"পিয়ালীর রিসেপশনে‌‌ কাটানো কিছু সুন্দর মুহূর্ত"

in Incredible India8 days ago
IMG_20260210_204032.jpg
"পিয়ালীর রিসেপশনের দিন তোলা ছবি"

Hello,

Everyone,

কেমন আছেন আপনারা সকলে? আশাকরছি প্রত্যেকে ভীষণ ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।

কত বেশ কয়েকটি পর্বের মাধ্যমে আমার বান্ধবী পিয়ালীর বিয়ের প্রতিটা মুহূর্ত আপনাদের সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। বিয়ের সকলের রীতি গুলো কিভাবে পালন হয়, তারও কিছুটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি আমার লেখা এবং ছবির মাধ্যমে।

আজ একেবারে অন্তিম পর্ব নিয়ে হাজির হলাম। এই পর্বে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো পিয়ালীর বৌভাতে অর্থাৎ রিসেপশনে কাটানো কিছু সুন্দর মুহূর্তের কথা।

IMG_20260210_182955.jpg
"রিসেপশনে যাওয়ার সময় বাসের ভিতরে তোলা ছবি"

নিয়ম অনুসারে বিয়ের পরদিন সকালবেলায় পিয়ালীর বিদায় অনুষ্ঠান হয়েছিলো। কিন্তু অনেকটা রাত করে বাড়িতে ফেরায় পরদিন বেশ বেলায় ঘুম থেকে উঠেছিলাম। ফলতো আমি ও রাখি কেউই সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারিনি।

তবে বিদায়ের মুহূর্ত মেয়েদের কাছে কতখানি কষ্টের হয়, সেটা হয়তো আলাদা করে আর লেখার প্রয়োজন হবে না। ছোট থেকে যেখানে বড় হয়ে ওঠা সেই বাড়ির ঘর প্রতিবেশী নিজের বাবা মা সকলকে ছেড়ে এক নতুন পরিবেশে যাওয়ার এক অদ্ভুত কষ্ট প্রতিটা মেয়ের মনেই থাকে

IMG_20260210_182939.jpg
"আমি ও রাখি। বাসের ভিতরে বসে তোলা ছবি"

ব্যক্তিগত জীবনেও আমি সেই মুহূর্ত উপভোগ করেছি। তাই ওই মুহূর্তে পিয়ালীদের বাড়িতে উপস্থিত থাকার তেমন ইচ্ছাও ছিলো না। তাই বলতে পারেন কিছুটা ইচ্ছে করেই পরদিন আর যাওয়ার চেষ্টা করিনি। মাঝে একটা দিন কেটে গিয়েছিলো রাখিদের বাড়িতেই।‌ তবে বৌভাতের দিন সকালবেলা থেকেই আবার কন্যাযাত্রী আসার প্রস্তুতি শুরু হয়েছিলো।

মেয়েদের যেমনটা হয় আর কি! কে কি পোশাক পড়বে, চুল কিভাবে বাঁধবে, কার চুল কে বেঁধে দেবে কে, কে কি ভাবে সাজবে, এই নিয়েই মোটামুটি একটা বেলা কেটে গিয়েছিলো। দুপুরের পর থেকে শুরু হয়েছিলো সাজগোজের পর্ব।

IMG_20260210_183650.jpg
"বাসের ভিতরে সকলের নাচের মুহূর্ত"

বাস এসেছিলো ছটা নাগাদ। কারণ সাড়ে ছটায় বের হওয়ার কথা ছিলো। তবে সকলে একত্রিত হয়ে বাসে উঠতে উঠতে অনেকটা সময় পেরিয়ে গিয়েছিলো। পিয়ালীদের বাড়ির সামনে থেকে বাস ছেড়েছিলো সাড়ে সাতটা নাগাদ। ওর বিয়ে হয়েছে মধ্যমগ্রাম। রাস্তায় গাড়ির জ্যাম কাটিয়ে সেখানে পৌঁছাতে আমাদের বেজে গিয়েছিলো রাত দশটা।

আরও কিছুটা আগে বেরোনো উচিত ছিলো, তবে সকলে না আসলে বাস ছাড়াও সম্ভব হচ্ছিলো না। যাইহোক বাসের ভিতরে ভীষণ মজা করতে করতে আমরা সম্পূর্ণ রাস্তা এসেছিলাম।‌‌ বাসে বিভিন্ন ধরনের লাইট জ্বলছিলো, তার পাশাপাশি চলছিলো সকলের পছন্দের গানও।

উচ্ছ্বাসে ভরপুর সেই জার্নিটার কিছু কিছু মুহূর্ত আপনাদের সাথে শেয়ার করার চেষ্টা করলাম। প্রত্যেকে নাচে মগ্ন হয়েছিলো, যার ভিডিও রয়েছে আমার কাছে ঠিকই, কিন্তু সেগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পারছি না। যেহেতু এই প্লাটফর্মে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই ভিডিও শেয়ার করতে হয়।

যাইহোক যেতে অনেকটা সময় লেগেছিলো, তবে আমরা কেউ বিরক্ত হইনি এতোটুকুও। কারণ যারা নাচ করছিলো তারা তো আনন্দিত ছিলোই, পাশাপাশি আমরা যারা নাচ করিনি, তারা সকলের নাচ উপভোগ করতে করতে সম্পূর্ণ রাস্তা আনন্দ সহকারেই কাটিয়েছি।

IMG_20260210_183123.jpg
"রিসেপশন লজে পৌঁছে সকলের সাথে তোলা ছবি"

পিয়ালির বৌভাতের অনুষ্ঠান হয়েছিলো একটা লজে। কারণ যতটা শুনেছি ওর শ্বশুরবাড়িতে অনুষ্ঠান করার মতন জায়গা নেই। শহর এলাকায় যেমনটা হয় আর কি। যতটুকু জমি আছে, তাতে বাড়ি করার পর আর অনুষ্ঠান করার মতন জায়গা নেই।

তাই অগত্যা অনুষ্ঠান বাড়ি ভাড়া করেই যে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হয়। বিয়ে বাড়িতে ঢোকার পূর্বে সকলে মিলে একটা ছবি তুললাম, হাতে সকলেরই তখন তত্ত্বের ডালা রয়েছে।

IMG_20260210_183141.jpg
"লজে ঢুকে তোলা ছবি।‌ রূপরেখা (বোন) আমি ও‌ রাখী"

একে একে সকলে সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে, নির্দিষ্ট ঘরে তত্ত্ব সাজিয়ে রাখলাম। আসলে এগুলো সবই ফুলশয্যার তত্ত্ব। কণের বাড়ির সকলে কন্যাযাত্রী যাওয়ার সময় এই তত্ত্বগুলো নিয়ে যায়। আর নিয়ম অনুসারে কণেকে বৌভাতের দিন রাতে বাপের বাড়ি থেকে পাঠানো শাড়ি, ফুলের গয়না এই সমস্ত কিছু পড়ে আরও কিছু নিয়ম পালন করতে হয়।

যাইহোক এরপর পিয়ালীর সঙ্গে দেখা করলাম। তখন ওর সাথে সকলেই ছবি তুলছিলো, যেহেতু নতুন বউ। তাই কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর আমাদের সুযোগ আসলো ওর সাথে দেখা করার এবং ছবি তোলার।

IMG_20260210_204337.jpg
"পিয়ালীর রিসেপশনের‌ সাজগোজ"

বিয়ের পর প্রতিটা মেয়ের মুখে যেন পরিবর্তন আসে। শাখা সিঁদুর এমনই এক জিনিস, যা একটা মেয়েদের শুধু জীবনে নয়, তার রূপেরও অনেকখানি পরিবর্তন ঘটিয়ে দেয়। সেদিন অপূর্ব লাগছিলো পিয়ালীকে এবং ওকে বেশ সুন্দরভাবে সাজানোও হয়েছিলো। যাইহোক এক এক করে সকলেই ওর সাথে ছবি তুলে নিলাম। তারপর চলে গেলাম খাওয়া-দাওয়ার দিকে।

কফি, ফুচকা, পাকোড়া, আইসক্রিম সবকিছুর স্টল ছিলো। আমি শুধু পাকোড়া আর দুটো ফুচকা খেয়েছিলাম। ফুচকাটা খেতে খুব একটা ভালো লাগেনি বলে আর খাইনি। তবে পাকোড়াটা বেশ ভালো ছিলো। দুঃখের বিষয় সেই মুহূর্তের ছবি আর তোলা হয়নি, সকলের সাথে গল্প করতে করতেই পাকোড়া এনজয় করছিলাম।

IMG_20260210_183230.jpg
"খেতে‌ বসার মুহূর্ত"

এরপর সকলে মিলে খেতে বসলাম। খাবার খাওয়ার মুহূর্তের একটা ছবি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।‌ আরও দুই তিনটে ছবি তোলা হয়েছিলো ঠিকই, তবে একটাও ভালো ওঠেনি। যাইহোক সকলে মিলে একসাথে বেশ ভালোভাবেই খাওয়া দাওয়া করলাম। রান্না মোটামুটি ভালোই হয়েছিলো,‌ তবে পিয়ালীদের বাড়ির রান্নাবান্না আরও অনেক বেশি ভালো ছিলো।

খাওয়া-দাওয়া শেষ করে যখন আমরা এলাম তখনও দেখছি সেখানে সকলেই মিলেই নাচ করছে। তাই কন্যাযাত্রীর পক্ষরাই বা বাদ‌‌ যাবে কেন! তাই খাওয়া দাওয়া শেষ করে বাড়ি ফেরার আগে, সকলে মিলে আরও দু তিনটি গানে জমিয়ে নাচ করলো। সাড়ে বারোটা বাজে, তখনও কারোর আসার ইচ্ছে নেই।

IMG_20260210_183319.jpg
"খাওয়া‌দাওয়ার শেষে আইসক্রিম হাতে,ছবি তোলার মুহূর্ত"
IMG_20260210_183618.jpg
"পিয়ালীর নাচের একটা মুহূর্ত। ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট নিয়ে শেয়ার করলাম"

বরং শেষের দিকে পিয়ালী এসেই নাচে যুক্ত হলো। সবার সাথে ও নাচ করতে শুরু করলো। ফলতো আমাদেরও এনার্জি বেড়ে গেলো। তাই শেষ পর্যন্ত আরও একটা গানে নাচ করে সকলে একপ্রকার জোড় করেই বাসের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।‌

শেষ মুহূর্তে পিয়ালী আর চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি। এটা হয়তো খুব স্বাভাবিক একটা বিষয়।‌ হিসেব মতো সেদিন থেকেই ও অন্যের বাড়ির বউ হয়ে গেলো। জীবনে দায়িত্ব-কর্তব্যের বন্ধনে জড়িয়ে গেলো। এখন আর চাইলেও যখন তখন বাড়ি থেকে বেরোনো, বন্ধুদের সাথে দেখা করা সম্ভব হবে না। কারণ সেগুলো করতে গেলে এখন আরও কিছু পরিস্থিতিকে সামাল দিয়ে তবেই করতে হবে।

IMG_20260210_183551.jpg
"বাড়ি ফেরার পূর্বে পিয়ালীর সাথে সকলে একসাথে ক্যামেরাবন্দী"

তবে আমরা প্রত্যেকটা মেয়ে হয়তো এই রকম কিছু অসীম ক্ষমতা নিয়ে জন্মাই। তাই কিছু পরিবর্তন এলে তা মেনে নেওয়া কঠিন হলেও, আমরা কিন্তু মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে কখনো দ্বিধা করি না। পিয়ালীর জীবনের বদলটাও নিশ্চয়ই ও ধীরে ধীরে মেনে নেবে। তবে ঐদিন যখন সকলে একসাথে ওকে রেখে বাড়ি ফিরছিলাম, তখন ওর খারাপ লাগাটা নিতান্তই স্বাভাবিক ছিলো।

যাইহোক ওকে বুঝিয়ে, ওর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমরাও রওনা হলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে।‌ ফেরার পথে কারোরই তেমন মন‌ ভালো ছিল না,‌ আর‌ ক্লান্ত ও ছিলো। তাই সকলেই মোটামুটি বাসের মধ্যে বসেই বাড়ি ফিরেছি। ফিরতে ফিরতে রাত তিনটে বেজে গিয়েছিলো। তারপর ফ্রেশ হয়ে ঘুমাতে গিয়েছিলাম।

যেকোনো অনুষ্ঠান আসছে এটা ভেবে যতটা আনন্দ লাগে, ঠিক ততটাই খারাপ লাগে যখন অনুষ্ঠানটা শেষ হয়ে যায়। তবে দিন আসলে দিনের মতনই বয়ে যায়। তাই খারাপ লাগা গুলো বাদ দিয়ে, শুধু ভালো মুহূর্ত গুলোকে মনে রাখা উচিত।

এই কারণে আপনাদের সাথেও কিছু আনন্দের মুহূর্তেই এই শেষ পর্বে শেয়ার করলাম। কেমন লাগলো আপনাদের পিয়ালীর বিয়ের সম্পূর্ণ জার্নিটা, তা অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন। সকলেই খুব ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। শুভরাত্রি।

Sort:  
Loading...
 7 days ago 

শুরুতে পিয়ালীর নতুন জীবনে পথ চলা শুভ হোক এই কামনা করে অনেক অনেক ভালোবাসা ও আশীর্বাদ রইল। পিয়ালী কে দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে সাথে আপনাদেরও অনেক সুন্দর লাগছে দিদিভাই। দিদিভাইকে শাড়িতে অনেক সুন্দর লাগে। বিয়ে মানে একটি মেয়ের পরিবর্তন তার সাথে সাথে ‌ নিজের পরিবার ছেড়ে নতুন একটি পরিবারকে আপন করে নেওয়া। নতুন সম্পর্ক নতুন পরিচয় ,‌ বাবা মায়ের আদরের মেয়ে লক্ষ্মী বৌ হয়ে উঠবে সেই কামনা করছি।