"প্রথমবার ডিআইবি অফিস পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা"

in Incredible Indiayesterday
IMG_20260307_113719.jpg
"যখন আমার দিদি ডিআইবি অফিসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো, সেই মুহূর্তের ছবি"

Hello,

Everyone,

আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটা খুব ভালো কেটেছে।

গত পরশুদিনের পোস্টে আমি আপনাদেরকে জানিয়েছিলাম গতকাল একটি দরকারি কাজে আমাকে বাইরে বেরোতে হবে। আজ এই পোস্টের মাধ্যমে গতকালকে সারাদিন কি করেছি, সে কথাই আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চলে এলাম।

IMG_20260307_233743.jpg
"বাড়ির নিত্য পুজো"

গতকাল সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘরের কিছু কাজ সম্পন্ন করে, ঠাকুর ঘরের কাজও সেরে নিয়েছিলাম। তারপর স্নান সেরে, বাড়ির নিত্যপুজো সেরে বাইরে বেরোনোর জন্য তৈরি হয়ে নিয়েছিলাম। আমাদের বাড়িতে তার আগের দিন আত্মীয় এসেছিলেন, সেকথাও আপনাদের জানিয়েছিলাম।

IMG_20260307_222822.jpg
"গতকাল শনিবার থাকার কারণে ট্রেন মোটামুটি ফাঁকাই ছিলো"
IMG_20260307_092527.jpg
"মছলন্দপুর স্টেশনে দিদিদের অপেক্ষায় বসে থাকার মুহূর্ত"

তাদের মধ্যে দুজন ছিলেন, যাদেরকে গতকাল সকালে অশোকনগর স্টেশনে নামিয়ে দেওয়ার দায়িত্বও ছিলো আমার। তাই তিনজন একসাথেই বেরিয়ে পরেছিলাম। ওনাদের নির্দিষ্ট স্টেশনে নামিয়ে দিয়ে, আমি মছলন্দপুর স্টেশনে পৌঁছে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম।

IMG_20260307_092120.jpg
"ট্রেন লাইনে কোনো সমস্যা ছিলো,তাই‌ বেশকিছু মানুষ এক সাথে কাজ করছিলেন"

কারণ দিদি ও জামাইবাবু যে ট্রেনে আসছিলো সেটা একটু লেট করেছিলো। আসলে ট্রেন লাইনে কিছু কাজ চলছিলো, তাই ডাউন ট্রেন সবগুলোই লেট ছিলো। আমি প্ল্যাটফর্মে বসে বসেই কিছুক্ষণ সেই সব দেখে সময় পার করলাম।

IMG_20260307_222902.jpg
"অটো‌ থেকে নেমে এই গলি দিয়েই আমরা গিয়েছিলাম"
IMG_20260307_113614.jpg
"বাদুরিয়া পৌরসভা"

কিছুক্ষণ বাদে দিদিরা এলো। আমরা একসাথে গিয়ে অটোতে বসলাম। ট্রেন ঢোকার সাথে সাথে বাস, অটো‌ সবকিছু মুহুর্তের মধ্যে ভিড় হয়ে যায়। বেশ‌ কষ্ট করে বসেই যেতে হলো। বোধহয় প্রায় ১৫ বছর পরে বাদুরিয়ার দিকে গেলাম। আসলে আমাদের বিডিও অফিস, পুলিশ স্টেশন ডিআইবি অফিস সবকিছুই বাদুরিয়ায়‌। পড়াশোনা করাকালীন মাঝে মধ্যে বিভিন্ন কাজে‌ যেতে হতো। প্রায় ৪০-৪৫ মিনিট সময় লাগে সেখানে পৌঁছাতে।

এবার বলি আমরা ওখানে কেন গিয়েছিলাম। আসলে আমার বার্থ সার্টিফিকেট ও‌ আমার মায়ের ডেথ সার্টিফিকেট দুটোই মিসিং। তারজন্যে পুলিশ স্টেশনে জেনারেল ডায়েরি করার প্রয়োজনীয়তা ছিলো। আর দিদির পাসপোর্ট রিনিউ করেছিলো, তার জন্য ডিআইবি অফিসে ভেরিফিকেশন ছিলো। দিদিরা যাচ্ছিলো বলেই আমিও গেলাম, না‌ হলে হয়তো গতকালও যাওয়া হতো না।

IMG_20260307_113637.jpg
"এই মন্দিরের পাশ দিয়েই আমরা গিয়েছিলাম ডিআইবি অফিসে"
IMG_20260307_113728.jpg
"এখনও পোড়ো বাড়ির মতো অবস্থায় রয়েছে আমাদের ডিআইবি অফিস"

যাইহোক যেহেতু ডিআইবি অফিসে একটা নির্দিষ্ট সময়ে যেতে হতো, তাই প্রথমে আমরা সেখানেই গেলাম। ডিআইবি অফিসে যাওয়ার পথেই চোখে পড়লো বাদুরিয়া পৌরসভা ও একটা মন্দির। মন্দিরের পাশ দিয়েই একটা সরু‌ রাস্তা গেছে, যেটা দিয়ে একটু‌ এগিয়ে গিয়ে চোখে পড়লো‌ ডিআইবি অফিস।

IMG_20260307_114045.jpg
"অফিসার ভিতরের অবস্থাও বেশ শোচনীয়"

তবে ‌অফিসটা দেখে পোড়ো বাড়ি‌ মনে হচ্ছিলো। ওখানে যে কোনো অফিস থাকতে পারে নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। দিদি বললো ও ২০১৫ সালে যখন এসেছিলো, তখনও অফিসের এমন‌ অবস্থা ছিলো। আজও বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি।

IMG_20260307_130208.jpg
"পাশের বাড়ি গুলোর অবস্থাও একই রকম"
IMG_20260307_130157.jpg
"আশে পাশের জায়গা এমনই ঝোঁপ জঙ্গলে ভরে আছে"

আশে পাশের জায়গাগুলোর অবস্থাও একই রকম। পরে‌ ওখনাকার একজন লোকের কাছে শুনলাম, এই সম্পূর্ণ জায়গাটা নিয়ে বহুবছর ধরে কোনো কারনে কেস চলছে, যার মিমাংসা এখনও হয়নি। আর এই কারনেই মূলত অফিসের পূর্ন নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। যাইহোক বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর দিদির নাম ডাকলো। যদিও ওখানেই অনেকটা সময় লেগে গেলো, তবে শেষ পর্যন্ত কাজটা মিটেছে এটাই বড়ো কথা।

সেখানকার কাজ‌ সম্পন্ন করে আমরা বেড়িয়ে পরলাম‌ পুলিশ স্টেশনে‌‌ যাওয়ার উদ্দেশ্যে। জীবনে প্রথম বার পুলিশ স্টেশনে যাওয়ার অভিজ্ঞতা পরবর্তী পোস্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আজকের পোস্ট এখানেই শেষ করলাম। ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।

Coin Marketplace

STEEM 0.06
TRX 0.29
JST 0.050
BTC 69046.77
ETH 2027.96
USDT 1.00
SBD 0.49