"কিছু আবেগ লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও, কিছু কিছু মুহূর্তে তা চোখের জল হয়ে ঝরে পরে"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আমার পোস্ট যারা কমবেশি পড়েন তারা প্রত্যেকেই বোধহয় তিতলি এবং তাতানের কথা জানেন। আমার জীবনে অনেকখানি জায়গা জুড়ে আছে আমার দিদির এই দুই ছেলে মেয়ে। তবে আমার আরও একটা বড় দিদি আছে, যার কথা বোধহয় পোস্টে তেমন ভাবে খুব একটা উল্লেখ করা হয়ে ওঠে না।
জীবনের এই এক অদ্ভুত নিয়ম, যার সাথে প্রায়শই দেখা হয় কথা হয় তারাই যেন আমাদের জীবনে বিশেষ হয়ে ওঠে। অথচ সেই একই সম্পর্কে বাধা পরা আরেকজনের সাথে তেমন ভাবে যোগাযোগ হয়ে না ওঠার কারণে, সে যেন খুব কাছের হওয়া সত্বেও অনেকখানি দূরের হয়ে যায়। আমার জীবনে আমার বড় দিদির বিষয়টা ঠিক তেমনই।
জীবনে কিছু কিছু সময় এমন অনেক পরিস্থিতির সম্মুখীন আমাদের হতে হয়, যেখানে খুব প্রিয় কিছু জিনিসও আমাদেরকে ত্যাগ করতে শিখতে হয়। দিদির সাথে আমাদের সম্পর্কটাও এইরকম কিছু পরিস্থিতির কারণেই যেন অনেকটা দূরের হয়ে গেছে।
যাইহোক এই বিষয় সম্পর্কে আরও গভীর ভাবে আলোচনা করতে গেলে জীবনের সেই সব মুহূর্তগুলো চোখের সামনে ভেসে ওঠে, যেগুলোকে অনেক কষ্টে পিছনে ফেলে এগিয়ে এসেছি। তাই আজ সে সব কথা না হয় থাক। আমার বড় দিদির দুটো ছেলে।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
বড়দিদির বড় ছেলেই আমাকে প্রথম মাসি হয়ে ওঠার অনুভূতি বুঝিয়েছিলো। তাই ওর প্রতি একটা আলাদা জায়গা আমার মনে আজীবন থাকবে। হ্যাঁ হয়তো প্রকাশ করার পরিস্থিতি জীবনে কখনো তেমনভাবে আসেনি, কিন্তু আমার দিদির ছেলে রনিত যাকে আমি ভালোবেসে বাবান বলে ডাকি, ও আজীবন আমার কাছে সেই ছোট্টটিই থাকবে।
আমি যখন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছি তখন আমার বড়দির বিয়ে হয়েছে এবং দেড় বছর বাদে বাবান পৃথিবীতে এসেছে। তাই আমার বড় হয়ে ওঠার সাথে সাথে, ওর বড় হয়ে ওঠার মুহূর্তগুলো এতো বেশি সুন্দর যে, সেই সময়কার স্মৃতিগুলো মনে করে আজও চোখের কোণে জল আসে। অবশ্যই সেটা আনন্দের জল।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
আমার বাপের বাড়ির থেকে আমার বড়দির শ্বশুর বাড়ির দুরত্ব খুব বেশি নয়। কথায় আছে কখনো কখনো প্রিয় মানুষের থেকে অনেকটা দূরে থাকলে সম্পর্কটা ভালো থাকে। দিদির ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি আমি খুব বেশি ভাবে অনুভব করেছি। তবে কাছাকাছি থাকার ক্ষেত্রেও একটা সুবিধা ছিলো, যখন মন চাইতো সাইকেল নিয়ে বাবানের সাথে দেখা করতে যেতে পারতাম।
বাবান যখন একটু বড়ো হলো তখন প্রতি রবিবারের রুটিন ছিলো, সকাল বেলায় আমি বড়দির বাড়ি পৌঁছে যেতাম। দিদি বাবানকে খাইয়ে, স্নান করিয়ে, রেডি করে দিতো। আমি বাবানের দুপুরের খাবার ও বাবানকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে চলে আসতাম। সারাটা দিন বাড়ান আমাদের সাথে থাকতো। আবার বিকেল বেলায় ওকে বাড়িতে দিয়ে আসতাম। তাই সেই সময় রবিবারের জন্য অধীর আগ্রহে বসে থাকতাম আমরা সকলে।
এরপর সবার জীবন ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়েছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনে আজ কমবেশি জটিলতা আছে। আজ বড়দির সাথে, বাবানের সাথে খুব বেশি কথা হয় না। দেখাও হয় খুব কম। তবে গতকাল আমার বড়দির হাজবেন্ডের ফোনে whatsapp এ একটা স্ট্যাটাস দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম।
বাবানটা কত বড় হয়ে গেছে সেটাই ভাবছিলাম অনেকক্ষণ বসে। ও হ্যাঁ আপনাদের তো বলতেই ভুলে গেছি এই বছর বাবান মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। পড়াশোনায় যথেষ্ট ভালো। আশাকরি ওর রেজাল্ট অনেক ভালো হবে। প্রথমে স্ট্যাটাস দেখে একটু অবাক হয়েছিলাম। ভাবছিলাম বাবানের রেজাল্ট কি দিয়ে দিলো?
হঠাৎ মাথায় এলো সবে তো পরীক্ষা শেষ হয়েছে, এতো তাড়াতাড়ি রেজাল্ট কিভাবে দেবে। তবে কিসের পুরস্কার নিচ্ছিলো ভালোভাবে বুঝতে না পেরে, দিদিকে ফোন করলাম। বলতে পারেন নিজেকে আটকাতে পারিনি এটা জানার থেকে যে, বাবান কিসের পুরস্কার নিচ্ছিলো।
![]()
|
|---|
দিদির কাছে জানলাম বাবান যেখানে আকাঁ শেখে, সেখানে ওর ৫ বছর কমপ্লিট হয়েছে এবং সর্বভারতীয় স্তরে ওদের একাডেমি থেকে বাবানকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এই সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটা হয়েছিলো কলকাতার একটা হলে, নামটা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না।
ছবিতে বাবানকে দেখে কতক্ষণ যে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম তা ঠিক জানি না। কারণ আমার সেই ছোট্ট বাবানটা কবে এতো বড় হলো, কিভাবে এত গুলো বছর কাটিয়ে নিলো, সেগুলোই ভাবছিলাম। পাশাপাশি এটাও ভাবছিলাম যে, বাবানের সাথে সাথে একইভাবে বয়স বেড়েছে আমারও। আমি জানি বাবানের সেই সব দিনের কথা মনে নেই। থাকার কথা নয়। তবে আমার কাছে সেই সব দিনগুলো এক মধুর স্মৃতি, যা মনের মনিকোঠায় আজীবন জমা থাকবে।
তবে স্ট্যাটাসটা দেখার পর যে আমি এতোটা ইমোশনাল হয়ে পড়বো সেটা সত্যিই বুঝতে পারিনি। বাবানের জন্য যে একটা সফট্ কর্নার মনের মধ্যে বরাবর ছিলো, সেটা সব সময় বোধহয় নিজের কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছিলাম। আজ ওর এই প্রাপ্তি যখন আমার চোখে জল এনেছে, তখন বুঝলাম আমরা চাইলেও কিছুই অনুভূতি মন থেকে সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলতে পারি না। হাজার চেষ্টা করা সত্ত্বেও কিছু অনুভূতি মনের গভীরে লুকানোই থাকে। কখনো কিছু কিছু মুহূর্তে তা চোখের জল হয়েই বেরিয়ে আসে।
বাবানের জন্য মাসি হিসেবে আজ আমিও গর্বিত। আজকালকার দিনের ছেলেমেয়েরা যেভাবে জীবন যাপন করে, বাবান তার থেকে অনেকটা ব্যতিক্রমী। ফোনের দিকে ওর খুব একটা নেশা নেই। পাহাড়, সমুদ্র দেখার থেকেও বিভিন্ন তীর্থস্থান ঘুরে দেখতে ও পছন্দ করে। এইটুকু বয়সে বৃন্দাবন দর্শন করে এলো ওর পিসিদের সাথে। আর মানুষের সাথে আলাপ ব্যবহারে ও অনেক বাচ্চার থেকে অনেকখানি আলাদা, এটা যতবার ওকে সামনে থেকে দেখি ততবারই অনুভব করি।
ওর একটা ছোট্ট ভাই আছে, যে বাবানের একদম বিপরীত। ভাইয়ের হাতে কতো যে মার খায়, কিন্তু কখনো ভাইয়ের সাথে উঁচু গলায় কথা বলতে শুনিনি।
যাইহোক আজ বাবাকে নিয়ে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। বলতে পারেন নিজের মনের অনুভূতিটা তুলে ধরলাম। কারণ বর্তমানে আমি যে পরিস্থিতিতে আছি তাতে এই ছোট্ট ছোট্ট অনুভূতিগুলো শেয়ার করার মত মানুষের অভাববোধ করি ভীষণভাবে।
কারণ প্রত্যেকেই নিজের জীবনের ওঠাপড়া এতো ব্যস্ত যে, নিজস্ব এই ছোট্ট ছোট্ট অনুভূতিগুলি অনেক দামি হলেও অন্যের কাছে এগুলো একেবারেই মূল্যহীন। তাই তা শেয়ার করার জন্য বেছে নিই এই প্লাটফর্মকে।
বাবানের ছোটবেলার এবং জামাইবাবুর হোয়াটসঅ্যাপের স্ট্যাটাস এর স্ক্রিনশট থেকে নেওয়া ছবি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। এতোটুকুই প্রার্থনা আপনারা প্রত্যেকে বাবানের জন্য একটু আশীর্বাদ করবেন। হয়তো আপনারা ওকে কেউ ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না, কিন্তু আপনাদের আশীর্বাদে ওর মঙ্গল হবে এটুকু আমি বিশ্বাস করি। যাইহোক ভালো থাকবেন আপনারা সকলে। ভালো থাকুক আমার বাবানও।
শুভরাত্রি।
|
|---|






Thank you for your support 🙏.