" ছাদ বাগানের গল্প :- 'দ্বিতীয় পর্ব' "
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং সকলেরই আজকের দিনটা বেশ ভালো কেটেছে।
গতকাল সন্ধ্যার দিকে বেশ ভালো বৃষ্টি হয়েছিলো ঠিকই, তবে আজ আবার সেই একই রকম গরম পরেছে। যাইহোক আমার গতকালের পোস্টে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম আমার মামা শ্বশুর বাড়ির ছাদে লাগানো তরমুজ ও শশা গাছের ছবি।
তবে যেমনটা জানিয়েছিলাম মামা বাড়ির ছাদটা বিশাল বড়ো। আর আমার মামা শ্বশুরের গাছ লাগানোর খুব শখ। তাই পুরো ছাদ জুড়ে আরও বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগানো ছিলো। তার মধ্যে থেকেই কিছু গাছের ছবি আজকের গোস্টের মাধ্যমে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
|
|---|
![]()
|
|---|
প্রথমেই আপনাদের সাথে শেয়ার করবো কাগজ ফুল অর্থাৎ বোগেনভেলিয়া ফুল গাছটির ছবি। ছবিটা দেখে আপনারা নিশ্চয়ই ফুলটিকে চিনতে পারছেন। এই ফুল পছন্দ করে না এমন মানুষ বোধহয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। এই ফুল যে কত রঙের হয় তার হিসাব মেলানো কঠিন। আর এই ফুলের অনেকগুলো রঙ একসাথে দেখেছিলাম যখন দাদার ছেলেকে নিয়ে হ্যাপি ভ্যালি পার্কে ঘুরতে গিয়েছিলাম। যেখানকার ছবি আমি আপনাদের সাথে পোস্টের মাধ্যমে শেয়ারও করেছিলাম।
মামা বাড়ির টবে লাগানো এই গাছটা বেশ পুরনো। গাছটার ডাল গুলো দেখে আশাকরি আপনারা কিছুটা হলেও তা আন্দাজ করতে পারছেন। তবে একই গাছে দুই রকমের ফুল ফুটেছে কিনা বুঝতে পারলাম না। কিংবা এমনটাও হতে পারে হয়তো একসাথে একই তবে সাদা এবং গোলাপি দুই রঙের গাছ লাগানো হয়েছিলো। এখন দুই গাছের ফুল একসাথে ফোটে বলেই হয়তো সেটা দেখতে অন্যরকম লাগে।
গাছটির বেশ কিছু ডাল ভেঙে গিয়েছে। তবে যে ডালগুলো রয়েছে, তাতে পাতার তুলনায় ফুল অনেক বেশি ফুটে ছিলো। ফুল গুলো দেখতে বেশ ভালো লাগছিলো। যার কারণে বেশ কয়েকটা ছবি আমি তুলেছিলাম। সেগুলোই আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।
|
|---|
![]()
|
|---|
এরপরে যে ফুল গাছের ছবি আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব এটা পিস লিলি ফুল গাছ। এই ফুলের গাছ একটা নয় একাধিক রয়েছে। মামাদের ছাদে কিছু কিছু গাছে নাকি ফুলও ফুটেছিলো। তবে আমার যেটা সবথেকে আকর্ষণীয় লেগেছে সেটি হলো টবের উপরে আঁকা ছবিগুলো।
প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি যেই মামা ছাদ বাগানে বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগান, তাদের যত্ন করেন, তার ছেলে গাছের টবে ছবিগুলো এঁকেছে। প্রথমে কালো রং করে তার ওপর সাদা রং দিয়ে মেরি ক্রিসমাস লিখেছে এবং সান্তা ক্লজকে এঁকেছে। দেখতে কিন্তু বেশ ভালো লাগছে। এই টবটা ছাড়াও আরো বেশ কিছু টবে ওর পেইন্টিং ছিলো।
একসাথে এক জায়গায় অনেকগুলো পিস লিলি গাছ লাগানো আছে ঠিকই, তবে গাছগুলোর শুকনো পাতাগুলোকে ঠিক ভাবে পরিষ্কার না করার কারণে জায়গাটা বেশ অগোছালো দেখাচ্ছিলো।
|
|---|
![]()
|
|---|
এরপর আপনাদের সাথে শেয়ার করবো বেশ কিছু বেগুন চারার ছবি। এই বেগুন গাছ গুলো মামার শ্বশুর মশাই এনে দিয়েছেন। আলাদা আলাদা টবে অনেকগুলো বেগুন গাছ লাগিয়েছেন। তবে সব বেগুন গাছগুলো কিন্তু একই ধরনের বেগুন গাছ নয়। এরমধ্যে দু-তিন প্রজাতির বেগুন গাছ ছিলো। যখন আমি ছবিগুলো তুলেছিলাম, তখন গাছগুলো ছোট ছিলো।
কিন্তু পরে শুনেছি একটা সময় সব গাছগুলোতে এতো বেগুন হয়েছিলো যে, বেশ কয়েকদিন মামাদের বাজার থেকে বেগুন কিনে আনতে হয়নি। ছাদের উপরে গাছের মধ্যে যদি বেগুন হয়ে থাকে, সেগুলো তুলে এনে রান্না করার মজাই কিন্তু আলাদা।
|
|---|
![]()
|
|---|
আজকাল ড্রাগন ফলের ভীষণ চাহিদা। ছোটো থেকে বড় অনেকেরই ভীষণ পছন্দের একটি ফল হল ড্রাগন ফল। মামা অনেকদিন আগেই ছাদেই ড্রাগন গাছ লাগিয়েছেন এবং আপনারা জানলে অবাক হবেন এই গাছে প্রচুর পরিমাণে ড্রাগন ফলও হয়েছিলো। আমাদের বাড়িতেও অনেক ড্রাগন ফল পাঠিয়েছিলো আমার শ্বশুর মশাই খুব ভালো খেতেন তাই।
প্রথম যেখানে গাছগুলো লাগিয়েছিলো সেই গাছটাই মূলত অনেকটা বড় হয়েছে। ছাদে একটা রুম আছে, তার ছাদের উপর যাতে গাছটা ভালো ভাবে ছড়াতে পারে তাই মামা বাঁশের সাথে গাছগুলিকে দড়ির সাহায্যে বেঁধে দিয়েছেন। যাতে সোজা উপরের ছাদে ছড়িয়ে যেতে পারে।
আর আপনারা দেখতেই পারছেন খুব সুন্দরভাবে সেগুলো ছাদের দিকে উঠেছে। আমার পক্ষে ছাদে গিয়ে উপরের ছবিটা তোলা সম্ভব হয়নি। যাইহোক ছাদে আরও দু একটা জায়গায় ছোটো ছোটো ড্রাগন গাছ লাগানো দেখলাম। তবে বুঝতে পারলাম না বড়ো গাছের ডাল থেকেই কেটে লাগানো কিনা।
মামাবাড়ির ছাদে সবথেকে যে গাছটি বেশি আছে সেটি হল লেবু গাছ। আর একেবারে অন্তিম পর্বেই আমি আপনাদের সাথে লেবু গাছ সম্পর্কে আলোচনা করবো। সেখানে শুধু পাতিলেবু বা গন্ধরাজ লেবু নয়, কমলালেবু এবং মৌসুমী লেবুও মামা লাগিয়েছিলেন।
সেগুলো সম্পর্কে পরবর্তী পোস্টে কথা বলবো, তার সাথে লেবু গাছের ছবিও অবশ্যই শেয়ার করবো। ততক্ষণ পর্যন্ত প্রত্যেকে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
আপনাদের সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজকের লেখা এখানে শেষ করছি। শুভরাত্রি।














