"কলকাতার গলিপথ অতিক্রম করে, আরও একবার পৌঁছালাম ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল"

in Incredible Indiayesterday
IMG_20251226_111449.jpg
"উল্টোদিক থেকে তোলা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এর ছবি

Hello,

Everyone,

কেমন আছেন আপনারা সকলে?
আমার গতকালের পোস্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম কিভাবে আমরা ডক্টরের চেম্বার থেকে বেরিয়ে, নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী খাবার খেয়ে ব্রেকফাস্ট শেষ করে ছিলাম।

এরপর সেখানকার বিল মিটিয়ে আমরা কলকাতার গলিপথ ধরে হাঁটতে শুরু করেছিলাম। সত্যি কথা বলতে কলকাতার রাস্তা গুলো আমার কাছে একই রকম লাগে। তবে যেহেতু দিদির সেটা পরিচিত পথ, প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়, তাই ওর জন্য পথ চিনে নেওয়া খুব সহজ একটি বিষয়।

যাইহোক গলিপথ ধরে আমরা পাঁচজন মিলে হাঁটতে শুরু করেছিলাম ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের উদ্দেশ্যে। তবে যেহেতু তার কয়েকদিন আগেই আমি আমার বান্ধবী ও তার পরিবারের সাথে ভিক্টোরিয়া ঘুরে এসেছিলাম। যার অভিজ্ঞতা ইতিমধ্যেই আমি আপনাদের সাথে পোস্টের মাধ্যমে শেয়ার করেছি, তাই এদিন আমি আর ভিক্টোরিয়ার যাদুঘর দেখতে যাবো না ঠিক করেছিলাম।

IMG_20251226_105604.jpg
"বেশ কিছু মানুষের ভিড় উল্টোদিকের গেটেও ছিলো"
IMG_20251226_110838.jpg
"শুধুমাত্র বাগানে প্রবেশের টিকিট"

তবে একা রাস্তায় কতক্ষণ ওয়েট করবো, সেই কারণে দাদা আমার জন্য ৩০ টাকার একটা টিকিট কেটেছিলো, যেটা দিয়ে আমি ভিক্টোরিয়ার বাগানে প্রবেশ করেছিলাম এবং সেখানেই অপেক্ষা করেছিলাম‌ দিদিদের জন্য।

IMG_20251226_105727.jpg
"মা ও মেয়ে (আমার দিদি ও তিতলি) "
IMG_20251226_110643.jpg
"উল্টোদিকের প্রবেশ পথ"

দাদা যতক্ষণ টিকিট কাটতে গিয়েছিলো, ততক্ষণ আমি তিতলি ও দিদির একটা ছবি তুললাম। সত্যি কথা বলতে তাতান ছবি তুলতে খুব একটা পছন্দ করে না। যাইহোক আগের বার আমরা যে পথে প্রবেশ করেছিলাম, এবার ঠিক তার উল্টো দিকের গেট দিয়ে প্রবেশ করেছিলাম।

যদিও আমি জানতাম না এই পথ দিয়েও প্রবেশ করা যায়। তবে এই দিকের রাস্তাটা দিদির হসপিটালের একেবারেই কাছাকাছি, তাই সেই পথটাই আমরা বেছে নিয়েছিলাম।

IMG_20251226_110850.jpg
"তাতান পুকুরটা দেখে খুব খুশি হয়েছিলো"

পিছন দিক থেকেও ভিক্টোরিয়ার সৌন্দর্য্য উপভোগ করার সুযোগ হয়েছিলো সেদিন। যাইহোক ঢোকার পথেই বেশ কিছু ছবি তুললাম। হঠাৎ করে তাতানের চোখে একটা পুকুর পড়তেই ও বললো,-"আমি মাছ দেখবো।" ওর ধারণা পুকুর মানেই তাতে মাছ থাকবেই।

IMG_20251226_121916.jpg
"দুই ভাইবোন গাছে উঠে খুব খুশি হয়েছিলো সেদিন"
IMG_20251226_121720.jpg
"ভিক্টোরিয়ার সামনে অনেক বাচ্চাই খেলছিলো"

যাইহোক এরপর আমি ভিক্টোরিয়ার বাগানের একটা নির্দিষ্ট জায়গায় বসলাম, যাতে দিদিরা যাদুঘর দেখে ফেরার পর আমাকে সহজেই খুঁজে পায়। এরপর ওরা বেড়িয়ে এলে‌ ওদের কয়েকটা ছবি তুলে দিলাম। ওখানকার গাছ গুলো এতো নীচু ছিলো যে, তিতলি ও তাতান সেখানে উঠে অনেক মজা করেছিলো সেদিন।

ওদের জন্য বেশ কিছুক্ষণ আমরাও ওখানেই‌ বসলাম। যাতে দুজন মিলে একটু খেলা করতে পারে। ওরা বেশ কিছুক্ষণ খেলাধূলা করার‌ পর আমরা আবার হাঁটতে হাঁটতে যেন গেটের দিকে হাঁটতে শুরু করলাম।

IMG_20251226_111927.jpg
"দিদিরা সকলে একত্রে"
IMG_20251226_122418.jpg
"পরিবার"
IMG_20251226_021444.jpg
"তিতলি"
IMG_20251226_122611.jpg
"দিদি,তিতলি ও আমি"

ভিক্টোরিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে কয়েকটা ছবি তুললাম আমরা। সেদিন বেশ‌‌ ভালো রোদ্দুর উঠেছিলো। ওখানকার বাগানে লাগানো ফুল গাছগুলো তখনও বড়ো হয়নি। তবে সকলেই সেখানে নিজেদের মতো সময় কাটাচ্ছিলেন।

IMG_20251226_022057.jpg
"বাগানে ফুলগাছ গুলো তখনও বেশ ছোটো ছিলো"
IMG_20251226_123118.jpg
"মেন গেটের সামনে থেকে তোলা ছবি"
IMG_20251226_123215.jpg
"মেন গেটের বাইরে মানুষের ভিড়"

ভিক্টোরিয়ার মেন গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আরেকটা ছবি তুলে দিলাম ওদের। তারপর আমরা গেট দিয়ে বেড়িয়ে এলাম। মেন গেটে তখন মানুষের প্রচন্ড ভীড়। দলে দলে মানুষ ঢুকছে ভিক্টোরিয়া দর্শন করতে।

যাইহোক এদিন প্রথমেই আমরা ভিক্টোরিয়ায় গিয়েছিলাম। তবে ‌পূর্বে‌ যেহেতু আমার যাদুঘর দেখা হয়ে গিয়েছিলো, তাই এদিন বেশি সময় কাটিয়েছিলাম ওখানকার বাগানে, যেখানকার সৌন্দর্য্যও নেহাৎ কম নয়।

এরপর ওখান থেকে বেরিয়ে আমার পায়ে‌ হেঁটে পৌঁছালাম বিড়লা প্ল্যানেটরিয়াম বা‌ বিড়লা তারামন্ডলে‌। সেখানে ঘোরার অভিজ্ঞতা আমি পরবর্তী পর্বে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আজকের পোস্ট এখানেই শেষ করছি।‌ ভালো থাকবেন সকলে। শুভরাত্রি।