" ছাদ বাগানের গল্প :- 'প্রথম পর্ব' "

in Incredible India2 days ago
IMG_20250308_092305.jpg
"ছাদ বাগানে প্রথমবার তরমুজের ফলন"

Hello,

Everyone,

আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।

আজ আমি আপনাদের সাথে একটু অন্য ধরনের পোস্ট শেয়ার করবো। আমার পুরনো পোস্ট যারা পড়েছেন, তারা হয়তো অনেকেই জানেন বছরখানেক আগে অসুস্থতার কারণে আমার শ্বশুর মশাইকে নিয়ে প্রায় এক মাসের মতন হসপিটালে থাকতে হয়েছিলো।

সারাদিন হসপিটালে কাটিয়ে আমি ও শুভ রাতের দিকে ফিরে যেতাম শুভর মামা বাড়িতে। রাতটুকু সেখানে থেকে‌ পরদিন‌ সকালেই আবার দুজনে একসাথে হসপিটালে ফিরে আসতাম।

IMG_20250308_093823.jpg
"সারিবদ্ধভাবে লাগানো তরমুজ গাছ"

এইরকমই একদিন সকালবেলায় বেশ কিছু জামা কাপড় ধুয়ে সেগুলো মেলার জন্য গিয়েছিলাম মামা বাড়ির ছাদে। মামাদের বাড়ির ছাদটা অনেকটা বড় এবং এটা পিকলুর (আমার পোষ্য) অনেক পছন্দের একটা জায়গা ছিলো। কারণ সম্পূর্ণ ছাদে ও এদিক ওদিক দৌড়ে বেড়াতে পারতো। অনেক বছর আগে একবার মামার মেয়ের আশীর্বাদের সময় ওকে নিয়ে আমরা গিয়েছিলাম, সেইবার ছাদে উঠে ও দারুণ আনন্দ করেছিলো।

ছাদে গিয়ে মূলত সেই কথাগুলোই মনে পড়ছিলো। তবে আমার সেজো মামাশ্বশুর ছাদে অনেক সুন্দর সুন্দর কিছু গাছ রোপন করেছেন দেখে সেগুলোর ছবি তোলার লোভ তখন সামলাতে পারিনি। তবে পরবর্তীতে আরও অনেক ছবিতে গ্যালারি ভরে যাওয়ার কারণে, এই ছবিগুলো আপনাদের সাথে আর শেয়ার করা হয়ে ওঠেনি।

IMG_20250308_093458.jpg
"অন্যপাশে লাগানো ছিলো শশা গাছ"

তাই আজ ফোনের গ্যালারি ঘাটতে ঘাটতে যখন ছবিগুলো পেলাম, ভাবলাম আপনাদের সাথে সেই ছবিগুলোই আজকের পোস্টের মাধ্যমে শেয়ার করি। আজকের পড়তে মূলত শেয়ার করবো তরমুজ ও শশা গাছের ছবি।

প্রথমেই বলে রাখি এই দুটো গাছের কোনোটাই কিন্তু তিনি কিনে এনে লাগানো হয়নি। মামাবাড়িতে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির ও ফলের খোসা এক জায়গায় ফেলা হয়। পরবর্তীতে সেগুলোই সার হিসেবে বিভিন্ন গাছের টবে দেওয়া হয়ে থাকে।

সেই খোসা গুলোর সাথেই শশা ও তরমুজের বীজ ছিলো, সেখান থেকেই চারা বেড়িয়েছিলো। সেজো মামা শ্বশুরের ছেলে সেটা খেয়াল করেছিলো। আর খেলার ছলে তারা গাছ গুলো ফাঁকা টবে লাগিয়েছিলো।

IMG_20250308_092331.jpg
"গাছে তখন সবে তরমুজ ‌ফলতে‌ শুরু করেছিলো"
IMG_20250308_092337.jpg
"তবে শশা গাছে তখনও ফলন শুরু হয়নি"

তবে গাছগুলোর বৃদ্ধি দেখে পরবর্তীতে মামা নিজেই গাছগুলোর যত্ন নিতে শুরু করেন। আর সঠিক ভাবে যত্ন করলে মানুষের মতো বোধহয় গাছেরাও খুশি হয়। আর তার অভিব্যক্তি ভাষায় প্রকাশ করতে না পারলেও ফল, ফুলের মাধ্যমে তা ফিরিয়ে দেয়।

IMG_20250308_092119.jpg
"গাছগুলোর ভালো বৃদ্ধির জন্য দড়ি দিয়ে তৈরি করা হয়েছিলো মাচা"
IMG_20250308_092149.jpg
"মাচার দড়ি জড়িয়ে গাছগুলো সুন্দর বেড়ে উঠেছিলো"

গাছগুলো এতো সুন্দর করে মামা লাগিয়েছিলেন যে আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। বিশেষ করে গাছগুলো যাতে সুন্দর ভাবে ছড়াতে পারে অর্থাৎ বাইতে পারে তার জন্য তিনি দড়ি কিনে এনে সুন্দর করে মাচাও তৈরি করেছেন।

মাচার একপাশে লাগিয়েছিলেন শশা গাছের চারা আর অন্যপাশে তরমুজের। তবে চারাগুলো মামা ক্যারেট এ‌রমধ্যে মাটি দিয়ে লাগিয়েছিলেন, তাতে নাকি গাছগুলো ভালো হবে।

IMG_20250308_092533.jpg
"প্ল্যাস্টিকের বোতল গুলো সারের জন্য সুন্দর ভাবে ব্যবহার করা হয়েছিলো"

তাছাড়া তিনি সবজি ও‌ বিভিন্ন ফলের খোসার সার যাতে সরাসরি ক্যারেটের মাটিতে যায় তার জন্য প্ল্যাস্টিকের বোতল গুলো সুন্দর ভাবে কেটে বসিয়েছিলেন। আর সেখানেই সেই খোসা গুলো পরিমাণ মতো রেখেও দিয়েছিলেন। আশাকরি উপরের ছবিগুলো দেখে আপনারা বুঝতে পারছেন ‌

IMG_20250308_092543.jpg
"বিচালি দিয়ে ক্যারেট গুলো ঢেকে রাখার কারনে সূর্যের তাপ সরাসরি মাটিতে পরতো না। ফলে‌ মাটি একেবারে শুকিয়ে যেতো না।"

যেহেতু ছাদে সারাদিন রৌদ্র থাকে তাই ক্যারেটের মাটি যাতে শুকিয়ে না যায় তার জন্য খড়/বিচালি দিয়ে ঢেকে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। প্রতিদিন সকালে ও‌ বিকালে মামার ছেলেও বাবার সাথে গিয়ে গাছগুলোতে জল দিতো। ফুল এসেছে কিনা দেখতো। ঐ গাছে ফুল আসার অপেক্ষা বোধহয় ওর মতো করে আর কেউ করেনি।

IMG_20250308_092114.jpg
"দুপাশ থেকে গাছগুলোর বেড়ে ওঠা দেখেই ভালো লাগছিলো"
IMG_20250308_092241.jpg
"যত্নের ফল হিসেবে তরমুজ গাছে ফল ধরতে শুরু করেছিলো।"

তবে শেষ পর্যন্ত ওর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গাছে ফুল ও ফল দুটোই এসেছিলো। আমি যখন ছবিগুলো তুলেছিলাম, তখন দুটো তরমুজ একটু বড়ো হলেও বাকি গুলো একদমই ছোটো ছিলো। তবে পড়ে শুনেছিলাম তরমুজ গুলো আকারে খুব বেশি বড়ো না হলেও বেশ লাল রঙের হয়েছিলো। আর স্বাদেও বেশ‌ মিষ্টি ছিলো।

IMG_20250308_092103.jpg
"শশা গাছে ফল না‌হলেও সেই সময় ফুলে ভরে উঠেছিলো।"

কিন্তু শশা গাছে তখনও ফল না এলেও প্রচুর পরিমাণে ফুল ছিলো। তাই অগত্যা আমি শুধুমাত্র ফুলের ছবিই তুলেছিলাম। তবে পরে একবার শুভর মাসি এসেছিলেন আমাদের বাড়িতে, তখন তিনি এই গাছের শশা নিয়ে এসেছিলেন। বেশ ভালো ছিলো শশা গুলো।

যাইহোক আমি মামাবাড়ির ছাদ বাগানেরও কিছু গাছের ছবি তুলেছিলাম। সেগুলো অন্য একটা পোস্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আজকের পোস্টটা এখানেই শেষ করছি। গাছগুলো দেখে আপনাদের কেমন লাগলো আর আপনাদের কারোর বাড়িতে এইরকম ভাবে তরমুজ ও শশা গাছ কখনো লাগিয়েছেন কিনা, মন্তব্যের মাধ্যমে অবশ্যই জানাবেন।

সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করি। ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।

Coin Marketplace

STEEM 0.06
TRX 0.31
JST 0.060
BTC 66215.32
ETH 1988.80
USDT 1.00
SBD 0.50