"আরও একবার পাহাড়ে ঘোরার প্ল্যান, নতুন কিছু অভিজ্ঞতার অপেক্ষায়"
![]() |
|---|
Hello,
Everyone,
গত কয়েক দিনের পোস্টে আমি আপনাদেরকে জানাচ্ছিলাম বান্ধবীদের সাথে আরও একবার ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যানিং চলছে। আসলে এই প্ল্যানিংটা আরো বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই চলছিলো, তবে আমার শ্বশুর মশাইয়ের শরীর খারাপ থাকার কারণে আমি সম্মতি দিতে পারছিলাম না।
কারণ ব্যক্তিগত জীবনে আনন্দ করার ইচ্ছা আমাদের সকলেরই থাকে। কিন্তু কিছু দায়িত্ব এবং কর্তব্যবোধ সব সময় তা করার অনুমতি দেয় না। এই কারণে শ্বশুর মশাইয়ের শারীরিক অসুস্থতাকে উপেক্ষা করে, নিজের বান্ধবীদের সাথে আনন্দ করতে যাওয়ায় মন সায় দেয় নি।
তবে ওদেরকে বলেছিলাম যাতে ওরা সবাই প্ল্যান করে ঘুরে আসে। কিন্তু বান্ধবীরা তো বান্ধবী, আমাকে ছেড়ে ওরা কিছুতেই ঘুরতে গেলো না। পিয়ালীর বিয়ের পোস্ট আপনাদের সাথে শেয়ার করেই ছিলাম। বিয়ের পর ওদের ইচ্ছা ছিল সিকিমে যাবে, তবে আমাদের সকলকে সাথে নিয়েই।
তবে ছোট্ট করে হানিমুন ওরা কাছাকাছি সমুদ্র অর্থাৎ দীঘা থেকে ঘুরে এসেছে। সিকিমে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যানিংটা যেহেতু শুরু থেকেই আমাদের সাথে ছিলো, তাই বিয়ের পরে ও আর সেটা পরিবর্তন করেনি। বরং ওর হাজব্যান্ডকে রাজি করিয়েছে যাতে সকলে মিলে একসাথে আমরা সিকিমে যেতে পারি।
![]() |
|---|
অবশেষে এতো মাসের অপেক্ষার পর আশাকরি ফাইনালি আমাদের সেই ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যানটা সফল হতে চলেছে। 'হতে চলেছে' এই কারণেই বললাম, কারণ যাওয়ার টিকিট এখনো কাটা হয়নি। তবে ১৩ তারিখে ফিরে আসার টিকিট কিন্তু কনফর্ম হয়ে গেছে। যাওয়ার টিকিট এই সময় রিজার্ভেশন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে, সকলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে টিকিটটা আমরা তৎকালে কেটে নেবো।
তাই যদি টিকিট কাল কাটা যায়, তাহলে কাল বাদে পরশুই রওনা করছি সিকিমের উদ্দেশ্যে। বহুদিন বাদে আবার পাহাড়ে যাচ্ছি। তবে এবার বরফের জায়গায়। গতবার দার্জিলিং এ ঘুরতে গিয়ে বরফ দেখার সৌভাগ্য হয়নি। সত্যি বলতে তেমনভাবে ঠান্ডাও অনুভব করিনি তখন। তবে এবার নর্থ সিকিমে গিয়ে আশাকরছি ঠান্ডাটাকে অনেক বেশি উপভোগ করার সুযোগ পাবো।
বলাই বাহুল্য যনের ভিতরে কতখানি আনন্দ হচ্ছে। আনন্দের পাশাপাশি একটু টেনশন যে হচ্ছে না একথা বলবো না। কারণ পাহাড় মানেই সৌন্দর্য্যের পাশাপাশি সেখানে দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও থাকে। অনেক তাই একদিকে যাওয়ার আনন্দ, আর অন্যদিকে ভালোভাবে বাড়িতে ফিরে আসার চিন্তা, এই দুইয়ের মাঝামাঝি একটা অদ্ভুত উত্তেজনা মনের ভিতর কাজ করছে এই মুহূর্তে।
![]() |
|---|
সত্যি বলতে ঘুরতে যাওয়ার জন্য এখনও পর্যন্ত কোনো রকম প্যাকিং আমি শুরু করিনি। তাই আগামীকাল আমার জন্য খুব ব্যস্ত একটা দিন হতে চলেছে, সেটা আজ থেকেই বুঝতে পারছি। তবে শরীরটা খুব বেশি ভালো না থাকার কারণে, গতকাল এবং আজ সারাদিন প্রায় তেমন কোনো কাজ করিনি। সাংসারিক যে দায়িত্বটুকু পালন করতেই হবে, ততটুকুই করেছি মাত্র।
আবার পুনরায় শীতের জামা কাপড় সবকিছু বের করে, কি কি প্যাকিং করবো সেগুলো নিয়ে ভাবতে বসতে হবে। এছাড়াও তো আরও টুকটাক অনেক কাজ বাকি। ওষুধ থেকে শুরু করে শুকনো কিছু খাবার, সমস্ত কিছুই গুছিয়ে নিতে হবে। তবে আগামীকাল তৎকালীন টিকিট না কাটা পর্যন্ত একেবারে নিশ্চিত হয়ে বলতে পারছি না যে, পরশুদিন সিকিমের উদ্দেশ্যে রওনা করবো।
সত্যি বলতে গত কয়েকটা মাস বড্ড বেশি খারাপ কেটেছিলো মানসিক দিক থেকে বড্ড বেশি বিধ্বস্ত ছিলাম, তার কারণ বহুবার আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি। শারীরিকভাবে অসুস্থ কোনো মানুষের সেবা যত্ন করতে করতে, আশেপাশের সকল মানুষেরা কিন্তু মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ বিষয়টি আমার মতো করে অনেকেই হয়তো তাদের জীবনেও অনুভব করেছেন। তাই মাঝে মধ্যে এইরকম ভাবে একটু পরিবেশ পরিবর্তনের প্রয়োজন, যাতে নিজেও আনন্দে থাকা যায়।
![]() |
|---|
আর আমার বান্ধবীরা আমাকে না নিয়ে কিছুতেই যাবে না, সেই কারণেই ওরা আমার সমস্যার কথা ভেবে এতোদিন কোনো প্ল্যান করেনি। তাই শেষমেষ ওদের সাথে না গিয়ে পারলাম না। আর সত্যি বলতে আমারও যেন এই ব্রেকটা ভীষণভাবে দরকার ছিলো। যাইহোক যেখানে যাওয়ার প্ল্যানিং হচ্ছে সেখানে আদেও নেটওয়ার্ক কতটা ভালো থাকবে, আপনাদের সাথে প্রতিদিন লেখা শেয়ার করতে পারবো কিনা, সবটাই অনিশ্চিত।
যতক্ষণ সেখানে না পৌঁছাচ্ছি, ততক্ষণ পর্যন্ত বুঝতে পারছি না। তবে অবশ্যই চেষ্টা করবো প্রতিদিনের ঘোরার অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে শেয়ার করার। যে সকল জায়গায় ঘুরবো, সেই সকল জায়গার কিছু স্মৃতি ছবির মাধ্যমেঝ তুলে ধরবো আপনাদের সাথে। ঠিক যেমন দার্জিলিং এ ঘোরার স্মৃতিগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি। অবশ্য দার্জিলিং এর শেষ পর্ব এখনো বাকি।
কারণে মিরিকে ঘোরার অভিজ্ঞতা এখনও আপনাদের সাথে শেয়ার করা হয়ে ওঠেনি। এর মধ্যে আবার সিকিম ডায়েরির পাতা খুলতে চলেছে। যাইহোক আপনাদের সকলেরই সুস্থতা কামনা করি। প্রার্থনা করবেন যাতে আমিও ভালোভাবে ঘুরে আসতে পারি এবং পরবর্তীতে সেই সকল অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথেও শেয়ার করতে পারি।
ভালো থাকবেন সকলে। শুভরাত্রি।
|
|---|




