"জন্মদিনের রাতের মুহুর্ত: তিতলির জন্মদিনটা এবছর এমন সাধারন ভাবেই কাটলো"

in Incredible India23 hours ago
IMG_20260820_201020.jpg
"রাতের বেলায় জন্মদিনের আয়োজন"

Hello,

Everyone,

তিতলির জন্মদিনের শেষ পর্বে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো, সন্ধ্যার পরে সময়টা আমরা কিভাবে কাটিয়েছিলাম তার গল্প। যেমনটা আগের পোস্টেই বললাম, দিদি সন্ধ্যার একটু আগেই চলে এসেছিলো। তারপর কিছুক্ষণ বেলুন ফুলিয়ে, আমরা রান্না ঘরে চলে গিয়েছিলাম।

রাতের বেলায় শুধুমাত্র গরম ভাত, চিংড়ি মাছের মালাইকারি এবং সরষে ইলিশ রান্না করেছিলাম। তার সাথে পাঁচ রকমের ভাজা তৈরি করা হয়েছিলো। যার মধ্যে ছিলো আলু ভাজা, কাঁকরোল ভাজা, ঢেঁড়স ভাজা, পটল ভাজা, আর কুমড়ো ভাজা। সাথে কেটে নেওয়া হয়েছিল একটু স্যালাডও।

IMG_20260820_192527.jpg
"জন্মদিনের স্পেশাল পায়েস তৈরীর মুহূর্ত"

মিষ্টি আগে থেকে ফ্রিজে আনাই ছিলো। জন্মদিনের স্পেশাল পায়েস দিদি নিজের হাতেই তৈরি করেছিলো। কারণ পায়েসটা ও বেশ ভালো রান্না করে। আর বাকি রান্নার দায়িত্ব নিয়েছিলাম আমি। দিদি এক দিকে পায়েস তৈরি করলো।

IMG_20260820_214316.jpg
"দিদির জন্য আলাদা ভাবে তৈরি নিরামিষ পনীর"

আর আমি দিদির জন্য আগে নিরামিষ ভাবে পনিরটা রান্না করে নিয়েছিলাম। কারণ আমার দিদি নিরামিষ খাবার খায়। তাই আমিষ খাবার গুলো তৈরি করার আগে, ওটা আলাদা করে তৈরি করে নিয়েছিলাম।

IMG_20260820_185949.jpg

IMG_20260820_182831.jpg

IMG_20260820_201006.jpg
"বেলুন দিয়ে সাজানো হয়েছিলো ডাইনিং রুমটা। সেখানে হয়েছিলো কেক কাটিং।"

পনির রান্না হতে হতেই চিংড়ি মাছ এবং ইলিশ মাছের জন্য প্রয়োজনীয় মসলা আমি তৈরি করে নিয়েছিলাম। তাই রান্না শেষ করতে খুব বেশি সময় লাগেনি। এই রান্না করার ফাঁকে ফাঁকেই আমি বাবাকে বলছিলাম, কোথায়, কিভাবে বেলুন লাগাতে হবে। আর সেই মতন বাবাও বেলুন গুলো লাগিয়ে নিচ্ছিলো। এইরকম ভাবেই দুই দিকে কাজ হচ্ছিলো।

IMG_20260820_200208.jpg
"কেকের উপর মোমবাতি দিয়ে সাজানো হয়েছে।"
IMG_20260820_200027.jpg
"তিতলি এই কেকটাই আগের দিন পছন্দ করে এসেছিলো"

কিছুক্ষণ বাদেই বাবা এবং দাদা দুজনে গিয়ে তিতলির পছন্দের কেকটাও নিয়ে এসেছিলো। যেটা আগের দিন সন্ধ্যাবেলায় পেস্ট্রি আনতে গিয়ে তিতলি পছন্দ করে রেখে এসেছিলো। আলাদা করে এইবারের জন্মদিনে কাউকে নিমন্ত্রণ করা না হলেও, এই দিন তিতলির দুজন টিচার ওকে পড়াতে আসেন, তাদেরকে আসতে আর বারণ করা হয়নি।

প্ল্যান হয়েছিলো ওনরা আসলে ওনাদেরকে সাথে নিয়েই জন্মদিনটা সেলিব্রেট করা হবে। তবে দুর্ভাগ্যবশত একজন ম্যাম আগেই ফোন করে জানিয়েছিলেন, ওনার ব্যক্তিগত কোনো সমস্যার জন্য উনি এদিন পড়াতে আসতে পারবেন না। তবে পরের যে ম্যাম আসার কথা ছিলো, প্রায় আটটা নাগাদ তিনি চলে এসেছিলেন।

IMG_20260820_200445.jpg
"ম্যাম ও ভাইয়ের সাথে তিতলি"
IMG_20260820_200401.jpg
"তিতলি ও তাতান"
IMG_20260820_200324.jpg
"সবকিছু সাজানো হয়ে যাওয়ার পর বেশ খুশি হয়েছিলো তিতলি।"

উনি জানতেন তিতলির জন্মদিন রয়েছে। কিন্তু যেহেতু দিদির ছুটি ছিলো না, তাই উনি ভেবেছিলেন হয়তো এদিন আর কোনো আয়োজন হবে না। সেই কারণে উনি পড়ানোর জন্য এসেছিলেন। কিন্তু এসে উনি অবাক হয়ে গিয়েছিলেন আয়োজন দেখে। যাইহোক জোর করে ওনাকে আটকে রাখা হলো, যাতে তিতলির সাথে জন্মদিন পালন করতে পারেন এবং স্মৃতি হিসেবে আমরা কিছু মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করতে পারি।

IMG_20260820_201322.jpg
"মোমবাতি জ্বালিয়ে দেওয়ার পর তোলা ছবি বেশ ভালো লাগছিল তখন আশপাশটা।"

IMG_20260820_202348.jpg

IMG_20260820_200750.jpg

IMG_20260820_200707.jpg

IMG_20260820_200616.jpg

"এবারের জন্মদিনে উপস্থিত সকলের সাথেই একটি করে মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করা হলো।"

রান্নার পর্ব শেষ হয়ে যাওয়ার পর সকলে মিলে তিতলির কেট কাটিং করে নিলাম। প্রথমে কেকটা বের করে সুন্দর ক্যান্ডেল দিয়ে সাজিয়ে নিয়েছিলাম। তারপর এক‌ এক করে সকলের সাথে ছবি তোলা হলো। ছবি তোলার কাজ সম্পন্ন করার পর, সারা হলো আশীর্বাদ পর্ব।

এই সমস্ত মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি এই কারণেই করা হয়, যাতে কোন বছরের জন্মদিনে কে কে উপস্থিত ছিলো। সেগুলো পরবর্তীতেও দেখা যায়। যাইহোক এরপর দিদি তিতলির ম্যামকে কেক, মিষ্টি, পায়েস সমস্ত কিছুই খেতে দিয়েছিলো। ম্যামকে ডিনার করার জন্য অনেক রিকোয়েস্ট করা হলেও, তিনি ডিনার করে যেতে রাজি হননি।

IMG_20260820_221438.jpg

IMG_20260820_221514.jpg

IMG_20260820_221424.jpg
"এবারের জন্মদিনে রাতেই তিতলিকে থালা সাজিয়ে খেতে দেওয়া হয়েছিলো।"

যাইহোক সবশেষে পাঁচ রকমের ভাজা হয়ে যাওয়ার পর, দিদিকে বললাম তিতলির জন্য খাবারগুলো সুন্দরভাবে বেড়ে নিতে। যাতে তারপরে অন্যদেরকে আমরা খেতে দিতে পারি। যার জন্মদিন তার জন্যই প্রথম আয়োজনটা সুন্দরভাবে করা উচিত।

আর তেমনটাই করা হলো। সমস্ত কিছু দিদি সুন্দর ভাবে বাটিতে এবং থালায় সাজিয়ে দিলো। তার সাথে দেওয়া হলো এক গ্লাস জল। তারপর তিতলিকে খেতে বসতে বলা হলো, আর সেই সময় কিছু ছবি তুললাম স্মৃতি হিসেবে রাখার জন্য।

IMG_20260820_225132.jpg
"কাজু, কিসমিস, খেজুর ও আমসত্ত্ব দিয়ে তৈরি কাঁচা আমের চাটনি"
IMG_20260820_220743.jpg
"সরষে ইলিশ"
IMG_20260820_214316.jpg
"নিরামিষ পনির"
IMG_20260820_214305.jpg
"চিংড়ি মাছের মালাইকারি"
IMG_20260820_225139.jpg
"পায়েস"

এদিন রাতের ডিনারটা তিতলি নিজের হাতেই করে নিয়েছিলো। তাতানকে দিদি খাইয়ে দিয়েছিলো। অন্যদিকে আমি বাবাকে এবং দাদাকে খেতে দিয়ে দিয়েছিলাম। বাকি ছিলো একজন কাকিমা,‌ আর আমি। শেষে দিদির তাতানকে খাওয়ানো হয়ে যাওয়ার পর, আমরা তিনজন মিলে একসাথে রাতের ডিনার শেষ করলাম। এই সমস্ত কিছু করে সবাই একটু করে পায়েস খেয়ে নিলাম।

তারপর বাসনপত্র মেজে ধুয়ে, রান্নাঘর পরিষ্কার করে, যখন আমরা রাতে শুতে গেলাম তখন ঘড়ির কাঁটায় প্রায় একটা।পরদিন সকালে উঠে দিদিকে আবার ডিউটিতে যেতে হবে। যদিও ওকে অনেকবার বললাম গিয়ে শুয়ে পড়তে, কিন্তু ওর শোনেনি। বাসনগুলো সব ও মেজেছিলো, আর আমি সব বাসন গুলো টেবিলের উপরে কাপড় পেতে জল ঝড়ার জন্য রেখে দিয়েছিলাম।

এই ভাবেই তিতলির জন্মদিনের সমস্ত আয়োজন শেষ হয়েছিলো। খুব কম মানুষ নিয়ে আয়োজন করলেও, ভালো কেটেছিল মুহূর্তগুলো। আর তিতলিও বেশ এনজয় করেছিলো। হ্যাঁ বেশি মানুষ আসলে হয়তো আরও ভালো লাগতো। তবে পরিস্থিতির কারণে সেটা এবার আর সম্ভব হয়নি। তবে আশাকরি আগামীবার আরও বড় করে আয়োজন করা সম্ভব হবে।

IMG_20260820_221524.jpg
"তিতলি রান্নায় বেশি ঝাল হলে খেতে পারে না। তবে একটা কাঁচা লঙ্কা হাতে নিয়ে, কি সুন্দর ছবিটা তুলেছে দেখুন।"

যাইহোক আপনাদের সাথে জন্মদিনের প্রতিটি মুহূর্ত শেয়ার করার চেষ্টা করলাম। আপনারা তিতলিকে আশীর্বাদ করবেন, ওর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা এবং ভালো মানুষ হয়ে ওঠার জন্য আপনাদের সকলের আশীর্বাদ একান্ত প্রার্থনীয়।

আপনারাও সকলে খুব ভালো থাকবেন। আশাকরি আপনাদের সকলের আজকের দিনটা ভালো কেটেছে এবং আগামী দিনগুলোও ভালো কাটুক, এই প্রার্থনা রইলো। শুভরাত্রি।

Sort:  
 12 hours ago 

What a beautiful and heartwarming ending to Titli’s birthday celebration! Even though the celebration was kept small, it was filled with so much love, family bonding, delicious homemade food, and precious memories.The dinner looks absolutely amazing, especially the mustard hilsa, prawn malai curry, vegetarian paneer, different kinds of fries, chutney, and the special homemade payesh. It was also very thoughtful to prepare a separate vegetarian dish for Didi and to make sure Titli was served first on her special day.I really loved how every little moment was captured in photographs—from decorating the dining room and cutting the cake to taking pictures with family members and her teacher. These photographs will surely become beautiful memories for Titli when she grows up.

May God bless Titli with good health, happiness, wisdom, and a beautiful future. May she always remain surrounded by the love and blessings of her family. The celebration may have been simple, but the love behind it made it truly special. Thank you for sharing these precious moments with us.

 11 hours ago (edited)
  • সময় নিয়ে আমার সম্পূর্ণ পোস্ট পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ‌ আপনাকে। তিতলির তরফ থেকেও আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, ওর জন্মদিনের প্রতিটি মুহূর্ত পড়ে এতো সুন্দর ভাবে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য।

  • একটা বয়সের পর প্রতিটি বাচ্চার জীবনে পরিবর্তন আসে, হয়তো তিতলির জীবনেও আসবে। একটা সময় বন্ধুদের সাথে জন্মদিন সেলিব্রেট করার আনন্দ ওর কাছে সব থেকে বেশি মনে হবে। তবে ছোটবেলার এই স্মৃতিগুলো পরিবারের বড়দের কাছে অমূল্য প্রাপ্তি। কারণ যুগের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে বাচ্চাদের একটা বয়সের পরে, কিভাবে যেন পরিবারের বড়দের থেকে কিছুটা হলেও দূরত্ব তৈরি হয়। হয়তো তারা সেটা বুঝতেও পারেনা।

  • আজ জীবনের এতোগুলো বছর পেরিয়ে এসে যখন ওদের এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলো সেলিব্রেট করি এবং ভবিষ্যতের কথা ভাবি, তখন অতীতের কথাও মনে পড়ে। হয়তো একটা বয়সের পর আমাদের বাবা মায়েরাও আমাদেরকে এইরকম ভাবে মিস করেছে, যেরকম ভাবে ভবিষ্যতে আমরাও তিতলি তাতানের এই মুহূর্তগুলো মিস করবো। যাইহোক অনেকগুলো কথা বলে ফেললাম। মন থেকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে এমন সুন্দর মন্তব্য করার জন্য। ভালো থাকবেন।

Loading...
image.webp
Curated By: muzack1