"অনেকদিন বাদে, পারিবারিক মুহুর্তের আনন্দ উপভোগের প্রথম পর্বের গল্প"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
কিছুক্ষণ আগে মোটামুটি বৃষ্টিতে ভিজেই বাড়িতে ফিরলাম আমি আর শুভ। আসলে মছলন্দপুর থেকে যখন ট্রেনে উঠেছি, তখন কোনো বৃষ্টি ছিলো না। তবে দত্তপুকুর স্টেশনে ঢোকার আগের স্টেশন থেকেই বৃষ্টি শুরু হলো।
তবে এতটা জোরে বৃষ্টি হবে সেটা সত্যি বুঝতে পারিনি। আমাদের সাথে একটাই ছাতা ছিলো, সেটা নিয়েই দুজনে মিলে হাঁটতে শুরু করেছিলাম। কারণ স্টেশনে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেছিলাম বটে, তবে বৃষ্টি কমার বদলে আরও বাড়ছিলো। তাই আর কতক্ষণ অপেক্ষা করবো ভেবে দুজনে মিলে হাঁটতে শুরু করলাম, তাই দুজনেই অল্প অল্প ভিজে গেছি।
যাইহোক আপনারা যারা আমার গতকালকের পোস্ট পড়েছেন সকলেই জানেন আমি গতকাল আমার বোনের বাড়িতে ছিলাম। গতকাল রাতে ঘুমই হয়নি বললেই চলে। খাওয়া-দাওয়া শেষ করে, নিজের পোস্ট লিখে, সেটা শেয়ার করার পর শুতে গিয়েছিলাম।
![]()
|
|---|
তবে কিছুক্ষণের মধ্যে কারেন্ট চলে গিয়েছিলো। সুতরাং গরমে একেবারে ঘুম আসেনি। ভোরের দিকে কারেন্ট এলে কিছুক্ষণ ঘুমিয়েছিলাম। তবে আবার কিছুক্ষণ বাদে কারেন্ট চলে গেলো,ফলতো তারপর আর তেমনভাবে ঘুম হয়নি।
যখন সকাল সাতটা বেজে দশ মিনিট, তখন বিছানায় ছেড়ে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিয়েছিলাম। যেহেতু দুপুরে সবার খাওয়ার আয়োজন করার আছে, তাই একটু সকাল থেকে কাজ শুরু করতে হবে। তাই ঘুম না হলেও শুয়ে থাকার আর উপায় ছিলো না।
![]()
|
|---|
তাই ফ্রেশ হওয়ার পর বোনের বানানো এক কাপ গরম গরম চা পান করেই সকালটা শুরু করেছিলাম। অনেকদিন বাদে আজ অন্য কেউ চা করে দিয়েছিলো, আর সেটা অনেকটা সময় নিয়ে বসে বসে উপভোগ করেছিলাম।
যেহেতু সকলে মিলে এক জায়গায় বসে গল্প করছিলাম, তাই যেন চায়ের আড্ডাটা জমে উঠেছিলো। আর আমাদের সাথে বসেই বোনের মেয়েও আড্ডা দিচ্ছিলো। তার সাথে নিজের বইটা নিয়ে মাঝেমধ্যে পড়ছিলো।
![]()
|
|---|
এরপর বোন সকালের খাবারের জন্য ডাল, ভাত, আলু সিদ্ধ ও ডিম ভাজা করে নিয়েছিলো। অন্যদিকে আমি দুপুরে রান্নার জন্য আদা, রসুন, পেঁয়াজ গুলো সুন্দর ভাবে কেটে নিয়েছিলাম। বাকি বিরিয়ানি মশলা তৈরীর কাজও করে নিয়েছিলাম।
আজকালকার দিনে সবকিছু কাটাটাই ঝামেলার মনে হয়, কারণ বাটাটা এখন আর কোনো সমস্যাই নয়। শুধু কারেন্ট থাকলেই হয়, মিক্সিতে কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই মসলা বাটার কাজ হয়ে যায়।
বোনের মেয়ে কিছুই খেতে চায় না। সারাদিন কোনো কান্নাকাটি নেই, কিন্তু শুধু খাওয়ার সময় সে কান্না শুরু করে। কোনো কিছু খেতেই সে পছন্দ করে না। আমার বোনের অনেক ধৈর্য্য। ও প্রতিদিনই নতুন নতুন কিছু করে দেয় মেয়ের জন্য। আমাদের সকলের জন্য ডিম ভাজতে দেখে, সেও বায়না জুড়লো ডিম ভাজা খাবে।
![]()
|
|---|
বোন ওর জন্য একটা ডিম ঝুরে করে ভাজা করেছে যাতে টুকরোগুলো মুখে দিলে সুন্দরভাবে খেতে পারে। প্রথমে তো ডিমের বাড়িটা দেখে খুবই খুশি হয়ে গিয়েছিলো। অনেক উৎসাহ নিয়ে প্রথমে এক দুই টুকরো মুখে দিয়েছিল ঠিকই, তারপর আর এতটুকুও খাইনি। বাটিতেই পড়েছিল ডিমটা আমিও চেষ্টা করলাম একটু খাওয়ানোর, কিন্তু ব্যর্থ হলাম।
![]()
|
|---|
অন্যদিকে কিছুক্ষণ বাদে আমার বোনের হাজবেন্ড এবং শুভ দুজনে মিলে মাংসের দোকানে গিয়ে, সেখান থেকে চিকেন কিনে নিয়ে এসেছিলো। আসলে আমরা যারা এক জায়গায় হয়েছিলাম, তাদের মধ্যে বেশিরভাগ বোনেরাই মটন খায় না। তাই চিকেন বিরিয়ানির ব্যবস্থা করা হয়েছিলো।
এরপর চিকেন গুলো ভালো করে ধুয়ে তার মধ্যে লবণ, হলুদ মাখিয়ে রেখে দিয়েছিলাম। তার সাথে সাথে বোন আলু গুলোও কেটে নিয়েছিলো। যেহেতু বিরিয়ানিতে দেওয়া হবে তাই আলুগুলো একটু বড় করেই কাটা হয়েছে।
![]()
|
|---|
এর কিছুক্ষণ বাদে আমার মামী ও মামার মেয়ে চলে গিয়েছিলো। ওদের ট্রেন লেট থাকায় যেতে কিছুটা দেরি হয়েছিলো। তাই যাওয়ার পর সকালের খাবার খেয়েই মামী কাজে নেমে পড়েছিলো। কারণ আজ সম্পূর্ণ বিরিয়ানি রান্নার দায়িত্ব ছিলো মামীর উপরে। আমরা শুধু মামিকে সমস্ত কিছু জোগাড় করে হেল্প করেছিলাম।
পেঁয়াজ যদিও আগেই কাটা হয়ে গিয়েছিলো, তবে মামীকে না দেখে বেরেস্তা কতটা পরিমাণ ভাজবো তা আন্দাজ করতে পারছিলাম না।
![]()
|
|---|
এই কারণে মামীকে দেখিয়েই আমি ঘরে বেরেস্তা ভাজা শুরু করলাম। কারণ তারপর গ্যাস সিলিন্ডারটা বাইরে এনে বড় গ্যাস ওভেন ধরাতে হবে, যেহেতু প্রায় চার কেজি চালের বিরিয়ানি হবে, তাই ছোটো ওভেনে রান্না করা সম্ভব ছিলো না।
মামিকে প্রয়োজনীয় সবকিছু কাছাকাছি এনে দিয়েছিলাম, যাতে মামী সবকিছুই হাতের কাছে পেতে পারে। তারপর আমার বোন চালগুলোকেও ভালো ভাবে ধুয়ে ভিজিয়ে রেখেছিলো। আমরা পাশে বসেই গল্প করছিলাম।
এরপর বাকি রান্নাটা ও বাকি দিনটা কিভাবে কাটালাম, তা পরবর্তী পর্বে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। একটা পোস্টে বাকি দিনের সমস্ত গল্প শেয়ার করলে, লেখাটা অনেক বড়ো হয়ে যাবে। তাই আজ এই পর্যন্তই থাক।
এতোদূর পর্যন্ত পড়ে আপনাদের কেমন লাগলো, মন্তব্যের মাধ্যমে তা জানাতে ভুলবেন না।
ভালো থাকবেন সকলে। শুভরাত্রি।
TEAM 5








