আর দুঃখগুলো সত্যিই দিন রাতের মত পরিবর্তনশীল। কোনোটাই চিরস্থায়ী নয়। একটার পর একটা ধারাবাহিকভাবে যেন ঘটে চলে।
গত কয়েকদিন ভীষণ সুন্দর কিছু মুহূর্ত কাটিয়েছি বান্ধবীদের সাথে সিকিমে ঘুরতে গিয়ে। কিছু অনুভূতি ইতিমধ্যে আপনাদের সাথে লেখায় উপস্থাপন করেছি। আজকেও ভেবেছিলাম নর্থ সিকিমে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
কিন্তু ভীষণ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আজকে লিখতে বসলাম। হাত যেন একেবারেই চলছে না। কোনো কিছুই লিখতে ইচ্ছে করছে না। কিন্তু মাঝে নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে কয়েকটা দিন কোনো লেখা শেয়ার করতে পারিনি, তাই আজ আর ইচ্ছাকৃতভাবে লেখায় গ্যাপ দিতেই চাইলাম না। তাই ভাবলাম আনন্দের কোনো স্মৃতি না হোক, অন্তত বর্তমান সময়ের ভারাক্রান্ত মনের কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করি।
সকাল থেকে দুটো দুঃসংবাদ পেয়েছি। সকালটা যে এইরকম ভাবে আজ শুরু হবে সত্যিই ভাবিনি। অন্যান্য দিনের মতো শুভ অফিসে যাবে বলে রুটিন মাফিক দিন শুরু হয়েছিলো। তার মধ্যে ননদের ফোন পেয়ে বেশ অবাক হলাম। কারণ এতো সকালে ওরা ঘুম থেকে ওঠেনা, এই কারণেই ওনার ফোন পেয়ে বেশ অবাক হলাম। তবে যে সংবাদ আমি পেলাম, তার জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না।
![]() |
|---|
আমার ননদের একজন দেবরের বৌ আজ মারা গেছে। বয়সে আমার থেকে খুব বেশি হলে তিন থেকে চার বছরের বড় হবে। আমার শ্বশুরমশাই মারা যাওয়ার দিন এবং তারপরে খাওয়া-দাওয়ার দিন তিনি আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন। বেশ কিছুক্ষণ গল্প হয়েছিলো ওনার সাথে। অনেক আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে দিয়েও বেশ কিছুটা সময় ওনার সাথে কাটিয়েছিলাম।
আজ যেন মনে হচ্ছে আরও কিছুটা সময় কাটালে ভালো হতো। আসলে আমরা জানিনা কোন মুহূর্তে আমাদের জীবনের শেষ মুহূর্ত। কোনো মানুষের সঙ্গে কখন দেখা হওয়া আমাদের শেষ দেখা, সেটা জানতে পারলে হয়তো মানুষটির সাথে আরও কিছু সময় কাটাতাম আমরা সকলেই।
ননদের সাথে কথা বলে যতটুকু জানলাম শারীরিক অসুস্থতা ছিলো, তার পাশাপাশি ছিল মানসিক অনেক টানাপোড়েন। সংসারে আসলে অনেক রকম সমস্যা নিয়েই মানুষ বেঁচে থাকে। কিছু মানুষ তা সহ্য করে যান আজীবন। আর কিছু মানুষের জন্য জীবন বড় সংক্ষিপ্ত হয়। ছোটো একটা ছেলে আছে ওনার, মা কে ছাড়া গোটা জীবন কি ভাবে কাটাবে, এই ভাবনাটাই বড্ড অস্থির করে তুলছিলো আমাকে।
এই সংবাদের রেশ কাটতে না কাটতেই দুপুরবেলায় দিদির ফোন এলো। প্রথমে ভালোভাবে কথা বললাম, তবে শেষের দিকে ও যে কথা বললো সেগুলো যেন একেবারেই শোনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না।
আসলে আমার স্কুল জীবনের এক বন্ধুর ছেলে বেশ কিছু বছর ধরে অসুস্থ। ব্যাঙ্গালোরে চিকিৎসা করেছে দু-তিন বছর বর্তমানে এসএসকেএম হসপিটালেই ওর ছেলেকে দেখায়। আমার দিদি সেখানে চাকরি করে, এই সংবাদ ও আমার পরিচিত একজন কাকুর থেকে জেনেছে। তারপর ফোন নম্বর নিয়ে আমাকে ফোন করেছিলো কয়েক মাস আগে।
এরপর দিদির সাথে কথা বলে ওকে যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিলাম। তারপর থেকে যখন যখন ডাক্তার দেখানোর প্রয়োজন হয়, ও নিজে দিদির সাথে যোগাযোগ করে ছেলেকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে চলে যায়।
![]() |
|---|
আজ যখন দিদি আমাকে জিজ্ঞেস করলো,- "পূর্ণেন্দুর সাথে কথা হয়েছে? কিছু শুনেছিস ওর ব্যাপারে?"
আমি একেবারে ভয় পেয়ে উঠলাম। হয়তো ওর ছেলের কোনো বড় ধরনের শরীর খারাপ হয়েছে, এমনটাই ভাবছিলাম। তবে মাঝখানে ওর সাথে আমার কথা হয়নি, একথা জানানোর সাথে সাথেই দিদি আমাকে বললো,- "ওর স্ত্রী এবং মা দুজনেই দিদির হসপিটালের বার্ন ওয়ার্ডে ভর্তি।"
একথা শুনে বুঝতে বাকি রইল না আগুনে পুড়ে ওদের এমন অবস্থা। তবে কি কারনে এমন ঘটনা হয়েছে তা বিস্তারিত দিদি আমাকে বলল না। ও শুধু বললো একবার পূর্ণেন্দুর সাথে যেন কথা বলে নিই, ওর মানসিক অবস্থা খুবই খারাপ।
সত্যি কথা বলতে দিদি ফোন রাখার পরে পূর্ণেন্দুকে ফোন করার জন্য অনেকটা সময় নিয়েছি। মাঝখানে নিজেকে যেন মানসিকভাবে প্রস্তুত করছিলাম ওর সাথে কথা বলার জন্য। কারণ এই রকম পরিস্থিতিতে কি কথা বলবো এটাই যেন বুঝে উঠতে পারছিলাম না। তবুও সমস্ত জড়তা কাটিয়ে ওকে ফোন করলাম। সম্পূর্ণ ঘটনা শোনার পর যেটা বুঝলাম সেই পারিবারিক অশান্তি।
শাশুড়ি বৌমার ঝামেলা, সেখান থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি, আর তারপরেই এইরকম একটা ভুল সিদ্ধান্তে আজ দুটো পরিবার এই রকম কঠিন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আছে।
আমার বারংবার ওর ছেলেটির জন্যই খারাপ লাগছিলো। সম্পূর্ণ ঘটনাটা ওর ছেলের সামনেই ঘটেছে মাকে আগুনে পুড়তে দেখেছে বাচ্চাটি, তাই ওর মানসিক অবস্থা কতটা খারাপ তার আন্দাজ বোধহয় আমাদের কারোর পক্ষে করা সম্ভব নয়।
তবে অবস্থা আগের থেকে বেশ কিছুটা স্থিতিশীল। প্রথমে আমাদের এখানে বারাসাত হসপিটালে ভর্তি করেছিলো। তবে এখানে চিকিৎসা খুব একটা ভালো হচ্ছিলো না। পরে দিদির সাথে কথা বলে, দিদির হসপিটালে শিফট করেছে ওর স্ত্রী ও মাকে। সেখানে ট্রিটমেন্টে ওরা সাড়া দিচ্ছে। আগের থেকে অবস্থা বেশ কিছুটা ভালো হয়েছে। তবে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে অনেকটা সময় লাগবে, এ কথা অবশ্য আমাকে দিদি আলাদা ভাবে জানিয়েছে।
প্রতিদিন সকালে হসপিটালে আসে এবং রাতের বেলাতে বাড়ি ফিরে যায়। দিনের বেশিরভাগ সময়টাই হসপিটালে কাটছে পূর্ণেন্দুর। সমস্ত কথা শুনলাম কিন্তু ওকে সান্ত্বনা দেয়ার মতন ভাষা আমার ছিলো না। শুধু ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলাম যেন ওর স্ত্রীকে সুস্থ করে দেয়।
![]() |
|---|
সত্যি কথা বলতে পারিবারিক অশান্তি নেই এইরকম কোনো পরিবার এই পৃথিবীতে আছে বলে আমি বিশ্বাস করি না। সমস্ত পরিবারেই কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে, কারো না কারোর সাথে মতভেদ মতানৈক্যতা সবকিছুই থাকবে। কিন্তু এই সমস্ত কিছু থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্য আত্মহত্যা কোনো সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।
মৃত্যু আমাদের প্রত্যেকের জীবনে চরম সত্যি। তবে সেটা যদি স্বাভাবিকভাবে আসে তবে তা মেনে নেওয়া ছাড়া আমাদের কোনো উপায় থাকে না। কিন্তু গীতায় বলা আছে, আত্মহত্যা মহাপাপ। তাই পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক না কেন,তার মোকাবিলা করার সাহস প্রত্যেকের মধ্যেই থাকা উচিত। ভুল পথে গিয়ে জীবনকে শেষ করার প্রচেষ্টা করা জীবনের প্রতি অন্যায় করা।
মানব জীবন শ্রেষ্ঠ জীবন একথা যেমন সত্যি, তেমনি মানব জীবনে পরিস্থিতিও যে সব সময় সুন্দর ও স্বাভাবিক হবে এমনটা নয়। তাই ভালোটা যেমন সুন্দরভাবে উপভোগ করতে হবে, খারাপটাকেও ঠিক তেমন ভাবেই মোকাবিলা করতে শিখতে হবে। তাহলেই বোধ হয় জীবনের প্রতি সুবিচার করা হয়।
যাইহোক আজ এই দুটো খবর আমাকে যেন মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করেছে। কিছুতেই এই কথাগুলো মাথা থেকে বের করতে পারছি না। তাই পোস্টের মাধ্যমে নিজের মানসিক অবস্থাই আপনাদের সাথে উপস্থাপন করার চেষ্টা করলাম। আপনারাও একটু প্রার্থনা করবেন যাতে পূর্ণেন্দু'র স্ত্রী ও মা সুস্থ হয়ে যায়।
কারণ জীবনে আমরা যত বড়ই হয়ে যাই না কেন, মাকে ছাড়া আমাদের সকলের জীবন বড্ড কঠিন মনে হয়। সেটা পূর্ণেন্দুর ছেলের ক্ষেত্রে হোক, কিংবা পূর্ণেন্দুর নিজের ক্ষেত্রেও।
প্রার্থনা করি এই পরিস্থিতির দ্রুত অবসান। হোক সুস্থ হয়ে ওরা ঘরে ফিরুক। আপনারাও সকলে ভালো থাকবেন, সাবধানে থাকবেন, প্রত্যেকের সুস্থতা প্রার্থনা করে আজকের লেখা শেষ করছি।
শুভরাত্রি।




