"ঐতিহাসিক স্থাপত্য 'চিকা মসজিদ' পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি অনেক ভালো কেটেছে।
বেশ কয়েকদিন আগে মালদাতে ঘুরতে গিয়ে কিছু ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন করার সুযোগ হয়েছিলো। যার মধ্যে থেকে কিছু স্থান পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা আমি আপনাদের সাথে ইতিমধ্যে শেয়ার করেছি।
সর্বশেষ যে স্থানটির সম্পর্কে আপনাদের সাথে আলোচনা করেছিলাম সেটি ছিলো "গুমতি বা গুন্টি দরওয়াজা"। যে স্থানটির সম্পর্কে আলোচনা করার সময় আমি আপনাদেরকে জানিয়েছিলাম এই গুমতি দরওয়াজার একেবারে সামনেই রয়েছে "চিকা মসজিদ।" যাকে সুলতানি আমলে দপ্তর খানা বা অফিস ভবন হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলে মনে করা হয়। যার ফলে তার প্রবেশদ্বারের সামনে গুমতি দরওয়াজার মতো একটা প্রবেশ পথ তৈরি করা আবশ্যক হয়ে পড়েছিলো।
![]()
|
|---|
বর্তমানে যেখান থেকে এই দর্শনীয় স্থানে প্রবেশ পথ তৈরি করা হয়েছে, সেখান থেকে প্রবেশ করলে একেবারেই সম্মুখে ছিলো এই "চিকা মসজিদ"। তার থেকে একটু দূরে ছিল গুমতি দরওয়াজা। আমরা প্রথমে দূরের জায়গাটা দেখে তারপর এসেছিলাম চিকা মসজিদের কাছে।
এটিও একটি একক গম্বুজ বিশিষ্ট বিল্ডিং এবং সম্ভবত এটিও সুলতান ইউসুফ শাহ ১৪৫০ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ করেছিলেন। এটি লাল পোড়ামাটির ইটের তৈরি এবং এর দেয়ালে হিন্দু মন্দিরের স্থাপত্যের নিদর্শন অর্থাৎ দেবদেবীর মূর্তি আংশিকভাবে দৃশ্যমান ছিলো। এই বিল্ডিংটি স্থানীয় মানুষদের কাছে চিকা মসজিদ হিসেবে পরিচিত হলেও, এটিকে মসজিদ বলা যায় না কারণ এর পশ্চিম দিকের দেয়ালে নামাজের কুলুঙ্গির কোনো চিহ্ন দেখা যায় না।
![]()
|
|---|
এমন কথা প্রচলিত আছে যে হোসেন শাহুর রাষ্ট্রীয় বন্দির জন্য এই ভবনটি ব্যবহার করেছিলেন। এই বিল্ডিংটি একটি বর্গাকার বিল্ডিং, যার কোণা গুলোতে বুরুজ রয়েছে এবং প্রতিটি পাশে একটি করে মোট চারটি দরজা আছে অর্থাৎ প্রবেশপত্র রয়েছে।
সম্পূর্ণ বিল্ডিংটা বর্গাকার হলেও উপরের দিকের গম্বুজটা কিন্তু একেবারেই গোলাকৃতি যা দূর থেকে দৃশ্যমান। ধারণা করা হয় এই বিল্ডিংটি তৈরি করার জন্য পুরনো হিন্দু মন্দির থেকে বেশ কিছু চকচকে পাথর ও মিনা করা ইট ব্যবহৃত হয়েছে। আর এই চকচকে পাথর ব্যবহার করার কারণে এটিকে অনেকে "চমকান মসজিদও" বলে থাকেন।
![]()
|
|---|
একটা সময় এর দেওয়ালে বিভিন্ন হিন্দু দেব-দেবীর মূর্তিও ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে এই ধ্বংসাবশেষে কোনো মূর্তি পরিলক্ষিত হয় না। সমস্ত মূর্তিগুলোকে সেই সময়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিলো বলে আন্দাজ করা হয়। ভবনের পশ্চিম দিকের অংশটা একেবারেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে গেছে, কিছু কিছু জায়গা তবুও ধ্বংসাবশেষের চিহ্ন দৃশ্যমান রয়েছে, যেগুলোর ছবি আমি তুলে আনার চেষ্টা করেছি।
![]()
|
|---|
গৌড়ের প্রতিটি স্থাপত্যে সেই সময়কার ইটের কারুকার্য চোখে পড়ার মতন। এই ভবনটি চারিদিক ঘুরে দেখার পরে একটা গেটের মধ্যে দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করারও সুযোগ হয়েছিলো। ভিতরে প্রবেশ করার পর সম্পূর্ণ অবাক হয়ে আমরা বেশ কিছুক্ষণ সময় নিয়ে সম্পূর্ণ স্থাপত্য দেখেছি। ভেতরটা সম্পূর্ণ অন্ধকার ছিলো, মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইট জ্বালিয়ে যতটুকু সম্ভব ছবি তোলার চেষ্টা করেছি। তাই আশাকরি ছবির মাধ্যমে আপনারা এর কারুকার্য গুলোকে কিছুটা হলেও উপভোগ করতে পারবেন।
![]() |
|---|
![]() |
|---|
|
|---|
সেইখানে দাঁড়িয়ে যেন মনে হচ্ছিল আমি মায়াপুরের মূল মন্দিরে পৌঁছে গিয়েছি। আপনারা যারা মায়াপুরে ভ্রমণ করেছেন তারা মায়াপুরের মূল মন্দিরের ভেতরে ঢুকে যখন ওপরের দিকে তাকিয়েছেন, সেই গম্বুজ আকার অংশটি ভেতর থেকে দেখতে যেমন গোলাকার ও সুন্দর লাগে, এটিও ছিলো তেমনই।
**যদিও ভবনটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে সুন্দরভাবে পরিচর্যা পায়নি। তবে সেখানে দাঁড়িয়ে এক মুহূর্তের জন্য হলেও আপনাকে ভাবতে হবে, তৎকালীন সময়েও মানুষের দ্বারাই এই ভবনগুলি নির্মিত হয়েছিলো। বর্তমানে বহু যন্ত্রপাতি আবিষ্কার হওয়ার পরে এতো বড় বড় বিল্ডিং বা মন্দির আমরা দেখতে পাই। তবে তৎকালীন সময় দাঁড়িয়েও মানুষের সেই অসীম ক্ষমতা ছিলো, যার ফলে এমন বিরাট বিরাট বিল্ডিং তারা তৈরি করেছিলো।
![]()
|
|---|
প্রতিটা ইটের কারুকার্য এবং ইটের পর ইট গেথে এই বিশালাকার বিল্ডিং তৈরি করাটা কিন্তু মুখের কথা ছিলো না। এই সম্পূর্ণ বিল্ডিংটা কতখানি চওড়া ছিলো তা আশাকরি আপনারা উপরে শেয়ার করা গেটের ছবিটা দেখে বুঝতে পারবেন। ঠিক এতখানি চওড়া করেই সম্পূর্ণ বিল্ডিংটা তৈরি করা রয়েছে। যার চারদিকে চারটা গেট রয়েছে। যদিও সেই মুহূর্তে একটা গেটই খোলা ছিলো, যেখান থেকে প্রবেশ করে ভেতরের সমস্ত কিছু পরিদর্শন করে আমরা আবার বাইরে বেরিয়ে এসেছিলাম।
![]() |
|---|
![]() |
|---|
|
|---|
অপূর্ব সুন্দর ছিলো চিকা মসজিদের বাইরের সৌন্দর্য্য, তবে ভেতরের সৌন্দর্য্য কিন্তু নেহাত কম ছিল না। তবে অন্ধকারের কারণে এবং অযত্নের কারণে সেই স্থাপত্যের মূল্যায়ন হয়তো সঠিকভাবে করা সম্ভব হয় না। চিকা মসজিদ পরিদর্শন করার অভিজ্ঞতা অপূর্ব ছিলো।
মসজিদের নামকরণের পেছনে আরও একটা কথিত কাহিনী রয়েছে যে, এখানে বহু বাদুড় যার স্থানীয় নাম চিকা, এদের বাসা থাকার কারণে এই ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপত্যকে অনেকেই চিকা মসজিদ বলে আখ্যা দিয়ে থাকেন।
![]() |
|---|
গৌড়ের এই বিখ্যাত স্থাপত্য পরিদর্শন করার অভিজ্ঞতা এখনও পর্যন্ত যাদের হয়নি, তাদেরকে অনুরোধ করবো অবশ্যই একবার মালদাতে গিয়ে গৌড়ের এই পুরনো স্থাপত্য পরিদর্শন করুন। কারন ইতিহাসের এতো কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ সচরাচর হয় না। তাই ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা সময় বের করে অবশ্যই পরিদর্শন করুন বাংলার তৎকালীন রাজধানী গৌড়ের বিখ্যাত সকল স্থাপত্যের কারুকার্য।
আজকের লেখা এই পর্যন্তই, পরবর্তী পোস্টে বাকি জায়গাগুলো পরিদর্শন করার অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। প্রত্যেকে ভালো, থাকবেন সুস্থ থাকবেন। শুভরাত্রি।











Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟