"জন্মদিনের ছোট্ট আয়োজন"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
গতকাল সারাদিন বৃষ্টি হয়েছে এ কথা আমি আমার গতকালকের পোস্টেই শেয়ার করেছি। এমনকি আজ সকালে কিছু সময়ের জন্য আকাশ পরিষ্কার হলেও, দুপুরের পর থেকে আবার একই রকম বৃষ্টির শুরু হয়েছে।
যাইহোক গতকাল দিদি বাড়িতে যাওয়ার প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো দাদাকে নিয়ে ডক্টরের চেম্বারে যাওয়া। এটা যদি না হতো তাহলে হয়তো বৃষ্টির মধ্যে গতকাল আমি বাড়ি থেকে কিছুতেই বেরোতাম না। দিদি বাড়িতে পৌঁছেছিলাম প্রায় অর্ধেক ভিজে। তাই সেখানে গিয়ে ড্রেস চেঞ্জ করে, দাদাকে নিয়ে ফ্ল্যাটের নিচে নামলাম। গাড়ি বুক করা হয়েছিলো সুতরাং আর ভেজার সম্ভাবনা ছিলো না। কিছু সময়ের মধ্যে আমরা চেম্বারে পৌঁছে গিয়েছিলাম।
![]()
|
|---|
দিদি আমাদের আগে এসে পৌঁছেছিলো এবং সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছিলাম। কারণ ডাক্তারবাবুর গতকালকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ক্যানসেল হয়েছে। তবে তিনি দিদির সাথে যোগাযোগ করেছেন এবং হোয়াটসঅ্যাপে দাদার ইইজি রিপোর্টটা পাঠিয়ে দিতে বলেছিলেন। এটাই যদি আগে বলতেন তাহলে এই বৃষ্টির মধ্যে আমাদের সকলকে কষ্ট করতে হতো না। তবে কিছু করার নেই। যাইহোক আমরা আবার বাড়ির পথ ধরলাম।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
গতকাল দাদার জন্মদিনও ছিলো। তবে তেমন আয়োজন কিছুই হয়নি। শুধু ঠিক হয়েছিলো দাদা জন্মদিনের দিন তুলসীর মালা ধারণ করবে। তাই ঢোকার আগে একটা কেক নিয়ে আসা হয়েছিলো। আর বাড়িতে এসে দিদি অল্প পায়েস রান্না করেছিলো। কেকটা আনা হয়েছিলো, মূলত তিতলি ও তাতনের বায়নার কারনেই।
যাইহোক বাড়িতে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে সকলে মিলে লাঞ্চ করে নিলাম। তারপর একটু শুয়ে পড়েছিলাম। আর কখনো ঘুমিয়ে গিয়েছে বুঝতে পারিনি। গতকাল তাতান স্কুলে যায়নি তবে তিতলি স্কুলে গিয়েছিলো। ও ফেরার পর আমরা ঘুম থেকে উঠে কিছুটা সময় কাটালাম। অন্য দিকে দিদি পায়েস বসিয়ে দিয়েছিলো। তারপর দাদাকে নিয়ে গিয়েছিল তুলসী মালা পরানোর জন্য।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
তিতলি ও তাতানো চিকেন ভর্তা খাওয়ার বায়না করছিলো। কিন্তু গতকাল আমার একেবারেই রান্না করতে ইচ্ছে করছিলো না। যদিও ফ্রীজে চিকেন রাখাই ছিলো। বাকি উপকরণ গুলোও ঘরেই ছিলো। যে মেয়েটা দিদির বাড়িতে রান্না করে, তাকে দিয়ে মশলা সবই তৈরি করিয়ে রাখলাম। এমনকি চিকেনটা সেদ্ধ করে, ছাড়িয়ে দিয়েছিলো ঐ দিদিই। তারপর সাড়ে আটটার দিকে গিয়ে চিকেন ভর্তা রান্না করলাম।
রুটি অবশ্য ওই দিদিই তৈরি করলো। দিদির জন্য যেহেতু নিরামিষ করতেই হবে। তাই ওই মসলার থেকে নিরামিষ মসলাগুলো আলাদা রেখে, একটু পনীর ভর্তা করে দিয়েছিলাম। ভর্তার সাথে রুমালি রুটি খেতে আমি এবং তিতলি ভীষণ পছন্দ করি। তাই বাবা গিয়ে আমাদের জন্য রুমালি রুটিই নিয়ে এসেছিলো। বাকি সকলে বাড়িতে তৈরি রুটিই খেয়েছিলো। ইতিমধ্যে দিদি ও জামাইবাবু বাড়িতে ফিরে এসেছিলো।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
এতোকিছুর মধ্যে আমাদের কেক কাটার বিষয়টি মাথা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলো। তবে তিতলি তাতানের তা মনে ছিলো। ঘড়িতে নটার বেশি বেজে গেছে দেখে রান্নাঘরে এসে তারাই জিজ্ঞেস করলো, কেকটা কি রাত বারোটায় কাটা হবে?যাইহোক পায়েস রান্না হয়ে গিয়েছিলো। তাই একটা বাটিতে সেটা বেড়ে নিয়ে, কেকটা কেটে নেওয়া হলো।
যারা উপস্থিত ছিলেন সকলে মিলে দু চারটে ছবি তুললাম, স্মৃতি হিসেবে রাখার জন্য। এই বছর দাদার 48 বছর হয়ে গেলো। রান্না ঘরে কাজ করার সময় আমি আর দিদি আলোচনা করছিলাম তিন বছর আগে সেই কঠিন সময় নিয়ে। যখন আমরা প্রায় দাদাকে হারিয়ে ফেলেছিলাম।
![]()
|
|---|
সেদিন দাঁড়িয়ে এইরকম দিন কখনো কাটাতে পারবো সেই আশাই ছিলো না দিদির মনে। সত্যি সেই কঠিন সময়ের কথাগুলো মনে পড়লে আজও ভেতর থেকে ভয় অনুভব করি। যাইহোক যখন সেই খারাপ সময় কাটিয়ে উঠতে পেরেছি, আশাকরি আগামী দিনে অমন কঠিন সময় দিদির বা দিদির হাসবেন্ড কারোরই দেখতে হবে না।
ঈশ্বর ভালো রাখুক জামাইবাবুকে, সুস্থ রাখুক আজীবন জন্মদিনের দিন এইটুকুই প্রার্থনা আমাদের সকলের। শেষমেষ আমার বাবাই আশীর্বাদ করে দাদাকে একটু পায়েস খাইয়ে দিলো। কারণ গতকাল অন্য কেউ ছিলো না, দাদার থেকে বড়। সবমিলিয়ে একটা সুন্দর সন্ধ্যা কাটানো হয়েছে, দাদার জন্মদিনকে কেন্দ্র করে। তারই কিছু মুহূর্ত শেয়ার করলাম আপনাদের সাথে।
আপনারাও প্রার্থনা করবেন আমার দিদির হাসবেন্ড এবং পরিবারের সকলে যেন সুস্থ থাকে। আর আপনারাও ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, এই প্রার্থনা করে আজকের লেখা শেষ করছি।
শুভরাত্রি।











