"শশুর মশাইয়ের শেষ ইচ্ছে পূরণের জন্য বাড়িতে নাম কীর্তনের আয়োজন"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।
গতকালের পোস্টে আপনাদেরকে জানিয়েছিলাম শুক্রবার আমাদের বাড়িতে নাম কীর্তনের আয়োজন করা হয়েছিলো। আয়োজনের পিছনের কারণটা আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আমার শ্বশুর মশাইয়ের বাবার মৃত্যুবার্ষিকী তিনি কখনোই তেমন ভাবে পালন করতে পারেননি।
এর আগে কখনো তেমন ইচ্ছে প্রকাশও করেননি। তবে গত বছর তিনি চেয়েছিলেন ওনার বাবার মৃত্যু দিবসে আমাদের বাড়িতে নাম কীর্তন অনুষ্ঠান দেওয়া হবে। তেমন ভাবেই প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিলো।
বয়সের সাথে সাথে বোধহয় আমাদের প্রত্যেকেরই জীবন সম্পর্কে এক অন্যরকম উপলব্ধি হয়। নিজেরা যখন বার্ধক্য প্রবেশ করি, তখন বাবা-মায়ের গুরুত্ব আরও বেশি করে বোধহয় উপলব্ধি করা যায়। তাই তাদের জন্য সবকিছু করে উঠতে না পারার আফসোস আরও বেশি করে অনুভূত হয়। আমার শশুর মশাইয়ের ক্ষেত্রেও তেমনটাই হচ্ছিলো।
![]()
|
|---|
কারণ এর আগে কখনো তিনি এই দিনটা পালন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি। তাই যেহেতু তিনি নিজেও অসুস্থ ছিলেন এবং চাইছিলেন এই দিনটা নাম কীর্তনের মাধ্যমে কাটাতে, তাই আমরাও সকলে মত দিয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় সেই সময় শুভর জেঠিমা অর্থাৎ শ্বশুর মশায়ের বৌদি মারা যান।
একই পরিবারের কোনো মানুষ মারা গেলে সেই অশৌচ পালন করার নিয়ম রয়েছে আমাদের মধ্যে। আর শ্বশুর মশাইয়ের বাবার মৃত্যুবার্ষিকী সেই দিনগুলোর মধ্যেই পরেছিলো। ফলতো আর সেদিন বাড়িতে নাম কীর্তন দেওয়া সম্ভব হয়নি।
এরপর আমরা ভেবেছিলাম আসছে বছর ঐদিনে নাম কীর্তন দেওয়া হবে। কিন্তু এর মধ্যে যে ওনার শারীরিক অবস্থা এতোটা অবনতি হবে, সেটা কেউই ভাবতে পারিনি। তাই সকলে মিলে ঠিক করেছিলাম অন্ততপক্ষে বাড়িতে নাম কীর্তন দেওয়ার ইচ্ছাটা পূরণ করা যাক। বলতে পারেন সেই জায়গা থেকেই এমন তাড়াহুড়ো করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো।
![]()
|
|---|
আমাদের পরিচিত একজনকেই বলা হয়েছিলো বিষয়টি অ্যারেঞ্জ করার জন্য। তাই তিনি নাম কীর্তন করেন এমন দলের সাথে কথা বলে সম্পূর্ণ আয়োজনটা করেছিলেন। শশুর মশাইয়ের শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট খারাপ। হয়তো এদিন আমাদের বাড়িতে নাম কীর্তন হয়েছে সেটা তিনি ভালোভাবে বুঝতেও পারেননি। কিন্তু কোথাও না কোথাও নিজেদের একটা আফসোসের জায়গা রাখতে চাইনি যে, ওনার শেষ ইচ্ছাটা আমরা পূরণ করতে পারিনি।
সেই কারণেই সকলে মিলিতভাবে এই নাম কীর্তনটা আয়োজন করেছিলাম। তেমন কোনো ব্যবস্থা করতে না পারলেও, যারা এসেছিলেন তাদের জন্য লুচি, ছোলার ডাল, আর পায়েস করা হয়েছিলো। ঠাকুরের সামনে প্রসাদ হিসেবে ফল, মিষ্টি দেওয়া হয়েছিলো, আয়োজন বলতে শুধু এতোটুকুই করেছিলাম।
![]()
|
|---|
যে কয়েকজন এসেছিলেন গান করতে, তারা সত্যিই খুব ভালো গান করেছিলেন। উপস্থিত সকলেই তা খুব ভালোভাবে উপভোগ করেছে। রান্নার দিকটা আমি যেহেতু সামলে ছিলাম, তাই পূজোর সমস্ত কিছু জোগার করেছিলেন শাশুড়ি মা। ওনার সাথে শুভর মাসি এবং দিদিও সাহায্য করেছিলো। কাজের মাঝখান থেকে তেমন ভাবে আর ছবি তোলা হয়নি। তবে শুভকে বলে কয়েকটা ছবি আমি তুলিয়ে রেখেছিলাম, যাতে আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পারি।
তাড়াহুড়ো করে আয়োজন করা হলেও সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটা খুব সুন্দর ছিলো। আর সত্যি কথা বলতে শ্বশুরমশাইয়ের এই শেষ ইচ্ছাটা পূরণ করতে পেরে আমাদের নিজেদেরও বেশ ভালো লাগছিলো। হয়তো আমাদের মতন উনি অনুষ্ঠানটা বুঝতে পারেননি, তবে ঈশ্বরের নাম সুস্থ অসুস্থ প্রত্যেকেরই শোনা উচিত। এমন কি সেদিন ওনাকে কিছুক্ষণ ধরে বসানোও হয়েছিলো, হয়তো কিছুটা উনি বুঝতেও পেরেছেন, আবার হয়তো নয়।
![]()
|
|---|
সত্যি কথা বলতে আমাদের জীবন কতদিনের তা আমরা কেউই বলতে পারিনা। এই কারণেই বোধহয় সকলে বলে আগামী কালের জন্য কোনো কিছু ফেলে রাখা উচিত না। সম্ভব হলে প্রতিটা দিন বাঁচা উচিত এবং ইচ্ছে পূরণ করা উচিত। তবে জীবনের খাতিরে আমরা এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়ি যে, এই আসল সত্যিটা ভুলে যাই তাই আর এমন ভাবে জীবন যাপন করা হয়ে ওঠে না।
যাইহোক শ্বশুর মশাইয়ের জন্য ওনার শেষ দিনগুলোতে এমন একটা আয়োজন করতে পেরে ভালো লাগলো। আশাকরি ঈশ্বর খুব তাড়াতাড়ি ওনাকে সকল কষ্ট থেকে মুক্ত করবেন। এই একই প্রার্থনা আপনারাও সকলে করবেন, আশাকরি আপনাদের সকলের সামান্য প্রার্থনায় আমার শশুর মশাইয়ের শারীরিক কষ্ট দূর হবে, তিনি ঈশ্বরের কাছে পরম আশ্রয় পাবেন।
ভালো থাকবেন আপনারা সকলে। শুভরাত্রি।







TEAM 7
Congratulations! Your post has been upvoted from sc-09 account.