"হ্যাপি ভ্যালি পার্কে কাটানো একটা আনন্দময় সন্ধ্যার গল্প- অন্তিম পর্ব"

in Incredible India8 days ago
IMG-20260113-WA0026_064514.jpg
"আমরা সকলে"

Hello,

Everyone,

আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটা খুব ভালো কেটেছে।

ইতিমধ্যেই আমি আপনাদের সাথে রোজভ্যালি পার্কে ভ্রমণের দুটি পর্ব শেয়ার করেছি। আজ একেবারে অন্তিম পর্ব নিয়ে হাজির হলাম। আগের পর্বে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম, পার্কের একটা সেকশন একেবারেই নতুন ভাবে তৈরি করা হয়েছিলো, যেটা এর পূর্বে ঘুরতে গিয়ে আমি দেখিনি।

IMG_20260302_190334.jpg
"ইন্ডিয়া গেটের আদলে নির্মিত স্তম্ভ"

আর সেখানকার মূল আকর্ষণ ছিলো ইন্ডিয়া গেটের আদলে তৈরি করা স্তম্ভ, যা দূর থেকেই নজর কেড়েছিলো আমাদের সকলের। তাই সেখানেই প্রথমে গেলাম। পথটাকে খুব সুন্দর ভাবে তৈরি করা হয়েছে, যার দুপাশ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ফুল গাছ লাগিয়ে সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে।

IMG_20260113_170833.jpg
"ফুলের বাহার"
IMG_20260113_170954.jpg
"বাচ্চাদের জন্য যান্ত্রিক দোলনা"

ইন্ডিয়া গেট পর্যন্ত পৌঁছাতে গিয়ে দুপাশে দেখলাম বাচ্চাদের জন্য আলাদা ধরনের বিভিন্ন খেলার জিনিসও তৈরি করা হয়েছে। দোলনা বাচ্চাদের অত্যন্ত প্রিয় একটা জিনিস। তবে এখানে যান্ত্রিক দোলনা ছিলো। যাতে চড়তে আলাদা টিকিট কাটতে হবে। দেলনাগুলো বেশ আকর্ষণীয় লাগছিল সেখানকার লাইটিং এর জন্য। যে মুহূর্তে আমি ছবিটি তুলেছিলাম, তখনও দোলনগুলো চলমান অবস্থাতেই ছিলো।

IMG_20260113_171055.jpg
"ছোট্ট ছোট্ট করে তৈরি বসার জায়গাটা লাইট দিয়ে সুন্দর সাজানো "

এরপর আরও একটা বিষয় দেখে ভালো লাগলো। ছোট্ট ছোট্ট কুঁড়েঘরের আদলে তৈরি বসার জায়গা। সেগুলো একটু অন্যভাবে তৈরি করার রয়েছে, যা লাইট দিয়ে সুন্দরভাবে সাজানো এবং তার ভেতরে বসার জন্য চেয়ারের ব্যবস্থাও রয়েছে। পরিবার হোক কিংবা নিজের পার্টনারের সাথে সেইখানে বসে কিছু কোয়ালিটি টাইম কাটানো বেশ উপভোগ্য হবে বলেই মনে হলো।

IMG_20260113_171046.jpg
"পাতার আদলে সোলার প্যানেল সাজানো"

আরও কিছুটা এগিয়ে গিয়ে চোখ কাড়লো এই সোলার প্যানেলগুলো, যা দূর থেকে দেখতে খানিকটা পাতার আকারের লাগছিলো। বেশ সুন্দরভাবে প্যানেল গুলোকে আকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং তার নিচে বসারও সুব্যবস্থা করা আছে।

IMG_20260113_171214.jpg
"ইন্ডিয়া গেটের পাশে নির্মিত ভারতীয় পতাকা"
IMG_20260302_194526.jpg
"অন্য পাশে নির্মিত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ঘোড়ায় চড়া মূর্তি"

এই সবকিছু দেখতে দেখতেই আমরা পৌঁছে গেলাম ইন্ডিয়া গেটের আদলে তৈরি স্তম্ভের কাছে এবং সেখানে যাওয়ার সময় চোখে পড়ল অমর জওয়ান লেখা স্তম্ভটিও। এমনকি ইন্ডিয়া গেটের পাশে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের ঘোড়ায় চড়ার একটা প্রতিমূর্তিও তৈরি করা হয়েছে।

IMG-20260113-WA0029_064524.jpg
"ভারতীয় পতাকার সামনে ধীরাজ"
IMG_20260113_171345.jpg
"টয়ট্রেনের লাইনের উপর দাঁড়িয়ে ধীরাজ"

ইন্ডিয়া গেটের পাশেই কাঠ দিয়ে ভারতের মানচিত্র তৈরি করা আছে। যেটা দেখতে সত্যিই সুন্দর লাগছিলো। বিশেষ করে চারপাশের ফুল গাছগুলো, এই জায়গাটির সৌন্দর্য্য আরও দ্বিগুণ বৃদ্ধি করেছে। তাই ধীরাজকে দাঁড় করিয়ে সেখানে একটা ছবি তুললাম।

এখানে যে রেলপথটা আপনারা দেখতে পারছেন, এটা শুধুমাত্র যে সাজানোর জন্য তা নয়। এখানে টয় ট্রেনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে, এই নতুন জায়গাটি ঘিরে টয়ট্রেন চলে, যার জন্য আলাদা টিকিট আপনাকে কাটতে হবে। তবে আমরা আর ট্রেনে চড়িনি, তবে চারিপাশটা ঘুরে সুন্দরভাবে উপভোগ করেছি।

IMG_20260113_171454.jpg
"বিভিন্ন রঙের বোগেনভেলিয়া ফুলের টব দিয়ে সাজানো ইন্ডিয়া গেটের সামনের অংশ"

ইন্ডিয়া গেটের আদলে তৈরির স্তম্ভের চারপাশ জুড়ে বোগেনভেলিয়া অর্থাৎ কাগজ ফুলের বাহার দেখে একেবারে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। যত রঙের কাগজ ফুল আছে, সব রঙের ফুল দিয়েই এই জায়গাটাকে সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। ছবি দেখে হয়তো আপনারাও খানিক আন্দাজ করতে পারছেন যে, এখানে বিভিন্ন কালারের কাগজ ফুল আলাদা আলাদা টবে সুন্দরভাবে সাজিয়ে রেখেছে।

IMG-20260113-WA0027_064515.jpg
"একসাথে তোলা আরও একটা সুন্দর স্মৃতি "

তাই আমরা সকলে মিলে এখানে দাঁড়িয়ে কিছু ছবি তুললাম, যা আমাদের কাছে স্মৃতি হয়ে থেকে যাবে। ওই মুহূর্তগুলো জীবনের বোধহয় সেরা প্রাপ্তি, কারণ আবার কবে আমরা প্রত্যেকে একসাথে এক জায়গায় উপস্থিত হতে পারবো তা সত্যিই জানা নেই।

IMG_20260113_172024.jpg
"দূর থেকে তোলা সুসজ্জিত ইন্ডিয়া গেটের ছবি"

ইতিমধ্যে সমস্ত জায়গার লাইট জ্বলে উঠেছে। তাই একটু দূরে এসে প্রথমে শেয়ার করা ছবিটা তুলেছিলাম, যাতে আপনারা সবটাই সুন্দরভাবে দেখতে পারেন।

IMG_20260113_172408.jpg
"পুকুরের মূল আকর্ষণ"

এবার বলি সবথেকে মজার ঘটনাটা। ততক্ষণে পুকুরের পাড়ে লেখা আই লাভ হ্যাপি ভ্যালি পার্ক এর লাইটও জ্বলে উঠেছে, যা সম্পূর্ণ পুকুরটাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছিলো। আমার শাশুড়ি মা যদিও ধীরাজকে প্রথমেই বলেছিলে বোটিং করার কথা, কিন্তু ও রাজি হয়নি, যা আগের পর্বে আমি আপনাদের জানিয়েছিলাম।

IMG_20260113_173057.jpg
"শাশুড়ি মা ও ধীরাজ বোটিং করতে যাওয়ার মুহুর্ত"
IMG_20260113_173309.jpg
"শুভ, ধীরাজ ও শাশুড়ি মা বোটিং করার মুহুর্ত"

পরে শাশুড়ি মা বলল ওনার নিজের বোটিং করতে খুব ইচ্ছে করছে। শুভ ও আমার ননদ যখন ছোটো‌ ছিলো ওদের সাথে নিয়ে আমার শ্বশুর মশাই ও শাশুড়ি মা পার্কে গিয়ে‌ বোটিং করতেন।‌ এই বোটিংটা দেখে ওনার ভীষণ ইচ্ছা করছে। বাচ্চাদের মতন এমন স্বীকারোক্তি শুনে বেশ ভালো লাগলো, তাই ধীরাজ ও শাশুড়ি মাকে পাঠানো হলো। তবে দুজন আদেও ভালোভাবে বোটিং করতে পারবে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত ছিলাম না, তাই সাথে করে শুভকেও পাঠানো হলো।

IMG_20260113_173622.jpg
"পুকুর পাড় সুসজ্জিত ছিলো ফুলের টব ও লাইটে"
IMG_20260113_174550.jpg
"নাম না গাছটি লাইটের কারনে অপূর্ব লাগছিলো"

বেশ কিছুক্ষণ তিনজন মিলে বোটিং করে আনন্দ উপভোগ করলো। ততক্ষণ আমরা পুকুরের পাড়ে বসে ছিলাম। পুকুরের পাড়ে ছোট্ট ছোট্ট ফুল গাছের টব বসানো ছিলো। আর তার সাথে লাইট জ্বলছিল। সবকিছু মিলিয়ে সুন্দর আকর্ষণীয় পরিবেশ ছিলো সেখানে। হঠাৎ করে উপরের দিকে চোখ পরতেই এই গাছটা দেখলাম, গাছটার নাম যদিও জানি না তবে লাইটের কারণে বেশ অপূর্ব লাগছিলো দেখতে, তাই ছবিটা তুলে নিয়েছিলাম।

IMG_20260113_173403.jpg

IMG_20260113_173354.jpg

IMG_20260113_173418.jpg

IMG_20260113_173438.jpg

পার্কের রেস্টুরেন্ট সহ আরো কিছু জায়গার ছবি

সবটা ঘুরে দেখা শেষ হলে বাড়ি ফেরার পালা এলো। পার্কের যে পাশ থেকে আমরা ঢুকেছিলাম সম্পূর্ণটা ঘুরে আর অন্য পথ দিয়ে বাইরে বেরোনোর সময় চোখে পড়ল রোজ ভ্যালি পার্কের ভেতরে থাকা রেস্টুরেন্টের দিকেও। যদিও এর আগেও রেস্টুরেন্টটা দেখেছি, তবে সেখানে ঢুকে কোনো খাবার কখনো ট্রাই করা হয়নি।

IMG_20260113_174932.jpg
"আমার বৌদি"
IMG_20260113_175015.jpg
"আমরা দুজনে"
IMG_20260113_175712.jpg
"ধীরাজ হাওয়াই মিঠাই খেতে ব্যস্ত, পাশে আমার শাশুড়ি মা"

যাইহোক একেবারে বেরোনোর সময় একটা সুন্দর বসার জায়গা দেখলাম, যেখানে বেশ কিছু কার্টুন আঁকা ছিলো। সেখানেই বৌদি আর আমি বসে ছবি তুললাম। অন্যদিকে ধীরাজকে আমার শাশুড়ি মা হাওয়াই মিঠাই কিনে দিয়েছিলো। ধীরাজ সেটাই বসে বসে খাচ্ছিলো, আর পাশে বসে ছিল আমার শাশুড়ি মা। তাই দুজনের একটা ছবিও শেষ মুহূর্তে ক্যামেরাবন্দি করেছিলাম।

IMG-20260113-WA0023_064508.jpg
"পার্ক থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার পূর্বে আমাদের সকলের একসাথে তোলা ছবি

সকলে মিলে গাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করলাম। পার্কিং এড়িয়া তখন বেশ ফাঁকা হয়ে এসেছে, কারণ আমাদের অনেক আগে যারা এসেছে তারা ইতিমধ্যে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করেছেন। আমরাও খুব বেশি দেরি না করে গাড়ি নিয়ে বাড়ি উদ্দেশ্যে রওনা করলাম। এই ভাবেই সুন্দর একটা সন্ধ্যা আমরা পার্কে কাটিয়েছি, যার প্রত্যেকটি মুহূর্ত বিভিন্ন পর্বের মাধ্যমে আপনাদের সাথে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।

আপনাদের কার কার আমার এই সুন্দর মুহূর্তের সাক্ষী হতে পেরে ভালো লাগলো, তা অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন। প্রত্যেকে সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজকের লেখা শেষ করছি। ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।

Sort:  
Loading...
 7 days ago 

Thank you for your support 🙏.

Coin Marketplace

STEEM 0.06
TRX 0.29
JST 0.050
BTC 70284.09
ETH 2042.03
USDT 1.00
SBD 0.46