"বাচ্চাদের পছন্দের "chinese wok"- রেস্টুরেন্টে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
কেমন আছেন আপনারা সকলে?
আশাকরি সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটা অনেক ভালো কেটেছে।
গত দুদিনের পোস্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি, পায়ে হেঁটে কলকাতার দুটি বিখ্যাত জায়গা ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা। একই দিনে আমরা ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামও ঘুরে দেখেছিলাম, সে গল্প পরবর্তী পোস্টে শেয়ার করবো।
কারণ আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করবো সেদিন দুপুরে তিতলি ও তাতানের পছন্দের রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ করতে যাওয়ার কিছু সুন্দর মুহূর্তের কথা।
আপনাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো এই বিষয়ে আমার সাথে সহমত হবেন যে, আজ থেকে ২০-২৫ বছর আগে এতো বেশি ফাস্ট ফুডের চলন ছিলো না। বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবার সব সময় চাইলেই পাওয়া যেত না।
![]()
|
|---|
এমনকি পথে ঘাটে এতো বিভিন্ন ধরনের ছোট বড় রেস্টুরেন্টও চোখে পড়তো না। আর অনলাইনে খাবার ডেলিভারি পাওয়ার বিষয়টিও তখনকার সময় স্বপ্ন ছিলো।
তবে আজকালকার দিনের বাচ্চাদের কাছে এই সবটাই খানিক গল্পের মতন লাগে। কারণ বর্তমান দিনে তারা আশেপাশে যতো ধরনের খাবার পায়, রেস্টুরেন্ট দেখতে পায়, এমনকি বাড়িতেও বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি হতে দেখে, তাদের কাছে আমাদের ছোটবেলার দিনগুলো কল্পনার সমান।
![]()
|
|---|
যখন স্কুলের টিফিনেও সামান্য রুটি, পরোটা, আমরা প্রতিদিন নিয়ে যেতে পারতাম না। সেই সময় যেদিন চাউমিন নিয়ে যাওয়া হতো, সেদিন সবাই টিফিন পিরিয়ডের অপেক্ষা করতাম ।
তবে আজকালকার দিনে টিফিনের ক্ষেত্রেই মায়েরা এতো ধরনের ভ্যারাইটিস খাবার তৈরি করে দেয় যে, বাচ্চারা সেই সকল খাবার খেতেই অভ্যস্ত হয়। আর সেখান থেকেই ফাস্টফুডের প্রতি তাদের এক বিশেষ আকর্ষণ কাজ করে। এদের মধ্যে ব্যতিক্রম আমাদের তিতলি তাতান নয়।
![]()
|
|---|
সেদিন আমরা যে রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়েছিলাম সেটি একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ছিল। যার নাম চাইনিজ ওক্। ইতিপূর্বে আমি কখনো এই শুনিনি। তবে তিতলি এবং তাতান নাকি এই রেস্টুরেন্টের অ্যাড টিভিতে বহুবার দেখেছে।
বিষয়টি জেনে অবাক হইনি, কারণ আজকাল ইউটিউব ও ফেসবুকের বিভিন্ন রিলস্ এ বিভিন্ন ধরনের রেস্টুরেন্টের রিভিউ অনেকেই শেয়ার করেন। তেমনই কোনো ভিডিওতে হয়তো এই রেস্টুরেন্টের খবর ওরা দেখেছে, তখন থেকেই বায়না ছিলো একদিন এই রেস্টুরেন্টে বসে খাবে।
দিদিও ঠিক করেছিল যেদিন কলকাতা দেখাতে নিয়ে যাবে, সেদিন পাশেরই এই রেস্টুরেন্টটাতে লাঞ্চ করাবে। তাই বলতে পারেন তিতলি ও তাতানের ইচ্ছে পূরণ করতেই এদিন এই রেস্টুরেন্টে যাওয়া হয়েছিলো।
![]() |
|---|
![]()
|
|---|
যদি খাবারের কোয়ালিটি নিয়ে কথা বলি, তাহলে তা ভীষণ ভালো এমনটা বলতে পারবো না। তবে খুব ছোট্ট একটা রেস্টুরেন্ট, ছোট জায়গার মধ্যেও সম্পূর্ণটা জায়গাটা বেশ সাজানো গোছানো ছিলো।
খুব বেশি সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট ছিলো না। তবে যে বিষয়টি আকর্ষণীয় তা হলো নিচের ফ্লোরে আপনি খাবার অর্ডার করার পর, বিল পে করতে হবে।তারপর সেখান থেকে আপনাকে একটা নাম্বার প্লেট দেওয়া হবে, উপরে গিয়ে যে টেবিলটি ফাঁকা থাকবে সেই টেবিলের উপরে নাম্বার প্লেট রেখে, আপনারা সেই টেবিলটাতে বসে যাবেন।
যখন ওয়েটার খাবার নিয়ে যাবে, তখন আপনার টেবিল নাম্বার অনুযায়ী আপনাদের খাবার আপনাদের টেবিলে পৌঁছে দেওয়া হবে। বিষয়টি আমার জন্য একেবারেই নতুন একটি অভিজ্ঞতা।
![]()
|
|---|
আমাদের ৮ টেবিল নম্বর পড়েছিলো। আর তাই যথারীতি ৮ নম্বরের নম্বরপ্লেটটি নিয়ে আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম দোতলায়। যেহেতু আমরা মোট পাঁচজন মানুষ ছিলাম, তাই সেই রকম একটি বড় টেবিলেই বসে পড়েছিলাম। খাবার আসতে মোটামুটি একটু সময় নিয়েছিলো, কারণ সবটা রেডি হয়ে উপরে সার্ভ করতে কিছুটা সময় তো দিতেই হতো।
আমরা একটা কম্বো প্যাক অর্ডার করেছিলাম, তার সাথে আলাদা করে শুধুমাত্র এক প্লেট ভেজ ফ্রায়েড রাইস নিয়েছিলাম। নুডুলসটা তিতলি ও তাতানের পছন্দের ছিলো। তাই কম্বো প্যাকের মধ্যে এক প্লেট চিকেন চাউমিন, এক প্লেট চিলি চিকেন ও তার সাথে একটা ৫০০ এম এল পেপসি ছিলো।
![]()
|
|---|
এর পাশাপাশি আমরা আলাদা করে এক প্লেট ভেজ ফ্রায়েড রাইস অর্ডার করেছিলাম। কারণ চিলি চিকেন এর পরিমাণ এতোটাই ছিলো যে, সেটা তিতলি ও তাতানের পক্ষে শেষ করা অসম্ভব ছিলো। তাই সেটা দিয়ে আমি এবং দাদা ফ্রায়েড রাইসটা খেয়ে নেবো এমনটাই ঠিক করা হলো।
আমার দিদি যেহেতু নিরামিষ খায়, তাই খুব স্বাভাবিকভাবে এই ধরনের কোনো খাবারই ও সেদিন খায়নি। যাইহোক খাবার টেবিলে চলে আসার পর ছোট্ট ছোট্ট প্লেটে সেটা সার্ভ করে নিলাম। প্লেটগুলো বড্ড ছোটো ছিলো, তবে ইউজ এন্ড থ্রো প্লেট, তাই ছোটো হলেও আমার মনে হলো বিষয়টা বেশ ইউনিক।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
হ্যাঁ একটু সময় লেগেছিল খেতে, তবে আমার কাছে বিষয়টি যথেষ্ট ভালো এবং স্বাস্থ্যকর লেগেছে। যাইহোক সেখানকার ভিতরের পরিবেশটা বেশ ভালোই ছিলো। আমরা যতটুকু সময় সেখানে ছিলাম বেশ উপভোগ করেছি। সব থেকে বেশি আনন্দ পেয়েছিলো তিতলি এবং তাতান, আশাকরি আপনারা ছবিগুলো দেখেই তা আন্দাজ করতে পারছেন।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
তিতলি এবং তাতানকে দেখি আর নিজের ছোটবেলার সাথে এখনকার বাচ্চাদের ছোটবেলার পার্থক্য গুলো ও সময়ের পরিবর্তনের বিষয়ে ভাবতে গিয়ে অবাক হয়ে যাই। যাইহোক সেখানকার খাবার খুব বেশি পছন্দ না হলেও, সেখানে কাটানো আমাদের সময়টাও বেশ উপভোগ্য ছিলো। তা আর আলাদা করে আপনাদেরকে বোঝাতে হবে না।
আশাকরি ছবির মাধ্যমে সবটাই আপনারা উপলব্ধি করতে পেরেছেন। সেখানে লাঞ্চ শেষ করে আমরা আবার হাঁটতে শুরু করেছিলাম ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম এর উদ্দেশ্যে। যেখানে ঘোরার অভিজ্ঞতা আমি আপনাদের সাথে পরবর্তী পর্বে শেয়ার করবো।
যাইহোক কলকাতা ভ্রমণের পাশাপাশি, বাচ্চাদের পছন্দের রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়ার অভিজ্ঞতাও খুব একটা মন্দ ছিলো না। আপনাদের আমার সম্পূর্ণ পোস্ট পড়ে কেমন লাগলো, যা অবশ্যই জানাবেন। আর আপনারা কারা এই রেস্টুরেন্টে ইতিমধ্যে খেয়েছেন, সেটাও জানাতে ভুলবেন না। সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে, আজকের লেখা এখানে শেষ করছি। ভালো থাকবেন সকলে। শুভ রাত্রি।













We support quality posts, good comments anywhere and any tags.