"পিয়ালীর জীবনের বিশেষ দিনের প্রস্তুতি পর্ব: মেহেন্দি পরার মুহূর্ত"

in Incredible Indiayesterday
IMG_20260203_005728.jpg
"আজ থেকেই জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হবে পিয়ালীর"

Hello,

Everyone,

সুপ্রভাত সকলকে।

আজ সেই বহু প্রতীক্ষিত দিন, আমার বান্ধবী‌‌ পিয়ালীর বিয়ে। রাখীর বাড়িতে ওকে আইবুড়ো ভাত খাওয়ানোর দিনের গল্প আমি আপনাদের সাথে ইতিপূর্বেই শেয়ার করেছিলাম।

আজকের পোস্টের মাধ্যমে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো, ওর বিয়ের আগের দিনের কিছু মুহূর্তের গল্প। কারণ আগামীকাল থেকে ওর জীবনের গল্পটা সম্পূর্ণ পরিবর্তন হতে চলেছে। এখন ঘড়িতে রাত প্রায় দুটো, এইমাত্র ওদের বাড়ি থেকে ফিরে রাখিদের বাড়িতে বসে পোস্ট লিখছি।

বিয়ের কারণে একটা ছেলের জীবনে যতটা পরিবর্তন আসে, তার থেকেও অনেক বেশি পরিবর্তন আসে একটা মেয়ের জীবনে। কারণ আমাদের চির পরিচিত বাড়ি ঘর, আত্মীয় পরিজন, সকলকে ছেড়ে একটা নতুন জগতে গিয়ে একটা মেয়েকে থাকতে হয়। সেই অপরিচিত মানুষগুলোর সাথে একটু একটু করে আবার গড়ে উঠে এক নতুন সম্পর্ক।

তবে একটা মেয়ের জন্য এই সম্পর্ক তৈরি করা অনেক বেশি সহজ হয়, যদি তার জীবন সঙ্গী তাকে একটু সাহায্য করে।‌ কিংবা নতুন যে মানুষগুলোর সাথে থাকতে চলেছে, তারা তার দোষ গুলোকে একটু উপেক্ষা করে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিষয়টি হয় একেবারেই উল্টো।

আর সেই মুহূর্তে এই মেয়েটির নিজেকে সম্পূর্ণ একা মনে হয়। আর সেদিন থেকেই বিবাহিত জীবনের নতুন অভিজ্ঞতা মেয়েটিকে আরও বেশি বাস্তবের মুখোমুখি করে। আবার এই অভিজ্ঞতা গুলোই ধীরে ধীরে পরিণত করে তাকে।

এই নতুন সফরে পা দিতে চলেছি পিয়ালী, তবে বর্তমান দিনের একটা জিনিস খুবই ভালো, বিয়ের অনেকদিন আগে থেকেই ছেলেমেয়েরা একে অপরের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়। লাভ ম্যারেজ এর বিষয়টি আলাদা, তবে অ্যারেঞ্জ ম্যারেজের ক্ষেত্রেও এখন অভিভাবকেরা ছেলে মেয়েদেরকে এই সুযোগটা দিয়ে থাকেন, বা বলা ভালো তারা নিজেরাই নিজেদেরকে সুযোগ দেয়, যেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতো কিছুর পরেও আজকের দিনে সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে শামিল বহু মানুষ।

IMG_20260203_003035.jpg
"ট্রেনে ওঠার আগে দত্তপুকুর স্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষারত মুহূর্ত"

যাইহোক যদিও আমাকে আজ সকালে আসতে বলেছিলো, কিন্তু বাড়িতে শশুর মশাই ও শাশুড়ি মায়ের শরীর খারাপ থাকাতে সকালে আসা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। সকালের দিকে সমস্ত কাজ গুছিয়ে দুপুরের দিকেই রওনা হলাম পিয়ালীদের বাড়িতে আসার উদ্দেশ্য।

আমার পুরনো পোস্ট‌ পড়ে অনেকেই জেনেছেন, আমার বাপের বাড়ির পাশেই রাখি ও পিয়ালীর বাড়ি। তাই আমি প্রথমেই রাখিদের বাড়িতে নেমেছিলাম, কারণ আমাদের বাড়ি বর্তমানে তালা বন্ধ অবস্থাতেই থাকে, যেহেতু সেখানে কেউ থাকেনা।

IMG_20260202_180828.jpg

IMG_20260202_171806.jpg

IMG_20260202_171759.jpg

IMG_20260202_171753.jpg

"উপহার কেনার মুহূর্তে দোকানে দাঁড়িয়ে তোলা কিছু ছবি"

যদিও আমি আর রাখি একসাথে এলাম, কারণ ওকে সকালেই বলে রেখেছিলাম যাতে আমার সাথে মছলন্দপুরে দেখা করে। বেশ কিছু কাজ ছিলো ওর, সাথে আমিও পিয়ালের জন্য গিফট কিনবো, তাই দুজনে একসাথে কিনলে ভালো হবে ভেবেই ওকে আমার আসার সময় আসতে বলেছিলাম।

IMG_20260203_005703.jpg
"মেহেন্দির জন্য সাজানো প্লেট"

যাইহোক সেখান থেকে পিয়ালের জন্য পছন্দ করে একটা ডিনার সেট কিনে আমরা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। রাতের বেলায় পিয়ালীদের বাড়িতেই অনেকটা সময় কাটবে আমাদের, যেহেতু রাতে সকলে মিলে একসাথে মজা করে মেহেন্দি করবো ঠিক করেছিলাম।

সকালে আসতে পারলে আরও বেশি মজা হতো, কিন্তু তেমনটা আর হয়নি। যাইহোক সন্ধ্যার আগে তোদের বাড়িতে পৌঁছে দেখি প্যান্ডেলের কাজ প্রায় শেষ। বাড়িতে বিয়ের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। বাঙ্গালীর বিয়েতে প্রচুর নিয়ম কানুন রয়েছে, যেগুলো আজ থেকে শুরু হয়ে গেছে। দুপুর বেলাতে ওর আইবুড়ো ভাত হয়নি, তাই সেটার আয়োজন রাতেই করা হয়েছে।

IMG_20260203_005903.jpg
"মেহেন্দি পরানোর মুহূর্ত"
IMG_20260203_005843.jpg
"মেহেন্দি পড়ানের ফাঁকে তোলা ছবি"

সন্ধ্যার পরে আরও কিছু আত্মীয়-স্বজন এলে তাদের সকলের সাথে কম বেশি কথা বলাতে অনেকটা সময় পার হলো। এরপর সকলে মিলে জোগাড় করলাম মেহেন্দির
পড়ানোর। আলাদা করে কোনো আর্টিস্ট ঠিক করা হয়নি। আসলে কয়েকদিন বাদেই ওর পরীক্ষাও রয়েছে, আর মেহেন্দির দাগ সহজে হাত থেকে উঠে না, তাই ও অল্প করে মেহেন্দি করবে এমনটাই ঠিক করেছিলো।

IMG_20260203_010116.jpg
"মেহেন্দি করার ফাঁকে পিয়ালীর পছন্দের গানের নাচ"
IMG_20260203_010026.jpg
"সকলের নাচের মুহূর্ত"

আমি কমবেশি মেহেন্দি পড়াতে পারি, তাই দায়িত্বটা খানিক আমার উপরেই পড়েছিলো। তবে আমার সাথে সাথে পাশের বাড়ির একটা বোনও পড়িয়ে দিয়েছিলো। এরপর খুব ভালো একটা সন্ধ্যা কাটালাম, নাচ, গান, হাসি, মজা সবকিছু মিলিয়ে। তারপর ওর আইবুড়ো ভাত এর আয়োজন করা হলো। মাঝে অবশ্য আমরাও খাওয়া দাওয়া সেরে নিয়েছিলাম।

IMG_20260203_005923.jpg
"মেহেন্দির শেষে ফটোশুট"

এই সকল দিনগুলো আসলে আজীবনের স্মৃতি হয়ে থাকবে। বিয়ের পর প্রত্যেকের জীবনেই পরিবর্তন আসে, সুতরাং এমন মুহূর্ত এরপর আর কখনো আসবে না। তাই সবাই মিলে যতটা আনন্দ উপভোগ করা যায় ততই ভালো।‌ রাতের দিকে মেহেন্দি পড়ানো হয়ে গেলে ও আইবুড়ো ভাত খেলো।

আবার ভোর বেলা থেকেই শুরু হবে অধিবাস, গায়ে হলুদের পর্ব, তবে আইবুড়ো ভাত থেকে শুরু করে, আগামী কালকের মুহূর্তগুলো কিভাবে কাটলো সেগুলো আপনাদের সাথে পরবর্তী পর্বে শেয়ার করবো। ভালো থাকবেন‌ সকলে।

Sort:  

Loading...