"ননদের বাড়িতে ছাদ বাগানে লাগানো বিভিন্ন গাছের গল্প"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আপনাদের সাথে গতকাল ননদের ছোটো ছেলের জন্মদিনের কিছু মুহূর্ত উপস্থাপন করেছিলাম। তার সাথে সাথে লেখার মাধ্যমে জানিয়েছিলাম যে, ননদ নিজের ছাদে বেশ কয়েক ধরনের গাছ লাগিয়েছে। আজকাল গাছ লাগানোর কাজে নিজের বেশিরভাগ সময় ব্যয় করে সে। আর এটা করে নিজের মনে বেশ প্রশান্তিও অনুভব করে।
আমরা আমাদের ব্যস্ত জীবনে যতটুকু সময় পাই, আজকাল সেটা সাধারণত ফোনেই ব্যয় করি। ইউটিউব হোক, সিনেমা হোক, কিংবা ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের রিলস দেখে সময় নষ্ট করি।
এমনকি রাতের বেলায় ঘুমানোর সময় ফোন পাশে নিয়ে শুয়ে, রিলস দেখতে দেখতে ঘুমানোর অভ্যাস প্রায় বেশিরভাগ মানুষেরই রয়েছে। যেটা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য ও শারীরিক স্বাস্থ্য সবকিছুর জন্যই ক্ষতিকর।
![]()
|
|---|
আর এই সমস্ত কিছুর থেকে বিরতি নিয়ে ননদ এখন চেষ্টা করে বেশিরভাগ সময় গাছেদের সঙ্গে সময় কাটাতে। সত্যি কথা বলতে গাছের যত্ন করা একটা বাচ্চা পালন করার থেকেও কঠিন।
মাটি তৈরি করার থেকে শুরু করে, বিভিন্ন গাছে বিভিন্ন ধরনের সার প্রয়োগ করা, তাদের কাটিং করা, কোনো গাছে যদি ফাঙ্গাস ধরে তার জন্য আলাদা ভাবে সেই গাছের পরিচর্যা করা, এই সমস্ত কিছু করতে করতে সময় কখন পার হয়ে যায় সে বুঝতেই পারেনা।
কাল গিয়ে তার ছাদবাগান দেখে খুবই ভালো লাগলো। আসলে ছাদে ঘুরে ঘুরে যখন গাছগুলো দেখছিলাম তখন অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করছিলো ঠিকই, তবে মনে মনে এটাই ভাবছিলাম যে, এই ভাবে ছাদ বাগানকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য, যে কষ্ট তাকে করতে হয়, সেটা বোধহয় আমি আন্দাজও করতে পারবো না।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
ছাদের এক প্রান্তে লাউ ও ঝিঙে গাছ লাগিয়েছে, আর তার থেকে একটু দূরে পুঁইশাক গাছ লাগিয়েছে। তবে এইগুলো বেড়ে উঠলে সেগুলো বেয়ে যাওয়ার জন্য আলাদাভাবে মাচা তৈরি করতে হয়। তাই ননদ একজন মিস্ত্রি নিয়ে সরু সরু দড়ি দিয়ে সুন্দরভাবে মাচাও তৈরি করেছে। ঝিঙে গাছগুলোতে ফুল এসেছে, তবে পুঁইশাক গাছ গুলো এখনো ততটা বড় হয়নি।
![]()
|
|---|
নিজের লাগানো গাছ থেকে ফুল পেরে পুজা দিতে খুব ভালো লাগে। তাই ননদ নিজের পছন্দ মতন অনেক ধরনের জবা ফুল গাছ লাগিয়েছে। এক একটা ফুলের রং এক এক রকম। এছাড়াও সাদা রংয়ের বেশ কয়েকটা ফুল গাছ লাগিয়েছে। তার মধ্যে একটা নাকি চায়না ফুল গাছ।
![]()
|
|---|
চায়না গাছের ছবিটি আমি আলাদাভাবে তুলেছি, কারণ এই ফুল গাছে পাতার থেকেও ফুলের কুঁড়ি বেশি ছিলো। আর ননদ বললো এই গাছের ফুল গুলো বেশ বড় ধরনের হয়।
সাদা ফুল গাছের পাশেই লাগিয়েছে একটা বকফুল গাছ।যার বড়া খেতে দারুন লাগে। বাজারেও আপনারা হয়তো দেখে থাকবেন এই বকফুল বিক্রি হয়। ননদেরও এই ফুলের বড়া বেশ পছন্দের, তাই শখ করেই এই গাছটি কিনে এনে লাগিয়েছে। আমি যদিও এর আগে বকফুল গাছ দেখিনি, গতকাল ননদের ছাদে গিয়েই প্রথম বকফুল গাছ দেখলাম।
![]()
|
|---|
যদিও আমি ছাদের কোনো গাছেই ফুল দেখতে পাইনি। কারণ একবার প্রচুর ফুল হয়ে গিয়েছে, তারপর ননদ সব গাছগুলোকে সুন্দরভাবে কাটিং করে দিয়েছে। কারণ কাটিং করার এটাই নাকি উপযুক্ত সময়।
![]()
|
|---|
ছাদের একটা পাশে স্থলপদ্ম ফুল গাছ লাগিয়েছে। ছোট্ট একটা ডাল লাগালেও সেটিকে কাটিং করে করে এখন গাছটি বেশ সুন্দরভাবে বেড়ে উঠেছে। চারপাশ থেকে ডাল বেরিয়েছে এবং সেই ডালগুলো এতো সুন্দর ভাবে বাড়ছে যা দেখে আশা করা যায়, এবার দুর্গা পুজোতেই এই পদ্মফুল গাছে পদ্ম ফুল ফুটতে দেখা যাবে।
![]()
|
|---|
তার ঠিক পাশেই রয়েছে তুলসী গাছ। এটাও ননদ একই রকম ভাবে কাটিং করে করে এমন ঝাঁকড়ালো করেছে। সত্যিই ভালো লাগছিলো তুলসী গাছটা দেখে। এর সাথে সাথে ননদ একটা বেল গাছও লাগিয়েছে।
আসলে বৃহস্পতিবারে পুজো দিতে গেলে বেল পাতা প্রয়োজন, তাছাড়া শিব ঠাকুরের পুজোর জন্যও দরকার। তাই তুলসী গাছ, বেলগাছ এবং দূর্বা গাছ ছাদের ওপরে ছোট্ট ছোট্ট টবেই ননদ লাগিয়ে নিয়েছে। যাতে বাইরে আর খুঁজতে যেতে না হয়।
![]()
|
|---|
এছাড়াও একটা ছোট্ট পেয়ারা গাছ লাগিয়েছে, তাতে একটা ছোট্ট পেয়ারাও এসেছে। ছবিটা দেখে আপনারা বুঝতে পারবেন। তবে এই গাছটা কাটিং করে আরও সুন্দর করতে হবে। এই সমস্ত কিছু করতে করতেই অনেক সময় পার হয়। আর প্রত্যেকটা গাছের যত্ন আলাদা আলাদা ভাবে নিতে হলে, কতটা সময় দিতে হয় আশা করি আপনারা আন্দাজ করতে পারছেন।
![]()
|
|---|
এছাড়াও পাতা পড়লে সেই ছাদ পরিষ্কার করা, প্রতিনিয়ত গাছের গোড়া খুঁচিয়ে তাতে জল দেওয়া, সার দেওয়া, এই সমস্ত কাজ করতে করতেই ননদের সময় পার হয়ে যায়। এটা অবশ্য একটা ভালো অভ্যাস, কারণ গাছেদের সঙ্গে সময় কাটালে মনও ভালো থাকে।
যদিও এইবার ছাদ বাগানে ভ্রমণ করে কোনো ফুল দেখতে পাইনি। তবে আশাকরি পরবর্তীতে যখন যাবো, তখন কিছু কিছু গাছে অবশ্যই ফুল ফুটবে। যাইহোক এবার আপনাদের সকলের সাথেও সম্পূর্ণ ছাদ বাগানের বিভিন্ন গাছের গল্প শেয়ার করলাম।
আপনাদের কার কার আমার লেখা পড়ে এবং ছবিগুলো দেখে ভালো লাগলো তা মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন।
সকলে ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।











