উৎসবের প্রস্তুতি নেয়ার সময় হঠাৎ মূর্তিমান আতঙ্কের আগমন।

in Incredible India4 months ago (edited)

earthquake-3167693_1280.jpg
pixabay

পরেরদিন আমার বাসায় একটা একটা ছোটো -খাটো গেট টুগেদারের আয়োজন করেছিলাম। অনেক দিন পরিবারের কাছের লোকজনদের সাথে আড্ডা দেয়া হয় না তাই ভেবেছিলাম যে সবাইকে এক সাথে ডেকে কিছুটা সময় একত্রে কাটাবো। এতে আমার দুই ভাই ,এক কাজিন এর পরিবার , আর আমার ভাসুর ,দেবর ননদ মামাশ্বশুর ,ও আমার দুই মামাকে বলেছিলাম।

আসলে বলার ইচ্ছে ছিল আরো কয়েকজনকে কিন্তু আমার ছোট্ট ফ্ল্যাটে এতো মানুষকে বসার জায়গা দেয়া সম্ভব হচ্ছিলো না। কারণ আমার ভাসুর তার ছেলে মেয়ের শশুর বাড়ির মানুষকেও এড করেছিলেন এর সাথে। যার কারণে লোকজনের সংখ্যা ৭০ জনকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলো।
আমার হাসবেন্ড রীতিমতো চিন্তায়ই পরে গিয়েছিলেন এতোগুলো মানুষকে কিভাবে জায়গা দিবেন এটা ভেবে। আমার হাসবেন্ড মানুষ নিয়ে চিন্তায় পরলেও আমি অবশ্য এটা নিয়ে তেমন একটা চিন্তা করি নাই। আমি চিন্তায় ছিলাম গ্যাস এর প্রেশার নিয়ে যে কিভাবে কি করবো।

আমার হাসবেন্ড রীতিমতো চিন্তায়ই পরে গিয়েছিলেন এতোগুলো মানুষকে কি জায়গা দিবেন এটা ভেবে। আমার হাসবেন্ড মানুষ নিয়ে চিন্তায় পরলেও আমি অবশ্য এটা নিয়ে চিন্তা করি নাই। আমি চিন্তায় ছিলাম গ্যাস এর প্রেশার নিয়ে যে কিভাবে কি করবো। আমার শশুর বাড়ির লোকজন আবার ঘরে তৈরি খাবারকেই প্রাধান্য দেয়। যার কারণে বাইরে থেকে কিনে আনাটাও সম্ভব হচ্ছিলো না।

তাই শুধুমাত্র পোলাও ও রোস্টটাকেই বাইরে থেকে আনবো বলে সিদ্ধান্ত নিলাম। এর সাথে কাতলা মাছ এর ফ্রাই , গরুর মাংস , চিংড়ির দোপেঁয়াজা ,সাথে ভাত ,সবজি ,ছোটমাছ ,কয়েক রকমের ভর্তা ,পাবদা মাছ ও পায়েস রান্না করবো বলে ঠিক করলাম। সেই সাথে হাসবেন্ডের চিন্তা দূর করার জন্য বাইরে থেকে কিছু ৩৫টা প্লাস্টিকের চেয়ার আনতে বললাম ছেলেকে ।

chairs-58475_1280.jpg
pixabay

বুয়াকেও তাই সকাল বেলাতেই আসতে বলেছিলাম। আমরা সকাল থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছিলাম। সবকিছু মোটামোটি পরিকল্পনামাফিকই চলতেছিল। কিছুটা ক্লান্তি অনুভব করার কারণে রান্নাঘর থেকে বের হয়ে এসে ডাইনিং টেবিলের চেয়ারে বসেছিলাম।

হঠাৎ করেই মনে হলো যে ,চেয়ারের নিচে কেউ যেন ধাক্কা দিতেছে। মানুষের ব্রেইন খুব দ্রুত চিন্তা করতে পারে তাই এই সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মাঝেই চিন্তা করে নিলাম যে হয়তো আমার বিড়াল এসে কিছু করেছে।
কিন্তু না ,এরই মাঝে প্রচন্ড রকমের ধাক্কা অনুভব করলাম। মনে হলো চেয়ার থেকে পরে যাচ্ছি। বুঝতে পারলাম শক্তিশালী ভূমিকম্পের শিকার হয়েছি। আমার ছোট ছেলে ও হাসবেন্ড গাড়িতে তেল ভরতে গিয়েছে ,যার কারণে ওরা বাসায় ছিল না।

অবশ্য ওই মুহূর্তে ওদের কথা মনেও পরে নাই। কিন্তু বড়ো ছেলেকে ও বুয়াকে চিৎকার করে কাছে ডাকলাম।এরই মাঝে ছেলে ফ্যান বন্ধ করে তিনটা বালিশ নিয়ে আসলো। তখনো ভূমিকম্প চলতেছে।মনে হচ্ছিলো পিলার পেছন থেকে পিঠে ধাক্কা দিচ্ছে ,এই বুঝি ভেঙে পরে।
সময় যে আপেক্ষিক এটা আমি প্রতিটা ভূকম্পের সময় টের পাই ভালো মতোই , সময় যেতে চায় না অথচ হয় মাত্র কয়েক সেকেন্ড। । আমরা বালিশ মাথায় দিয়ে আল্লাহর নাম নিতে নিতে পিলারের পাশে দাঁড়ালাম।

banani-2978376_1280.jpg
pixabay

এছাড়া আমাদের আর কিছু করারও নেই। কারণ আমার বাসা ৯ তলার উপরে সেই সাথে বাসার আশেপাশে সব ১০ থেকে ১৬ তোলা সব বিল্ডিং। তাই নিচে নামও সম্ভব না আর নামলেও নিরাপদ কোনো জায়গা নেই।

এর পরের সময়টা খুব দ্রুত ও আতঙ্কের মাঝে কেটে গেলো। মনে হচ্ছিলো এক্ষুনি ঢাকা ছাড়ি। এরই মাঝে ছেলে কল দিয়ে জানতে চাইলো ঠিক আছি কিনা। ও আমাকে বললো যে ওর মনে হচ্ছিলো দুই পা দুই দিকে যাচ্ছে। ঝাঁকুনি এতই বেশি ছিলো যে আমরা ভেবেছিলাম কমপক্ষে ৬ থেকে সাড়ে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। কিন্তু পরে জানতে পারলাম যে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে।

কিন্তু ঢাকার খুব কাছেই ও মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে উৎপত্তি হবার কারণে এতো বেশি ঝাঁকুনি টের পেয়েছি। ভাবি জানালো তাদের বাসার বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দেখা গেছে। এমন খবর আরো অনেকের কাছ থেকেই জানতে পারলাম। টিভিতে কয়েকজনের মৃত্যুর খবর ও আহত হবার কথা জানতে পারলাম।
এর পরে পুরোটা দিন ও রাত কেটে গেলো ভয়ঙ্কর এক আতঙ্কের মাঝে। কোথাও পালানোর জায়গা নেই ,আছে শুধু ধ্বংসের জন্য অপেক্ষা।

earthquake-1665885_1280.jpg
pixabay


◦•●◉✿ Thanks Everyone ✿◉●•◦

image.png



Sort:  
Loading...

Coin Marketplace

STEEM 0.06
TRX 0.32
JST 0.064
BTC 69348.52
ETH 2144.24
USDT 1.00
SBD 0.47