" এই বছর সরস্বতী পুজোর দিনের গল্প"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।
আমার দিনটি মোটামুটি কাটছে। সারাদিনে তেমন কোনো ব্যস্ততা নেই ঠিকই, কিন্তু মনে হচ্ছে বাড়িতে থাকাকালীন সাংসারিক কাজের ব্যাস্ততায় কাটা দিনগুলো, এর থেকেও অনেক বেশি ভালো।
আসলে বর্তমানে আমি কল্যাণী আছি, শুভর মামা বাড়িতে। ওর মামার মেয়ের বিয়ে ছিলো সরস্বতী পুজোর দিন এবং আজ এখানে বৌভাতের অনুষ্ঠান রয়েছে।
বেশ কয়েক মাস আগে থেকে এই বিয়ে নিয়ে অনেক প্ল্যান করেছিলাম। তবে বিয়েটা সরস্বতী পুজোর দিন হওয়াতে মনটা একটু খারাপও হয়েছিলো। কারণ অন্যান্য বছরের সরস্বতী পূজার দিনগুলো যেমন কাটে, এবার তেমনভাবে কাটবে না এই আফসোসে মনে হয়েছিলো বিয়েটা অন্য দিন হলে ভালো হতো। কিন্তু সবকিছু যে আমাদের পরিকল্পনা মতো হবে না, এটাই আসল বাস্তবতা।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
বিয়ের অনুষ্ঠানগুলো অনেক আনন্দ সহকারে কাটবে এমনটা ভেবে এসেছিলাম। তবে অদ্ভুতভাবে বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এতোটুকুও ভালো লাগেনি। কিন্তু যে বিষয়টা নিয়ে মনটা খারাপ ছিলো যে, সরস্বতী পুজোর দিনটা এবার বোধহয় একেবারেই অন্যরকম কাটবে, সেটা কিন্তু হয়নি।
বিয়ের অনুষ্ঠানের সাথে হলেও, সরস্বতী পুজোর অনুভূতি অনুভব করার সুযোগ পেয়েছি, কিন্তু ভাবছেন তো সেটা কিভাবে সম্ভব হলো? সেটাই আজ আপনাদের সাথে এই পোস্টের মাধ্যমে শেয়ার করবো।
![]()
|
|---|
মামাশ্বশুর বাড়ির নিয়মানুসারে বিয়ের দিন সকাল বেলায় যখন দধি মঙ্গলের কার্যক্রম হয়েছিলো, তখন আমি উঠতে পারিনি। কারন সূর্য ওঠার আগে ওনাদের এই নিয়ম পালিত হয়ে যায়। তাই সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ফ্রেশ হয়ে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই, সকলে বলল গায়ে হলুদের জন্য জল আনতে যেতে হবে।
তাই সেই কারণে সকালের খাবার শেষ করে সকলের সাথে তৈরি হয়ে গিয়েছিলাম মামা বাড়ি থেকে একটু দূরত্বে থাকা একটা মন্দিরে। সেখানকার পুকুর থেকে মুলত জল আনা হয়।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
যাইহোক সেখানে গিয়ে সকলে মিলে বরণ করে পুকুর থেকে জল নিয়ে আসলো। বাড়িতে ফেরার পর ফুল কেনার উদ্দেশ্যে আমি ও শুভর ছোট মামী দুজনে মিলে স্কুটি নিয়ে বেরিয়েছিলাম। রাস্তায় তখন ছোট ছোট মেয়েদের ভিড় দেখে নিজেদের ছোটবেলার সরস্বতী পুজোর দিনগুলোর কথা মনে পড়ছিলো।
মামীকে সে কথা জানানোর পরেই মামী বলল চলে তাহলে ভাইয়ের স্কুল থেকে আমরা একটু মায়ের দর্শন করে আসি। ব্যাস যেমন ভাবা তেমন কাজ।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
ভাইয়ের স্কুল খুব একটা দূরে নয়, তাই স্কুটিতে করে দুজন পৌঁছে গেলাম কিছুক্ষণের মধ্যেই। আগে পরে রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করার সময় স্কুলটি বহুবার চোখে পড়েছে। তবে ভিতরে যে এতোখানি জায়গা রয়েছে, সেটা বাইরে থেকে দেখে বোঝা যায়নি।
এই দিন ভিতরে ঢোকার সুযোগ পাওয়ার পর বুঝতে পারলাম, ভিতরের দিকে অনেকটা জায়গা নিয়েই স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত। এ বছর স্কুলের চল্লিশ বছর পূর্ণ হয়েছে।
![]()
|
|---|
স্কুলে এই বছরের সরস্বতী মায়ের মূর্তিটা অসম্ভব সুন্দর ছিলো। আরও বেশি নজর কেড়েছে বেদীতে করা আলপনা গুলো। নিখুঁত হাতের কাজ। এই স্কুলেরই কয়েকজন ছাত্রীরা মিলে এই আলপনা দিয়েছে এমনটা মামীর কাছ থেকে জানলাম। স্কুলের ভিতরেই প্রচুর ফুলের গাছ হয়েছে। যেগুলো দেখে ভীষণ ভালো লাগলো।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
প্রতিদিন এই গাছগুলোতে জল দেওয়া, তাদের পরিচর্যা করার জন্য স্কুলের তরফ থেকে আলাদা একজন মালি রাখা হয়েছে। সরস্বতী পুজোর দিন কম বেশি প্রত্যেক স্টুডেন্ট এর অভিভাবকেরা স্কুলে আসেন। এমনকি অন্যান্য স্কুলের ছেলে মেয়েরা ও একে অপরের স্কুলে ঘুরে সময় কাটাতে পছন্দ করে।
আমাদের সময়ও এমন দিনের অপেক্ষা আমরা করতাম, যখন অন্যান্য স্কুলে ঢোকার জন্য কোন বাধা ছিলো না। চাইলেই অন্য স্কুলে গিয়ে সময় কাটানো, সেখানকার প্রতিমা দর্শন করা, প্রসাদ গ্রহণ করা সবটাই করা সম্ভব হতো।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
স্কুল প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে আমি, মামি সেই কথাই আলোচনা করছিলাম। ইতিমধ্যে একটু দূরে চোখ গেলো, যেখানে আরও অনেক গাঁদা ফুলের সমাহার দেখতে পেলাম। তাই মামীকে সাথে নিয়ে আরেকটু এগিয়ে গিয়ে দেখলাম শুধু গাঁদা ফুল নয়, অন্যান্য আরও অনেক ফুলেদের নিয়ে ছোট্ট আরও একটি ফুলের বাগান সেখানে তৈরি করা আছে, যেটা দেখে মন খুশি হলো।
সেখানে বেশ কিছুটা সময় কাটালাম। যদিও প্রসাদ গ্রহণ করি নি, কারণ দুপুরে বাড়িতে ফিরে খাওয়ার কথা ছিলো। সময় পেরিয়ে যাচ্ছিলো। বাড়িতে থেকে ফোন আসতে শুরু করলো। তাই আর বেশি সময় সেখানে না কাটিয়ে আমরাও বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।
ফিরতি পথে আরও একটা স্কুলে ঢুকে পড়েছিলাম দুজন মিলে। তাই সেখানে গিয়ে প্রতিমা দর্শনের অভিজ্ঞতা এবং বিয়ে বাড়িতে রাতে কিছুটা সময় কাটানোর গল্প পরবর্তী পোস্টে মাধ্যমে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
আজকের পোস্টে শেয়ার করা ফুলের দোকানে তোলা বিভিন্ন ধরনের গোলাপ ফুলের ছবিগুলোর মধ্য থেকে কোন ফুলের রং টা আপনাদের ব্যক্তিগতভাবে ভালো লেগেছে, সেটা মন্তব্যের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।















--
Congratulations! This post has been voted through steemcurator08 We support quality posts, good comments anywhere and any tags.