"নির্ঘুম রাত"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
ঘড়িতে এখন সকাল ৫.৫৮ মিনিট। দুচোখের পাতা যেন আর খুলে রাখতে পারছি না। ঘুমে দুচোখ বন্ধ হয়ে আসছে, কিন্তু ঘুমানোর উপায় নেই। তাই তো ফোনটা হাতে নিয়ে বসলাম পোস্ট লিখতে, কিংবা বলতে পারেন নিজের মনটা একটু অন্যদিকে ঘোরানোর প্রচেষ্টায় ফোন হাতে নিলাম।
সন্ধ্যা থেকে এখনও পর্যন্ত শুধু ফোন হাতে নিয়েছি সকলকে শশুর মশাইয়ের শারীরিক অবস্থার কথা জানাতে। কখনো কেউ হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কল করে ওনাকে দেখতে চেয়েছে, আবার কখনো কেউ ফোন করে খবর জানতে চেয়েছে।
সন্ধ্যার একটু পর থেকেই শশুর মশাই যে কষ্ট পাচ্ছেন, তাতে আমরা যে এখনও পর্যন্ত ওনাকে সামনে বসে দেখতে পারবো তা সত্যিই ভাবিনি। বরং উল্টোটাই ভাবছিলাম। প্রাণটা যেকোনো মুহূর্তে বেড়িয়ে যেতে পারে, সেই আলোচনাতেই সম্পূর্ণ রাত কেটেছে আমাদের।
কি যে অসহ্য যন্ত্রণা তিনি শারীরিক ভাবে পেয়েছেন, বা এখনও পেয়ে চলেছেন তা অবর্ণনীয়। আর তার সাথে সমান ভাবে বেড়ে চলেছে আমাদের মানসিক যন্ত্রণাও। গত বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। নিয়মিত চিকিৎসা চলছে ঠিকই, তবে গত এক সপ্তাহ যাবৎ অসুস্থতা একেবারেই অন্যরকম। দিন-রাত, সকাল-বিকাল কোনো কিছুরই হিসেব নেই তার।
অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা বলেই চলেছে। ঠিকভাবে কাউকে চিনতে পারছেন না, তবে মাঝে মধ্যে যখন তার তীব্র যন্ত্রণা হচ্ছে তখন আরও বেশি জেদি হয়ে উঠছেন। কোনোরকম ভাবেই তাকে ধরে রাখা যাচ্ছে না। হাতে পায়ে বিন্দুমাত্র শক্তি আর অবশিষ্ট নেই তার, কিন্তু সে কথা ওনাকে বোঝানোর মতো মানসিক পরিস্থিতিতেও তিনি এখন নেই।
গতকাল রাতে আমরা সকলেই মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে নিয়েছিলাম যে, তিনি আমাদের সকলের মায়া ত্যাগ করে পরলোকে গমন করবেন। ঠিক এতটাই খারাপ পরিস্থিতি হয়েছিলো। কিন্তু এখন আবারও তিনি সেই একইরকম অপ্রাসঙ্গিক কথা বলছেন ।
এইভাবে সম্পূর্ণ রাত আমরা জেগে কাটালাম শুধু ওনাকে নিয়ে। খুব সত্যি কথা বলতে রাতটা কিভাব পার হলো যদি জিজ্ঞাস করেন বলে বোঝাতে পারবো না। তবে প্রতিটা মুহূর্তে একজন খুব কাছের মানুষকে সারা জীবনের মতো হারিয়ে ফেলার ভয়ে প্রহর কেটেছে আমাদের।
![]()
|
|---|
তবে এইমাত্র সূর্যোদয় দেখে মনে হলো যেন আরও কিছু সময় বাকি আছে। বাড়ির সকলেই জেগে কাটিয়েছে সম্পূর্ণ রাত। শুভ আজ অফিসে যাবে না। আসলে সারারাত জেগে আছে। তারপর আবার শশুর মশাইয়ের কি অবস্থা হয় সেটাও ভাবছে। তাই সকাল থেকে আজ আর রান্নার তোরজোড় নেই, এই যা।
এই লড়াইটা বোধহয় ততদিন পর্যন্ত চলবে, যতদিন পর্যন্ত শশুর মশায়ের এইরকম শারীরিক অবস্থা থাকবে। আমরা জানি মৃত্যু আমাদের প্রত্যেকের জীবনে আসবে, তবে কখন কিভাবে তা আমরা কেউই জানিনা। আর এই অজানা ভয়টাই আমাদের প্রত্যেকের মনে বাসা হচ্ছে একটু একটু করে।
সত্যি বলতে গতকাল রাতে মৃত্যু যন্ত্রণা কতটা ভয়ংকর হয় তা চোখের সামনে দেখলাম। এরপূর্বে আমি আমার পরিচিত কাউকে এই রকম ভাবে যন্ত্রণা পেতে দেখিনি। এতো যন্ত্রণা পাওয়া সত্ত্বেও কিন্তু মৃত্যু ধরা দেয় না। হয়তো আরও অনেক যন্ত্রনা ভোগ করে তবে মুক্তি মিলবে ওনার।
তবে সত্যি বলতে আমরা মনে প্রানে ঈশ্বরকে ডেকেছি যেন তিনি ওনাকে মুক্তি দেন। তবে আমরা যতই ডাকি না কেন আমাদের প্রত্যেকের ভাগ্যে তিনি যা লিখে রেখেছেন, তাতে যতটুকু সুখ বা কষ্ট আছে সেগুলো সকলকেই পেতে হবে। সেটা শারীরিকভাবে শ্বশুরমশাইকে হোক, কিংবা মানসিক ভাবে আমাদেরকে। তাই এর লড়াইয়ের শেষ কোথায় তা আমরা আজও জানিনা।
জানিনা আজকের সারাদিনটাই বা কিভাবে কাটবে। তবে সকালবেলায় বসে আপনাদের সাথে এই পরিস্থিতির কথা শেয়ার করতে পেরেও নিজেকে যেন অনেকটা হালকা মনে হচ্ছে। যাইহোক আমার শ্বশুরমশাই এর জন্য প্রার্থনা করবেন, যেন ঈশ্বর ওনার সমস্ত ভুল ক্ষমা করে ওনাকে মুক্তি দেন।
আপনাদের প্রত্যেকের আজকের দিনটা খুব ভালো কাটুক, এই শুভকামনা জানিয়ে আজকের লেখা শেষ করছি। ভালো থাকবেন।


TEAM 7
Congratulations! Your post has been upvoted from sc-09 account.