Better life with steem//The Diary Game// 20th March, 2026"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটা খুব ভালো কেটেছে।
গতকাল বিকাল থেকেই ঝড়বৃষ্টির কারনে আবহাওয়া অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। আর সেইসাথে আমার মনের অবস্থাও। হঠাৎ কোনো কারন ছাড়াই মনটা বেশ খারাপ হয়ে আছে। গত দুদিন যাবৎ শশুর মশাইয়ের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। এখন মাঝে মধ্যেই ভুল কথা বলছেন। দিনকে রাত ভাবছেন। কখনো কখনো আমাদের চিনতেও পারছেন না।
ওনার পরিচিত যারা মারা গেছেন তাদেরকেই স্বপ্নে দেখছেন। তাদের সাথেই কথা বলছেন।আর এই সবকিছু মিলিয়ে দিন কাটছে। তাই নিজের অজান্তেই মনটা অনেক খারাপ হয়ে আছে। সামনে আরও কতো কঠিন সময় আসতে চলেছে, এটা ভেবেই যেন আরও বেশি চিন্তিত আমি। তার উপরে আবার এই মেঘলা আবহাওয়া, মনখারাপের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
যাইহোক কিভাবে গতকালের দিনটা কাটালাম আজ সেই গল্পই শেয়ার করবো আপনাদের সাথে। চলুন তাহলে শুরু করি,-
|
|---|
![]()
|
|---|
শুভর অফিস থাকার কারণে সকালে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে উঠতে হলো। কিন্তু তখনও আবহাওয়া দেখে মনে হয়নি যে ঝড় বৃষ্টি হতে পারে। তবে খবরে অবশ্য আগে থেকেই শুনেছিলাম। আর আজকাল আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে খবরে যেটা বলে, তার আংশিক হবে এ বিষয়ে নিশ্চিন্ত ছিলাম।
যাইহোক ফ্রেশ হয়ে নিচে গিয়ে দেখলাম শ্বশুরমশাই ব্যাথায় কাতড়াচ্ছেন। ওনাকে আগে গ্যাসের ওষুধ দিয়ে দিলাম। তারপর চা বানিয়ে দিলাম। চায়ের সাথে দুটো বিস্কুট খাওয়ার পর ওনাকে ব্যথার ওষুধ দিয়ে আমি শুভর চা নিয়ে উপরে এলাম। আসার আগে অবশ্য ভাত বসিয়ে এসেছিলাম।
![]()
|
|---|
আমার এবং শুভ জন্য ডিমের ঝোল রান্না করেছিলাম, যাতে দুপুরে আমারও হয়ে যায়। শ্বশুরমশাই আজকাল আর মাছ খেতে চান না। তবে শাশুড়ি মায়ের জন্য মাছের ঝোল ফ্রিজেই ছিলো। এরপর ব্রেকফাস্টের পর্ব শেষ করে শুভ সময় মতো অফিসে বেরিয়ে যাওয়ার পর, আমরাও সকলে নিজেদের ব্রেকফাস্ট শেষ করে নিলাম। শ্বশুরমশাই অবশ্য সামান্য একটু চিড়ে খেয়েছিলেন।
|
|---|
![]()
|
|---|
সাংসারিক সমস্ত কাজের মধ্যে শশুর মশাইয়ের প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে মাঝেমধ্যে দিশেহারা লাগে। কখনো তিনি পুরনো দিনের কথা বলেন, কখনো একেবারেই ছোটবেলায় কথা বলেন। কখনো ননদের সাথে কথা বলেন, আবার কখনো আমার মারা যাওয়া মানুষদের নিজের সামনে দেখেন।
![]()
|
|---|
বোধহয় এমনটা সকলের ক্ষেত্রেই হয়। বার্ধক্যের শেষে মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে প্রত্যেকেই হয়তো এইরকমই কম বেশি অনুভব করেন। যাইহোক সমস্ত কাজ শেষ করার পর দুপুরবেলায় পুজো শেষ করলাম। ততক্ষণে শ্বশুর মশাইয়ের স্নান হয়ে গিয়েছিলো এবং ওনাকে স্নান করানোর পর শাশুড়ি মা স্নান করতে গিয়েছিলেন।
খাবার টেবিলে লাঞ্চ করার জন্য সমস্ত খাবার আনার পর, প্রথমে শাশুড়ি মা শ্বশুর মশাইকে খাইয়ে দিলেন, তারপরে আমরাও লাঞ্চ করে নিলাম। বিকেল হতে হতে আবহাওয়া পরিবর্তন হতে শুরু করলো। যেন মনে হলো সময়ের অনেক আগেই সন্ধ্যা নেমে আসলো।
|
|---|
![]()
|
|---|
সন্ধ্যাবেলায় প্রবল হাওয়া বইতে শুরু করলো। ঘরের দরজা জানালা সবকিছু বন্ধ করে দিয়েছিলাম, তৎসত্ত্বেও হাওয়ার দাপট ভালোই অনুভূত হয়েছে। আমাদের আশেপাশে যদিও তেমন বড়ো কোনো গাছ নেই। তবে গ্ৰামের দিকে গাছের সংখ্যা বেশি থাকায় ঝড় অনেক বেশি অনুভূত হয়।
![]()
|
|---|
যাইহোক বৃষ্টি খুব বেশি না হলেও হাওয়ার দাপটে আবহাওয়া একেবারেই ঠান্ডা হয়ে গেলো। বৃষ্টি কমার পর শুভ বাড়িতে ফিরলো। বাংলাদেশ থেকে কাল অনেকেই ফোন করেছিলো শশুর মশাইয়ের সাথে কথা বলার জন্য। ওখানে অনেকটা সময় ব্যয় হলো। কারণ হোয়াটসঅ্যাপে কল এলে ওনারা ভালো ভাবে তুলতে পারেন না।
|
|---|
![]()
|
|---|
শুভর দুটো বন্ধু এলো একটু বাদে। বেশ কিছুক্ষন আড্ডা দেওয়ার পর ওরা ফিরে যেতেই শুভ বললো লুচি খাবে। অন্যদিকে শাশুড়ি মা বললো ফ্রিজে কিছু কড়াই শুঁটি আছে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই ভাবলাম কড়াই শুঁটির কচুরিই বানাই। সাথে ছোলার ডাল করলাম।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
ঠান্ডা আবহাওয়া ডিনারটা বেশ ভালোই হলো। শশুর মশাইও গরম গরম দুটো খেলেন। রুটি খেতে খেতে উনি একেবারেই বিরক্ত। যাইহোক এরপর উপরে এলাম। ভাবলাম পোস্ট লিখবো। কিন্তু তার আগে বেশ কিছুক্ষন ফোনে কথা বললাম আমার বৌদির সাথে।
কথাবলা কালীন শাশুড়ি মা ফোন করলেন নীচের থেকে। ভয় পেয়ে আবার ছুটলাম নিচে। গিয়ে দেখলাম শশুর মশাই আবার কি সব উল্টোপাল্টা কথা বলতে শুরু করেছেন। খানিকক্ষণ সেখানে কাটিয়ে উপরে এসে শুয়ে পড়লাম। ঘুম আসেনি ঠিকই, কিন্তু কি যে ভাবছিলাম তা হয়তো বুঝিয়ে লিখতে পারবো না। অবশেষে কখন ঘুমিয়েছি সত্যিই জানিনা।
এইভাবেই কেটেছে আমার গতকালের সারাদিন। ভালো থাকবেন সকলে। শুভ সন্ধ্যা।












Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟
Thank you for your support 🙏.