" 'উত্তরন'- বাংলা ওয়েব সিরিজের রিভিউ "
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং সকলেরই আজকের দিনটা খুব ভালো কেটেছে।
গত কয়েকদিন আগের একটা পোস্টে আমি আপনাদের সাথে "উত্তরণ" নামক একটি বাংলা ওয়েব সিরিজ দেখার কথা শেয়ার করেছিলাম, এবং কথা দিয়েছিলাম যে এই ওয়েব সিরিজটির রিভিউ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। তাই আজ এই পোস্টের মাধ্যমে আমি সে কথাই রাখতে চলেছি।
আজকাল সকালে ঘুম ভাঙার পর থেকে শুরু করে, রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত আমরা প্রত্যেকেই সোশ্যাল মিডিয়ার উপরে নির্ভর করি। অবশ্যই সবকিছুর একটা ভালো এবং একটা খারাপ দিক আছে। আমরা কোনটিকে বেছে নেবো সেটা অবশ্যই আমাদের ব্যক্তিগত পছন্দ।
তবে এই সোশ্যাল মিডিয়াকে কিছু মানুষ এমন ভাবে ব্যবহার করে, যা অন্য মানুষের জীবনে ভয়ংকর বিপদ ডেকে আনতে পারে। আবার ঠিক উল্টোদিকে এই সোশ্যাল মিডিয়াতে ভিডিও শেয়ার করার মাধ্যমে বহু মানুষ নিজেদের পরিচিতি তৈরি করেছে। অর্থনৈতিক দিক থেকে স্বাবলম্বী হয়েছে। আবার কিছু কিছু অপরিচিত মানুষকে সাহায্যে করতে বহু মানুষ এগিয়েও এসেছে। আর এইরকম ভাবেই বহু মানুষের জীবনের অনেক সমস্যার সমাধানও হয়েছে।
|
|---|
![]()
|
|---|
"উত্তরণ" ওয়েব সিরিজের মূল কাহিনী এই সোশ্যাল মিডিয়া নিয়েই। সিনেমার মূল চরিত্রে অভিনয় করেছে মধুমিতা সরকার যার চরিত্রের নাম "পর্না"। কাহিনীতে দেখানো হয়েছে পর্না একজন স্কুল টিচার এবং স্কুলে তার বেশ সুনাম আছে। এমনকি ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেও তার বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে।
সদ্য বিবাহিতা পর্না বিয়ের পর তার স্বামী ও শ্বশুর মশাইয়ের সাথে শ্বশুর বাড়িতেই থাকেন। পেশার তার স্বামী একজন ডাক্তার। আর পর্নার স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেছে "রাজদীপ গুপ্ত"।
![]()
|
|---|
গল্পের শুরুতে দেখানো হয়েছে তাদের সুখী দাম্পত্যের কাহিনী, যেটা ধীরে ধীরে অন্যদিকে মোড় নিয়েছে। একটা সময় সেই সুখী দম্পতির মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। পর্না চরিত্রের একটি এমএমএস সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায়, তাকে শুধু শ্বশুরবাড়ির মানুষের নয়, বরং আত্মীয়-স্বজন, স্কুলের কলিগ, ছাত্র-ছাত্রী, নিজের স্বামী, এমন কি নিজের বাবা মা সকলেই ভুল বুঝেছে। আর ওই একটা ভিডিওর উপরে ভিত্তি করে সকলেই তাকে জাজ করেছে।
এইরকম মানুষের টানাপড়েনে মেয়েটি নিজেকে একেবারেই গুটিয়ে নিয়েছিলো। নিজের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলো। নিজেকেই দোষী ভাবতে শুরু করেছিলো।
![]()
|
|---|
তবে এই পর্নাকে জীবন্ত করেছে পর্নার দেবর, যে তার ওপরে বিশ্বাস রেখেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে যে কেউ চাইলে এমনটা করতে পারে, এটা বিশ্বাসটা একমাত্র রেখেছিলো ওর দেবর। যে হয়তো ওর খুব কাছেরও ছিলো না।
তাই যখন খুব কাছের মানুষগুলো পর্নাকে অবিশ্বাস করেছিলো, তখন তার দেওরের এই বিশ্বাসটারও অপমান করেছিল প্রধান। তবে পরবর্তীতে যখন সে নিজের ভুল বুঝতে পারে তখন তার দেওরের কথাতেই সে জীবনটাকে অন্যভাবে ভাবতে শুরু করে। আর এখানেই গল্পের মোড় ঘুরে যায়।
![]()
|
|---|
একটা মেয়ে নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেলে কিভাবে লড়াই করতে পারে, সেটা খুব ভালোভাবে পর্না চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছে। যেখানে সকলে তাকে দূরে ঠেলে দিয়েছিলো, সকলে তার দিকে বাঁকা চোখে তাকাচ্ছিলো, সেখানে সে নিজের আত্মবিশ্বাসের জোড়ে জীবনের সবথকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছিলো।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
আর সেটি ছিল সবার থেকে আলাদা হয়ে একার মতন করে বাঁচার সিদ্ধান্ত। আর এই একা থাকা লড়াই লড়ার জন্য তাকে বহু পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছিলো, সেই বিষয়গুলিকেও এই সিরিজে সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে। আর এখানেই এই ওয়েব সিরিজটির নামকরণের সার্থকতা লুকিয়ে আছে।
|
|---|
মোটকথা পর্না চরিত্রটি আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ের জীবনের কাহিনী। হয়তো ওর জায়গায় থাকলে অনেক মেয়েই জীবনে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতো। এমনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর বা জীবনকে সুন্দরভাবে বাঁচার মতন সিদ্ধান্ত অনেকেই নিতে পারে না।
আমাদের প্রত্যেকের জীবনে কিছু কিছু পর্যায়ে থাকে। যে পর্যায়ে আমরা অনেক রকম সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি। আজকালকার যুগের মেয়েদের জীবনের সাথে পর্নার জীবনের সম্পূর্ণ মিল রয়েছে। স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করাকালীন কারোর সঙ্গে সম্পর্ক জড়িয়ে পড়া আজকালকার দিনে খুব স্বাভাবিক একটা বিষয় এবং সেই সম্পর্ক কখনো কখনো অনেক গভীরও হয়।
তবে সমস্ত সম্পর্ক যে বিয়ে পর্যন্ত পৌঁছায় এমনটা নয়। তবে বিয়ের পরেও বহু মেয়ে তাদের জীবনটাকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে যায়, যেখানে অতীত জীবনের ছায়া তার জীবনে পরে না। এখানে পর্নার জীবনেও তেমনই ঘটনা ঘটেছিলো। তবে তার স্বামী তাকে তার অতীত জীবন দিয়ে বিচার করেছে ঠিকই, কিন্তু একথাও সত্যি পর্নার মতনই তার স্বামীর জীবনেও কিন্তু অতীত ছিলো।
শুধু তা কখনো সামনে আসেনি বলে, আর সে ছেলে বলে হয়তো পর্নার মতো তার জীবনে লড়াই করতে হয়নি, একা হতে হয়নি, অপমান সহ্য করতে হয়নি, কাছের মানুষগুলোর থেকে দূরে যেতে হয় নি।
সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তবে কখনো কখনো এই সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে জীবন কতখানি বিপর্যস্ত হতে পারে সেটাও আমাদের বোঝা উচিত। অন্যদিকে সমাজ, পরিবার, সবার কাছ থেকে বিতাড়িত হওয়ার পরেও কিভাবে নিজেকে সামলে, আবার লড়াই করতে হয় সেটাও বেশ শিক্ষনীয় বিষয়।
|
|---|
কিছু মিলিয়ে ওয়েব সিরিজটা আমার বেশ ভালো লেগেছে। হইচই প্লাটফর্মে ওয়েব সিরিজটা রিলিজ হয়েছে, আপনারা যারা যারা এখনো দেখেননি চাইলে একবার দেখতে পারেন। আশাকরি আমার পোস্টটা পড়ার পর আপনাদেরও ওয়েব সিরিজটি দেখার ইচ্ছা জাগ্রত হবে।
যদি কেউ আমার পোস্ট পড়ার পরে দেখে থাকেন, তাহলে অবশ্যই সেটা মন্তব্য করে জানাবেন। আপনাদের সকলের সুস্থতা কামনা করে আজকের লেখা শেষ করছি। ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।








Greetings, my dear former friend Sampa Ji,
Today, after a long hiatus, I had the opportunity to read one of your posts. I am aware that, due to a certain prejudice and obstinacy, you were compelled to harbor negative thoughts about me. The manner in which you have portrayed the protagonist's pain—and her ultimate triumph over it—in this web series clearly reveals your true nature: that you are a deeply sensitive yet resolute woman. I thoroughly enjoyed your review; however, my personal taste leans toward something a bit different—I tend to watch only thrillers or science fiction series. Consequently, I will not have the opportunity to watch this particular series. I trust that you still have faith in me—after all, the very name you bear is Vishwas (Trust).
I wish you a bright and successful future. With deep respect and regard.