"Better life with steem//The Diary Game// 19th February, 2026"

in Incredible India3 days ago

IMG_20260219_195930.jpg
"একটা গাঁদা ফুলগাছে সুন্দর ফুল ফুটেছে। গাঁদাফুলের এই রঙটা আমার পছন্দের"

Hello,

Everyone,

আশাকরছি আপনারা সকলে ভালো আছেন, আর আপনাদের প্রত্যেকের আজকের দিনটা খুব ভালো কেটেছে।

আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই এমন কিছু সময় আসে, যখন মনে হয় আমার থেকে খারাপ পরিস্থিতিতে বোধহয় এই পৃথিবীর আর কেউ নেই। তবে একথা একেবারেই সত্যি নয়। বর্তমান সময়ে যেমন আমার মনে হচ্ছে আমার বা আমার পরিবার সকলের জন্য এই সময়টা খুবই খারাপ। তবে এই মুহূর্তে পৃথিবীর অন্যান্য অনেক জায়গায় আমাদের থেকেও আরও অনেক বেশি কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষ দিন কাটাচ্ছে এ বিষয়টিও অস্বীকার করার জায়গা নেই।

আমার শ্বশুর মশাইয়ের শারীরিক অবস্থা দিনে দিনে অবনতি হচ্ছে এবং আগামী দিনগুলো যে আরও অনেক কঠিন হবে এ বিষয়টি আমরা সকলেই জানি। তবে জানা এবং মেনে নেওয়া এই দুটো পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। দীর্ঘদিন আগে জিনিসটা জানা যতটা সহজ ছিলো, বর্তমান সময়ে সেই পরিস্থিতিটাকে মেনে নেওয়াটা অনেক কঠিন।

যাইহোক আমার সারাটা দিন আজ কিভাবে কেটেছে, সে কথাই আজ এই পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।

1672344690977_010726.jpg

"সকালবেলা"

IMG_20260219_195907.jpg
"রৌদ্রোজ্জ্বল সকাল বেলা"

আজ সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠতে ইচ্ছা করছিলো না একেবারেই, কারণ গতকাল রাতে একেবারেই ভালো ঘুম হয়নি। কেমন একটা অস্বস্তিতে বারবার ঘুম ভেঙে গিয়েছিলো। শশুর মশাইয়ের শরীর গতকাল থেকে আরও অনেক বেশি খারাপ হতে শুরু করেছে। টিউমারের কারণে হাতের ব্যথা বেড়েছে অনেক। ফলতো সারাদিন রাতই মোটামুটি অনেক কষ্ট পাচ্ছেন, যেটা সামনাসামনি দেখাটা কঠিন। তবে শুধুমাত্র দেখা ছাড়া ব্যাথা কমানোর কোনো উপায় নেই।

তাই সকালে অনেক কষ্টে ঘুম থেকে উঠে নিচে গিয়ে প্রথমে শ্বশুর মশাইকে গ্যাসের ওষুধ দিয়ে দিলাম। উনি অবশ্য সারারাত ঘুমাননি। যাইহোক এরপর শুভর জন্য চা করে উপরে এসে ওকে ঘুম থেকে ডেকে দিয়ে, রান্নার কাজ সেরে নিলাম।

IMG_20260219_195714.jpg
"ব্রেকফাস্ট: ‌পরোটা ও আলুর দম"

ব্রেকফাস্টে শ্বশুর-শাশুড়ির জন্য রুটি বানালেও শুভ আর আমার জন্য পরোটা বানিয়েছিলাম। শুভ ব্রেকফাস্ট করে অফিসে চলে যাওয়ার পর, আমিও ব্রেকফাস্ট করে নিলাম। যেহেতু আজ বৃহস্পতিবার তাই ঠাকুর ঘরের অনেক কাজ বাকি ছিলো। ব্রেকফাস্ট সারার পর সেগুলোই এক এক করে শেষ করলাম।

1672344690977_010726.jpg

"দুপুরবেলা"

IMG_20260219_195830.jpg
"এই গাছটিতে সবে ফুল ফোঁটা শুরু হয়েছে"

শ্বশুরমশাই সকালে খাওয়া দাওয়ার পরে এখন রোজ ছাদে এসে রোদ্দুরে বসেন। ওনার কথা অনুযায়ী গায়ে রোদ্দুরে লাগলে একটু আরাম লাগে। সেই কারণেই সকালের খাওয়া দাওয়া শেষ করে, স্নান করার আগে পর্যন্ত তিনি ছাদেই বসে থাকেন।

কিছু কিছু গাঁদা ফুল গাছে অনেক আগে থেকেই ফুল ধরেছিলো। তবে নতুন একটা গাছে সবেমাত্র ফুল ফুটতে শুরু করেছে। আজকাল ছাদে যা ফুল হয় তাতে পুজোর ফুল আলাদা করে না কিনলেও চলে। কিন্তু প্রতিদিন যদি ছাদের গাছ থেকে ফুল তোলা হয়, তাহলে ফুলগুলো কয়েকদিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে, তাই বৃহস্পতিবার এর জন্য আলাদা করে ফুল আনা হয়। কারণ তার সাথে বেল পাতা, আমের পল্লব, দূর্বা সবকিছুই লাগে।

IMG_20260219_195515.jpg
"আমার গোপাল"

লক্ষ্মী ব্রত শেষ করে পাঁচালি পড়ে পুজো শেষ করতে বৃহস্পতিবারে অনেকটা সময় কাটে। এরমধ্যে শাশুড়ি মা শ্বশুর মশাইকে স্নান করিয়ে দিয়েছিলেন। গতকাল থেকে তিনি আর নিজের হাতে খেতেও পারছেন না, যেহেতু ডান হাতেই প্রচন্ড ব্যথা। তাই শাশুড়ি মা শশুর মশাইকে খাইয়ে দিলেন, আর সেইসাথে আমিও আমার লাঞ্চ শেষ করে নিলাম।

1672344690977_010726.jpg

"সন্ধ্যাবেলা"

IMG_20260219_200009.jpg
"এই প্যাচটা শ্বশুর মশাইয়ের হাতের ফোলা জায়গায় লাগানোর কথা বলেছেন ডক্টর। এর ভিতরে যে ওষুধ আছে তাতে ব্যাথাটা কিছুটা কম হতে পারে।"

সন্ধ্যা হতে না হতে গাছগুলিতে অল্প জল দিয়ে দিলাম। এখন গরম পড়তে শুরু করেছে তাই প্রতিদিন জল না দিলে গাছগুলো ঢলে পড়বে। দিদিকে সকালে ফোন করেছিলাম তবে অফিসে ব্যস্ততার কারণে ওর সাথে কথা হয়নি। তাই সন্ধ্যার পর দিদিই ফোন করলো।

দিদিকে শ্বশুরমশাই এর অবস্থা সম্পর্কে বললাম। কিন্তু দিদি বলল যে এই রোগের বা এই ব্যথা নিরাময়ের কোনো উপায় নেই। শুধুমাত্র যদি ক্যান্সারের ট্রিটমেন্ট করা যেত তাহলেও একটা বিষয় ভাবা যেতো। তবে সবথেকে সমস্যা হলো শ্বশুরমশাইয়ের অনেকটা বয়স হয়ে গেছে। পাশাপাশি ওনার শরীরে এক নয়, একাধিক সমস্যা রয়েছে।

তবে দিদির কাছে একটা ছবি পাঠিয়ে রাখলাম, যেটা শুভকে ডক্টর দিয়েছিলেন শশুর মশাইয়ের হাতে লাগানোর জন্য। তাতে ব্যথা হয়তো অল্প হলেও নিরাময় হতে পারে। অনেক সময় হসপিটালে দিদির কাছে এগুলো পাওয়া যেতে পারে, সেই কারণে দিদিই পাঠিয়ে রাখতে বললো।

1672344690977_010726.jpg

"রাত্রিবেলা"

শুভর আজকাল অফিস থেকে ফিরতে অনেকটা লেট হয়। আসলে ফেরার পথে একটা বন্ধুর দোকানে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ গল্প করে। আমিও আর বারণ করি না, কারণ ওর উপর দিয়ে যে স্ট্রেস যাচ্ছে সেটা বুঝতে পারি। আর যে বন্ধুর দোকানে দাঁড়ায় তার মায়ের শারীরিক অবস্থা আমার শ্বশুর মশাইয়ের মতোই। তার মায়েরও কিডনিতে টিউমার ধরা পড়েছে, যেটা ক্যান্সারের একেবারে লাস্ট স্টেজে পৌঁছে গেছে।

অপারেশন করানোর কোনো অপশন নেই। ডাক্তার বলে দিয়ে দিয়েছেন, যে কয়েকদিন থাকবে এই ভাবেই চলবে। তাই দুই বন্ধু একসাথে যদি নিজেদের মধ্যে কিছুটা সময় কাটিয়ে, একে অপরের পাশে থাকতে পারে সেটাতে আর আপত্তি করার কোনো মানেই হয় না। সারাদিন কাজের চাপ এবং বাড়িতে এলে বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি, প্রতিদিন ছেলে হয়ে চোখের সামনে দেখাটা সত্যিই অনেক কঠিন।

IMG_20260219_195807.jpg

IMG_20260219_195746.jpg

"নিজের মানসিক চাপ থাকা সত্ত্বেও শুভ অফিস থেকে ফেরার সময় আমার পছন্দের খাবার আনতে ভোলেনি"

তবে অদ্ভুতভাবে ফেরার সময় আমার জন্য চিপস্ আর লাড্ডু নিয়ে এসেছিলো। গত দুদিন আগেই বোধহয় আমি কুরকুরে খাওয়ার কথা বলেছিলাম। বন্ধুর দোকানে যখন দাঁড়িয়ে ছিলো, পাশের দোকানে কুরকুরে দেখে ওর সেটাই মনে পড়েছিলো, যাই কিনে নিয়েছে।

যাইহোক সেগুলো খাওয়া শেষ করে আমি আমার পোস্ট লেখা শুরু করলাম। এরপর রাতের জন্য রুটি বানিয়ে সকলে একসাথে ডিনার সারবো।

1737775560596.png

আশাকরছি আমার সারাদিনের কার্যক্রম পড়ে আপনারা আমার দিন যাপনের মুহূর্তের অনুভূতি গুলো কিছুটা হলেও উপলব্ধি করতে পারছেন। প্রতি মুহূর্তে নিজেদের মধ্যে এক চাপা কষ্ট নিয়ে প্রত্যেকেই ঘুরছি, তা প্রকাশ করার ইচ্ছা থাকলেও উপায় নেই। কারণ একে অপরকে সামাল দিতেই আমাদের সবার সময় কেটে যাচ্ছে।

যে কঠিন দিন সামনে আসতে চলেছে তা উপেক্ষা করার সাধ্য আমাদের নেই। কিন্তু সেই দিনের অপেক্ষা করার প্রতিটি ক্ষণ অনেক বেশি কষ্টকর, এটুকু বলতে পারি।

যাইহোক আপনাদের সকলের সুস্থতা প্রার্থনা করে আজকের লেখা শেষ করছি। ভালো থাকবেন সকলে। শুভরাত্রি।

9vWp6aU4y8kwSZ9Gw15LFL3aMdhmgmBBFMpDJregpdP328TqCvhjhspw5NBPbWMShaDD4yjYoZFwyWS9XH9YcrMyqTMGHiWpaGrwDGkXYMbDHgxptYZq3ueRpXapEAPkAuu3vPaZSXJ2USdTC.png

Coin Marketplace

STEEM 0.05
TRX 0.29
JST 0.043
BTC 68007.99
ETH 1973.56
USDT 1.00
SBD 0.38