"দার্জিলিং ডায়েরী: দার্জিলিং এর বিখ্যাত অফবিট পর্যটন কেন্দ্র - 'জোড়পোখরি' পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা"

in Incredible India15 hours ago
IMG_20250613_082808.jpg
"জোড়পোখরির বিশেষ আকর্ষণ পুকুরের ভিতরে তৈরি কৃত্তিম সাপের মূর্তি ও সাদা রঙের হাঁসের পুকুরের মধ্যে সাঁতার কাটার দৃশ্য"

Hello,

Everyone,

প্রায় তিন মাস আগে দার্জিলিং এ ঘোরার অভিজ্ঞতার একটি পর্ব আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম। "দার্জিলিং ডায়েরী: লেপচাজগতের পাইন‌ ফরেস্টে কাটানো কিছু সুন্দর‌ মুহুর্ত" এই‌ পোস্টে লেপচা জগতে শেষ দিনে, সেখানকার পাইন বনে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছিলাম।

মাঝখানে অন্যান্য অনেক লেখা শেয়ার করতে গিয়ে দার্জিলিং ডায়েরির কিছু পর্ব বাকি রয়ে গেছে। তাই আজ এই পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো, দার্জিলিং এ আমাদের পরবর্তী ডেস্টিনেশন "জোড়পোখরী" তে ঘোরার অভিজ্ঞতা।

IMG_20250613_082435.jpg
"জোড়া পুকুরের মধ্যে এটাই প্রথম পুকুর"

জোড়পোখরি দার্জিলিং থেকে প্রায় ১৯ কিমি দূরে অর্থাৎ লেপচাজগতের কাছে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭,৪০০ ফুট উচ্চতায় দার্জিলিংয়ের‌ই একটি বিখ্যাত অফবিট পর্যটন কেন্দ্র। জোড়পোখরি সুখিয়াপোখরি থেকে ২ কিমি উপরে অবস্থিত। আর মাঝখানের এই ২ কিমি পথটা সম্পূর্ণ জুনিপার এবং পাইন গাছের জঙ্গলে ঢাকা। কোনো জনবসতি সেখানে চোখে পড়ে না।

IMG_20250613_082812.jpg
"দ্বিতীয় ‌পুকুরের পাড়ে দাঁড়িয়ে তোলা পাইন‌ গাছের সৌন্দর্য্য"

'জোড়' মানে দুই এবং 'পোখরি' মানে পুকুর। অর্থাৎ জোড়পোখরি' শব্দের অর্থ হলো জোড়া পুকুর বা জোড়া হ্রদ। এখানকার দর্শনীয় জিনিস বলতে মূলত দুটি যমজ হ্রদ (Twin Ponds) এবং বিরল প্রজাতির হিমালয়ান সালামান্ডার (Salamander) বা 'গোরো'। তবে এই শান্ত স্থানটি কাঞ্চনজঙ্ঘার অপূর্ব দৃশ্য এবং পাইন বনের জন্যেও বিখ্যাত।

IMG-20250622-WA0040.jpg

IMG_20250613_082953.jpg

"পুকুরের ‌চারপাশে‌ সুন্দর করে কংক্রিট দিয়ে বাঁধানো। তাছাড়াও বেশ‌‌ কতগুলো বসার জায়গাও করা আছে"

এখানকার পুকুর বা‌ হ্রদের সীমানা গুলো কংক্রিট করা এবং বসার আসন দিয়ে সুসজ্জিত। পুকুরের জলে সাদা রাজহাঁসের সাঁতার কাটার দৃশ্য মনোমুগ্ধকর। হ্রদের মাঝখানে বিশাল সাপের একটি মডেলও তৈরি করা হয়েছে এবং একটি ঝর্ণা রয়েছে। হ্রদের উত্তর দিক থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বত সহ, তুষারাবৃত হিমালয়ের অত্যাশ্চর্য দৃশ্য আপনাকে অবশ্যই মুগ্ধ করবে।

IMG_20250613_084018.jpg
"রাস্তার মধ্যেই কারোর একটি ‌পোষ্য কুকুর বাঁধা ছিলো। ভিতরের দিকে যাওয়ার সময় ওর সাথে আলাপ করলাম।‌ তখন আমিও আমার পোষ্য পিকলুকে মিস করছিলাম।"

তবে জোড়পোখরি ভ্রমণের সেরা সময় হলো অক্টোবর থেকে মার্চ মাস। অক্টোবর থেকে মার্চ মাস কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য উপযুক্ত সময়। আবার আপনি যদি বন্যপ্রাণী প্রেমী হন, তাহলে জুন থেকে আগস্ট মাস হলো‌ সেরা‌ সময়। কারন‌ বর্ষাকালেই মূলত উভচর প্রাণী সালামান্ডার যেগুলো দেখতে অনেকটা টিকটিকির মতো, তাদের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। যদিও আমরা শুধুমাত্র রাজহাঁস ছাড়া আর কিছুই দেখিনি।

IMG_20250613_082430.jpg
"দূরে ঠাকুরের মন্দিরটা দেখা যাচ্ছে। তবে ওটা‌ বন্ধ থাকায় সামনে গিয়ে দর্শন করা হয়নি।"

এখানে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের একটি ট্যুরিস্ট লজ (Jorepokhari Tourism Complex) আছে। অনলাইনে বুকিং এর‌ মাধ্যমে আপনারা সেখানে রুম পেতে‌ পারেন। দার্জিলিং থেকে মিরিক যাওয়ার পথে আমাদের এই জায়গাটাও ঘুরে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিলো। ওখানে একটা ঠাকুরের মন্দিরও ছিলো। তবে সেই সময় মন্দিরটা বন্ধ থাকায় আর ঘুরে দেখা সম্ভব হয়নি।

IMG_20250613_082450.jpg
"গাড়ির উদ্দেশ্যে ফেরার সময় ‌আরও একবার পিছন ফিরে দেখা জোড়পোখরির সৌন্দর্য্য"

কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য্য সেখানে দাঁড়িয়ে উপভোগ করার সুযোগ হয়নি ঠিকই, তবে সেখানকার রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশে পানই বনের সৌন্দর্য্য আমাদেরকে মুগ্ধ করেছে। বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও তুলে কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা সেখান থেকে আবার মিরিক যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করেছিলাম।

তবে সেখানকার সুন্দর মনোরম পরিবেশের স্মৃতি আজও আমাদের মনে রয়ে গেছে। তাই আজ ছবির মাধ্যমে আপনাদের সাথেও সেই স্মৃতিগুলো শেয়ার করলাম। আপনাদের মধ্যে কাদের এখানে ঘোরার অভিজ্ঞতা আছে, তা অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন।

IMG-20250622-WA0059.jpg

IMG-20250622-WA0055.jpg

"কিছু ‌কিছু‌ সৌন্দর্য্যের গভীরতা নির্জনতার মাঝেই খুঁজে পাওয়া যায়। তেমন সৌন্দর্য্য উপভোগ করার মুহূর্ত।"

পাশাপাশি যারা এখনও এই জায়গাটি দেখেননি তাদেরকে অনুরোধ করবো অবশ্যই একবার দার্জিলিং গেলে এই জায়গাটি পরিদর্শন করবেন, আশাকরি ভালো লাগবে।

সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজকের লেখা শেষ করছি। পরবর্তী পোস্টে আবারো নতুন কোনো অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।

শুভরাত্রি।