"তিতলির জন্মদিনের প্রস্তুতিপর্ব"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আজ সন্ধ্যার সময় আমি দিদির ফ্লাটে এসেছি। কারন আগামীকাল আমার দিদির মেয়ে তিতলির জন্মদিন। দেখতে দেখতে আরও একটা বছর পার হয়ে গেলো। গত বছরের কথা ভাবলেও যেন মনে হচ্ছে কয়েক দিন আগের কথা।
রাতের বেলা সারপ্রাইজ দেবো বলে পেস্ট্রি এনে রেখেছিলাম। অথচ তিতলি ঘুমিয়ে পড়েছিলো। বারোটার সময় ওকে এতোবার করে ডাকলাম, কিন্তু কোনোভাবেই ঘুম থেকে ওঠানো গেলো না। তাই সব সারপ্রাইজ নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো।
সেই গল্প গতবছরের এই দিনের পোস্টে শেয়ার করেছিলাম আপনাদের সাথে। যেন মনে হচ্ছে কয়েকদিন আগেই লেখাটা লিখেছিলাম, অথচ মাঝখানে অতিবাহিত হয়ে গেছে গোটা একটা বছর, ভাবতেই অবাক লাগছে।
![]()
|
|---|
গতকাল দিদির সাথে কথা হওয়ার পরে আবার তিতলি ও ফোন করেছিলো। তাই দুপুরের দিকে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সন্ধ্যায় দিদি বাড়িতে আসবো। সকাল থেকে আসলে ঠিক করতে পারছিলাম না, আজ আসবো নাকি আগামীকাল আসবো। তবে শেষ পর্যন্ত সময় সিদ্ধান্ত নিলাম আজই সন্ধ্যায় আসবো। তাই দুপুরে খাওয়ার পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে সন্ধ্যার একটু আগেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিলাম।
![]()
|
|---|
ওই সময় এলে আমাদের স্টেশন থেকে লোকাল ট্রেন পাবো এবং ট্রেনটা ফাঁকা হয়ে থাকবে, সেই কারণেই ওই সময় আসার সিদ্ধান্ত নিলাম। তৈরি হয়ে যখন স্টেশনে পৌঁছে দেখলাম, তখন ট্রেন প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে। তাই টিকিট কেটে সোজা মহিলা কামরায় গিয়ে বসলাম। সেখানে মানুষের ভিড় খুব একটা ছিলো না।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
তবে একটা স্টেশন পার করার পরে ভালোই ভিড় হলো। অবশেষে এসে নামলাম দমদম ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে। যেখানে ট্রেন থেকে নেমে আকাশের দিকে চোখ পরতেই দেখলাম কি অপূর্ব সুন্দর লাগছিলো আকাশের রঙটা। যাইহোক ওখানে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম, কারন দিদি ফোন করবে বলেছিলো। তবে মেট্রোতে থাকার কারণে নেটওয়ার্ক পাচ্ছিলাম না।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
কিছুক্ষণ বাদে দিদি ফোন করে বলল ওর আসতে আরো অনেকটা সময় লাগবে, সুতরাং আমি যেন বাড়িতে গিয়ে ওয়েট করি। তাই ওর ফ্ল্যাটে গেলাম। তাতান তখন ছাদে সাইকেল চালাচ্ছিলো, আর তিতলির গানের টিচার এসেছিলো। তাই আমি সোজা ছাদে গেলাম এবং তাতানের সাথে বেশ কিছুটা সময় কাটালাম। তাতান খুব ভালো সাইকেল চালানো শিখেছে, সেটাই আমাকে দেখাচ্ছিলো। তাই কিছু মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করলাম।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
কিছুক্ষণ বাদে দিদি ফোন করলো এবং তিতলি টিচার গেছেন কিনা সেটা জানতে চাইলো। তাই আমি নিচে এলাম। তিতলির টিচার তখনো ছিলেন, তাই দিদি বললো তাহলে ও বাড়িতেই আসছে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে তারপর মার্কেটে যাবে। সেইমত দিদির ঘরে এসে বেশ কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলো। একটু চা খেলো। তারপর তিতলির টিচার চলে যাওয়ার পর, আমরা সকলে মিলে মার্কেটে গেলাম।
![]()
|
|---|
তিতলির জন্য ড্রেস আমি কিনে নিয়ে এসেছিলাম। বাকি বেলুন, মোমবাতি, তিতলির পছন্দের টুকটাক কয়েকটা জিনিস, সর্বোপরি পেস্ট্রি আনার জন্য আমরা বেরিয়েছিলাম। মার্কেটে ঘুরে ঘুরে সেই সমস্ত জিনিস আমরা কিনলাম। অবশেষে মিওআমরোতে গিয়ে তিতলি আগামী কালকের জন্য একটা কেক পছন্দ করে নিলো। আর আজকে রাতের জন্য পেস্ট্রিও নিয়ে এসেছে।
![]()
|
|---|
তারপর সেখান দাড়িয়ে দুজন চিকেন বার্গার খেলো। তারপর আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে বাড়িতে ফিরলাম। রাতে সকলের জন্য ভাত রান্না হয়েছিলো তার সাথে ডাল, বেগুন ভাজা ও সয়াবিনের তরকারি ছিলো, তার ছবি আর তোলা হয়নি। কারণ সেই মুহূর্তে ফোনটা চার্জে বসানো ছিলো।
খাওয়া-দাওয়া শেষ হয়েছে কিছুক্ষণ আগে। তাতান তিতলি রুমের ভিতরে অপেক্ষা করছে। আর আমি সোফায় বসে আপনাদের সাথে পোস্টে লেখা শুরু করলাম। কারণ এরপর রাত বারোটার সময় শুরু হবে জন্মদিনের সেলিব্রেশন।
তারপর আগামীকাল সকালের দিকে দিদি ডিউটিতে বেরিয়ে যাবে, তারপর সারাদিন কি ভাবে কাটবে, আর কি কি আয়োজন করতে পারবো, সেই সবকিছু আপনাদের সাথে পরবর্তী পোস্টে অবশ্যই শেয়ার করবো।
আজকের পোস্টে শুধুমাত্র তিতলির জন্মদিনের প্রস্তুতি পর্ব টুকুই থাকলো। এটা পড়ে আপনাদের কেমন লাগলো, তা মন্তব্যের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না। আপনাদের সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করি। আপনারাও সকলে আশীর্বাদ করবেন তিতলি যেন খুব ভালো থাকে, যেন ভালো মানুষ হতে পারে।
শুভরাত্রি।











