"শিকড়ের টান : আমার গ্ৰামের প্রতি আমার অনুভূতি"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আজও সারাদিন বৃষ্টিমুখর আবহাওয়া ছিলো। সেই সকাল থেকে শুরু করে সারাটা দিনের বেশিরভাগ সময়, কখনো মুষলধারায় আবার কখনো টুপটাপ করে বৃষ্টি হয়ে চলেছে।
গতকালকের মতনই আজও সারাটা দিন একাই ছিলাম বাড়িতে। গতকালকের পোস্টেই আপনাদের সাথে ফাঁকা বাড়িতে থাকার অনুভূতি শেয়ার করেছিলাম। আজকে সারাটা দিনের অনুভূতিও প্রায় একই রকম ছিলো। তার মধ্যে আজ আবার আমার বড়দি ফোন করে জানালো, আগামীকাল গ্রামের বাড়িতে যেতে হবে।
কারণ আয়ুষ্মান কার্ড এর জন্য সকলের বাড়িতে ফর্ম দিয়ে গেছে। নিজের সকল ডকুমেন্টস এর জেরক্স কপি সহ, সেটা শনিবার দিন জমা করতে হবে। তাই মাঝে আজকের দিন এবং কালকের দিন রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ছিলো। বাড়িতে কাজের চাপ একটু বেশি ছিলো। তার উপরে দিনভর বৃষ্টি হয়েছে। যদিও দিদি সকালের দিকেই ফোন করেছিলো, কিন্তু তবুও আজ আর বাড়ি থেকে বেরোতে ইচ্ছে করেনি।
তাই দিদিকে বলেছি আগামীকাল যাবো। আপনারা অনেকেই জানেন, আমার বাবা আমার ছোটদির ফ্ল্যাটে থাকেন। যেহেতু আমার ছোট দিদি সরকারি চাকুরীজীবী, তাই আয়ুষ্মান কার্ডে ওর নাম নথিভুক্ত করা যাবে না। তাই আমি এবং বাবা দুজনে এই কার্ডের নাম নথিভুক্ত করাবো। এইজন্য আগামীকাল বাবাকেও যেতে হবে বড়দির শ্বশুর বাড়িতে।
জানিনা আগামীকালও এইরকম ভাবেই সারাদিন বৃষ্টি হবে কিনা। আসলে আগামীকাল অন্য একটা জায়গায় যাওয়ার কথা ভাবছিলাম। কারণ বাড়িতে বসে মনটা বড্ড খারাপ লাগছে। তবে সেই প্ল্যানটাও করা সম্ভব হলো না, যেহেতু আয়ুষ্মান কার্ডের ফর্ম জমা দেওয়াটা বেশি জরুরী। তাই অগত্যা কাল আমার ছুটতে হবে সেই গ্রামের বাড়িতে।
![]()
|
|---|
কখনো কখনো মনে হয় নিজের সমস্ত ডকুমেন্টসগুলো শ্বশুরবাড়ির ঠিকানায় ট্রান্সফার করে নিয়ে আসি। আবার কখনো কখনো ভাবি, বাপের বাড়ির সাথে তো শুধু ওইটুকুই সম্পর্কই রয়েছে বর্তমানে। যদি সেটাও না থাকে, আর হয়তো ওই গ্রামে যাওয়ার কোনো টান থাকবে না।
আসলে এমনটাই তো হয়, সময়ের সাথে সাথে তাদের সাথে যোগাযোগ থাকে না, যাদের সাথে একটা সময় সম্পর্ক গভীর ছিলো। পুরোনো দিনে যাদের সাথে বিভিন্ন রঙিন সময় কাটিয়েছি, একটা সময় সেই সব রঙ ফিকে হতে শুরু করে।
যেখানে আমরা আপন মানুষদের ছেড়ে থাকতে অভ্যস্ত হয়ে যাই, সেখানে গ্রামকে ভুলে থাকাটা কোনো বড় বিষয় নয়। আগে শিকড়ের টান কথাটা শুনলে অনেক সময় হেসেই উড়িয়ে দিতাম। কিন্তু আজ বুঝতে পারি এই টান কত গভীর, যা শব্দ দিয়ে ব্যাখ্যা করে অন্যকে বোঝানো যায় না। তা শুধুমাত্র নিজে অনুভব করা যায়।
যে গ্রামে জন্মানো, যে গ্রামে বেড়ে ওঠা, যে গ্রামে কেটেছে আমার জীবনের ২৪ টা বছর, আজ সেই গ্রামে যেতে গেলেই কখনো কখনো বিরক্তি কাজ করে মনের ভিতরে। আবার কখনো কখনো এমন টান অনুভূত হয়, যেন বর্তমানকে উপেক্ষা করেই অতীতের কাছে ফিরে যেতে চায় মন।
কিন্তু তেমনভাবে যেন আর ফেরা হয় না। কারণ নিজের প্রিয় মানুষগুলোকে হারিয়ে ফেলার পরে, শিকড়ের টান অনুভব হলেও ফাঁকা বাড়িতে গিয়ে যেন তাদের শূন্যতা বেশি ঘিরে ধরে। তবে হ্যাঁ মাঝেমধ্যে দূর থেকে বাড়িটাকে দেখতে, বা গ্রামের পুরনো মানুষগুলোর সঙ্গে দেখা হলে, তাদের সাথে কথা বলতে মন্দ লাগে না।
![]()
|
|---|
এই অনুভূতি শুধুমাত্র মেয়ে হলে অনুভব করা যাবে এমনটা নয়। কারণ আমাদের গ্রামেরই এমন বহু মেয়ে আছে যারা কিন্তু আজও ফিরে আসে তার বাবা-মায়ের কাছে। তাদের সেই পুরনো বাড়িতে। কিন্তু আমার গ্রামে ফিরে যাওয়ার উপায় থাকলেও, নিজের বাড়িতে, নিজের বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার আর কোনো উপায় নেই। তাই হয়তো আমার ক্ষেত্রে শিকড়ের টান হোক, কিংবা বিচ্ছেদের কষ্ট দুটো অনুভূতিই একটু অন্যরকমই।
যাইহোক, একটা না একটা সময় এই টান আরও বেশি অনুভূত হবে। যখন চাইলেও গ্রামে ফিরে যাওয়া হবে না। তখন এই শূন্য বাড়িটায় একা বসে বসে, গ্রামের ফেলে আসা স্মৃতি গুলো রোমন্থন করাই থাকবে একমাত্র কাজ। নিঃসঙ্গতা তখন আরও বেশি ভয়ঙ্কর হবে। প্রিয়জনের অভাব আরও বেশি অনুভূত হবে। নিজের শারীরিক অক্ষমতা আরও বেশি করে মানসিক অশান্তি দেবে আমায়।
ভালো থাকবেন সকলে। শুভ রাত্রি।



