"বৃহস্পতিবার- সপ্তাহের সবথেকে ব্যস্ততম দিন"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় বৃহস্পতিবারের দিনটা অনেকখানি কর্মব্যস্ততার মধ্যে কাটে, এ কথা বোধহয় আমি আমার পুরনো পোস্টে বহুবার আপনাদের সাথে আলোচনা করেছি।
সংসারের কাজকর্ম ছাড়াও এদিন ঠাকুর ঘরে অনেকটা সময় ব্যয় হয়। কারণ হিন্দু ধর্মমতে বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীবার। এদিন ঘরে ঘরে লক্ষ্মীব্রত পালিত হয়। যার কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রীতিও রয়েছে। তাই সেই সমস্ত পালন করতে গিয়ে অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেকটা বেশি সময় কাটে ঠাকুর ঘরে।
আজ আবার সংসারের কাজকর্ম ব্যতীত কিছু বাইরের কাজও করতে হয়েছিলো, তাই কর্মব্যস্ততা ছিল আরও দ্বিগুণ। আজ শাশুড়ি মা কে নিয়ে ব্যাংকে যেতে হয়েছিলো, একটা নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করার জন্য। আর এই ধরনের কাজে কতটা সময় ব্যয় হয় তার ধারণা হয়তো সকলেরই আছে।
সকলের নিত্য সাংসারিক কাজ সময় মতন সেরে নেওয়ার পর, শুভ অফিসে বেরিয়ে গেলে কোনো রকমে ব্রেকফাস্ট করে শাশুড়ি মাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। কাগজপত্র সমস্ত কিছু ঠিকঠাক করে নিয়েছিলাম বটে, কিন্তু ছবির ক্ষেত্রে যেটা সমস্যা হলো শাশুড়ি মায়ের সকল ছবিই সধবার বেশে।
![]()
|
|---|
কিন্তু বর্তমানে যেহেতু শ্বশুরমশাই জীবিত নেই, তাই নতুন করে যে কাগজপত্র করা হবে তাতে বর্তমান অবস্থার ছবি দেওয়াই উচিত মনে করে, প্রথমেই ছুটলাম স্টুডিওতে। যেখানে শাশুড়ি মায়ের নতুন করে আজ ছবি তোলা হলো। সেখান থেকেই কাগজপত্র গুলো জেরক্স করে নিয়ে একসাথে রওনা করলাম ব্যাংকের দিকে।
ব্যাংক বাড়ি থেকে খুব একটা দূরে না হলেও, সেখানে গিয়ে অনেকটা সময় ব্যয় হয়েছে, কারণ আজ ব্যাংকে প্রচুর ভিড় ছিলো। তবে সৌভাগ্যবশত সময় ব্যয় করার পরেও কাজটা সুন্দর মতো সম্পন্ন হয়েছিলো এটাই যা শান্তি। বাড়ি ফিরতে ফিরতে ঘড়ির কাঁটায় দুটো পার হয়ে গিয়েছিলো।
![]()
|
|---|
সকাল থেকে রোদ্দুরের বেশ তাপ ছিলো এবং ভেবেছিলাম বোধহয় এমনই থাকবে সারাটাদিন। দুদিন আগে ধুয়ে রাখা সব জামাকাপড় গুলো আজ রোদ্দুরে দিয়েছিলাম। ঘরের মধ্যে শুকালেও জামা কাপড়ের একটা অন্যরকম গন্ধ হয় বৃষ্টির সময়। তবে আজ একটানা রোদ্দুর ওঠাতে খানিকটা স্বস্তি পেয়েছিলাম।
যদিও সকালেই পূজোর ফুল তুলে, ঠাকুরের বাসনপত্র মেজেই যাওয়া হয়েছিলো। তাই বাড়িতে ফিরে ঘর মুঝে, স্নান সেরে, ঠাকুর ঘরে গেলাম। তারপর এক এক করে সমস্ত নিয়ম পালন করতে করতে প্রায় সাড়ে তিনটের পর পুজো শেষ হলো। নিজেদের গাছে ফুটে থাকা ফুল তুলতে যেমন ভালো লাগে, আরও ভালো লাগে সেই ফুলগুলো দিয়ে ঠাকুরের আসন সাজাতে।
![]()
|
|---|
আজ যদিও একটু তাড়াহুড়োতে সাজিয়েছি। কিন্তু ঈশ্বরের রূপ এতোই অপূর্ব যে, যেভাবে সাজানো হোক না কেন, তিনি সব কিছুতেই সুন্দর। ছাদের বেলফুল গাছে অনেক বেলফুল ফোটে। চেষ্টা করি ঠাকুরকে সেই বেলু ফুল দিয়ে সাজানোর। কেন জানি না আমার মনে হয় আমাদের মত এই ফুলের গন্ধটাও নিশ্চয়ই রাধা মাধবের অনেক বেশি পছন্দ।
আজকের পোস্টে আমার ঠাকুর ঘরের অনেকগুলো ছবি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। তার সাথে লক্ষ্মীব্রত পালন করার বেশ কিছু রীতিও। লক্ষ্মীর ঘর প্রতিস্থাপন করা বৃহস্পতিবারের পূজোর অন্যতম অঙ্গ। তবে এই ঘট প্রতিস্থাপন করারও বেশ কিছু নিয়ম রয়েছে।
|
|---|
যদিও গাছ থেকে আমের পল্লব তুলে পুজো দিতেই আমরা অভ্যস্ত। তবে শহরের দিকে সবসময় আম গাছ খুঁজে পাওয়া কঠিন। আর প্রতি বৃহস্পতিবার শুধু আমের পল্লব আনার জন্য স্টেশনে যাওয়াও হয়ে ওঠেনা, তাই শাশুড়ি মা একটা পিতলের আমের পল্লব কিনে রেখেছেন। মূলত সেটা দিয়েই বেশিরভাগ দিন লক্ষ্মীর ঘট প্রতিস্থাপন করা হয়।
পুজো দিতে বসেও শান্তি নেই। মুহূর্তের মধ্যে রৌদ্রজ্জ্বল আবহাওয়া একেবারে মেঘলা হয়ে গেলো। চারিদিক অন্ধকার হয়ে এলো। আমিও ভাবলাম শুকনো জামা কাপড় গুলো হয়তো ভিজে যাবে, তাই পুজোর ফাঁকে উঠেই আবার সব জামা কাপড় তুলে রাখলাম।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
তবে সব থেকে বিরক্তির বিষয় হলো কিছুক্ষণ বাদে সম্পূর্ণ মেঘ উধাও হয়ে গেলো। এক ফোঁটাও বৃষ্টি হলো না। কিছুক্ষণ জোরে হাওয়া বইলো, তারপরেই সমস্ত মেঘ সরে গিয়ে আবহাওয়া পরিষ্কার হয়ে গেলো। লক্ষ্মীর পাঁচালি পাঠ করে পুজো শেষ করে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে তারপর আজকে লাঞ্চ করেছি।
আসলে ব্যাংকে প্রায় ঘন্টা তিনেক দাঁড়িয়েই ছিলাম। একটা কাউন্টার থেকে অন্য কাউন্টারে দৌড়াদৌড়ি করেছি বেশিরভাগ সময়। বসার জায়গাও খুব বেশি ছিলো না, তাই বেশ কষ্ট হয়ে গিয়েছিলো।
আজ খুব বেশি সময় বিশ্রাম দিতে পারিনি, কারণ শোয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এসেছিলো। বিকেলের দিকে ছাদে গিয়ে দেখলাম আকাশের রংটা খুব সুন্দর হয়ে আছে। চারিদিকে একটু অন্ধকার হয়ে এসেছিলো। চেষ্টা করলাম সেই মুহূর্তকে ক্যামেরাবন্দি করার, তবে আশে পাশের বাড়িতে লাইট জ্বলছিলো।
![]()
|
|---|
হালকা অন্ধকারের মধ্যে আকাশের রংটা স্বচক্ষে যতটা ভালো লাগছিলো, ক্যামেরাবন্দি ছবিতে তার আসল সৌন্দর্য্য ততটাও দৃশ্যমান হচ্ছে না। কিন্তু তবুও ছবিটা আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম, হয়তো দেখলে আপনারা খানিকটা আন্দাজ করতে পারবেন।
এখানেই শেষ নয়। সন্ধ্যা পূজো দেওয়ার পর আজ আবার আমাকে ক্যাফেতে যেতে হয়েছিলো, শাশুড়ি মায়ের আধার কার্ড আপডেট করার জন্য। সেখানে গিয়ে দেখলাম আমাদের স্টেশন চত্তরের সমস্ত দোকানদার রীতিমতো আন্দোলনে বসেছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সেখানকার সমস্ত দোকান সরিয়ে নেওয়ার নোটিশ জারি করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। আর সেটাতেই তাদের আপত্তি, তাই প্রতিবাদে সামিল হয়েছে সকলে।
আমি কোনোরকমে ক্যাফেতে কাজটা শেষ করে একটু তাড়াহুড়ো করেই বাড়িতে ফিরলাম। কারণ সেই মুহূর্তে স্টেশন চত্বরের পরিবেশটা বেশ অপরিচিত লাগছিলো। সবকিছু মিলিয়ে আজ কর্মব্যস্ততা ছিলো অনেকটাই বেশি, তারই কিছু মুহূর্ত আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।
আপনাদের সকলের আজকের দিনটি কেমন কেটেছে, মন্তব্যের মাধ্যমে তা জানাতে ভুলবেন না।
সকলে ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।











