Better life with steem//The Diary Game// 2nd May, 2026"

in Incredible India19 days ago

IMG_20260502_234341.jpg
"আমাদের গাছে ফোঁটা বেলী ফুল"

Hello,

Everyone,

আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটা বেশ ভালো কেটেছে।

আমার আজকের দিনটা খুবই খারাপ কেটেছে। কারণ সারাটা দিন বাড়িতে আমাকে একা থাকতে হয়েছে। তাই কিভাবে সময় অতিবাহিত হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু কথা আজ আপনাদের সাথে এই পোস্টটির মাধ্যমে শেয়ার করতে চলেছি। চলুন তাহলে শুরু করা যাক,-

1672344690977_010726.jpg

"সকালবেলা"

IMG_20260502_234132.jpg
"সব গাছ থেকে ফুল তোলার পর এক সাজি ফুল হয়েছে"

গতকাল মে দিবসের ছুটি থাকলেও আজ শুভ অফিসে যাবে বলে, নিয়মমাফিক সকালের দিকে ঘুম থেকে উঠলাম। তারপর ফ্রেশ হয়ে, গেটের তালা খুলে প্রথমেই ওপরের ঘরের তালা খুলে, ছাদে গিয়ে গাছের ফুল তুললাম।

আগে যদিও আমি আর শুভ উপরেই থাকতাম, কিন্তু শশুর মশাই মারা যাবার পরে, যখন বাড়ির আত্মীয় স্বজন সকলেই নিজেদের বাড়িতে ফিরে গেছেন, তখন থেকে আমি আর শুভ নিচেই ঘুমাই। কারণ পাশের ঘরে শাশুড়ি মা একা থাকেন। আর এই সময় ওনাকে একা রাখাটা ঠিক হবে না ভেবেই এমন সিদ্ধান্ত।

যদিও আমার এবং শুভর দুজনেরই নিচে ঘুমাতে শুরুর দিকে অসুবিধা হচ্ছিলো। তবে এখন আবার খানিকটা অভ্যাস হয়ে গেছে। যাইহোক নিচে এসে অল্প করে চাল ধুয়ে ভাত বসিয়ে দিলাম। চাল অল্প নেওয়ার কারণ হলো গতকাল রাতে শাশুড়ি মা জানিয়েছেন তিনি আজ সকালবেলায় ননদের বাড়িতে যাবেন।

IMG_20260502_234700.jpg
"শুভর সকালের কফি"

ননদ অনেকদিন ধরেই বলছিলো। তবে ভোটের কারণে শাশুড়ি মা একটু দেরি করলেন। তাছাড়া ডাক্তার দেখানোরও একটা বিষয় ছিলো। তাই বুধবার দিন ভোট শেষ হওয়ার পর, গতকাল ডাক্তার দেখানো হয়ে গেছে, তাই তিনি আজ সকালে ননদের বাড়িতে যাবেন ঠিক করেছিলেন। আমিও আর আপত্তি করিনি। আসলে ওনারা একটু পরিবেশ বদলের দরকার আছে। শ্বশুর মশাই শয্যাশায়ী হওয়ার পর থেকে তিনিও কোথাও বেরোতে পারেননি।

IMG_20260502_105752.jpg
"সকালের দিকে এইগান গুলো শুনলে মনটা ভালো হয়ে যায়"

রান্নাবান্না শেষ করার পর শুভ অফিসে বেরিয়ে গেলে, শাশুড়ি মা ব্রেকফাস্ট করে ননদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করলেন। তারপর আমি কমিউনিটির কিছু কাজ শেষ করে, ঘরের কাজ করলাম। তবে শাশুড়ি মা চলে যাওয়ার পর থেকে বাড়িতে একা থাকতে আমার একেবারেই ভালো লাগছিলো না। তাই ইউটিউবে পছন্দের গান চালিয়ে ঘরের কাজগুলো করে নিয়েছিলাম।

1672344690977_010726.jpg

"দুপুরবেলা"

IMG_20260502_234017.jpg
"বাড়ির নিত্য পুজো"

কাজগুলো শেষ করে নেওয়ার পর দেখলাম বাইরে মোটামুটি রোদ্দুর আছে ভালোই। অনেক জামাকাপড় জমেছে কাঁচার জন্য। তাই তার মধ্যে থেকে কয়েকটা ধুয়ে ছাদে মেলে দিলাম। তারপর স্নান সম্পন্ন করে ঠাকুর পূজো দিলাম।

IMG_20260502_234000.jpg
"আমার লাঞ্চ"

দুপুরে আজ আর একা কিছুতেই খেতে ইচ্ছা করলো না। তাই দুপুরবেলায় শুধু একটা কাঁচা মিঠা আম ও কয়েকটা জামরুল ভালোভাবে ধুয়ে নিয়ে, টুকরো করে কেটে তার মধ্যে লবণ ও লঙ্কা দিয়ে খেয়ে নিলাম। অবশ্য টিভি চালিয়ে তারপরে খেয়েছি। আসলে একা না খেতে খেতে এখন যেন আর খেতে ভালো লাগে না।

শাশুড়ি মা ও‌ আমি দুজন গত কয়েকদিন ধরে একসাথে খেয়েছি। তবে আজ একা আর কিছুতেই খেতে পারলাম না। বাকি ভাতগুলো ফ্রিজে রেখে দিয়ে আমি কিছুক্ষণের জন্য শুলাম। আসলে শরীরটাও একটু খারাপ লাগছিলো, তার সাথে মনটাও।

1672344690977_010726.jpg

"সন্ধ্যাবেলা"

IMG_20260502_234053.jpg
"চারিদিক তখন অন্ধকার হয়ে এসেছে"

শুয়েছিলাম ঠিকই, তবে ঘুম হয়নি এতোটুকুও। দরজা জানালা বন্ধ করে শুয়েছিলাম, তাই বাইরে মেঘ করেছে সেটা কোনোভাবেই বুঝতে পারিনি। একটু বাদেই শুভর বাইকের হর্ন শুনে বাইরে এসে দেখি চারিদিক প্রায় অন্ধকার হয়ে এসেছে।

IMG_20260502_234225.jpg
"ছাদে মেলে দেওয়া জামাকাপড়"

আজ যেহেতু শনিবার ছিলো, শুভ সময়ের একটু আগেই ফিরেছে। কোনো রকমে তালাটা খুলে দিয়ে, ছুটে ছাদে গেলাম কারণ জামাকাপড় গুলো ছাদেই মেলা ছিলো। সেগুলো কোনো রকমে তুলে খাটের উপরে রেখে জানালা লাগাতে লাগাতেই বাইরে হাওয়া শুরু হলো।

IMG_20260502_234033.jpg
"আকাশটাকে সত্যিই অপূর্ব লাগছিলো"

মেঘলা আকাশটা দেখতে অপূর্ব লাগছিলো। আমি যদিও আমার ফোন নিচেই রেখে গিয়েছিলাম। তবে শুভকে বললাম ওর ফোনে কয়েকটা ছবি তুলতে যেগুলো আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দিয়েছিলো। এতো বেশি মেঘ করেছিল যে, আমি নিশ্চিত ছিলাম ততটাও বৃষ্টি হবে না। আর হলোও এমনটাই। অল্প একটু হাওয়া হওয়ার পর, কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি হয়েই সবকিছু থেমে গেলো।

1672344690977_010726.jpg

"রাত্রিবেলা"

শুভ ভেবেছিল আড্ডা দিতে বাইরে বেরোবে, কিন্তু ওর দুটো বন্ধু আমাদের বাড়িতেই চলে এসেছিলো। আসলে গতকালের পোস্টে জানিয়েছিলাম রাজার মা অসুস্থ, হসপিটালে ভর্তি। তার অবস্থা এখনো আশঙ্কা জনক। আজ শুধুমাত্র রাইস টিউবের মাধ্যমে অল্প একটু লিকুইড খাবার দিতে পেরেছে। তবে অক্সিজেন কিছুতেই খোলা যাচ্ছে না।

ফলতো ওনার সিটি স্ক্যান করা আজও সম্ভব হয়নি। ওরা তিনজন আজ বেশিরভাগ সময়টা আমাদের বাড়িতে কাটিয়েছে। আমি একা নিচে বসে কিছু সময় টিভি দেখলাম। তারপর বান্ধবীদের সাথে ফোনেও দীর্ঘক্ষণ কথা হলো। সিকিমে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান হচ্ছে আমাদের, ফাইনালি টিকিট কবে কাটা হবে সেটা এখনও পর্যন্ত ঠিক হয়নি।

IMG_20260502_234455.jpg
"আমাদের দুজনের ডিনার"

প্রোগ্রামটা ফাইনাল হলে সেই সম্পর্কে আপনাদেরকে অবশ্যই জানাবো। যাইহোক এর মাঝে আরও দু তিনজনের ফোন ধরতে হয়েছিলো। শুভর বন্ধুরা চলে যাওয়ার পর শুভ নীচে এলো, আমরা একসাথে ডিনার করলাম। তারপর আমি বসলাম পোস্ট লিখতে, আর শুভ কোনো একটা সিনেমা দেখছিলো।

আমি "উত্তোরন" ওয়েব সিরিজটা শেষ করেছি, সেটার রিভিউ নিয়ে অবশ্যই একটা লেখা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। যাইহোক পোস্ট লেখা হয়ে গেলে আমরা দুজনেই শুয়ে পড়বো। সন্ধ্যার পর থেকে যদিও শুভ উপরে ছিলো এবং আমি নিচে ছিলাম, কিন্তু তবুও যেন খুব বেশি একাকিত্ব অনুভব করিনি।

তবে আজকের সারাটা দিন আমার খুবই খারাপ কেটেছে। শশুর মশাই মারা যাওয়ার পরে এই প্রথম একটা সম্পূর্ণ দিন বাড়িতে আমি একা কাটালাম। যাইহোক কিভাবে সময় কেটেছে সে শুধুমাত্র আমি জানি।

আপনাদের সকলের সুস্থতা কামনা করে আজকের লেখা এখানেই শেষ করছি। ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।

9vWp6aU4y8kwSZ9Gw15LFL3aMdhmgmBBFMpDJregpdP328TqCvhjhspw5NBPbWMShaDD4yjYoZFwyWS9XH9YcrMyqTMGHiWpaGrwDGkXYMbDHgxptYZq3ueRpXapEAPkAuu3vPaZSXJ2USdTC.png

Sort:  
Loading...
 19 days ago 

Thank you for your support 🙏.