"হ্যাপি ভ্যালি পার্কে কাটানো একটা আনন্দময় সন্ধ্যার গল্প- দ্বিতীয় পর্ব"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
কেমন আছেন আপনারা সকলে?
গতকালকের পোস্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম সকলে মিলে একসাথে হ্যাপি ভ্যালি পার্কে ঘুরতে যাওয়া প্রথম পর্বের গল্প। আজকের পোস্টের মাধ্যমে পার্কের ভিতরে কাটানো কিছু সুন্দর মুহূর্ত শেয়ার করতে চলেছি। চলুন তাহলে শুরু করি,-
যেমনটা প্রথম পর্বেই জানিয়েছিলাম এর আগেও আমি দুবার হ্যাপি ভ্যালি পার্কে গিয়েছিলাম। তবে বাকি সকলের জন্য সেই দিন ছিলো প্রথমবার এই পার্ক দেখার অভিজ্ঞতা। ধীরাজ অর্থাৎ আমার ভাইপো শুরু থেকেই ভীষণ এক্সাইটেড ছিলো পার্কের ভিতর ঢোকার জন্য। তাই টিকিট কাটার পর গেটের সামনে মাত্র একটা ছবি তুলেই আমরা পার্কের ভেতরে প্রবেশ করলাম।
|
|---|
সন্ধ্যা তখন প্রায় হয়ে এসেছে। তাই প্রকৃতির আলোর সাথে সাথে পার্কের কৃত্রিম আলোগুলোও সেই মুহূর্তে জ্বলতে শুরু করেছিলো। তাই সম্পূর্ণ পরিবেশটাই দেখতে অন্যরকম লাগছিলো। বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ শীতকালে যে কোনো পার্ককে আরও বেশি সুন্দর করে তোলে। এই পার্কের ক্ষেত্রেও তেমনটাই ছিলো।
|
|---|
ছোট থেকে বড়, রকমারি ফুল ছিল সেখানে। বিভিন্ন প্রজাতির, বিভিন্ন রঙের ফুলে সম্পূর্ণ পার্ক ভরে ছিলো। এর পূর্বেও একবার ননদদের সাথে এই পার্কে গিয়ে ফুলের সৌন্দর্য্য উপভোগ করার সুযোগ হয়েছিলো।
পরবর্তীতে বান্ধবীরা মিলে গরমের সময় গিয়েছিলেন ওয়াটার পার্কে। সেই মুহূর্তগুলো আজও আপনাদের সাথে শেয়ার করা হয়ে ওঠেনি। তবে পরবর্তীতে সেগুলো এক এক করে শেয়ার করবো। সেও এক অপূর্ব আনন্দের অভিজ্ঞতা ছিলো।
![]()
|
|---|
যাইহোক কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার পর চোখে পড়লো গৌতম বুদ্ধের একটা সুন্দর মূর্তি। যার চারপাশটা ফুল দিয়ে সুন্দরভাবে সাজানো আছে। পথের দুধারে কাঠ দিয়ে বেড়া লাগানো আছে, যেখানে সুন্দর লাইটও লাগিয়ে রেখেছে। অবশ্য বেড়া দেওয়ার কারণও আছে, সম্পূর্ণ রাস্তার পাশে বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ। তাই বেড়া না দিলে চলতি পথে যে কোনো দর্শনার্থী ফুলগুলোর ক্ষতি করতে পারে।
![]()
|
|---|
তাই রাস্তায় বেড়ার এপারে দাঁড়িয়েই বুদ্ধ দেবের মূর্তিতে উপভোগ করলাম। বিশেষ করে আমার শাশুড়ি মায়ের ঐ মূর্তিটি ভীষণ ভালো লেগেছে। আরেকটু এগিয়েই চোখে পড়ল ওয়াটার পার্ক। যদিও বর্তমানে সেটা বন্ধ রয়েছে। সম্পূর্ণ শীতকাল এই ওয়াটার পার্ক বন্ধ থাকে। তবে গরম কালে মানুষের ভিড় সব থেকে বেশি হয় এই ওয়াটার পার্কের ভিতরেই।
![]()
|
|---|
আরও কিছুটা এগিয়ে যেতে চোখে পড়লো পার্কের ভিতরে থাকা ছোট্ট পুকুরটি, যেখানে বোটিং করারও ব্যবস্থা রয়েছে। সব থেকে অবাক ব্যাপার কি জানেন, আমার শাশুড়ি মা সবথেকে খুশি হয়েছিলেন পুকুরটা দেখে এবং আমার ভাইপোকে বারবার বলছিলেন বোটিং করার কথা। তবে প্রথমে ধীরাজ রাজি হয়নি। পরের গল্পটা না হয় পরেই বলবো।
|
|---|
এরপর আমরা আরও একটু এগিয়ে গেলাম সেখানে, যেখানে বিভিন্ন ধরনের পাখি রাখা আছে। সেখানে গিয়ে এক এক করে সব পাখি গুলো দেখলাম। টিয়া পাখি থেকে শুরু করে আরও বিভিন্ন ধরনের পাখি, পায়রা সব কিছুই রয়েছে সেখানে। তারপর ধিরাজ বেশ কিছুক্ষণ খেলাধুলা করলো। সেখানে বাচ্চাদের খেলার জন্য বেশ কিছু ব্যবস্থা রয়েছে, যার জন্য আলাদাভাবে টিকিট কাটার প্রয়োজন হয় না। তবে কিছু কিছু জায়গায় তো অবশ্যই টিকিট কেটে ঢুকতে হয়।
|
|---|
তবে এইসবের মধ্যে আমি ফুল দেখতেই ব্যস্ত ছিলাম। বিভিন্ন ধরনের ফুল দেখে মনটা দারুন খুশি হয়েছিলো। আমি আর বৌদি বেশ কিছুটা সময় ফুলেদের সৌন্দর্য্য দেখেই কাটালাম। সেই ফাঁকে বৌদি এবং নিজের ছবি তুলতেও ভুল করিনি। আসলে সেই মুহূর্তগুলোই এখন স্মৃতি। পরদিনই দাদারা মালদা ফিরে গিয়েছিলো। তাই আজ সেই ছবিগুলো দেখে ফেলে আসা মুহূর্তগুলোকে আরও একবার উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছি।
|
|---|
যাইহোক এরপর আরও কিছুটা এগিয়ে গিয়ে চোখে পড়লেও পার্কের নতুন তৈরি করা অংশটি। এর আগে আমি যখন গিয়েছিলাম তখন এই জায়গাটা সম্পূর্ণ ফাঁকা ছিলো। সেইখানটাও যে পরবর্তীতে পার্কের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে এবং আরও নতুন কিছু জিনিস তৈরি হবে, সেটা আসলেই জানা ছিল না। সেদিন গিয়েই সেটা সম্পর্কে জানতে পারলাম।
![]()
|
|---|
দূর থেকে চোখে পড়লো ইন্ডিয়া গেটের আদলে তৈরি করা একটি স্তম্ভ। বেশ কিছুটা হেঁটেই সেই পর্যন্ত যেতে হয়েছিলো। তবে যাওয়ার পর কেমন অভিজ্ঞতা হলো এবং কি কি দেখলাম সেই সম্পর্কে না হয় পরের পর্বে আপনাদেরকে জানাবো।
আজকের পর্ব এখানেই শেষ করছি। পরবর্তী পর্বে আরও আকর্ষণীয় একটি গল্প আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আশাকরছি সকলেই অপেক্ষা করবেন পরবর্তী পর্বের জন্য। প্রত্যেকের সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজকের লেখায় এখানেই শেষ করছি। সকলে ভালো থাকবেন।
শুভরাত্রি।

















Thank you for your support 🙏.