গতকালকের সারাদিন‌ যেভাবে কেটেছে

in Incredible India4 days ago (edited)
IMG_20260404_232554.jpg
"আমাদের গাছের বেলি ফুল"

Hello,

Everyone,

আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।

গতকাল আমার লেখা পোস্ট যারা পড়েছেন, তারা মোটামুটি হয়তো বুঝতে পেরেছেন যে আমার শ্বশুর মশাইয়ের শারীরিক অবস্থা কতটা খারাপ।

আর সত্যি কথা বলতে গত কালকের তুলনায় আজকের পরিস্থিতি আরও বেশি খারাপ। গত পরশুদিন সারারাত জেগে, কাল সারাদিনেও বিশ্রামের সুযোগ হয়নি। তাই রাত ২.৩০ পর যখন বিছনায় এসেছিলাম কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম বুঝতে পরিনি।

শারীরিক অসুস্থতার কারণেই সারারাত শশুর মশাই ছটফট করেন একথা আমরা বুঝতে পারি। তবে সত্যি কথা বলতে এমনভাবে যদি চলতে থাকে, তাহলে আমাদের শরীর কতখানি ঠিক থাকবে সেটা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি না। আমার তো গতকাল থেকেই শরীরটা অল্প অল্প খারাপ। এমনকি আজ সকাল ৬ টা নাগাদ ঘুম থেকে ওঠার পর এখনও পর্যন্ত বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ হয়নি।

বিকাল ৫ঃ৩৫ নাগাদ দুপুরের খাবার খেয়ে ভাবলাম শুয়ে একটু বিশ্রাম নেবো। তবে সে উপায়ও নেই। তাই ভাবলাম চেয়ারে বসেই অন্তত আপনাদের সাথে পোস্ট লেখার কাজ কিছুটা এগিয়ে রাখি। কারণ আবার যেকোনো মুহূর্তেই উঠতে হতে‌ পারে।

IMG_20260404_233230.jpg
"আমার ব্রেকফাস্ট"

দুদিন আগে কল্যাণী থেকে শুভর মামা বাড়ির অনেকে শ্বশুরমশাইকে দেখতে এসেছিলেন। শ্বশুর মশাই ইলিশ মাছ এবং আইড় মাছ খেতে পছন্দ করেন বলে, বড় বড় দুটো মাছ কিনে এনেছেন। তবে এখন শ্বশুর মশাই আর খাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে নেই। এই কয়েকদিন লিকুইড খাবার কোনোরকমে তাকে খাওয়ানো যাচ্ছে। তবুও তার বেশিরভাগ খাবার তিনি ফেলে দিচ্ছেন।

যাইহোক গতকাল সকালে আপনাদের সাথে পোস্ট লেখা শেয়ার করার পর, গাছের ফুল তুলে নীচে গিয়ে ব্রেকফাস্ট এর জন্য রুটি বানিয়ে ছিলাম। সত্যি বলতে এমন পরিস্থিতিতে খাওয়া দাওয়ার কোনো রুচি নেই, তবে বেঁচে থাকতে গেলে কিছু না কিছু খেতেই হবে। তাও যদি শুধু আমরা থাকতাম তাহলে সত্যিই কাল হয়তো শুধু সেদ্ধ ভাত রান্না করে খেয়ে নিতাম।

IMG_20260404_234449.jpg
"দুপুরের রান্নাবান্না"

তাও সম্ভব হচ্ছে না, কারন বাড়িতে মানুষ রয়েছে তাই একেবারেই রান্না না করে পারা যায়নি। ঘরের কাজগুলো আমি সামলে নিলাম, রান্নার দিকটা শাশুড়ি মা করলেন।

আর এর মাঝে শশুর মশাইকে নিয়ে দৌড়াদৌড়ির বিষয়গুলো কিভাবে আপনাদের সাথে উপস্থাপন করব বুঝতে পারছি না। গত দুদিন বেশ গরমও পরেছে। তাই সব দিকটা সামলাতে বেশ কষ্টই হয়েছে। গতকাল আরও কয়েকজন এসেছিলেন শশুর মশাইয়ের সাথে দেখা করতে।

গতকাল বাড়িতে আবার একটু নাম কীর্তনের ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। সন্ধ্যার পর তাদেরও আসার কথা ছিলো। হঠাৎ করে কেন এইরকম নামকীর্তনের আয়োজন করেছিলাম সেকথা আপনাদের সাথে পরে আলোচনা করবো। খুব তাড়াহুড়োর মধ্যে কিভাবে সবকিছুর আয়োজন হয়েছিলো, সেটাও আপনাদের সাথে শেয়ার করবো ‌পরের কোনো পোস্টে।

IMG_20260404_233352.jpg
"ঠাকুরের নিত্য পুজো"

যাইহোক নিত্য পুজো শেষ করার পর, সকলে মিলে দুপুরের খাওয়া শেষ হতে প্রায় বিকেল হয়ে এসেছিলো। তবুও আমরা বোধহয় আধঘন্টা মতন একটু রেস্ট নিতে পেরেছিলাম। তারপরে‌ উঠে আবার সব আয়োজন শুরু করেছিলাম।

এই সমস্ত কিছুই ব্যবস্থা করার পর শুরু হল নামকীর্তন। তবে শ্বশুরমশাই কতটুকু বুঝতে পেরেছেন সত্যিই জানিনা। কীর্তন শেষ হতে হতে প্রায় রাত সাড়ে নটা বেজে গিয়েছিলো। এরপর সকলে খাওয়া-দাওয়া করে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পর, বাড়ির আমরা যারা বাকি ছিলাম, তারাও খাওয়া-দাওয়া সম্পন্ন করে নিয়েছিলাম‌।

গতকাল রাতেও শশুরমশাই একটুকুও ঘুমায়নি। আর আমরাও তেমন ঘুমাতে পারিনি।‌ সকলে মিলে বেশ কিছুক্ষণ ঘরেই কথাবার্তা বললাম। তবে সকলে রাত জাগলে চলবে না, কারণ দিনের বেলাতেও সমান পরিশ্রম যায় শ্বশুরমশাইকে নিয়ে। তাই রাত দুটোর পর এসে একটু শুয়েছিলাম।

শরীর অনেক ক্লান্ত থাকায় কখন ঘুমিয়ে পড়েছি বুঝতে পারিনি। ভোরে ননদের ডাকে ঘুম ভাঙলো। তাড়াহুড়ো করে গিয়ে দেখি শশুর মশাইকে নিয়ে ওনার নাজেহাল অবস্থা। এতটুকুও চুপ থাকছে না। শুধু এপাশ ওপাশ করছে। কখনো উঠে বসছে, কখনো শুয়ে পরেছে। আবার কখনো খাট থেকে নামার চেষ্টা করছে।

IMG_20260404_234048.jpg
"নাম কীর্তনের মুহূর্ত"

যাইহোক দুজন মিলে আবার শশুর মশাইয়ের ড্রেস চেঞ্জ করলাম। উনাকে ফ্রেশ করাতে করাতে আজ বেলা বেড়ে গেল অনেকটা। গতকালের দিনটা এইভাবে কেটেছে।

সত্যি বলতে যেভাবে দিনগুলো যাচ্ছে মনে হচ্ছে প্রত্যেকটা দিন আরও বেশি কঠিন হচ্ছে আমাদের জন্য। এইরকম পরিস্থিতি আরও কতদিন দীর্ঘায়িত হবে জানিনা। তবে এই পরিস্থিতির শীঘ্র অবসান হোক এ প্রার্থনা করেই চলেছি।

অন্যকাউকে যেন ঈশ্বর এইরকম পরিস্থিতিতে না রাখেন, সকলকেই যেন তিনি কম কষ্ট দিয়ে মুক্ত‌ করেন,‌ এই‌ প্রার্থনা করে আজকের লেখা এখানেই শেষ করছি।‌ ভালো থাকবে সকলে। শুভরাত্রি।

Sort:  
Loading...

WhatsApp Image 2026-04-02 at 5.58.37 AM.jpeg

ফুলের ফটোগ্রাফিটা আমার বেশ পছন্দ হয়েছে ।

 3 days ago 

জেনে খুশি হলাম। ধন্যবাদ। 🙏

Coin Marketplace

STEEM 0.06
TRX 0.32
JST 0.065
BTC 71596.63
ETH 2244.57
USDT 1.00
SBD 0.51