"নিঃসঙ্গতার অনুভূতিতে কাটলো আমার আজকের দিনটা"
![]() |
|---|
Hello,
Everyone,
বেশ অনেকদিন হয়ে গেলো শাশুড়ি মা বাড়িতে নেই, একথা আমি আমার প্রায় প্রতি দিনের পোস্টেই উল্লেখ করি। শুভ অফিসে চলে যাওয়ার পর থেকে বাড়িতে ফেরার আগে পর্যন্ত, সম্পূর্ণ বাড়িতে আমি একা থাকি।
সাংসারিক কাজ, পূজো, ব্যক্তিগত কাজ, সবকিছু মিলিয়ে দিনটা কেটে যায়। কখনো কখনোই নিঃসঙ্গতা খুবই ভালো লাগে, বেশ উপভোগও করি। কিন্তু কখনো কখনো এই নিঃসঙ্গতাই বড্ড বেশি ভয়ঙ্কর মনে হয়।
গত দুদিন ধরে নিম্নচাপের কারণে সারাদিন টিপ টিপ করে বৃষ্টি হয়ে চলেছে। আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেও দেখলাম একই রকম আবহাওয়া। কখনো কখনো এই রকম আবহাওয়ায় আমার মনটা বড্ড ভারী করে দেয়। বাড়িতে যদি লোকজন থাকে তাদের সাথে কথাবার্তায় যদিও বা কিছুটা সময় ব্যয় করা যায়, কিন্তু যখন এইরকম ওয়েদারে সম্পূর্ণ একা থাকতে হয়, তখন যেন কোনো কিছুই ভালো লাগে না।
আজকে ঠিক এরকমই একটা দিন কেটেছে আমারও। শুভ যখন অফিসে বেরোয় তখন মুষলধারায় বৃষ্টি হচ্ছিলো, তাই কিছুক্ষণ দেরি করে তারপর বেরোলো। তবে ও বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকেই আমার যেন আর কোনো কিছু ভালো লাগছিলো না। ঘরের কাজ করার সময় পছন্দের গান চালিয়ে নিয়েছিলাম, কিন্তু কিছুক্ষণ পরে যেন সেগুলো শুনতেও আর ভালো লাগছিলো না।
হঠাৎ কি কারণে বুঝতে পারলাম না, কিন্তু গোটা বাড়িতে সকলের অনুপস্থিতি অনেক বেশি করে আজ অনুভব করলাম। গতকালকের পোস্টে আপনাদের জানিয়েছিলাম পাশের বাড়ি থেকে মামা-মামী ও একটা বোন এসেছিলো আমাদের বাড়িতে। তাদের সাথে অনেকক্ষণ গল্প হয়েছে শশুর মশাইকে নিয়ে, জানিনা কেন ওনার অনুপস্থিতিটা আজ সেই কারণেই হয়তো বেশি অনুভব করেছি।
আমি জানি একটা সময় এমনও আসবে যখন শাশুড়ি মা থাকবে না। তখন এই সম্পূর্ণ বাড়িতে আমাকে এইরকম ভাবে একাই থাকতে হবে। কিন্তু এখনও যেহেতু শাশুড়ি মা আছেন, হয়তো পরিস্থিতির কারণে তিনি এই মুহূর্তে বাড়ি নেই বলেই, তার অনুপস্থিতির কথা বারবার মনে আসে।
![]() |
|---|
মাঝে মাঝে অবাক হয়ে ভাবি কি অদ্ভুত আমাদের হৃদয়। কখনো কখনো কারোর উপস্থিতি আমাদের জন্য বিরক্তিকর হয়ে ওঠে, কিন্তু সেই মুহূর্তে আমরা আকুল হয়ে থাকি। যাতে কিছুক্ষণ বা কিছুদিনের জন্য হলেও আমরা একার মতো থাকতে পারি। আবার কখনো কখনো দীর্ঘ সময় একা থাকতে থাকতে মনে হয়, অন্তত পাশে একজন কথা বলার মানুষ থাকলেও বোধহয় ভালো লাগতো।
সারাদিন এইসব ভাবনায় মনটা ভালো ছিলো না। অন্য দিন তবুও আমার বৌদির সাথে বা বান্ধবীদের সাথে কথা হয়। তবে আজ আর একেবারে ইচ্ছে করেনি মোবাইল হাতে তুলে কারো সাথে দুই মিনিট কথা বলি। ঠিক এতটাই চুপচাপ থাকতে ইচ্ছে করছিলো আজ।
সারাদিনের মধ্যে যতটুকু সময় আজ আমি পুজো দিয়েছি, ততটুকু সময় বোধহয় একটু ভালো লেগেছে। তাছাড়া সারাদিনে না টিভি দেখা, না ফোন দেখা,আর না নিজের পছন্দের গান, কোনো কিছুই যেন ভালো লাগেনি। সারাক্ষণ মনটা বড্ড অশান্ত ছিলো।
সব কাছের মানুষকে হারিয়ে ফেলার মুহূর্ত, তাদের অনুপস্থিতি জীবনটাকে কতখানি শূন্য করেছে, সেই সমস্ত ভাবনাগুলো নিয়েই মনটা বড্ড বেশি ভারাক্রান্ত ছিলো আজ। বর্তমানে যে মানুষগুলো জীবনে আছে, হয়তো একটা সময় তাদেরকেও ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলতে হবে। এই ভাবনাটাও কাজ করছিলো।
তবে জীবন বড্ড অনিশ্চিত। বলা যায় না তাদেরকে হারিয়ে ফেলার আগেই জীবন হারিয়ে যাবে কিনা আমার কাছ থেকে। এই সব উত্তর শুধুমাত্র সময়ের কাছেই আছে। তাই সময়ের সাথে সকলকে তাল মিলিয়েই চলতে হবে। এই কথাগুলো যে বুঝি না তা নয়, তবে কখনো কখনো এই কথাগুলোই মেনে নিতে কষ্ট হয়।
যাইহোক সারাদিনের কিছু অনুভূতি শেয়ার করলাম আপনাদের সাথে, বাকি আর কোনো কিছু লিখতে ইচ্ছে করছিলো না। আপনাদেরও নিশ্চয়ই কোনো কোনো দিন ঠিক এরকম অদ্ভুত কিছু ভাবনা নিয়ে, কিছু মন খারাপ নিয়ে কাটে।
ভালো কাটুক আপনাদের আগামী দিনগুলো। ভালো থাকবেন।


আমারও মাঝে মাঝে মনে হয়, ঘরে কেউ না থাকলেও হয়তো ভালোই লাগত। কিন্তু যেদিন বাচ্চারা তাদের বাবার সঙ্গে বাইরে কোথাও বেড়াতে যায়, সেদিন আমি শুধু অপেক্ষা করতে থাকি কখন বাচ্চারা বাসায় ফিরে আসবে। তারা ফিরে এলে মনে হয়, আবার আগের মতো হাসি-আনন্দে ঘরটা পূর্ণ হয়ে গেল।একা থাকা মাঝে মাঝে কিছু সময়ের জন্য ভালো লাগলেও, আমাদের কাছের মানুষগুলো পাশে থাকলে অনেক সময় আমরা তাদের উপস্থিতির মূল্য বুঝতে পারি না। কিন্তু তারা কিছু সময়ের জন্যও অনুপস্থিত থাকলে তখনই উপলব্ধি করি, তারা আমাদের জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।আমি আশা করি, আপনার শাশুড়ি মা খুব দ্রুত আপনার কাছে ফিরে আসবেন। তখন আপনারা দুজন মিলে গল্পগুজব করে আনন্দে সময় কাটাতে পারবেন। আপনার হাসবেন্ড অফিসে চলে যাওয়ার পরও ঘরে একজন আপন মানুষ পাশে থাকায় আপনার একাকীত্বটাও অনেকটাই কমে যাবে।