"গতকাল আমাদের দিনের বেশিরভাগ সময় কাটলো চোখের হসপিটালে"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
কিছু কিছু দিন এতোটা ক্লান্তিকর ভাবে পার হয় যে, তারপরের দিনও যেন ক্লান্তি কিছুতেই কাটতে চায় না। গতকালকের দিনটা আমার ও শুভর জন্য তেমনই একটি ক্লান্তিকর দিন ছিলো। যার এফেক্ট আজও রয়েছে।
তার ওপর শরীরটা খারাপ থাকায়, ক্লান্তি যেন আরও বেশ খানিকটা বেড়ে গিয়েছে। যাইহোক আপনাদেরকে জানিয়েছিলাম আমার শাশুড়ি মায়ের চোখের অপারেশন গতকাল হওয়ার কথা ছিলো এবং সেটা সুন্দরভাবেই সুসম্পন্ন হয়েছে। শারীরিকভাবে তিনি এখন সুস্থ আছেন।
আমি আর শুভ কাল বেশ সকালবেলা উঠেই বেরিয়ে পড়েছিলাম কল্যাণী যাওয়ার উদ্দেশ্যে। সারাটাদিন সেখানে কিভাবে পার হলো, সেই গল্পই আজকের পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চলেছি
চলুন তাহলে শুরু করি,-
|
|---|
![]()
|
|---|
গতকাল আমাদের দিনটা শুরু হয়েছিলো অনেকটা সকালে। আমি যদিও মাঝেমধ্যে ভোরবেলায় উঠে থাকি, তবে শুভর সে অভ্যাস একেবারে নেই বললেই চলে। তাই আগেরদিন রাতে ওর ভালো ঘুম হয়নি। শুধু ওর নয়, অদ্ভুতভাবে আমারও তেমন ভালো ঘুম হয়নি।
তাই সকালে যখন ঘুমটা গভীর হয়েছে, তখনই ফোনের এলার্ম বেজে উঠলো। একেবারেই বিছানা ছেড়ে সেই মুহূর্তে উঠতে ইচ্ছে করছিলো না। কিন্তু যেহেতু শাশুড়ি মায়ের অপারেশনের বিষয় রয়েছে, তাই যেতেই হবে। আর এই কারণেই নিজেকে একপ্রকার জোর করে বিছানা থেকে টেনে তুললাম।
![]()
|
|---|
ঘরের কাজ গোছানোর পাশাপাশি শুভকেও ডাকতে থাকলাম। বেশ কিছুক্ষণ বাদে ও উঠে পড়লো এবং ফ্রেশ হতে চলে গেলো। আমার তখনও অনেক কাজ বাকি ছিলো। পুজোর ফুল তোলা, ঠাকুর ঘরের কাজ শেষ করা, স্নান করা, পুজো দেওয়া। খাবার তৈরি করার কোনো ঝামেলা ছিলো না, কারণ গতকাল আমাদের একাদশীর উপবাস ছিলো।
সকালের দিকে শুভ ছাতু খেয়ে নেয়, আর আমার কিছু খাওয়ার অভ্যাস নেই বলে আগের দিন রাত্রে কয়েকটা আমন্ড ভিজিয়ে রেখেছিলাম। তার সাথে কয়েকটা খেজুর খেয়ে নেবো এমনটাই ঠিক করেছিলাম। সৌভাগ্যবশত গতকাল সারাদিন বেশ মেঘলা আবহাওয়া ছিলো।
যাইহোক ঘরের কাজ, পুজোর কাজ সমস্ত কিছু সুন্দরভাবে সম্পন্ন করে, সমস্ত জায়গায় তালা দিয়ে, আমি আর শুভ যখন বাড়ি থেকে বেরোলাম তখন ঘড়ির কাটার ৭.২৩ বাজে। ভেবেছিলাম আরও কিছুটা আগে বেরোবো, কিন্তু সমস্ত কাজ সম্পন্ন করে আর এর আগে বেরোনো
সম্ভব হয়নি।
![]()
|
|---|
বাড়ি থেকে কিছুটা যাওয়ার পর একটা রেলগেট পড়ে। আর দুর্ভাগ্যবশত আমরা গিয়ে দেখি গেট পড়ে আছে। তার মানে ট্রেন যতক্ষণ পার না হবে আমাদেরকে সেখানে দাঁড়াতে হবে। তাই সেখানে দাঁড়িয়েই মামাকে ফোন করে দিলাম যে, আমরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছি।
যদিও মামা বারবার বাইক নিয়ে যেতে বারণ করছিলো। তবে বাইক নিয়ে যাওয়াতেই আমাদের সুবিধা ছিলো। না হলে বাড়ি থেকে অন্তত চারবার গাড়ি পাল্টে তবে মামা বাড়িতে পৌঁছাতে হতো। যাইহোক যেহেতু একটু সকালে বেরিয়েছিলাম, অফিস আওয়ার তখনও তেমনভাবে শুরু হয়নি, তাই রাস্তায় মানুষের এবং গাড়ির চাপ বেশ কিছুটা কম ছিলো।
![]()
|
|---|
আসলে রাস্তা তৈরির কাজ চলছে ওদিকে, তবে সম্পূর্ণ রাস্তা না হলেও কিছুটা রাস্তা এতোটাই খারাপ অবস্থায় এখনও পর্যন্ত রয়েছে যে, সেখান থেকে বাসে হোক বা বাইকে যেতে হলে অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।
আমি যদিও বাইকে বসেই ছিলাম, চালাচ্ছিল শুভ। কিন্তু তবুও রাস্তা খারাপ থাকার কারণে যেতে ভীষণই কষ্ট হয়েছে। রাস্তায় যেতে যেতে কয়েকটা ছবি তুলেছি আপনাদের সকলের জন্য। বাইকে এই আমি প্রথম গেলাম এমনটা নয়। তবে ব্যক্তিগতভাবে বাইকে উঠতে আমার একটু ভয় লাগে বলে, আমি সাধারণত বাইকে যাওয়াটা এড়িয়ে চলি। তবে এদিন আর কোনো উপায় ছিলো না।
![]()
|
|---|
যাইহোক মোটামুটি সারে নটার পর পর আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম মামা বাড়িতে। রাস্তায় যেতে যেতে চোখ পড়ল এইমস হসপিটালের দিকে। আর তখনই শশুর মশাইকে নিয়ে আমরা দুজন কথা বলতে শুরু করলাম। একটা সময় এক মাসেরও বেশি এই হসপিটালটাই আমাদের ঠিকানা ছিলো, যেখানে সারাদিন আমরা বসে থাকতাম, সেটাই শুভকে বলছিলাম।
|
|---|
![]()
|
|---|
একাদশীর উপবাস শুভর মামীও করে, তাই আলাদা করে আমাদের জন্য তেমন কোনো সমস্যা হবে না এ কথা মামি আগেই জানিয়েছিলো। সেখানে পৌঁছে দেখি সমস্ত আয়োজন তিনি করে রেখেছেন। ফল কেটে সমস্তটাই রেডি করা। তবে যাওয়ার সাথে সাথে আমরা আর কিছু খেতে পারিনি, তাই টিফিনকারিতে মামী ফল ভর্তি করে দিয়েছিলো।
![]()
|
|---|
অল্প একটু ফল আমি আর শুভ মুখে দিয়েছিলাম। অন্যদিকে শাশুড়ি মাকে এগারোটার মধ্যে হসপিটালে নিয়ে যেতে বলেছিলো। তাই মামা ভাইকে স্কুলে দিয়ে আসার পরপরই আমরা সকলে মিলে বেরিয়ে গেলাম হসপিটাল এর উদ্দেশ্যে।
আমি আর শুভ একটা বাইকে উঠেছিলাম আর মামা আর শাশুড়ি মা স্কুটিতে করে গিয়েছিলেন। মামা বাড়ি কল্যাণী হলেও গঙ্গা পার হয়ে যেতে হয়েছিলো আমাদেরকে চোখের হসপিটালে, সেটা হুগলি জেলার আন্ডারে। হসপিটালটির নাম ছিল "রোটারি হুগলি আই হসপিটাল।"
![]()
|
|---|
হসপিটালটা বেশ বড়। ওখানে চোখের সমস্ত রকম চিকিৎসা হয়। আমরা একটু আগেই গিয়েছিলাম, কারণ শুভর চোখটাও সেখানে একবার চেক করিয়ে নেওয়ার ইচ্ছে ছিলো। তাই মামা গিয়ে ডাক্তারবাবুর সাথে শাশুড়ি মায়ের অপারেশন নিয়ে কথা বললো। আর আমরা শুভর যেখানে চোখ দেখানো হবে সেখানে গিয়ে নাম লেখালাম। বেশ রোগীর চাপ থাকে সেখানে, অন্তত সেখানে উপস্থিত মানুষের ভিড় দেখে তেমনটাই মনে হলো।
|
|---|
![]()
|
|---|
প্রথমে বলেছিলো দুপুর একটার পরে শাশুড়ি মায়ের সার্জারি হবে। কিন্তু পরে আবার জানালো অপরেশন শুরু হতে তিনটে বেজে যাবে। মাঝখানে শুভর চোখেরও চেকআপ করিয়ে নেওয়া হলো। প্রথমে জুনিয়র ডাক্তাররা সমস্ত কিছু চেক করবেন এবং সেগুলো একটা কাগজে লিখে কাগজটা সহ সিনিয়র ডাক্তারের রুমে পাঠানো হয়েছিলো।
সৌভাগ্যবশত চোখের তেমন কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। অল্প একটু পাওয়ার এসেছে। চশমা না পরলে খুব খারাপ হবে এমনটা নয়, তবে পরলে চোখ ভালো থাকবে বলেছেন।
![]()
|
|---|
শাশুড়ি মা ও আরও যাদের অপরেশন হওয়ার ডেট ছিলো, তাদের কয়েকজনকে কিছুক্ষণ বাদে ড্রেস পরিয়ে, অপরেশন রুমের বাইরে বসিয়ে রেখেছেন। আমাদের সেখানে ঢোকা বারন ছিলো, তাই দূর থেকে একটা ছবি তুলেছিলাম। কিছুক্ষণ বাদে আমাদের জানালো শাশুড়ি মায়ের অপারেশন হয়ে গেছে , ৪০ মিনিট বাদে ওনাকে ছেড়ে দেবে। তাই আমরা কিছুক্ষন অপেক্ষা করলাম। যাতে ওনাকে নিয়েই ফিরতে পারি।
কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর ডাক্তারের রুমে শুভকে ডাকলো এবং কিছু ওষুধ আর চোখের ড্রপ দিয়ে দিলো। সেগুলো নিয়ে এবং শাশুড়ি মাকে নিয়ে শুভ বাইরে এলে, আমরা আবার বাড়ি উদ্দেশ্যে রওনা করলাম। ততক্ষণে শরীর আমাদেরও বেশ ক্লান্ত লাগছিলো। কারণ সারাদিন একাদশীর উপবাস ছিলাম।
![]()
|
|---|
যদিও ফল নিয়ে নিয়েছিলাম কিন্তু হসপিটালে খেতে আমার এতটুকুও ইচ্ছে করেনি। তাই একেবারে বাড়িতে এসে ফ্রেশ হয়ে ফল খেলাম। তারপর মামা বাড়ির সকলের সাথে দেখা করলাম এবং কমবেশি গল্পের মাধ্যমে সময় পার হলো।
রাতের দিকে শাশুড়ি মায়ের ব্যথার কারণে জ্বর এসেছিলো। যদিও ডাক্তার তার জন্য ওষুধ দিয়েছিলো। তাই প্রেসার কুকারে একদম নরম করে একটু ভাত করা হয়েছিলো। সেটা খাওয়ানোর পর ওষুধ খাইয়ে দেওয়া হয়েছিলো। তারপর মামা, মামী ও ভাই সকলের সাথে গল্প করে অনেকটা সময় পার হলো।
রাতের খাবারে মামি আলু ও সাবু দিয়ে খিচুড়ি মতো করেছিলো, সেটা খেয়েই সকলে শুয়ে পড়েছিলাম। সারাদিনের একটা ক্লান্ত ছিলো। আবার পরদিন সকালে উঠে বাড়ি ফেরার তাড়াও ছিলো। এই ভাবেই গতকালের দিনটা কেটেছে আমাদের।
দিনের বেশিরভাগ সময় বাড়ির বাইরে কেটেছে, রাস্তায় যাওয়ার ক্লান্তি তো ছিলোই, তার উপরে যে কোনো হসপিটালে অপেক্ষা করাটা আমার জন্য বেশ কষ্টকর। যাক তবু শাশুড়ি মায়ের অপারেশনের সাথে সাথে, শুভর চোখে চেকআপটাও হয়ে গেছে এটাই একটা ভালো বিষয়।
আশাকরি আপনাদের কালকের দিনটা ভালো কেটেছে এবং আগামী দিনগুলো ভালো কাটুক প্রার্থনা করে আজকের লেখা এখানেই শেষ করছি। ভালো থাকবেন সকলে।













