"দার্জিলিং ডায়েরী: গলিটার ভিউ পয়েন্ট বা সীমানা বাজার পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি অনেক ভালো কেটেছে।
দার্জিলিং ভ্রমণ পর্বের বেশ অনেকগুলো জায়গা ঘোরার অভিজ্ঞতা ইতিমধ্যেই আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি। সব শেষে যে পোস্টটি শেয়ার করেছিলাম, সেটি ছিলো "জোড়পোখরি পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা।"
![]()
|
|---|
যে পোস্টের একেবারে শেষের দিকে আপনাদেরকে জানিয়েছিলাম যে, জোড়পোখরিতে বেশ কিছুটা সময় কাটিয়ে আমরা রওনা করেছিলাম মিরিকের উদ্দেশ্যে। তবে মিরিক পৌঁছানোর কিছুটা আগে একটা ছোট্ট পর্যটন কেন্দ্র আছে, যার নাম "গলিটার ভিউ পয়েন্ট(Golitaar View Point)।"
![]()
|
|---|
এটি অবশ্য ভারত-নেপাল সীমান্তের কাছে সীমানা বাজার (Simana Bazaar) নামেও পরিচিত। এখানকার মনোরম দৃশ্য পরিদর্শনের জন্য কখনো কখনো পর্যটকেরা এখানে বিরতি নেন। আর সেই কারণেই পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য, বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র নিয়ে মানুষ এখানে ছোট্ট একটি বাজার গড়ে তুলেছ। এটি মূলত দার্জিলিং জেলার মিরিক মহকুমার অন্তর্গত।
![]()
|
|---|
পর্যটকরা এখান থেকে নেপালের পাহাড়ি গ্রাম এবং ভারতের চা বাগানের এক অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন। এই জায়গায় শীতকালে প্রচণ্ড ঠান্ডা থাকে এবং কুয়াশার কারণে চারিদিক দেখে যেন মনে হয় সাদা তুষারে ঢেকে আছে। আর পরিষ্কার আকাশ থাকলে এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্যও বেশ ভালো ভাবে দেখা যায়।
![]()
|
|---|
পর্যটকদের কাছে এই জায়গাটা আকর্ষণীয় তো বটেই, এছাড়াও যারা ট্রেকিং করেন বা পাহাড়ে হাঁটতে পছন্দ করেন, তাদের কাছে এটি একটি জনপ্রিয় জায়গা। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য অপূর্ব সুন্দর। তার কিছুটা হয়তো আপনারা আমার শেয়ার করা ছবিগুলো দেখেও বুঝতে পারছেন।
দার্জিলিংয়ের বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র মিরিক এখান থেকে খুব বেশি দূরে নয়। এমনকি পর্যটকরা সাধারণত মানেভঞ্জন বা সান্দাকফু যাওয়ার পথেও এখানে বিরতি নেন। আমরাও এখানে খুবই কম সময়ের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলাম। সত্যি কথা বলতে এই ভিউ পয়েন্টটা আমাদের ভ্রমণের তালিকায় ছিলো না। কিন্তু আমাদের যিনি ড্রাইভার দাদা ছিলেন, তিনি আমাদেরকে কিছুক্ষণের জন্য এখানে দাঁড় করিয়েছিলেন, যাতে আমরা এই অপূর্ব মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে পারি।
![]()
|
|---|
পরবর্তীতে আমরা নেপালের পশুপতি ফটক বলে আরও একটা পর্যটন কেন্দ্র ঘুরে দেখেছিলাম, যেটা নেপালেরই অন্তর্ভুক্ত ছিলো। সেখানে গিয়ে যদিও আমরা কিছু জায়গা পরিদর্শন করেছি, তবে এই রকম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য সেখানে ছিলো না। তাই ড্রাইভার দাদার কথাতেই এখানে আমরা অল্প কিছুক্ষণ সময় অতিবাহিত করেছিলাম এবং চেষ্টা করেছিলাম দূর থেকে নেপালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে সাথে, সেখানকার ছোট্ট ছোট্ট বাড়িগুলোর দৃশ্য উপভোগ করতে।
![]()
|
|---|
সেখানকার বাজারের দোকানগুলোও আমরা একটু ঘুরে ঘুরে দেখেছিলাম এবং নিজেদের প্রয়োজনীয় টুকটাক কিছু জিনিসও কিনেছিলাম। তবে দুঃখের বিষয় সেই জিনিসগুলোর কোনো ছবি আলাদাভাবে তোলা হয়নি। তবে এই মার্কেট থেকে বাড়ির সকলের জন্য ছোট্ট ছোট্ট যে উপহার গুলো এনেছিলাম, সেগুলো সকলেরই খুব ভালো লেগেছে।
সত্যি কথা বলতে উপহার কত দামী হলো তার থেকেও মূল্যবান হলো, কোনো একটা জায়গায় ঘুরতে গিয়ে মনে করে খুব প্রিয় মানুষদের জন্য ছোট্ট কিছু স্মৃতি হিসেবে নিয়ে আসা। অন্তত আমার কাছে উপহারের মানে তো তাই।
আমরা ওখানে থাকাকালীনই আরও অনেক পর্যটকদের গাড়ি সেখানে এসেছিলো এবং প্রত্যেকেই নিজেদের মতো করে সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করছিলেন।
![]()
|
|---|
হঠাৎ করে চোখ গেলো এক দল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষের দিকে, যারা হয়তো নিজেদের গন্তব্যে যাওয়ার এই পূর্বে গলিটারি ভিউ পয়েন্টে নেমেছিলো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করার জন্য। ওনাদের পোশাকে এই জায়গাটি যেন সেই মুহূর্তে আরও অনেক বেশি উপভোগ্য হয়ে উঠেছিলো। দূর থেকে তাদের একটা ছবি তোলার আমি চেষ্টা করেছি, আশাকরছি এটা দেখে আপনাদেরও ভালো লাগবে। তারাও প্রত্যেকেই নিজেদের মতন করে দূরে থেকে নেপালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করার চেষ্টা করছিলেন।
![]()
|
|---|
সত্যি বলতে কখনো কখনো দূরের আকাশকে যেমন খুব কাছে মনে হয়, ঠিক তেমনি ভারতের দিকে দাঁড়িয়ে নেপালকেও যেন খুব কাছের মনে হচ্ছিলো। কিন্তু তাদের মধ্যে দূরত্ব ছিলো অনেক। তবে প্রকৃতি এবং আকাশ দুই জায়গাতেই সমান, তাই যেন মনে হচ্ছিলো একে অপরের সাথে মিলে মিশে এক হয়ে উঠেছে। এটাই বোধহয় প্রকৃতির সৌন্দর্য্যের বিশেষত্ব।
![]()
|
|---|
যাইহোক এরপর আমরা গাড়িতে বসলাম এবং আমাদের পরবর্তী গন্তব্যের দিকে রওনা হলাম। তবে সত্যি কথা বলতে দার্জিলিং এর প্রত্যেকটা জায়গার এক অপূর্ব সৌন্দর্য্য আছে, যা আমি প্রত্যেকটা পর্বে আপনাদের সাথে কিছুটা হলেও শেয়ার করার চেষ্টা করেছি। তবে যারা ব্যক্তিগতভাবে দার্জিলিং ভ্রমণ করেছেন, তারা হয়তো বুঝবেন যে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যগুলো এতটাই অপূর্ব হয়, যা শব্দে ব্যাখ্যা করে বোঝানো আসলেই অসম্ভব।
দার্জিলিং ভ্রমণ পর্বে গলিটার ভিউ পয়েন্ট পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা এখানেই শেষ করলাম। পরবর্তী পর্বে আরও বেশ কিছু জায়গার সৌন্দর্য্য অবশ্যই আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আপনাদের প্রত্যেকের সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজকের লেখা শেষ করছি।
সকলের ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।









