"সরস্বতী পুজো‌র দিনটি এই বছর আরও বিশেষ হয়ে উঠেছিলো"

in Incredible India2 days ago
IMG_20260123_001755.jpg
"দেশের পতাকা উত্তোলন ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবিতে মাল্যদান ছাড়া ২৩ শে জানুয়ারি দিনটি অসম্পূর্ণ।"

Hello,

Everyone,

আজকে আবার হাজির হলাম আপনাদের সাথে সরস্বতী পূজায় কাটানো পরবর্তী সময়ের গল্প নিয়ে।

তার আগে জিজ্ঞেস করি, কেমন আছেন আপনারা সকলে? আপনাদের সকলের আজকের দিনটি কেমন কাটলো? মন্তব্যের মাধ্যমে অবশ্যই জানাবেন।

IMG_20260123_144923.jpg
"কল্যানীর পান্নালাল ইনস্টিটিউশন"

আগের পোস্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম, মামির সাথে ভাইয়ের স্কুলে সরস্বতী ঠাকুর পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে যখন রওনা করলাম, ফিরতি পথে আরও একটা স্কুল চোখে পড়লো যার নাম ছিলো "পান্নালাল ইনস্টিটিউশন"। কল্যাণীর এই বিদ্যালয়ের বেশ খ্যাতি রয়েছে।

IMG_20260123_145503.jpg
"বিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারের পাশেই রয়েছে পান্নালাল বসুর মূর্তি"

পান্নালাল বসু, যিনি একসময় পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন, তার নাম অনুসারেই এই বিদ্যালয়ের নামকরণ হয়েছিলো। রাস্তায় উল্টো পাশে স্কুটি রেখে আমরা প্রবেশ করেছিলাম। আর তখনই লক্ষ্য করলাম, বিদ্যালয়ের প্রবেশ পথের পাশেই তার একটা মূর্তি প্রতিষ্ঠিত করা আছে। যেখানে সেদিন মাল্যদানও করা হয়েছিল।

IMG_20260123_144724.jpg
"সরস্বতী পুজো উপলক্ষ্যে বেদীতে অঙ্কিত আলপনা গুলো সত্যিই সুন্দর ছিলো"
IMG_20260123_144716.jpg
"পান্নালাল বসু ইনস্টিটিউশনের সরস্বতী দেবীর মূর্তি"

দুজনে মিলে প্রবেশ করলাম বিদ্যালয়ে। একপাশে তৈরি করা বেদীর উপরেই সরস্বতী পুজোর আয়োজন করা হয়েছিলো। তাই প্রথমে প্রতিমা দর্শন করতে এগিয়ে গেলাম। প্রতিমা দর্শনের পরে ভাইয়ের স্কুলের মতনই এই বেদীতেও খুব সুন্দর করে আল্পনা দেওয়া হয়েছিলো, যা দৃষ্টি কেড়েছিল। তাই সেখানকার ছবিও তুলে নিয়েছিলাম।

IMG_20260123_144801.jpg
"প্রদর্শন এর জন্য রাখা কিছু ছবি ও হাতে তৈরি জিনিস"
IMG_20260123_144806.jpg
"বেশ কয়েকজন মানুষ কখনো সেখানে উপস্থিত ছিলো"

এখানে তখনও পর্যন্ত মানুষের ভিড় চোখে পড়ছিলো। স্কুলেরই ছাত্র-ছাত্রীদের আঁকা বিভিন্ন ছবি, বিভিন্ন ধরনের উপহার গুলো প্রদর্শনের জন্য রাখা ছিলো,‌কয়েকজন সেখানে দাঁড়িয়ে সেগুলোই দর্শন করছিলেন। আমি আর মামিও কিছুক্ষণ সেগুলো দেখলাম। ঠিক তার পাশেই প্রসাদ বিতরণ হচ্ছিলো।

আমি ছবি তুলতে ব্যস্ত ছিলাম, ঠিক সেই মুহূর্তেই দেখলাম মামী হাতে করে শালপাতার বাটিতে খিচুড়ি নিয়ে এসেছে। আসলে প্রসাদ একদমই সামনে দেওয়া হচ্ছিলো বলে মামী আর অপেক্ষা করতে না পেরে ছোট্ট একটা বাটিতে করে অল্প প্রসাদ নিয়েছিলো, যাতে আমরা দুজনেই প্রসাদ গ্রহণ করতে পারি।

IMG_20260123_144831.jpg
"ভোগের খিচুড়ি প্রসাদ, যা সেই দিনের সব থেকে বড় প্রাপ্তি ছিলো"

সত্যি কথা বলতে সরস্বতী পুজোর খিচুড়ি প্রসাদ না পেলে যেন সমস্তটাই অসম্পূর্ণ মনে হয়। তবে তিনিই বোধহয় চেয়েছিলেন তার পুজোর প্রসাদ যাতে আমরাও পাই। তাই হয়তো কোনো রকম প্ল্যান ছাড়াই আমরা এই বিদ্যালয়ে ঢুকে পড়েছিলাম।

ঠিক তার পাশেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবিতে মাল্য দান করা এবং পতাকা উত্তোলন দেখে হঠাৎ মনে পড়লো, আজ ২৩ শে জানুয়ারি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন। তবে ভাইদের স্কুলে কিন্তু এমন কোনো আয়োজন দেখিনি, যেটা নিয়ে আমি আর মামী কিছুক্ষণ কথা বললাম।

IMG_20260123_001821.jpg
"ভারতের বীর সন্তান নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবিতে মাল্যদান করা হয়েছে।"

অথচ এই স্কুল মনে রেখেছে সরস্বতী পূজোর পাশাপাশি আরো একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার জন্য এই দিনটি আমাদের কাছে স্মরণীয়। তাই সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনেও তারা কিন্তু কোনো ভুল করেনি। এই বিষয়টি সত্যিই হৃদয় স্পর্শ ছিলো।

IMG_20260123_001908.jpg
"পান্নালাল ইনস্টিটিউশনের মেন গেট"

যাইহোক প্রসাদ খাওয়া শেষ করে দুজনে মিলে হাত ধুয়ে আবার স্কুটি করে রওনা হলাম বাড়ির দিকে। আমার মামাশশুর বাড়ির একেবারে পাশেই বিয়ে বাড়ি ভাড়া করা হয়েছিলো এবং দুপুরের খাওয়া দাওয়ার আয়োজন সেখানেই ছিলো। তাই আমি আর মামি সেখানে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করে উপরে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলাম।

IMG_20260123_002755.jpg
"বিয়ে বাড়ির প্রস্তুতি: মামী আমার চুল বেঁধে দিচ্ছিলো, তখনকার তোলা ছবি"
IMG_20260123_002914.jpg
"খোঁপা বাধার‌ পরের ছবি"

বিয়ে বাড়িতে মানুষজনের ভিড় ছিলো প্রচুর। সকলের সাথেই কম বেশি আলাপচারিতায় সময় কখন পেরিয়ে গিয়েছে বুঝে উঠতে পারিনি। সন্ধ্যা হতে না হতে সকলেই বিয়ে বাড়িতে যাওয়ার জন্য রেডি হতে শুরু করেছিলো। তাই আমরাও একে একে সকলেই তৈরি হয়ে বিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করলাম।

IMG-20260123-WA0018.jpg
"বর কণের উপস্থিতিতে বিয়ের নিয়ম পালিত হচ্ছিলো "

আজকাল বিয়ে বাড়ি মানে ফটোশুটের একটা আলাদা রকম আয়োজন চোখে পড়ে। অবশ্য স্মৃতি হিসেবে দিনটিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আয়োজনটা মন্দ নয়। তবে আমি ছবি বা ভিডিও কোনোটাতেই কমফোর্টেবল ফিল করি না, একথা আগেও আমার পোস্টে বহুবার জানিয়েছি। তাই এক্ষেত্রে আমি একটু দূরত্ব বজায় রাখতেই পছন্দ করি। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা বজায় রাখা সম্ভব হয় না, সামনে আসতেই হয়।

বিয়ে বাড়িতে বেশ কিছুটা সময় কাটিয়ে, ছবি তুলে,‌ খাওয়া দাওয়া সম্পন্ন করে, কিছুক্ষণ বিয়ের অনুষ্ঠান দেখে সকলের সাথে আবার মামাবাড়িতে ফেরত এসেছিলাম। বিয়ে বাড়ির নিয়ে বা বিয়ে বাড়িতে অনুষ্ঠানটা কেমন হবে, এই বিষয়টা নিয়ে আরো অনেক কিছু পরিকল্পনা ছিলো ঠিকই। কিন্তু পরিস্থিতি সব সময়, সঠিকভাবে, আমাদের পরিকল্পনা গুলোকে বাস্তবায়িত করার সুযোগ দেয় না, এক্ষেত্রেও তেমনটাই হলো।

IMG-20260123-WA0004.jpg
"বিবাহিত জীবন সুখের হোক দুজনেরই"

তবে দিনশেষে আমি একটা বিষয় নিয়ে খুব খুশি ছিলাম যে, সরস্বতী পুজোতে মায়ের দর্শন করতে না পারা, প্রসাদ গ্রহণ করতে না পারার আফসোসটা আর করতে হয়নি। অদ্ভুতভাবে পরিস্থিতি পরিবর্তন হলো এবং আমিও এভাবে মামীর সাথে বেরিয়ে গিয়ে দুটো স্কুল ঘুরে, মায়ের দর্শন করার পাশাপাশি প্রসাদও পেলাম।

জীবনের ছোটো ছোটো জিনিস গুলো আমাদেরকে কতখানি আনন্দ দেয় বা মনকে কতখানি তৃপ্তি দেয়, সেদিন আরও একবার উপলব্ধি করার সুযোগ হয়েছিলো। তাই দিন শেষে যাই হয়ে যাক না কেন, এই বছর সরস্বতী পুজোর এই দিনটি এমনভাবে কাটাতে পেরে আমি সত্যিই খুব খুশি ছিলাম।

যাইহোক আপনাদের সাথে এই দিনের গল্প শেয়ার করতে পেরে ভালো লাগছে। আশাকরি আপনারাও সকলে সরস্বতী পুজোর দিনটা নিজেদের মতন করে খুব সুন্দরভাবে কাটিয়েছিলেন। আগামী দিনগুলোও আপনাদের খুব ভালো কাটুক। সকলের শারীরিক সুস্থতা প্রার্থনা করে আজকের লেখা এখানে শেষ করছি।

ভালো থাকবেন সকলেই। শুভ রাত্রি।

Sort:  

¡Congratulations!
We support quality posts, good comments anywhere and any tags.


Curated By: <@jimiaera02>

 19 hours ago 

Thank you for your support @jimiaera02. 🙏

Loading...