এক মূহুর্তে উৎসব পরিনত হয় আতন্কে।
গতকালের পোস্টে আমি লিখেছিলাম যে আমাদের পুরো পরিবার একটা গেট টুগেদার এর আয়োজন করার জন্য প্রস্তুতি নিতেছিলাম এবং এরই মাঝে ৫.৭ মাত্রার একটা ভুমিকম্প এসে আমাদেরকে নাড়িয়ে দিয়ে যায় ।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে জানতে পারি যে , এই ভুমিকম্পের ফলে হয়তো ফল্টলাইনের একটা অংশের লক সামান্য কিছুটা খুলে গেছে যা বড়ো ভুমিকম্পের সূচনা মাত্র।
এছাড়াও বিভিন্ন জায়গা থেকে পাওয়া বিভিন্ন খবরে বলা যায় পুরো দেশের মানুষ বিশেষ করে ঢাকার মানুষ একধরনের ট্রমায় চলে যাওয়ার মতো অবস্থায় চলে যায়।অনেকে ঢাকা ছাড়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে বলেও জানতে পারি ।
যার কারণে প্রচন্ডরকমের আতন্ক এসে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে আমাদের সবাইকেই।আর এরই মাঝে চলতে থাকে আমাদের প্রস্তুতি ।গ্যাসের প্রেশার কম থাকার জন্য অনেক রান্নাই রাতে হাফ করে রাখি ।এগুলো করতে করতে ঘুমাতে ঘুমাতে প্রায় ২টার মতো বেজে যায়।
পরের দিন খুব সকালে ঘুম থেকে উঠেই রান্না ঘরে ঢুকে পরি ।যেহেতু রাতেই বেশিরভাগ কাজ করে রেখেছিলাম তাই পরের দিন সকাল ১০টার মাঝেই ভাত রান্না ছাড়া সব কাজ মোটামুটি
শেষ করে ফেলি।অবশ্য আরও একটা কাজ বাকি ছিলো সেটা হলো রাতে মাছ হাফ ভাজা করে রেখেছিলাম সেগুলোকে ভাজতে হবে।
কিন্তু এত আগে করলে ঠান্ডা হয়ে যাবে তাই সেটাকেও পরে করার জন্যই রেখে দিয়ে নিজেকে রেডি করি।
এরই মাঝে একজন একজন করে সবাই আসা শুরু করে ।আমাকে অবশ্য আর তেমন কিছু একটা করতে হয় নাই বাকি রান্নার কাজগুলো আমার বড়ো জা এসেই করেছেন ।
এরপর সবাই দুপুরের খাওয়া শেষ করে নেয় ।খাওয়া শেষ করে বাচচারা সবাই ছাদে চলে যায় আর বড়োরা আড্ডার আসর জমায় ।সেই সাথে দই ,মিষ্টি ,ছানা ,কেক ,পিঠে ,পায়েস আইসক্রিম ইত্যাদি খাওয়াও চলতে থাকে সমানতালে।
এককথায় সবকিছুই খুব সুন্দরভাবে চলতেছিলো ।
সবাই অনেকটা ভুলেই গিয়েছিলো ভুমিকম্প নামের দানবের কথা ।অবশ্য দুই চারবার যে আলোচনায় আসে নাই এমনও না।কিন্তু সেটা সবার আড্ডার নিচে চাপা পরে গিয়েছিলো।
একসময় হঠাৎ করেই আমার এক কাজিন বলে উঠে যে ভুমিকম্প হচ্ছে।শুরুতে কেউ পাত্তা না দিলেও পরমুহূর্তে সবাই নির্শ্চিত হয় যে আসলেই ভুমিকম্প হচ্ছে ।সেকেন্ডের মাঝে আতনক এসে সবাইকে ঘিরে ধরে ।
ভুমিকম্পের সময়ে যত উচু বিল্ডিং এ থাকা যাবে তত বেশি ঝাকুনি টের পাওয়া যায় ।আমাদের বাসাটা ৯ তলার ওপরে হবার কারনে দোল খায় বেশি তার সাথে যোগ হয় বাসার বিভিন্ন গ্লাসের ঝনঝন শব্দ যা ভুমিকম্পের আতন্ক আরো বাড়িয়ে দেয় ।
ঝাকুনি খুব বেশি ছিলো না তবে সময়টা ছিলো সাধারণ ভুমিকম্পের তুলনায় অনেকটাই বেশি । পরবর্তীতে জানতে পারি যে এক মিনিটের ব্যবধানে ২টো ভুমিকম্প হয়েছিল যার কারনে এত দীর্ঘসময় ধরে টের পাচ্ছিলাম।
আরও জানতে পারি যে এই ভুমিকম্পে একটা হয়েছে ঢাকার বাড্ডাতে ।এছাড়া সকাল ১০টার দিকে আরো একটা ভুমিকম্প হয়েছে ঢাকার আশুলিয়াতে যা আমরা টের পাই নাই।
সত্যি বলতে এতদিন যত ভুমিকম্প হয়েছে তার সবকটার এপি সেন্টারই ছিলো ঢাকার বাইরে কিন্তু এবার ঢাকার মাঝে হওয়ার কারনে সবার অবস্থাই মারাত্মক রকমের খারাপ ।
কারন বিশ্বের অন্যতম জনবহুল এই শহরে বেশিরভাগ যথাযথ বিল্ডিং কোড না মেনে বিশেষ করে আগের বিল্ডিংগুলো তৈরি করার জন্য একটু বড়ো মাপের ভুমিকম্পে ঢাকা ধ্বংসস্তুপে পরিনত হবে ।সেই সাথে যোগ হবে মাটির নিচের গ্যাসলাইন ।
যদিও এখন অনেক ক্ষেত্রেই অটোশাটডাওনের ব্যাবস্থা করা হয়েছে কিন্তু এখনো পুরোপুরি এইকার্য সম্পন্ন হয় নাই ।যার কারণে সাথে সাথে আগুন ছড়িয়ে পরার সম্ভাবনা আছে পুরো শহরজুড়ে ।
এই ভুমিকম্প মিনিটের মাঝে পুরো পরিবেশ পাল্টে ফেলে ।সবাই ব্যাস্ত হয়ে পরে বাসা থেকে বের হওয়ার জন্য ।
কিছুক্ষনের মাঝেই পুরো বাবাড়ি ফাকা হয়ে যায় আর আমাদের সঙ্গী হয় আতন্ক ।আমরা সারাদিনের ক্লান্তি ও আতন্ককে সঙ্গী করেই অপেক্ষায় থাকি পরবর্তী আফটারশকের জন্য ।





প্রকৃতির কাছে আমরা সবসময় অসহায়। সেইরকম বড়ো মাত্রায় ভুমিকম্প হলে আমরা জাস্ট ফুটে যাবো এই দুনিয়া থেকে।
Thank you so much,sir.