"হরিনাম সংকীর্তনের আসরে কাটানো কিছু বিশেষ মুহুর্তের গল্প"

in Incredible India2 days ago (edited)
IMG_20260426_220008.jpg
"হরিনাম সংকীর্তনের মূল মন্দির ঠিক এই ভাবেই সুসজ্জিত ছিলো।"

Hello,

Everyone,

গতকালকের পোস্টে আপনাদেরকে জানিয়েছিলাম নাম সংকীর্তন এ যাওয়ার উদ্দেশ্যে দিদির শ্বশুরবাড়ি থেকে আমরা সকলেই একসাথে রওনা দিয়েছিলাম। তবে তাতান একেবারেই যেতে চাইছিলো না, কারণ সেখানে অনেক জোরে গান হচ্ছিলো। যেহেতু ও অনেক ছোটো, তাই গানের ওখানে যাওয়ার থেকেও বাড়িতে বসে ইউটিউবে কার্টুন দেখতে চাইছিলো।

তবে দিদির একজন দেওরের ছেলে আছে যার সাথে ওর খুব ভালো বন্ধুত্ব, কিছুক্ষণ বাদে সেই দাদা ফোন করে জানালেও সেও তার ছেলেকে সাথে নিয়ে ওই অনুষ্ঠানে আসছে। এ কথা শোনার পরেই তাতান আমাদের সাথে যাওয়ার জন্য রাজি হলো। তাই তাতানকে তৈরি করে নিয়ে বেরোতে বেরোতে আমাদের আরও একটু সময় লেগেছিলো।

IMG_20260426_213805.jpg
"বৃষ্টির আবহাওয়া উপেক্ষা করেও অনেক মানুষের ভিড় ছিলো সেখানে।"

দুপুর বেলায় বৃষ্টি হয়েছিলো, তাই যে মাঠে নাম সংকীর্তনের আয়োজন করা হয়েছিলো সেখানে অনেক কাদা হবে এমনটাই আশঙ্কা করেছিলাম। তবে সেখানে গিয়ে যখন পৌঁছালাম, দেখলাম সমস্ত বৃষ্টি কাদা উপেক্ষা করে মানুষের ঢল নেমেছে। সন্ধ্যা আরতি শেষ হয়ে গেলেও ভোগ আরতি তখনও শুরু হয়নি।

IMG_20260426_213834.jpg
"এটা হলো পাপান, আমার দিদির দেওরের ছেলে। পাপানের সাথে খেলা করার জন্যেই সেদিন তাতান আমাদের সাথে যেতে রাজি হয়েছিলো।"

তাই আমরা তাড়াতাড়ি গিয়ে আসরের সামনে বসে পড়লাম। প্রচুর মানুষের বসার জায়গা রয়েছে সেখানে, অনেকটা জায়গা নিয়েই প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছিলো। মূল মন্দিরটি থেকে আমরা অনেকটাই দূরে বসে ছিলাম, যেহেতু আমাদের আগেও অনেক মানুষ পৌঁছে গিয়েছিলো, তারাই সামনের দিকে বসেছিলো।

IMG_20260426_214948.jpg
"ভোগ আরতি শুরুর মুহূর্ত"

আমরা সকলেই সেখানে মাটিতে পাতা চটের ওপরে গিয়ে বসলাম এবং মন দিয়ে গান শুনতে লাগলাম। হরিনামের এমন জাদু আছে যখন আপনারা সেই আসরে পৌঁছাবেন, কিভাবে যেন নিজেরাও সেই গানের মধ্যে ডুবে যাবেন তা বুঝতেও পারবেন না। তিতলি, তাতান এবং দিদির দেওরের ছেলে তিনজন একসাথে বসে সেখানে খেলা করছিলো। বাকি আমরা সকলেই উপভোগ করছিলাম সেখানকার গান আর ভোগ আরতি।

IMG_20260426_215000.jpg
"ভোগ আরতির একেবারে শেষ মুহূর্ত"

এরপর সেখানে অন্যরকম ভাবে বাতাসা বিতরণ হয়েছিলো। শুধু বাতাসা বললে ভুল হবে সেই সাথে অনেকে আবার চকলেটও বিতরণ করেছিলো। আসলে এটাকে মূলত লুটের বাতাসা বলে। এটাও এক ধরনের মানত করাই বলতে পারেন। দিদির শাশুড়ি নিজের ছেলের অসুস্থতার সময় সেই মানতও করেছিলেন।

IMG_20260426_215036.jpg

IMG_20260426_215024.jpg

"প্রসাদ হিসেবে সকলের মাঝে বাতাসা ছড়ানোর সময়, তাতান খুব খুশি হয়েছিলো।"
IMG_20260426_215009.jpg
"আমিও ঐদিন প্রসাদ হিসেবে ছড়ানো এতোগুলো বাতাসা ও লজেন্স কুড়িয়ে পেয়েছিলাম"

তাই অনুষ্ঠানের শেষে সকলে যখন বাতাসা প্রসাদ হিসেবে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছিলো, তিনিও তাতানকে সাথে নিয়ে সেখানে গিয়ে বাতাসা ছড়িয়ে ছিলেন। প্রসাদ হিসেবে কয়েকটা বাতাসা ও চকলেট আমিও কুড়িয়ে পেয়েছিলাম। আর তাতানও এই বিষয়টা প্রথমবার দেখে খুবই উপভোগ করেছিলো।

অসাধারণ একটা সময় কেটেছে সেখানে। এই মুহূর্ত গুলোর অনুভূতির শব্দের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা আসলেই অসম্ভব। যাইহোক এখানে যারা কর্মকর্তা ছিলেন তারা সকল গ্রামবাসীদের জন্য খিচুড়ি প্রসাদেরও আয়োজন করেছিলেন। তাই ভোগ আরতি শেষ হওয়ার পরে সকলের জন্য একসাথেই মাঠের মধ্যে খাবার দেওয়ার আয়োজন করেছিলেন। আমরাও আর দেরি না করে সেখানে বসে পড়েছিলাম খিচুড়ি ভোগ খাওয়ার জন্য।

IMG_20260426_220036.jpg
"মাটিতে বসে একসাথে সকলে খিচুড়ি প্রসাদ খেয়েছিলাম। তাতান‌ কিন্তু ব্যস্ত ছিলো‌ ওর বন্ধুর সাথে গল্প করতেই।"

কত বছর বাদে যে এমন ভাবে মাটিতে বসে ঠাকুরের ভোগ খেলাম তা হয়তো মনে নেই। আজকালকার দিনে প্রত্যেকেই টেবিল চেয়ারে বসে খাবার খেয়ে থাকেন এবং এটা এক ধরনের অভ্যাসেই পরিনত হয়েছে। আজকাল অন্য বাড়িতে পুজোর নিমন্ত্রণে গেলেও টেবিল চেয়ারে বসেই খেয়ে থাকি। বহু বছর বাদে এভাবে সকলের সাথে মাটিতে বসে ভোগ উপভোগ করার মুহূর্তটি সত্যিই খুব ভালো লাগলো।

IMG_20260426_215046.jpg
"মালসা ভোগ গুলো কি সুন্দর ভাবে সাজানো ছিলো দেখুন"

তাতান খিচুড়ি খেতে একেবারেই পছন্দ করে না। তাই ও দিদির দেওরের ছেলের পাশে বসে ওর সাথেই গল্প করে যাচ্ছিলো। আমরা প্রত্যেকেই সেখানে খিচুড়ি প্রসাদ উপভোগ করলাম। প্রসাদের স্বাদ সম্পর্কে আশাকরি আর আলাদাভাবে কাউকে কিছু বলতে হবে না। যারা এই প্রসাদ গ্রহণ করেছেন তারা এর স্বাদ সম্পর্কে অবগত আছেন।

IMG_20260426_215106.jpg

IMG_20260426_215057.jpg

"দিদির হাসবেন্ডের মালসা ভোগ সংগ্ৰহের মুহূর্ত"

সবশেষে সেখানে মালসা প্রদানের আয়োজন করা হয়েছিলো। মালসা ভোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ওখানকার নিয়মটা আমার বেশ ভালো লাগলো। যার নামে মালসা সেখানে দেওয়া হয়, তাদের একটা নামের আলাদা লিস্ট করেছিলো। সেই নাম ধরে ডাকার পর সেই ব্যক্তি গিয়ে মালসা ঠাকুরের সামনে থেকে গ্রহণ করছিলো। সেই রকম ভাবে দাদার নামও ডাকা হলো, দাদা ও দিদির শাশুড়ি দুজনে একসাথে গিয়ে সেখান থেকে মালশা ভোগ সংগ্রহ করলো।

IMG_20260426_215202.jpg
"মালসা ভোগ"

মালসা ভোগ সংগ্রহ করার সময় তা মাথায় গ্রহন করতে হয়। এটাই নাকি নিয়ম। দাদাও তেমনটাই করেছিলো। কিন্তু বেশিক্ষণ দাদার পক্ষে মালসা মাথায় রাখা সম্ভব ছিলো না, তাই পরবর্তীতে দিদির শাশুড়ি মা সেটা হাতে নিয়ে নিয়েছিলেন। তারপর আমরা সকলে মিলে সেখান থেকে আবার দিদির শ্বশুর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করেছিলাম।

মালসা ভোগের একটা বিষয় দেখে আমি অবাক হলাম, সমস্ত মালসার মধ্যে একটা করে তুলসীর মঞ্জুরী দেওয়া হয়েছিলো। এরপর একটার উপর আরেকটা মালসা সুন্দরভাবে সাজিয়ে ঠাকুরের সামনে রাখা হয়েছিলো।

IMG_20260426_215145.jpg
"ভোগের উপরে রাখা তুলসী মঞ্জুরি এক‌ই রকম ভাবে ছিলো।"

এতগুলো মালসা এরকম ভাবে সাজিয়ে রাখার পরে, সেগুলো সকলের মধ্যে বিতরণ করার পরে, অতটা পথ পেরিয়ে সেই মালসা নিয়ে বাড়িতে আসার পরেও, তুলসীর মঞ্জুরিটি এতটুকুও নড়েনি। এই বিষয়টা দেখে বেশ অবাকই লাগলো আমার। তাই তার ছবি না তুলে আমি পারিনি। আপনাদের মধ্যে কারা কারা এই মালসা ভোগ খেয়েছেন, তা অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন।

IMG_20260426_215134.jpg
"বাড়িতে ফেরার সময় স্টেশনে তোলা ছবি"

সেদিন রাতে আর আমরা মালসা ভোগের প্রসাদ গ্রহণ করিনি। পরদিন সকালেই দিদিদের সাথে আমিও রওনা করেছিলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে‌ মালসা ভোগ সাথে করেই নিয়ে আসা হয়েছিলো। স্টেশনে এসে টিকিট কাটার প্রয়োজন ছিলো না কারণ দাদা অনলাইনে সেটা আগে থেকেই কেটে নিয়েছিলো। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর আমাদের ট্রেন চলে এসেছিলো। তারপর একসাথে সকলে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করেছিলাম।

এই রকম ভাবেই একটা সুন্দর দিন কাটিয়েছিলাম, যার বেশ কিছু মুহূর্ত দুটি পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। আপনাদের পোস্টগুলো পড়ে কেমন লাগলো, তা অবশ্যই জানাবেন। সকলের সুস্থতা কামনা করছি। ভালো থাকবেন সকলে। শুভরাত্রি।

Sort:  

TEAM 7

Congratulations! Your post has been upvoted from sc-09 account.

1000080942.png

Curated by : jimiaera02
Loading...