"অবশেষে শূন্যতা বিরাজ করছে আমাদের ঘরের প্রতিটি কোণে"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
কেমন আছেন আপনারা সকলে?
আশাকরি সকলে ভালো আছেন সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব সুন্দর ভাবে শুরু হয়েছে।
গত কয়েকদিন আমি আপনাদের সাথে কোনো রকম লেখা শেয়ার করতে পারি নি, তার জন্য সত্যিই দুঃখিত। আসলে বাড়িতে লোকজনের উপস্থিতি আর আমার শারীরিক অসুস্থতা মিলিয়ে আর লেখা হয়নি। তবে ব্যস্ততার মাঝেও চেষ্টা করেছি কিছুটা সময় বের করে ভেরিফিকেশনের দায়িত্ব পালন করতে।
অবশেষে আজ একটু সময় পেয়েই লিখতে বসলাম। আজ বাড়ি একেবারেই খালি। শশুর মশাইয়ের অনুপস্থিতি যেন আজ সকাল থেকে আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। এই কয়েকদিন বাড়িতে মোটামুটি আত্মীয় স্বজন যাতায়াত ছিলো। তাই শূন্যতা ততটাও তীব্র ভাবে অনুভব করতে পারিনি।
হ্যাঁ কিছু কিছু সময়ে মনে হতো শশুর মশাইয়ের ইনসুলিনের সময় হয়ে গেছে, ওনাকে ওষুধ দিতে হবে। তবে পরের মুহূর্তেই মনে পরতো এইসব দায়িত্ব থেকে তিনি মুক্ত করেছেন আমাকে। তখন মনখারাপ লাগতো। তখনই আবার সকলের সাথে কথাবার্তায় আবার ভুলে যেতাম।
গতকাল সকলেই যার যার বাড়িতে ফিরে গেছেন। শুধু ননদের বড়ো ছেলে রয়েছে বাড়িতে। তাই বোধহয় শূন্যতা বিরাজ করছে সারা বাড়িতে। সোমবার থেকে যখন শুভ অফিসে যাবে তখন সারাদিন আমি আর শাশুড়ি মা থাকবো। তখনকার পরিস্থিতি কেমন হবে সেটাই আজ সকালে আলোচনা করছিলাম আমি আর শুভ।
গত বুধবার শশুর মশাইয়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের শেষ পর্ব অর্থাৎ খাওয়া দাওয়ার পর্ব ছিলো। আগেরদিন রাতেই রান্নার লোকজন চলে এসেছিলো। তারা রাতেই বেশিরভাগ সব্জি কেটে, মশলা তৈরি করে রেখেছিলো। সেদিন প্রায় সারারাত জেগেছিলাম আমরা। আবার পরদিন সকালে উঠেও গিয়েছিলাম। দুপুর বেলায় খাওয়া দাওয়ার আয়োজন ছিলো, তাই কিছুক্ষনের মধ্যেই সকলে আসতে শুরু করেছিলো।
সকলকে আপ্যায়ন করার দায়িত্ব ছিলো আমাদের, যেগুলো ঠিকমতো পালন করার চেষ্টা করেছি। বিকাল পর্যন্ত সকলের খাওয়া দাওয়া সুসম্পন্ন হওয়ার পর, আমরাও খাওয়া-দাওয়া করে নিয়েছিলাম। এদিন প্রচুর খাবার বেশি হয়েছিলো বলে অনেক ফয়েল পেপার কিনে এনে খাবারগুলোকে সুন্দরভাবে প্যাকিং করে, আমাদের বাড়ির পাশের একটা আশ্রমে এবং স্টেশনের উপরে থাকা দুস্মাথ মানুষদের মধ্যে সেগুলো বিতরণ করা হয়েছিলো।
সত্যি বলতে আত্মীয় স্বজন বা প্রতিবেশীদের খাওয়ানোর থেকেও, বেশি তৃপ্তি লাভ করেছিলাম এই কাজটা করে। রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত আমরা খাবার প্যাকিং করে সকলের মধ্যে বিতরণ করেছিলাম। ব্যস্ততার কারণে সেইসব মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করার কথা মনেই ছিলো না। সত্যি বলতে সেদিন আমার ফোনই ছিলো না আমার কাছে।
এরপর সমস্ত কিছু গুছিয়ে উঠে, সেদিন রাত সাড়ে তিনটের পরে বিছানায় গিয়েছিলাম। সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকা, তার উপর এতো পরিমাণে হাঁটাহাঁটি করার জন্য কোমর থেকে পা পর্যন্ত যেন অসাড় হয়ে গিয়েছিলো আমার।
পরদিন সকাল থেকেই আমার শরীর খারাপ শুরু হয়। এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণ সুস্থ একথা বলতে পারবো না। তবে চেষ্টা করছি সমস্ত কিছু মেনে নিতে। কারণ জীবনের বাস্তবতা থেকে পালানোর কোনো উপায় নেই। বাড়িতে সমস্ত কিছু এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, যা গুছিয়ে উঠতে কয়েকটা দিন সময় লাগবে। তার থেকেও বেশি সময় লাগবে নিজেদেরকে এই শূন্যতার সাথে মানিয়ে নিতে।
সত্যি কথা বলতে বিয়ের পর থেকে এই কয়েক বছর আমি এই বাড়িতে রয়েছি, তাতেই আমি এতোটা শূন্যতা অনুভব করছি। তবে শ্বশুর মশাইয়ের অনুপস্থিতি আমার শাশুড়ি মায়ের মনে কতখানি শূন্যতা তৈরি করেছে, তার হিসেব মেলানো বোধ হয় আমার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তবে তিনিও নিজেকে সামলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
চোখের সামনে দীর্ঘদিন শ্বশুরমশাইয়ের অসুস্থতার সাক্ষী থেকেছি আমরা, তখন মনে হতো ওনার এই কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া প্রয়োজন। তবে হ্যাঁ উনি হয়তো মুক্তি পেয়ে গেছেন, তবে আমাদের মনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে সেটা মেনে নেওয়া সত্যিই কষ্টকর।
যাইহোক আজকের দিনটা এইরকম অনুভূতি নিয়েই শুরু হয়েছে, সারাটা দিন কোনো রকমে কাটছে। আজ থেকে চেষ্টা করবো আপনাদের সাথে প্রতিনিয়ত নিজের লেখা শেয়ার করার জন্য। একটা নতুন রুটিনে অভ্যস্ত হতে কয়েকটা দিন সময় লাগবে ঠিকই, তবে কিভাবে দিনগুলো পার হচ্ছে সেসব কথা পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করবো।
আপনাদের প্রত্যেকের সুস্থতা কামনা করে, আজকের লেখা এখানেই শেষ করছি। ভালো থাকবেন সকলে।

Thank you for your support 🙏.
Siento mucho tu perdida amiga, Dios les de mucha fortaleza 🙏
Thank you so much my friend. 🙏